বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৮ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস।

বন্ধুর বোন যখন বউ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

এ আর‌ অন্য কেউ না বর্ষা।

--ওই তুমি এত সকালে এইখানে আসলে কি ভাবে।(নীল)

--আমি তো রাত থেকেই আছি।(বর্ষা)

--মানে?(নীল)

--গতকাল রাতে তোমার আগেই আমি রুমে ছিলাম আর সারারাত তোমার বুকের উপরে ছিলাম ।(বর্ষা)

--এখনি বের হযও তুমি!(নীল)

--কেনো?(বর্ষা)

--মা যদি যানতে পারে তাহলে আমাকে এইখানেই শেষ করে ফেলবে।

--কিছুই করবে না! শুধু....(বর্ষা)

--শুধু কী?(নীল)

--শুধু বিয়ে দিয়ে দেবে 🙈(বর্ষা লজ্জা ভাব নিয়ে বললো)

--তোমার আবার আছেও নাকি (নীল)

--কী?(বর্ষা)

--লজ্জা!(নীল)

--থাকবে না কেনো লজ্জা তো নারীর ভুষন !(বর্ষা)

--কিন্তু আমি তো খুঁজেই পাইনি।(নীল)

--এইসব কথা বাদ দিয়ে ওঠে আমাকে জরিয়ে ধরলো!(নীল)

--কেনো?(আমি)

--কেনো মানে? ঘুম থেকে উঠে তো আগে বউকেই তো জরিয়ে ধরে।(বর্ষা)

--বিয়ে না করতেই বউ পেলাম কই?(নীল)

--কেনো সামনে এতোবড় একটা মেয়ে দাড়িয়ে আছে দেখতে পাচ্ছো না।(বর্ষা) রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

--ওহ তুমি আমার বউ!(নীল)

--হুম।(বর্ষা)

--তাহলে তো বউয়ের সাথে সব কিছুই করতে পারবো,(নীল)

--মা.মা.মানে। ( ভয়ে ভয়ে বললো বর্ষা)

--মানে কিছুই না এখনি বাসর সেরে ফেলবো!(নীল)

--কিন্তু আমাদের তো এখনো বিয়ে হয়নি !(বর্ষা)

--হুম তবে হবে তো। তাই কোনো সমস্যা নেই বলে আমি বর্ষার দিকে আস্তে আস্তে আগাতে লাগলাম। আর বর্ষা ভয়ে ভয়ে পিছনে যেতে লাগলো ।

কি হলো পিছনে যাচ্ছো কেনো?(নীল)

--না মানে ভয়ে!(বর্ষা)

--আরে তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো তোমার তো কোনো ভয় নেই ।  (নীল) 

--কিন্তু বর্ষা এবার দারিয়ে পড়লো ।আর আমাকে অবাক করে দিয়ে ...........!

--হাহাহাহাহা!(বর্ষা)

--তুমি হাসছো কোনো?(নীল)

--দাঁড়াও(বর্ষা)

--বলে বর্ষা এবার উল্টা করে আমার দিকে আসতে লাগলো!

কি হচ্ছে ?(নীল)

--কি হচ্ছে বুঝতে পারছো না। আজ উল্টা হবে।(বর্ষা)

--মানে?(নীল)

--রেপ করবো ।(বর্ষা)

--ওর কথা শুনে বুঝলাম আমার এইখানে থাকা একটুও নিরাপদ নয় বরং এইখানে থেকে পালাতে হবে।

কিন্তু দরজা তো বন্ধ পরে মনে পড়লো বাথরুম তো আছে । আর কিছু না ভেবে দিলাম এক দৌড় ৩০ সেকেন্ডেই পৌঁছে গেলাম বিপদ মুক্ত স্থানে।


--ওই তুমি বাথরুমে ঢুকলে কেন?(বর্ষা)

--এইখানেই নিরাপদ আছি আপু আমি আর বাইরে বের হচ্ছি না ।(নীল)

step-2-part..8


--ওই আপুকে তোমার হুম।বের হও তাড়াতাড়ি ।(বর্ষা)

--তার কোনো দরকার নেই।(নীল)

--কেনো?(বর্ষা)

--এমনি !(নীল)

--এখন বের হবে?(বর্ষা)


--আমি আর কিছু বললাম না। বর্ষা আর কিছু না বলে চলে গেল আর আমিও  বেঁচে গেলাম। কিছুক্ষণ পর নিলাকে সাজানো নিয়ে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো ।আর আমরাও অনেক মজা করতে লাগলাম সবাই মিলে । কিন্তু কথাই আছে না , বেশি খুশি সবার কপালে  জোটে না। ঠিক তেমনি হয়েছে।  বিয়ের বাড়িতে সবাই আনন্দ করেছিলাম। ঠিক তখনি 

একটা লোক এসে ,যা বললো  তাতে বিয়ের হাসিখুশি কালো ছায়া ভেসে আসলো ।এমন যে হবে সেটা ভাবতেই পারি নাই। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

--বর  আর আসবে না।(লোকটি)

--বর আসবে না মানে?(নীল)

--বর পালিয়ে গিয়েছে ।(লোকটি)

--বর পালিয়ে গেছে মানে বুঝলাম না।(বাবা)

--বর একটা মেয়েকে ভালবাসতো, কিন্তু সেই মেয়ের বাবা,মা  বরের সাথে বিয়ে দিতে রাজি ছিল না। বরের বাড়ির ও কেউ রাজি ছিল না। দুই পরিবার তাদের জোর করে অন্য জায়গায় বিয়ে দিতে চাই । কিন্তু তারা সেটা না করে পালিয়ে যায়। (লোকটি)

আরও পড়ুনঃ- ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি পর্ব ০১


--লোকটির কথা শুনে সবাই ‌চুপ হয়ে যায়। এই কথা শুনে নিলার বাবা মাটিতে বসে পরে । বাবা কাকুকে কিভাবে শান্তনা দিবে ভেবে পাচ্ছে না।

হঠাৎ বাবা আমার কাছে এসে ,

আমাকে রুমের মধ্যে নিয়ে গেল।

কি হয়েছে বাবা আমাকে এইখানে নিয়ে আসলে কেনো ?(নীল)

--আচ্ছা ইমন ছেলেটা কেমন?(বাবা)

--হুম ভালো। কিন্তু কেনো?(নীল)

--কোনো জব করে নাকি?(বাবা)

--হুম।একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরী করে!(নীল)

--তাহলেই হবে !(বাবা)

--কিন্তু কি হবে?(নীল)

--আজ এই অবস্থা দেখে ভাবছি ইমনের সাথে নিলার বিয়ে দিলে কেমন হয়?(বাবা)

--হুম ভালো। কিন্তু ইমনের পরিবার?(নীল)

--আচ্ছা ইমনের বাবার নাম্বার দেও আমি কথা বলছি!(বাবা)

--আচ্ছা। তারপরে  আমি ইমনের বাবার নাম্বার দিলাম । বাবা কথা বলতে লাগলো .....কিছুক্ষণ পরে বাবা আমাকে বললো....

--নীল তুমি ইমনের কাছে যাও আর ওকে রেডি করে নিয়ে আসো আমি ওর বাবার সাথে কথা বললাম..(বাবা)

--আচ্ছা।তারপরে আমি ইমনের কাছে গেলাম। তার রুমে ঢুকতেই শুনলাম ইমন তার বাবার সাথে কি যেনো কথা বলছে। কিছুক্ষণ পর ইমন বললো আচ্ছা ।


--সরি রে দোস্ত!(নীল)

--সরি কেনো?(ইমন)

--এই যে বেড়াতে এসে তোকে বিপদে ফেলে দিলাম.আসলে..(আমাকে বলতে না দিয়ে ইমন বললো)

--ওই চুপ সালা কিছু বলা লাগবে না আমাকে । আমি রাজি।(ইমন)

--জি দুলাভাই।😁(নীল)

--আচ্ছা ওয়েট ওয়েট ?(নীল)

--কি ?(ইমন)

--তুই তো আমার সত্যি সত্যিই দুলাভাই হয়ে গেলি। আগে মজা করে বলতাম আর এখন সিরিয়াসলি ভাবে বলবো!(নীল)

--হুম!🙉(ইমন)


--তারপরে আর কী ইমন আর নিলার বিয়ে হয়ে গেল। কিন্তু ইমনকে বাসায় যেতে দেওয়া হলো না। ৪দিন পরে একবারেই যাবে। সুতরাং আজ তার শশুর বাড়িতেই তার বাসর হবে!

কিন্তু একটা সমস্যার জন্য  আজি চলে আসলাম। আসলে (হৃদয়ের বাবার অসুস্থ থাকার কারনে চলে আসলাম)

যাইহোক  আজ সবাই চলে যাবে আর আমরাও যাবো। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে, ফ্রেস হয়ে নাস্তা শেষ করে বাসে ওঠে পড়লাম। ৬টা টিকিট কাটলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে ৬ টা আলাদা আলাদা ভাবে। মানে ডবল ডবল করে, ছিট কিন্তু আলাদা!

তাই....! হৃদয়, সজীব বসলো এক জায়গায়। ইমন,আর নিলা বসলো এক জায়গায়। আর আমি , বর্ষা বসলাম এক সাথে। হৃদয় আর ইমনের ছিটের থেকেও আমার ছিট অনেক পিছনে ।

যাইহোক কিছুক্ষণ পরে বাস ছেড়ে দিলো ।আমি কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে  গল্প শুনতে লাগলাম। এটা দেখে বর্ষা আমাকে চিমটি কাটলো ....! 


--উফফফ, ওই কি হয়েছে ?(নীল)

--আমিও শুনবো?(বর্ষা)

--আর কী,তাকেও একটা দিলাম,

কিন্তু কিছুক্ষণ পর সে বললো ....

--ওই আমি জানালার দিকে বসবো!(বর্ষা)

--আচ্ছা আসো।(নীল)

তারপরে বর্ষাকে জানালার পাশে দিলাম। কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর এবার বর্ষা আমাকে জরিয়ে ধরলো।

ওই কী করছো এইটা?(নীল)

--জরিয়ে ধরে আছি দেখতে পাচ্ছো না!😏(বর্ষা)

--মানুষে দেখছে তো!(নীল)

--দেখলে কী? আমি আমার বরকে ধরে আছি অন্য কাউকে না !(বর্ষা)

--বাবাহ বিয়ে না করতেই বর হয়ে গেলাম🙄!(নীল)

--হুম হবেই তো!(বর্ষা)

--আমিও আর কিছু বললাম না। কারন আমার কোনো কথায় বর্ষা শুনবে না।

যাইহোক দীর্ঘ ৬ ঘন্টা পর  ময়মনসিংহ পৌঁছালাম। ময়মনর পৌঁছে যে যার মতো চলে গেল।আমিও আমার বাসায় চলে আসলাম। বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেছে তাই এখন বাইরে বের না হয়ে শুয়ে পড়লাম। ঘুমিয়ে ছিলাম । ঘুম ভাঙলো ফোনের রিংটোনে।

ফোন হাতে  নিয়ে দেখলাম।  অচেনা নাম্বার থেকে ফোন এসেছে । অচেনা নাম্বার তাই ফোন রিসিভ করলাম না।

কিন্তু আবার ফোন বেজে উঠল ।তাই এইবার বিরক্ত হয়ে ফোন ধরলাম।

হ্যালো কে বলছেন?(নীল)

--আপনার হবু বউ(ফোনের উপাশে থেকে)

--কথা শুনে বুঝতে আর বাকি রইলো না।যে কে ফোন দিয়েছে।

ওই তুমি এতো রাতে ফোন দিয়েছো কোনো?(নীল)

--আমি আমার হবু বরের কাছে ফোন দিয়েছি তো আপনার কী? (বর্ষা)

--উফফফ বর,বর,বর এতো বর,বর করো কেনো?(নীল)

--বর কে বর বলবো না তো কী বলবো?(বর্ষা)

--আমি তোমার বড় so  আমাকে  ভাইয়া বলে ডাকবে!(নীল)

পরবর্তি পর্বঃ- বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৯

Post a Comment

أحدث أقدم