বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৬ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৬  রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

 বর্ষা আসলো আর আমাকে সেরোয়ানি পরা দেখে তার মুখটা কালো হয়ে গেলো!সেই হয়তো ভাবছে আমার বিয়ে হিহিহিহিহি! কিন্তু বর্ষাকে আজ দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে, সত্যিই শাড়িতে মেয়েদের হেব্বি লাগে !যাইহোক"তারপরে আমরা বের হলাম হবু ভাবির বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্য! আমরা ৪ বন্ধু একসাথে বসলাম!আর বাকিটা পথ মজা করতে করতে গেলাম!সবাই মজা করলো কিন্তু একজন বাদে আর সেটা হয়তো বুঝতেই পারছেন কে! বর্ষা ! কিন্তু কেনো মন খারাপ সে নিজেও জানে না! প্রায় ৫ ঘন্টা পরে ভাবির বাসায় পৌছালাম!গাড়ি থেকে নামার আগেই সেরোয়ানিটা ভাইয়াকে দিয়ে দিলাম!আর আমার নীল পান্জাবিটা পরে নিলাম! কারন এখানে বরকে বাশ থেরাপী দেওয়া হবে!তাই!কি বুঝলেন না তো বাশ থেরাপি কি?!আচ্ছা সাথে থাকুন বলছি! গাড়ি থেকে নেমে মা সবাইকে নিয়ে গেটের সামনে চলে আসলো!গেটের সামনে অনেক গুলো ময়দা সুন্দরি দাড়িয়ে আছে! মা সবাইকে ভিতরে ঢুকতে দিলো কিন্তু আমাদের ৪ বন্ধু আর বরকে ঢুকতে দিলো না!গেটের সামনে বরের আসন দিলো তার পাশে আমিও বসলাম!বরকে অনেক ধরনের জিনিস খেতে দেওয়ার জন্য টেবিলের উপরে সব সাজিয়ে রেখেছে! আমি ভাইয়ার কানে কানে বললাম! রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস।

--ভাইয়া তুই কিছু খাবি না!শুধু মিষ্টি একটু খাবি!এই ময়দা সুন্দরিদের বিশ্বাস করা যাবে না!(নীল)

--এই যে মিষ্টার আপনি বরের কানে কানে কি বলছেন!(ওদের মধ্যে বেশি ময়দা সুন্দরিটা বললো)

--সেটা আপনাকে শুনা লাগবে না!(নীল)

--তারপরে ভাইয়াকে বললাম ভাইয়া খাও! ভাইয়া একটু খেয়েই চিৎকার দিয়ে ওঠলো!জাল জাল করে!

মিষ্টির মধ্যে জাল আসলো কি করে !ওহ বুঝেছি এই ময়দা সুন্দরিদের কাজ! সাথে সাথে সেই প্রেত্নিগুলো হাসতে লাগলো! বেটি চান্দু আমাকে চিনো না দেখাচ্ছি মজা! 

--এইবার টাকা দিয়েই ভিতরে ঢুকতে পারবেন!তার আগে না!(একটা মেয়ে বলে ওঠলো)

--কতো টাকা?(ভাইয়া)

--দশ হাজার!(সেই মেয়েটি)

--কিন্তু আমি তো এতো টাকা আনি নাই!(ভাইয়া)

--না দিলে তো ভিতরে ঢুকতে দেওয়া যাবে না!তাহলে বাসায় চলে যান!(মেয়েটি)

--কিন্তু!(ভাইয়া)

--কোনো কিন্তু নয় ভাইয়া চলো!(নীল)

--কোথায়?(ভাইয়া)

--বাসায়!(নীল)

--মানে?(ভাইয়া)

--মানে বিয়া করা লাগবে না !বাসায় চলো!(নীল)

--কি বলছিস ভাই এইসব?(ভাইয়া)

--দেখছো না এই ময়দা সুন্দরিরা কিভাবে আমাদের অপমান করছে!(নীল)

--ওই হ্যালো কে ময়দা সুন্দরি?(সেই মেয়েটি)

--কে আবার আপনি!(নীল)

--হেই মিষ্টার ভালো ভাবে কথা বলেন তা না হলে!(মেয়েটি)

--তা না হলে কি?(নীল)

আরও পড়ুনঃ-  বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৫ 

-ওই আপু চুপ কর তো!আচ্ছা ভাইয়া আপনি আট হাজার টাকা দিন!(পাশের মেয়েটি বলে ওঠলো)

--না!তিন হাজার টাকা দিবো!(নীল)

--তাহলে ভিতরে যাওয়া যাবে না!(মেয়েটি)

--আচ্ছা!তাহলে আমরা আসি!(নীল)

--এই দাড়ান দাড়ান !আচ্ছা!৫ হাজার টাকা দিন!(মেয়েটি)

--না!এক টাকাও দিবো না!(নীল)

--একটু আগেই তো বললেন যে তিন হাজার টাকা দিবেন!(মেয়েটি)

--হুম বলেছিলাম কিন্তু আপনাদের এই নকল চেহারা দেখে দিতে ইচ্ছা করছে না!(নীল)

--নকল চেহারা মানে?(মেয়েটি)

--আসলটা তো ময়দা দিয়ে ঢেকে রেখেছেন !তাই বললাম নকল চেহারা দেখে টাকা দিতে পারবো না!আগে মুখ ধুয়ে আসেন পরে টাকা দিবো!(নীল)


--আমার কথা শুনে তারা যেনো কি বলতে লাগলো!আস্তে আস্তে!

পরে একটা মেয়ে বললো!


--আচ্ছা ভাইয়া আপনারা যান!(মেয়েটি)

--আপনাদের কোনো টাকা লাগবে না হিহিহি্হি! 

--না(মেয়েটি)

--আচ্ছা বোইন!হাহাহঅহা একেই বলে চোরের উপরে বাটপারি! তারপরে আমরা ভিতরে চলে আসলাম!

এইদিকে ওরা বলছে! 


--কি ছেলেরে বাবা এমন ছেলে বাবার জন্মেও দেখি নাই!(সেই মেয়েটি)


--আমরা ভিতরে আসলাম!

--ওই তুই কোথাও যাবি না!(ভাইয়া)

--কেনো?(নীল)

--তুই কি করতে কি করে ফেলবি! তখন মানসম্মান সব হারাবে!(ভাইয়া)

--ওহ ভাইয়া তুমি চিন্তা করো না!তোমার মান এতো বাড়াবো যে!তোমাকে বিয়ের বাড়ির দাড়োয়ান ওহ ভয় পাবে না!(আমি বলে দৌড় দিলাম)

--কি বললি!(ভাইয়া)

--আমাকে আর পাই কে! ভিতরে চলে আসলাম ভিতরে গিয়ে দেখলাম!সব ময়দা সুন্দরিরা ঘুরে বেরচ্ছে!

ওহ মা গো এতো ময়দা সুন্দরিদের তুমি কেনো পৃথিবীতে পাঠিয়েছো!আর কিছুদিন পরে তো আমরা না খেয়ে মরে যাবো!

--দোস্ত এইসব কথা বাদ দিয়ে চল কিছু ছবি তোলা যাক!(সজীব) --ক্যামেরা কই?(হৃদয়)

--এইতো বন্ধু আমার হাতেই আছে!(নীল)

--তারপরে ছবি তুলতে শুরু করে দিলাম! ছবি তুলছিলাম হঠাৎ কিছু মেয়ে পিছন থেকে ডাক দিলো!


--এই যে ভাইয়া!(একটি মেয়েটি)

--জি আপু বলেন!(নীল)

--কিছু মনে না করলে একটা কথা বলতাম!(মেয়েটি)

--মনে তো করবো!আচ্ছা তাও বলেন!(নীল)

--আপনি আমাদের কিছু ছবি তুলে দিতে পারবেন?(মেয়েটি)

--আচ্ছা আগে বলেন কনের কে হন আপনি?(নীল)

--কনের ছোট বোন!(মেয়েটি)

--ওহ তাহলে কোনো সমস্যা নেই চলুন বিয়ান!(নীল)

--বিয়ান মানে?(মেয়েটি)

--আমি বরের ছোট ভাই!

--ওহ তাহলে তো আপনি আমাদের কাছের মানুষ!(মেয়েটি)

--ইসস কাছের মানুষ বলবেন না!তাহলে গুলিয়ে ফেলবো!(নীল)

--কি?(মেয়েটি)

--আপনার রুপের মাঝে সব কথা গুলিয়ে ফেলবো!(নীল)

--হিহিহিহীহি!আপনি তো অনেক সুন্দর করে কথা বলেন!(মেয়েটি)

--চেষ্টা করছি!পটানোর!(নীল)

--কাকে?(মেয়েটি)

--এই যে এইখানে যে ময়দা সুন্দরি আছে তাদের বাদে!(মেয়েটি)

--আমি কিন্তু তাদের মধ্যে না!(মেয়েটি)

--তাই নাকি!দেখেই তো বুঝা যাচ্চে!আপনার কাছে একটা ময়দার কোম্পানিই আছে!(নীল)

--হিহিহিহিহি!(মেয়েটি)

--আমরা কথা বলছিলাম! কিন্তু এতো গুলো মানুষের মধ্যে কেউ কাউকে খুজে পাচ্ছে না! কিন্তু ১ জোড়া চোখ সব সময় আমার উপরেই নজর আছে!যে আমি কি করছি কোথায় যাচ্ছি!

