আসসালামু আলাইকুম
Golpo Share - গল্প শেয়ার
এর পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগতম।
আজকের গল্পের নাম হচ্ছে (পারফেক্ট মার্ডার)
লিখেছেন মোঃ সাইফুল ইসলাম
![]() |
| ভালোবাসার কষ্টের পিকচার |
লেখক যেইবাবে লিখেছেন......
মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জিনিসের নাম হলো বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা। এক জনের বিপদে অন্যজন এগিয়ে আসার নাম বন্ধুত্ব। এক বন্ধুর জন্য আরেক বন্ধুর সব কিছু ত্যাগ করার নাম বন্ধুত্ব।
ভালোবাসার কষ্টের গল্প
এই রকম দুই বন্ধু হলো রোমান ও এমদাদ। স্কুল লাইফ থেকে তাদের বন্ধুত্ব। তারা এখন ভার্সিটিতে পড়ে। রোমান ও এমদাদের বাড়ী পাশাপাশি গ্রামে। রোমানকে যেমন এমদাদের পরিবারের একজন মানা হয়, তেমন এমদাদকে রোমানের পরিবারের একজন বলা যায়। দুজনের সম্পর্ক আপন ভাইয়ের মতো। সুমু ইন্টার পরীক্ষার্থী। এমদাদের বাড়ীর পাশে বাড়ী। সুমুর এস. এস. সি পরীক্ষার আগে এমদাদের কাছে পাইভেট পড়তো। সেই সময় থেকে এমদাদ ও সুমুর একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। যাকে বলা যায় ভালোবাসার সম্পর্ক। সুমু ও এমদাদের সম্পর্কের কথা রোমান জানলেও কখনো সুমুকে রোমান দেখে নাই। সুমুর ইন্টার প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার সময় এমদাদ রোমানকে নিয়ে সুমুর সাথে দেখা করে। রোমানকে সুমুর সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। তখন সময় ছিলো ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস। এরপর এমদাদের জানা মতে সুমুর সাথে রোমানের দেখা হয় নাই। তাহলে আজ ২০১৬ সালের ১০ ডিসেম্বর কেনো রোমান ও সুমুর লাশ সুমুর বাড়ীর পাশের জমিতে পাওয়া গেলো। পুলিশ তাদের সকল প্রকার চেষ্টা চালিয়ে ও গত ১৫ দিনে কোনো প্রকার ক্রু উদ্ধার করতে পারেনি। ধরতে পারেনি কোনো অপরাধীকে। এমনি সন্দেহর তালিকায় নেই কেও। এক কথায় পারফেক্ট মার্ডার। বন্ধু ও ভালোবাসার মানুষকে হারিয়ে শোকাহত এমদাদ।এমদাদ একটা প্রশ্ন পুলিশকে বারবার করছিলো, সুমু ও রোমান এক সাথে কি করে এলো?? ভালোবাসার কষ্টের গল্প
পুলিশ মামলার কোনো হদিস করতে না পেরে মামলার তদন্ত বন্দ করে দেয়। পুলিশ সুমু ও রোমান কললিস্ট চেক করে এটা জানতে পারে সুমুর সাথে ১০ মাস ধরে রোমানের যোগাযোগ রয়েছে যা শুনে এমদাদ আশ্চর্য হয়ে যায়। তাহলে কি গত প্রায় এক বছর ধরে এমদাদের অজানাতে সুমু ও রোমানের সম্পর্ক চলছিল। সবার ধারনা তাই।
,
,
আসলে এমদাদ একজন পারফেক্ট মানুষ। পারফেক্ট বলতে যা বোঝায় সব গুন ছিলো এমদাদের মাঝে। এমদাদ সুমু ও রোমানকে দেখা করানোর কয়েকদিন পর থেকে সন্দেহ করে । হঠাৎ করে সুমু ও রোমানের বদলে যাওয়া, ঘন্টার পর ঘন্টা সুমু ও রোমানের মোবাইলে কল দিয়ে ওয়েটিং পাওয়া। ভালোবাসার কষ্টের গল্প
সব মিলিয়ে এমদাদের সন্দেহ সঠিক হয়। এমদাদ সবকিছু জেনে ও না জানার ভান করে থাকে। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করতে থাকে। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পাগল হয়ে থাকে। ১০ ডিসেম্বর এমদাদ রোমানকে সন্ধ্যায় ঘুরতে বের হতে বলে। রোমান কাজ আছে বলে এমদাদকে মানা করে দেয়। এমদাদ যা বুঝার বুঝে যায় এবং তৈরি হয়। রাত এগারোটা বাজার সাথে সাথে সুমুদের বাড়ীর পুকুর পাড়ে যায়। সেইখানে গিয়ে রোমান ও সুমুকে দেখতে পায়। গাছের সাথে হেলান দিয়ে দুজন প্রমালাপে ব্যস্ত। এমদাদ পিছনে থেকে গাড়ীর গিয়ারের তার দিয়ে রোমানের গলা গাছের সাথে, রোমানের হেলান অবস্থা থেকে টান দেয়। সাথে সাথে রোমানেরর মৃত্যু ঘটে। সুমু দৌড়ে পালাতে চাইলে, এমদাদ দৌড়ে সুমুকে ধরে জমিতে চাপাতি দিয়ে কোপিয়ে মারে। দুজনের লাশ একসাথে রেখে এমদাদ নিজের ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে থাকে। ফলাফল পরের দিন সকালে সবারই পুকুরের পাশে জমিতে দুইটা লাশ দেখতে পায়। লাশের কথা শুনে সবার সাথে এমদাদ, সুমু ও রোমানের লাশ দেখতে যায়। নিঃশ্চুপে ও নিঃশব্দে প্রতিশোধ নেয় এমদাদ।
বর্তমানে এমদাদ তার স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। কিন্তু সুমু ও রোমানের হত্যাকারিকে আজও পুলিশ ধরা তো দূরের কথা চিহ্নিত করতে পারেনি।
( কাল্পনিক,,, বাস্তবের সাথে মিলিয়ে লজ্জা দিবেন না)।
(সমাপ্ত)ভালোবাসার কষ্টের গল্প


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন