চিরকুমার রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

আসসালামু আলাইকুম

গল্প শেয়ার এর পক্ষ থেকে সবাইকে স্বাগতম।

আজকের গল্প নাম "চিরকুমার"

লেখক মোঃ সাইফুল ইসলাম

চিরকুমার রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
ছবিঃ ভালোবাসার পিকচার

ভালোবাসা মানুষকে হাঁসায়, কাঁদায়। কাওকে বাঁচতে
শেখায়, কাওকে আবার মরতে বাধ্য করে। কেওবা আবার
হয়ে যায় চিরকুমার। আজকে আপনাদের এমনই এক
ভালোবাসার গল্প বলবো।
,
২০০৪ সাল
কলেজের সবচেয়ে শান্তশিষ্ট, ভদ্র,মেধাবী ছেলে
সাদনান।সাদনান এবার ইন্টার পরীক্ষার্থী । মধ্যবিত্ত
পরিবারের ছেলে। ২ ভাই ১ বোনের মাঝে সবার ছোটো,
তাই সবার চোখের মনি সাদনান। সাদনান মধ্যবিত্ত
পরিবারের মেধাবী ছাত্র ছিল তাই সে অনেক টিউশনি
করতো। তাছাড়া গ্রামে ভালো মানের শিক্ষক না
থাকার ফলে সবাই সাদনানের কাছে পাইভেট পড়তো।
,
,
জেমি কোটিপতি বাবার মেয়ে। তিন ভাই এর একমাত্র
বোন জেমি, এবার এস. এস. সি. পরীক্ষার্থী।
,
এস. এস.সি. পরীক্ষার সময় সাদনান তার এক ছাত্রের
সিট খুজতে গিয়ে জেমির সাথে পরিচয় হয়। সাদনানকে
এলাকার সবাই মেধাবী হিসেবে জানে, সেই সুবাধে
জেমি সাদনানের নাম শুনেছিল। আজ যখন জেমির
সাদনানের সাথে দেখা হয় তখন পরিচিত হয়ে নেয়।
,
জেমি সাদনানের ছাত্রের কাছে থেকে সাদনানের
মোবাইলের নাম্বার সংগ্রহ করে নেয়। জেমির পরীক্ষা
শেষ হলে সাদনানকে কল দেয়, তখন সাদনানের পরীক্ষা
তাই সাদনান ব্যস্ত থাকে যার ফলে বেশিরভাগ সময়
সাদনানের মোবাইল বন্দ থাকে।
,
,
সাদনানের পরীক্ষা শেষ হলে, সাদনান মোবাইল চালু
করে দেখে একটা নাম্বার থেকে অনেকগুলো মেসেজ।
সাদনান নাম্বারটিতে কল দিলে রিসিভ করে না, তবে
মেসেজে কথা বলে। মেসেজের মানুষটি নাম বলে
নুসরাত। সাদনান বুঝতে পারে এইটা একটা মেয়ে।
নাম নুসরাত বললেও আসলে সেইটা ছিলো জেমি।
এইভাবে সাদনান জেমির সাথে নিয়মিত কথা বলতে
থাকে মেসেজের মাধ্যমে। তবে সাদনান জানতো না
জেমি তার সাথে মেসেজে কথা বলে।
,
,
,
এইভাবে মাস ছয়েক কথা বলার পর সাদনান বুঝতে পারে
সে জেমিকে ভালোবাসে। এর মাঝে জেমি পাশ করে
এলাকার এক কলেজে ভর্তি হয়, অন্যদিকে সাদনান
তাদের জেলা শহরে অবস্থিত পাবলিক ভার্সিটিতে
চান্স পায়।
,
,
,
সাদনান শুধু মেসেজে কথা বলে জেমিকে এতোটা
ভালোবেসে ফেলেছিলো যে সব সময় শুধু জেমিকে
ভাবতো।
সাদনান জেমিকে দেখা করার জন্য বললে জেমি রাজী
হয় না। অনেক কষ্টে সাদনান জেমিকে দেখার করার
জন্য রাজি করায়। দেখার করার তারিখটা ছিলো
১২ সেপ্টেম্বর ২০০৪। সেইদিন জেমি সাদা জামা পড়ে
সাদনানের সামনে এসেছিলো। সাদনান জেমিকে
দেখে চিনে ফেলে এবং বড়লোকের মেয়ে তাই কথা না
বলে চলে যেতে চাইলে, জেমি সাদনানের পথ আটকায়।
জেমি সাদনানকে বলে জীবনের চেয়ে বেশি
সাদনানকে ভালোবাসে। সে সাদনানকে হারাতে চায়
না। তাই এতোদিন আড়ালে ছিল। যাতে সাদনান
হারিয়ে না যায়। যেহেতু সাদনান অনেকদিন ধরে
জেমির সাথে কথা বলে আসছিলো,তাই সাদনান ও
জেমির প্রতি দুর্বল ছিলো। তাই সাদনান ও জেমিকে
ভালোবাসে বলে দেয়। শুরু হয় তাদের পথচলা।
,
ভালোবাসার পিকচার