কার সাথে কথা বলছি!সব কিছুই সে দেখছে! আর রাগে!দাতে দাত চেপে ধরছে!মনে হচ্ছে আমাকে কাছে পেলে খেয়ে ফেলবে! আমি ছবি তুলছিলাম হঠাৎ পিছন থেকে কে জেনো আমার পান্জাবি টেনে ধরলো! আমি তাকিয়ে দেখলাম একটা পিচ্চি আমার পান্জাবি টেনে ধরেছে!

--কি হয়েছে মামনী কিছু বলবে?(নীল)

--ভাইয়া ভাইয়া!আপনাকে ছাদে ডাকছে!(পিচ্চিটা)

--কে ডাকছে?(নীল)

--একটি আপু!(পিচ্চি)

--কিন্তু কেনো?(নীল)

--সেটা জানি না!তবে আপুটা কান্না করছে!(পিচ্চি)

--ওহ আচ্ছা চলো!আমার সাথে সিড়ি কোন দিক দিয়ে দেখিয়ে দেও!(নীল)

তারপরে আমি সেই পিচ্চির সাথে ছাদে গেলাম! ছাদে গিয়ে দেখলাম খুব অন্ধকার কিন্তু কেউ তো ছাদে নেই!

পিছনে তাকিয়ে দেখলাম পিচ্চিও নেই!

হ্যালো ছাদে কি কেউ আছেন?

কিন্তু না!কারো কোনো শব্দ শুনতে পেলাম না! কেউ হয়তো আমার সাথে মজা করেছে!তাই আমি যেই পিছনে ঘুরলাম! তখনি কে জেনো ঠাস করে থাপ্পর দিয়ে আমার সুন্দর গালটা লাল করে দিলো! রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস।

--ওই কেরে তুই ?এত সাহস তোর!(নীল)

--হুম!অনেক সাহস !আর তোর সাহস তো কম নয়!(বর্ষা)

--মেয়েটির কন্ঠ শুনে অবাক হয়ে গেলাম!কারন এইটা আর অন্য কেউ না বর্ষা!

--বর্ষা তুমি!আর তুমি আমাকে চড় মারলে কেনো?(অবাক হয়ে)

-+ভাবতাম তুই একটা ভালো ছেলে কিন্তু তোর মতো লুচুমার্কা ছেলে কখনো দেখি নাই!(বর্ষা)

--What লুচু?(নীল)

--ইসসস আমার বাচ্চা শিশু লুচু মানে কি সেটা জানে না!(বর্ষা)

--হুম বাচ্চাই তো!(নীল)

--আজ বিয়ে দিয়ে দিলে কাল ২ ছেলের বাবা হয়ে যাবে !আর সে কিনা বাচ্চা !(বর্ষা)

--২টা না তো ১১টা বাচ্চার বাবা হবো!(নীল)

--কি!এতোগুলা!(বর্ষা)

--হুম!কেনো তোমার কোনো সমস্যা?(নীল)

--জি!(বর্ষা)

--কি সমস্যা?(নীল)

--আমি এতোগুলো নিতে পারবো না!(বর্ষা)

--আমি কি তোমাকে নিতে বলেছি নাকি!(নীল)

--হুম বললেন তো!(বর্ষা)

--কখন বললাম!(আমি অবাক হয়ে)

--ওই যে তখন!(বর্ষা)

--দেখো আমার সাথে ফাজলামো করবে না!(নীল)

--আপনি কি আমার দুলাভাই লাগেন!যে আপনার সাথে ফাজলামো করবো?(বর্ষা)

--ওই মেয়ে আমি তোমার দুলাভাই হতে যাবো কেনো?(নীল)

--সেটাই তো!আপনি আমার দুলাভাই হবেন কেনো!আপনি আমার বর হবেন!(বর্ষা)

--তোমার মতো একটা প্রেত্নি কে বিয়ে করবো কোন সুখে!(আমি)


আরও পড়ুনঃ- বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব০৭

Post a Comment

أحدث أقدم