,
প্রতিদিন মোবাইলে কথা বলা,
মাঝে মাঝে দেখা করা, ভালোই যাচ্ছিলো তাদের
দিনগুলো। এর মাঝে জেমির এইচ. এস. সি পরীক্ষা হয়।
যার ফলে বেশ কিছুদিন সাদনানের সাথে যোগাযোগ
বিচ্ছিন্ন ছিলো। জেমির পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর
একদিন রাতে সাদনান ও জেমি দেখা করে এবং ওয়াদা
করে
,
"" একজন আরেকজনকে ছাড়া অন্য কাওকে বিয়ে করবে
না"""
,
কিন্তু কিভাবে যেন সাদনান ও জেমির সম্পর্কের কথা
এলাকায় জানাজানি হয়।
যার ফলে জেমির বাবা জেমিকে বিয়ে দিতে উঠে পড়ে
লাগে।
সাদনান তখন সবেমাত্র অনার্স ৩য় বর্ষের ছাত্র।
তারপরও সে জেমির বড়ভাইয়ের সাথে দেখা করে
তাদের সম্পর্কের কথা বলে।
লেখাপড়া শেষ করে, চাকরি নিয়ে জেমিকে বিয়ে
করবে এর জন্য ৩ বছর সময় চায়।
জেমির পরিবার অনেক বড়লোক তাই সাদনানকে তাদের
পচ্ছন্দ হয় না।
জেমির বড় ভাই ও বাবা সাদনানকে এলাকা থেকে চলে
যেতে বলে।
না হয় তার পরিবারের ক্ষতি হবে বলে হুমকি দেয়।
আগেই বলেছি সাদনান মধ্যবিত্ত, অন্যদিকে জেমির
বাবার এলাকার সবচেয়ে প্রভাবশালি ব্যক্তি। যার
কারণে সাদনানকে তার পরিবার শহরে পাঠিয়ে দেয়।
,
,
,
কিছুদিন পর এক ব্যাংক করর্মকর্তার সাথে জেমির
বিয়ে হয়ে যায়।
,
,
সাদনান অনার্স, মার্স্টাস শেষ করে এলাকার ফিরে
এসে,এলাকার হাইস্কুলে
শিক্ষকতা শুরু করেছে।
তবে সাদনান এখনো বিয়ে করেনি।
সাদনানের স্কুলে জেমির বড় ভাইয়ের মেয়ে দীপা পড়ে।
,
সে সাদনানকে প্রশ্ন করে,, " স্যার আপনি বিয়ে করেন
নাই কেনো?? সাদনান উত্তরে বলে
,
'""" কারো সাথে ওয়াদা করেছি তাকে ছাড়া অন্য
কাওকে বিয়ে করবো না, যার সাথে ওয়াদা করেছি,
যেহেতু তার বিয়ে হয়ে গেছে তাই আমি আমার ওয়াদা
রাখতে কখনো বিয়ে করবো না""
"
,
এইদিকে জেমির একটা মেয়ে হয়েছে।
সে স্বামী সংসার নিয়ে খুব সুখে আছে।
অন্যদিকে সাদনান আজো বিয়ে করেনি।
কারণ সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে তার ওয়াদা রক্ষা
করবে।
চিরকাল তার ভালোবাসা তার মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে।
তার বুকে শুধু জেমি মাথা রেখেছিলো, তাই তার বুকে
অন্য কাওকে জায়গা দেবে না।
তাই সে চিরকুমার থাকবে।
,
,
মনে পড়ছে মনির খানের অমর একটা গানের দুটি লাইন """"
ভালোবাসা না পেয়ে অনেক পুরুষ রয়ে গেছে চিরকুমার,,,
ভালোবাসা না পেয়ে একটি রমণী ও নেই যে কখনো
পাতে নি সংসার"""""

লেখকঃ- মোঃ সাইফুল ইসলাম

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন