চিলে কোঠার প্রেম পর্বঃ ৯ শেষ পর্ব (ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস)

ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

পর্বঃ ০৯

কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে গেল কাব্যের।বিছানায় শুয়ে আছে সে।সত্যিই কি কেউ কাঁদছে নাকি?মানুষ মাঝেমাঝে ঘুমের মধ্যে অনেক কিছুই শুনতে পায়,যা মনে হয় বাস্তবে ঘটছে।কিন্তু চোখ খোলার পর দেখা যায় সবই স্বাভাবিক।না,এখনও কান্নার শব্দ ভেসে আসছে।চোখে চশমা পড়ে বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো কাব্য।গায়ে পান্জাবি জড়িয়েছে।দরজা খুলে দিতেই কান্নার শব্দটা আরও জোরালো শোনা যাচ্ছে।কাব্য হেঁটে ছাদের রেলিং-এ দাঁড়াতেই ভীষণ ধাক্কা খেল।মনে হলো যেন বুকের অংশে কেউ হাতুড়ি দিয়ে খুব জোরে আঘাত করেছে এইমাত্র।রাসেলের নিথর দেহ পড়ে আছে নিচে।চারপাশে রক্ত ছড়িয়ে আছে।ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রাসেলের লাশকে ঘিরে কাঁদছে।ফুলি বারান্দায় কোণায় দাঁড়িয়ে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে লাশের দিকে।চোখ থেকে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়ছে।কাব্য দাঁড়িয়ে না থেকে বেশ তাড়াহুড়ায় নিচে নেমে আসল।রাসেলের লাশকে ঘিরে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে আছে।সবাই এলাকার স্থানীয় বলা চলে।কেউ কেউ কৌতূহলী হয়ে বলছে,"ইয়াজউদ্দিন সাহেবের ছেলে বাসায় তো ছিল না।কখনো দেখিনি বাইরে বের হতে।"কাব্য ভীড় ঠেলে রাসেলের নিথর দেহের সামনে এসে বসে পড়ল।মুখের নিচের অংশ পাঁকা মেঝেতে একদম মিশে গেছে।জিহ্বা বের হয়ে আছে।চোখ দুটো খোলা।মাথার অংশ কেমন যেন বাঁকা হয়ে গেছে।কাব্য এগিয়ে এসে ডান হাতে রাসেলের চোখ দুটো বন্ধ করে দিল।ইয়াজউদ্দিন আহমেদের কাঁধে হাত দিয়ে বলল,কিভাবে হলো চাচা?গতকালও তো রাসেল ভাইয়ার সাথে কথা বলেছিলাম।বুঝতে পারিনি,আজ এমনটা হতে পারে! ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

ইয়াজউদ্দিন আহমেদ মাথা তুলে কাব্যের দিকে তাকালো।কাঁদতে কাঁদতে বলল,আজ ফজরের আযানে ঘুম ভেঙে যায়।অযু করে নামাজ পড়া শেষ করে ফুলিকে বললাম,একটু চা দিয়ে যা বারান্দায়।আমি বারান্দায় এসে দাঁড়াতেই দেখি,আমার রাসেল,ইয়াজউদ্দিন আহমেদ কান্নায় কথা আটকে যায়।রাসেলের লাশকে ধরে হাঁউমাঁউ করে কাঁদছেন তিনি।অনেকে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের অবস্থা দেখে আফসোস করছে।

কাব্য উঠে দাঁড়াতেই বয়স্ক একজন এসে বলল,আমি এই এলাকায় থাকি।আমার নাম রফিক আলী।বলছিলাম,তুমি তো ইয়াজউদ্দিন সাহেবের বাড়িতে ভাড়া থাকো।ওনার মেয়েগুলো কি দেশে আসা-যাওয়া হয় না?ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

কাব্য কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে গেল।অপরিচিত মানুষ হঠাৎ কি থেকে কি জিজ্ঞেস করে বসে।কাব্য বলল,চাচার দুই মেয়ে গতকালই অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছে।এখন তিনি একা কি করবেন বুঝতে পারছি না।

রফিক আলীর মুখে দীর্ঘশ্বাস বের হলো।বলল,আহারে,অন্তত একটা দিন থেকে গেলে ভাইয়ের লাশ দেখে তারপর যেতে পারতো।তুমি তাদের খবরটা পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারো,বাবা?

-জ্বি,চেষ্টা করবো।তবে মনে হয়না,কোনো লাভ হবে,অস্ফুটভাবে বলল কাব্য।

-তুমি কিছু বললে,বাবা,জিজ্ঞেস করল লোকটি।

-না,কিছু না।আমি দেখছি কি করা যায়,কথাটি বলে কাব্য একটু পিছিয়ে আসল।দেখতে পেল ফুলি এখনও বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে।কাব্য একবার চারপাশে তাকিয়ে বারান্দায় ঢুকে পড়ল।ফুলির দিকে তাকিয়ে বলল,গতকাল রাতে কোনো ঝামেলা হয়েছে,ফুলি?

-না,ভাইয়া,খালুজানের বিকাল থেকে জ্বর ছিল শরীরে।আর রাসেল ভাইয়া তো এখন টেবিলে এসে খায়।গতকাল সন্ধ্যায়ও তো টেবিলে বসে খাইছে।শুধু মুখে একটা কথা শুনছি,আমি চলে যাবো।তারপর খাওয়া শেষে উঠে বলে,ভালো থাকিস।কিন্তু সকালে উঠে এমন দৃশ্য দেখবো সত্যিই কল্পনা করি নাই,কাব্য ভাইয়া,বলল ফুলি।
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

-আচ্ছা,তুলি আপাকে ফোন করলে ওনি কি আবার আসবে বাংলাদেশে?জিজ্ঞেস করল কাব্য।

-আমি কি এখনও বাকি রাখছি।খালুজানের ফোন থেকে স্কাইপে কথা বলছি।সব শুনে বলে,আরিশা নাকি ক্লান্ত।এতদূর আবার আসা সম্ভব না,বলল ফুলি।

কাব্য একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,হায়রে নিষ্ঠুর দুনিয়া।কে আপন নয়।কাব্য বারান্দা থেকে বেরিয়ে দাঁড়িয়ে রইল সবার মাঝে।ভাবতে লাগল,ইয়াজউদ্দিন সাহেব ছেলের কথা শুনলেই মুখ কেমন গম্ভীর করে ফেলতেন।কথার মাঝে রাসেলের কথা উঠলেই তিনি বিরক্ত।অথচ এখন ছেলেকে ধরে কত আহাজারি করছেন!দুনিয়ার নিয়ম বোধহয় এমনই,মারা গেলে তারপর গুরুত্ব বুঝতে পারে।অথচ বেঁচে থাকার সময়ে খবর নেয়ার মানুষ থাকে না।সত্যিই অদ্ভুদ এই দুনিয়া!

গাড়ির সাইরেনের শব্দ শুনে রাস্তায় তাকালো কাব্য।পুলিশের গাড়ি এসেছে।গাড়ি থেকে নেমে আসল মোটা গোফওয়ালা পুলিশ অফিসার।সঙ্গে দুইজন কনেস্টেবল।সচরাচর এমন গোফওয়ালা পুলিশ অফিসার দেখা যায় না।লোকটার চেহারায় একটা পান্জাবি ব্যাপার আছে।কনেস্টেবল দুজন সবাইকে সড়ে যেতে বলল।ইয়াজউদ্দিন সাহেব ছাড়া বাকি সবাই একপাশে সড়ে দাঁড়ালো।পুলিশ অফিসার এসে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের পাশে এসে দাঁড়ালো।বলল,আমার নাম এসআই শফিকুর রহমান।ফোন পেয়ে এখানে এসেছি।ঘটনাটা কি হয়েছে একটু খুলে বলুন তো স্যার।

ইয়াজউদ্দিন আহমেদ উঠে দাঁড়ালো।ব্যথিত হয়ে বলল,আজ সকালে নামাজ পড়ে বারান্দায় দাঁড়াতেই দেখতে পাই,রাসেল এখানে পড়ে আছে।

-প্রেমঘটিত কোনো সমস্যা ছিল?নাকি পারিবারিক ঝামেলায় এমনটা ঘটতে পারে,আপনার কি মনে হয়,জিজ্ঞেস করল এসআই শফিকুর রহমান।

-রাসেলের একটু মানসিক সমস্যা ছিল।আগে সবসময় রুমে আটকে রেখে চিকিৎসা চলছিল।কিছুদিন আগে অবস্থা বেশ ভালো মনে হলে রুমের দরজা খুলে দেই।কিন্তু আজ এমন হবে কে বলতে পারতো,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

-তাহলে মানসিক সমস্যা ছিল।শফিকুর রহমান কাব্যের দিকে তাকিয়ে বলল,ছেলেটা কি আপনার আত্মীয়?

-জ্বি না,ছাদের চিলেকোঠায় ভাড়া দেয়া হয়েছে।এখানে এসেছে দিন পনেরো হবে,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

এসআই শফিকুর রহমান কাব্যের দিকে এগিয়ে এসে বলল,লাশ দেখে মনে হচ্ছে,চিলেকোঠার সামনে থেকেই ঝাঁপ দিতে পারে।আপনি কি গতকাল এমন কিছু দেখেছেন?

-জ্বি না,আমি খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।সকালে কান্নার শব্দে ঘুম ভাঙলে নিচে নেমে দেখি,রাসেল ভাইয়ার এই অবস্থা,বলল কাব্য।

এসআই শফিকুর রহমান মাথা নেড়ে কনেস্টেবলের দিকে তাকিয়ে বললেন,লাশ গাড়িয়ে তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করুন।যতটুকু মনে হচ্ছে,মানসিক সমস্যায় এমনটা হয়েছে।বাকিটা ফরেনসিক রির্পোট বলে দিবে।কনেস্টেবল দুইজন বিছানায় পেছিয়ে রাসেলের নিথর দেহ গাড়িতে তুলে উঠে পড়লো।গাড়ি ইয়াজউদ্দিন সাহেবের বাড়ি পেরিয়ে চলে গেল আপন গন্তব্যে।ভিড় আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে।অনেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বেরিয়ে গেল বাইরে।কাব্য ইয়াজউদ্দিন আহমেদের কাছে এসে দাঁড়ালো।বলল,চাচা,বাসা চলুন,আপনি অসুস্থ মানুষ।

ইয়াজউদ্দিন আহমেদ চুপ করে রইলেন।কথা বলার শক্তি তিনি হারিয়ে ফেলেছেন।কাব্য আর কথা না বাড়িয়ে ইয়াজউদ্দিন আহমেদকে ধরে ভেতরে দিয়ে আসলো।বাকিটুকু ফুলি ধরে নিয়ে গেল ভেতরে।হঠাৎ আকাশ কালো হয়ে ঝুম বৃষ্টি নামল।ভেতরে যেতে ইচ্ছে করছে না কাব্যের।ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রইল বাইরে।বৃষ্টি নামতেই সবাই যার যার পথে চলে গেল।কাব্য আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।ছোটবেলায় কাব্যের যখন নানু মারা যায় সেদিনও আকাশে বৃষ্টি ছিল।আষাঢ়ের ঝুম বৃষ্টি।সকাল থেকে বৃষ্টি যে শুরু হয়েছিল,আর থামার নাম নেই।সবাই বৃষ্টিতে ভিজে কবর দিয়েছিল ওনাকে।সবাই একটা কথা বলেছিল সেদিন,মারা যাওয়ার দিন বৃষ্টি হলে নাকি খুব ভালো।কাব্যের আজ নানুর কথা ভীষণ মনে পড়ছে।খুব আদর করতেন তিনি।বৃষ্টি দেখে কাব্যের মনে হচ্ছে,রাসেলের ভাগ্য খুব ভালো।আজও বৃষ্টি হচ্ছে।টানা বর্ষনে রক্তের ছোপছোপ দাগগুলো বৃষ্টির পানিতে চলে যাচ্ছে গেইটের বাইরে।হঠাৎ কাব্যের চোখ বেয়ে পানি পড়ছে।কাব্যের মনে এখন নানান কথা ভাসছে।এটাই কি তবে প্রিয়জনের ভালোবাসা?রাসেল ভাইয়ার প্রতি কি তবে ভালোবাসা জন্মেছিল?কিন্তু তিনি তো আমার আত্মীয় নয়।হঠাৎ করে পরিচয় হয়েছিল মানুষটার সঙ্গে।তবে খুব আপন করে নিয়েছিল।দেখলে একগাল হেসে কথা বলতো।এই আপন করে নেয়াই কি তবে ভালোবাসা?নাহলে অপরিচিত মানুষটার জন্য এত কান্না আসছে কেন?তিনি কি আমার কান্না দেখে এখনও হাসছে?বলছে,এই ছেলে,তুমি কান্না করছো কেন?আকাশে আজ মেলা বসেছে।বৃষ্টির মেলা।আমার সঙ্গে যাবে?চলো ঘুরে আসি।অনেক অজানা কথা মাথায় নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে কাব্য।বৃষ্টির ফোঁটা টপটপ করে পড়ছে কাব্যের গাল বেয়ে।কাব্য চোখ বন্ধ করে আলিঙ্গন করছে মৃত্যুর দিনে ঝুম বর্ষণকে।

পনের.

পুষ্প জানালার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।বাইরে ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।টানা বর্ষনে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেন উপছে পড়ছে আশপাশে।চারপাশ সবুজে সবুজময়।ধুলাময় যান্ত্রিক শহরে এক পশলা বৃষ্টি এসে সব ধুয়ে-মুছে ছড়িয়ে দেয় নতুন সৌন্দর্য।জনমনে নিয়ে আসে স্বস্তি।এই বৃষ্টি কারো জন্য নিয়ে আসে আর্শিবাদ,কারো জন্য ভিজতে পারার আনন্দ।পুষ্প পর্দা সরিয়ে জানালা খুলে দিল।মুহূর্তে বৃষ্টির ঝাপটা বাতাস এসে শরীরে লাগল পুষ্পের।পুষ্প আপনমনে হেসে উঠল।বৃষ্টির ফোঁটাগুলো জানালায় পড়ছে।টুপটাপ তার শব্দ।সে শব্দ ছাপিয়ে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পেল পুষ্প।ভেতরে এসো,বলল পুষ্প।

সাজ্জাদ জহির দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে দেখতে পেল পুষ্প জানালা খুলে দাঁড়িয়ে আছে।হাত দুটো বাইরে বের করে গুনগুন করে গান গাইছে।পুষ্পের পাশে এসে দাঁড়িয়ে বললেন,শরীর খারাপ হবে না,মা?

পুষ্প কথাটা এড়িয়ে বলল,কি সুন্দর বৃষ্টি!অনেকদিন পর এমন ঝুম বৃষ্টি।তাই না বাবা?

-হুম,সত্যিই খুব সুন্দর।আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ।বেশ ভালো লাগল,বলল সাজ্জাদ জহির।
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
-বাবা,ছাদে যাবে?বৃষ্টিতে দারুন মজা হবে,বেশ উৎফুল্ল হয়ে বলল পুষ্প।

-হুম যেতে পারি,তবে তোমার আম্মু লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে থাকবে।পিঠের উপর কিছু পড়লে আমার কিন্তু দোষ নেই,হেসে বলল সাজ্জাদ জহির।

-সেটা পরে দেখা যাবে।দরকার হলে আম্মুকে সাথে নিয়ে ছাদে যাবো,বলল পুষ্প।

-আচ্ছা তোর কাছে একটা কথা জানতে এসেছি।কথাটা এখনই বলার উপযুক্ত সময়,বিছানায় বসে বলল সাজ্জাদ জহির।

পুষ্প হাত দুটো ভেতরে এনে তাকালো সাজ্জাদ জহিরের দিকে।বলল,কি কথা বাবা?

-কাব্য ছেলেটাকে আমার বেশ মনে ধরেছে।তোর আম্মুও রাজি আছে।তোর কেমন লাগে কাব্যকে?জিজ্ঞেস করলেন সাজ্জাদ জহির।

পুষ্প কিছুটা লজ্জা পেল।মাথা নিচু করে বলল,ভালো লাগে।

-শোন,এই ছেলেটাই তোর জন্য একদম উপযুক্ত।সম্পর্কের মূল্য সবাই বুঝতে পারে না।কিন্তু যেই মানুষটার কাছে সবকিছু ছাপিয়ে সম্পর্ক আগে,তাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়।শত ঝড় আসলেও সে কখনো ছেড়ে যাবে না।,বললেন সাজ্জাদ জহির।

পুষ্প লজ্জায় কিছু বলতে পারল না।দৌঁড়ে দরজার কাছে এসে বলল,বাবা,আমি ছাদে যাচ্ছি।তুমিও তাড়াতাড়ি আসো।ওই দেখো,আম্মুও ছাদে ভিজছে।মুচকি হেসে বেরিয়ে গেল পুষ্প।

-তাই নাকি।তাহলে তো আর দেরি করা যাবে না।সাজ্জাদ জহির জানালা বন্ধ করে বেরিয়ে গেল বৃষ্টি বিলাসে।

পুষ্প ছাদে এসে বলল,আজ সূর্য কোনদিকে উঠেছে আম্মু?তোমার মতো মানুষ বৃষ্টিতে ভিজছে!

সেলিনা হোসেন পুষ্পকে ধরে বলল,এই পাগলি মেয়ে,আকাশে এখন মেঘ।সূর্য উঠেনি।শুনো,যখন মা হবে,তখন ইচ্ছে করলেও সন্তানকে শাসন করার জন্য এসব ইচ্ছা ত্যাগ করতে হয়।কিন্তু কখনো কখনো প্রকৃতির সৌন্দর্যে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হয়।

-বাহ,মা-মেয়ে আমাকে ছাড়া ভিজতে চলে এসেছো।আমি কিন্তু খুব রাগ করলাম তোমাদের উপর,কিছুটা অভিমানে বললেন সাজ্জাদ জহির।

পুষ্প দৌঁড়ে এসে সাজ্জাদ জহিরকে টেনে সেলিনা হোসেনের পাশে দাঁড় করিয়ে দিল।তিনজনে হাত ধরে ভিজছে বৃষ্টিতে।বৃষ্টির ফোঁটা এসে পড়ছে উচ্ছ্বাসিত মুখগুলোতে।নিচ থেকে দারোয়ান মকবুল ঝরিনার পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে উপরের দিকে তাকিয়ে।সত্যিই আজ শান্তিনিবাসে শান্তি ফিরে এসেছে।

কাব্য ছাদে দাঁড়িয়ে আছে।কাব্যের মনটা ভীষণ খারাপ।একটু আগে রাসেলের লাশ কবর দিয়ে বাসায় ফিরেছে সে।কাব্যের মনে হচ্ছে,খুব কাছের একজন মানুষকে সে হারিয়েছে।শেষবারের মত কবরের মাটিয়ে শায়িত করে এসেছে।মৃত্যু খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।পৃথিবীতে জন্ম হলে মৃত্যু হবে।কিন্তু কাব্যের কাছে মনে হয়,সত্যিই বড় অদ্ভুদ।আজ যে মানুষটা কথা বলছে,সে মানুষটাই কাল কবরে শুয়ে আছে।

-কাব্য ভাইয়া,আপনারে খালুজান নিচে ডাকে।তাড়াতাড়ি যেতে বলছে।

কাব্য পেছন ফিরে দেখতে পেল ফুলি দাঁড়িয়ে আছে।ঘড়িয়ে তাকিয়ে দেখে,রাত প্রায় দশটার কাছাকাছি।এই সময়ে হঠাৎ ডাকছেন কেন?কাব্য বলল,তুমি যাও।আমি এখনই আসছি।

কাব্য দাঁড়িয়ে না থেকে ফুলির পেছন পেছন সিড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করল।দ্বিতীয় তলায় আসতেই কাব্য থমকে দাঁড়ালো।মনে পড়ল,গতকালই এখানে রাসেলের সাথে শেষ কথা হয়েছিল।কাঠের ফ্রেম বুকে জড়িয়ে বসেছিল ভেতরে।ব্যাপারটা ভাবতেই কাব্যের বিছানায় বসে থাকা মেয়েটির কথা মনে পড়ল।সত্যিই কি মনের ভুল ছিল?নাকি কেউ বসে ছিল বিছানায়।

-ভাইয়া,দাঁড়িয়ে আছেন যে,জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ফুলি।

কাব্যের খেয়ালই ছিল না,নিচে ইয়াজউদ্দিন সাহেব বসে আছে তার অপেক্ষায়।কল্পনায় ডুবে থাকলে যা হয়।কাব্য আর দাঁড়িয়ে না থেকে আবার হাঁটতে শুরু করল।নিচে নামতেই দেখতে পেল,ইয়াজউদ্দিন আহমেদ চেয়ারে বসে আছে।চোখ দুটো বন্ধ।পায়ের আওয়াজ শুনতে পেয়ে চোখ খুলে তাকালেন।গম্ভীর হয়ে বললেন,ফুলি,তুই একটু ভেতরে যা তো মা।আমি কাব্যের সাথে একটু কথা বলবো।

ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ফুলি মাথা নেড়ে ভেতরে চলে গেল।

ইয়াজউদ্দিন সাহেব নড়েচড়ে বসলেন।কাব্যের দিকে তাকিয়ে সামনের চেয়ারে বসার ইশারা করলেন তিনি।আমি জানি,এত রাতে জরুরি তলব করার জন্য তুমি কিছুটা অবাক।কিন্তু না বলেও শান্তি নেই।নিজের কাছে নিজেকে অস্বস্তি লাগছে।

-চাচা,আপনি ভালো মনে করলে নিশ্চিন্তে কথাটা বলুন।আমি মনোযোগ দিয়ে শোনার চেষ্টা করবো,বলল কাব্য।

-কাব্য,আমি তোমার কাছে একটা মিথ্যা কথা বলেছি।তবে আমার আর কোনো উপায় ছিল না।চার বছর ধরে এই মিথ্যায় জর্জরিত নিজেকে নিজের কাছে খুব ছোট মনে হয়।কিন্তু তোমাকে কথাগুলো বলার সময় এসেছে।একটা কথা চিন্তা করে দেখেছি,কি লাভ হলো এতকিছু করে?শেষমেষ আমার ছেলেটাই তো চলে গেল।আটকাতে পারলাম না তো,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

কাব্য অবাক হয়ে বলল,কি কথা চাচা?

-তোমাকে বলেছিলাম,আমার স্ত্রীর মৃত্যুর ধকল রাসেল সহ্য করতে পারেনি।কথাটি মিথ্যা ছিল।আজ থেকে চার বছর আগে এই বাড়ির দ্বিতীয়তলায় এক পরিবার উঠে।ভদ্রলোক ব্যাংকে চাকরি করতো।ওই পরিবারে দুইটি মেয়ে ছিল।ছোট মেয়েটির নাম ছিল অন্তি আর বড় মেয়েটির নাম ছিল বিন্তী।কাহিনীটা বড় মেয়ে বিন্তীকে নিয়ে।বিন্তী অনার্সে মাত্র ভর্তি হয়েছিল।খুব প্রাণ চঞ্চল মেয়ে ছিল।বিন্তীর গলা ছিল ভীষণ মিষ্টি।প্রতিদিন বিকেলে ছাদে উঠে গান গাইতো।রাসেল তখন ইন্জিনিয়ারিং-পড়তো।প্রকৃতির যেমন নিয়ম,একসময় দুজন দুজনের প্রেমে পড়ল।প্রথম প্রথম ব্যাপারটা মনে করেছিলাম,ভালো বন্ধুত্ব।কিন্তু একদিন রাসেল যখন বিন্তীর ব্যাপারে বিয়ের প্রস্তাব আমাকে এসে বলল,কষিয়ে থাপ্পর মেরেছিলাম ছেলেটাকে।আমার সামাজিক মর্যাদা আর বিন্তীর বাবার মর্যাদা ওদের দুইজনের মাঝে প্রধান বাধার কারন।কিছুতেই রাসেলের সাথে পেরে উঠছিলাম না।একদিন বিন্তীকে গিয়ে ইচ্ছেমতো কথা শুনিয়ে বাসায় চলে আসি।সেদিন রাতেই অপমান সহ্য করতে না পেরে বিন্তী আত্মহত্যা করে।আমি প্রচন্ড ভয় পেয়ে যাই।বিন্তীর রুম জুড়ে শুধু রাসেল আর বিন্তীর ভালোবাসা,ছবির স্মৃতি ঝুলছিল।সবকিছু নষ্ট করে নতুন করে আবার রঙ করি পুরো রুম।তারপর টাকা দিয়ে সবকিছু আমার নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসি।বিন্তীর বাবা-মা শত চেষ্টা করেও প্রমান করতে পারেনি হত্যার প্রচেষ্টা নাকি আত্মহত্যা।সর্বস্ব হারিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চলে যায় তারা।বিন্তীকে হারিয়ে রাসেল একসময় মানসিক রোগী হয়ে যায়।রুমে আটকে রাখতে রাখতে একসময় সবাই রাসেলের কথা ভুলেই যায়।সবকিছু ঠিকভাবেই চলছিল।মাঝে কিছু ভাড়াটিয়া উঠেছিল এই বাড়িতে।কিন্তু রাতে নাকি ছাদে মেয়ে হেঁটে বেড়ায়।একসময় বিরক্ত হয়ে বাসায় ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দিলাম।কিন্তু এতকিছু করেও তো আমার শেষ রক্ষা হলো না।ছেলেটাকে বাঁচাতে পারলাম না,কাঁদতে কাঁদতে বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

কাব্য কথাগুলো শোনার পর কি বলবে বুঝতে পারছে না।একটা মানুষ শুধু নিজের সম্মান রক্ষার্থে এমন কাজ করতে পারে কল্পনাই করা যায় না।

-আমি জানি,তুমি আমার উপর এখন নোংরা মনোভাব পোষণ করছো।কিন্তু আমি নিরুপায় ছিলাম।টাকা আর সম্মানে অন্ধ হয়েছিলাম।কিন্তু এখন এসেছে প্রায়শ্চিত্ত করার সময়।আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি,আগামীকাল বিন্তীর বাবা-মায়ের সাথে দেখা করবো।অন্তির পড়ালেখা-বিয়ের যাবতীয় খরচ আমি নিজে বহন করবো।

-চাচা,যদিও ছোটমুখে বড় কথা বলা ঠিক নয়।তবুও বলছি,ব্যাপারটা মোটেও ঠিক হয়নি।রাসেল ভাইয়ার ব্যাপারটা মেনে নিলে হয়তো এমন দিন দেখতে হতো না আপনাকে,বলল কাব্য।ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

-হুম কাব্য,আমি জানি।আমি সত্যিই নিজের কাছে নিজে খুব লজ্জিত।কখনো ক্ষমা করতে পারবো না,বললেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

-আচ্ছা চাচা,রাত তো অনেক হয়েছে।যা হয়েছে তা নিয়ে আর চিন্তা না করে বরং আপনি এখন অন্তির দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন,সেটাই ভালো।এখন বিন্তীর মা-বাবা রাজি হবে কিনা তাও বড় কথা।সবকিছু মিলিয়ে,নিজেকে শক্ত করুন,বলল কাব্য।

-হুম তা ঠিক।কাব্য,হোটেল থেকে খাবার নিয়ে এসেছি।এসো একসাথে খাবার খাবো,বললেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

-না,চাচা,মাফ করবেন।আমি একটু আগে খেয়ে এসেছি।পেটে এতটুকু জায়গা খালি নেই,বাধ্য হয়ে মিথ্যা বলল কাব্য।এই মুহূর্তে খেতে ইচ্ছে করছে না কাব্যের।

ইয়াজউদ্দিন আহমেদ চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।বললেন,আচ্ছা যাও তবে।খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো।আজ সারাদিন তুমি আমার জন্য অনেক খেটেছো।ধন্যবাদ দিয়ে ছোট করবো না।আমার কোনো ছেলে থাকলে এমনটাই করতো।

কাব্য বলল,চাচা,আপনি খেয়ে শুয়ে পড়ুন।আমিও যাচ্ছি।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ভেতরে চলে গেলেন।

কাব্য সিড়ি বেয়ে ছাদে উঠতেই দেখতে পেল,একটি ছায়া দাঁড়িয়ে আছে।কাব্য জানে,ছায়াটি কে?বিন্তী দাঁড়িয়ে আছে।কাব্যের পায়ের আওয়াজ শুনে বিন্তী কাব্যের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।কিন্তু সেই হাসিতে প্রাণ নেই।আমি জানি,তুমি এখন কি প্রশ্ন করবে?আমি এতদিন কেন তোমার সাথে ছিলাম?ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

কাব্য চুপ করে রইল।মাথা নেড়ে বিন্তীর কথায় সায় দিল।

-রাসেলকে রুমে আটকে রেখেছিল ওর বাবা।রাসেল যখন চিৎকার করে উঠতো ভীষণ খারাপ লাগতো।আমার জন্যই ওর এমনটা হয়েছে।তাই ছাদে এসে নিরবে দাঁড়িয়ে গান গাইতাম।মাঝে এই চিলেকোঠায় তুমি আসলে।তারপর একসময় বন্ধুত্ব।তবে এটা সত্য,আমার কোনো অস্তিত্ব নেই,বলল বিন্তী।

-ইয়াজউদ্দিন সাহেব,আপনাদের সাথে ব্যাপারটা ভালো করেনি।মানুষ ভালোবাসতেই পারে।কিন্তু সম্মানের কথা চিন্তা করে একটা পরিবার শেষ করে দিবে,এটা মানা যায় না,বলল কাব্য।

-যাই হোক,তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছেন।আমার আর কারো প্রতি অভিযোগ নেই।মুক্তি পেয়ে গেছি আজ থেকে,বলল বিন্তী।

-মুক্তি পেয়েছেন মানে?আপনি কি চলে যাবেন?আর কখনো দেখা হবে না?জিজ্ঞেস করল কাব্য।ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

বিন্তী মুচকি হাসলো।আমাকে যেতে হবে।রাসেল আমার জন্য অপেক্ষায় বসে আছে।গতকাল রাতে আমার কথা ভেবেই নিচে ঝাঁপ দিয়েছে পাগলটা।সত্যিই এখনও আমাকে ভুলতে পারেনি।তোমার জন্য কেউ অপেক্ষা করছে।ভালো থেকো,কাব্য।

কাব্য দেখতে পেল,বিন্তী হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।কাব্য বসে পড়ল মেঝেতে।বিন্তী চলে গেছে,কিন্তু মায়া ছেড়ে যায়নি।খোলা চুল,টানাটানা চোখ,সুরেলা কন্ঠ এখনও যেন ডাকছে কাব্যকে।উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।

চারদিকে ভোরের আলো ফুটে উঠেছে।রাস্তায় মানুষজনের আনাগোনা ধীরে ধীরে বাড়ছে।ইয়াজউদ্দিন আহমেদ সাদা পান্জাবি পড়ে বাইরে বেরিয়েছেন।মেঝেতে কিছুক্ষন একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন তিনি।ফুলি ব্যাপারটা বুঝতে পেরে বলল,কি দেখেন,খালুজান?

-ছেলেটা গতকাল এখানে পড়ে ছিল।বিশ্বাস করবি কিনা জানি না,গতকাল যখন রাসেলের লাশ ধরে বসে ছিলাম তখনও মনে হয়েছিল,ছেলেটা বেঁচে আছে।মুখের বামপাশ মাটিতে মিশে ছিল ওর।ইশশ,কত ভয়ানক মৃত্যু।খুব কষ্ট পেয়েছিল বোধহয়,ইয়াজউদ্দিন সাহেব কান্নায় ভেঙে পড়লেন।

ফু্লি এগিয়ে এসে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সামনে দাঁড়ালো।বলল,খালুজান,কান্না করলে রাসেল ভাইয়ের আত্মা কষ্ট পাবে।আল্লাহপাকের সৃষ্টি আল্লাহপাক তুলে নিয়েছেন।আমাদের একটাই কাজ,ওনার জন্য দু'হাত তুলে দোআ করা।

ইয়াজউদ্দিন আহমেদ চোখের পানি মুছে বললেন,হুম তাই করতে হবে।তবে আরও একটা কাজ বাকি আছে।পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে।তুই দরজা লাগিয়ে দে।আমি বের হচ্ছি,ইয়াজউদ্দিন আহমেদ গেইট দিয়ে বের হতেই দেখেন,পুষ্প আসছে।তিনি দাঁড়িয়ে পড়লেন।

-আসসালামুআলাইকুম চাচা,ভালো আছেন?এগিয়ে এসে বলল পুষ্প।

-এইতো মা,আল্লাহপাক ভালো রেখেছে।গতকাল ছেলেটা মারা গেল।মন কিছুটা ব্যথিত,বললেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।

-কিভাবে মারা গেছে ওনি?জিজ্ঞেস করল পুষ্প।

-ছেলেটার মানসিক সমস্যা ছিল।রাতে ছাদে উঠে নিচে লাফ দিল।তারপর শেষ,বললেন তিনি।

পুষ্প মুখ দিয়ে অস্ফুট শব্দ করল।বলল,কোথাও বের হচ্ছেন আপনি?ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

-হুম,পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে যাচ্ছি।কাব্য উপরে আছে।তুমি দেখা করে আসো,ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রাস্তা ধরে হাঁটতে শুরু করলেন।

পুষ্প ইয়াজউদ্দিন আহমেদের কথা কিছুই বুঝতে পারলো না।ফুলির দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতে শুরু করল।পুষ্প উপরে এসে বেশ চমকে উঠল।কাব্য ছাদের এক কোণে বসে আছে।কেমন যেন উদাস উদাস লাগছে কাব্যকে।পুষ্প দৌঁড়ে এসে কাব্যের পাশে বসল।কাব্যের মুখে হাত দিয়ে বলল,কি হয়েছে তোমার?এমন লাগছে কেন তোমাকে?

-হারিয়ে ফেলছি কাউকে?খুব অল্প সময়ে মায়া পড়েছিল তার উপর।খোলা চুল,স্নিগ্ধ আঁখি,মিষ্টি কন্ঠের মায়ায় আচ্ছন্ন,বলল কাব্য।

পুষ্প বুঝতে পারল,সেদিনের মেয়েলি ঘ্রাণ তাহলে ভুল ছিল না।কাব্য কি তবে অন্য কাউকে ভালোবাসে?পুষ্প বলল,কে ছিল সেই মেয়ে?

কাব্য পুষ্পের দিকে তাকালো।উঠে দাঁড়িয়ে হাঁটতে হাঁটতে ছাদের কিনারে এসে দাঁড়ালো।প্রথম থেকে গতকাল রাত অব্ধি সব খুলে বলতে শুরু করল কাব্য।

পুষ্প সবকিছু শুনে চুপ করে রইল।হঠাৎ কাব্যের চোখে চোখ রেখে বলল,সে ছিল তোমার কল্পনা।কল্পনায় মানুষ অনেক জিনিসের প্রতি আকৃষ্ট হয় যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব থাকে না।পৃথিবীতে মানুষ অনেক কিছু আশা করে।কিন্তু সব আশা পূরন হয়না।যদি পূরন হতো তবে এই পৃথিবী এত সুন্দর হতো না।সেদিন তোমাকে শেষে একটা কথা বলেছিলাম,"অপেক্ষায় থাকবো।"তবে কি অপেক্ষার প্রহর এভাবেই অসমাপ্ত থেকে যাবে,কাব্য?ভালোবাসা কি পূর্ণতা পাবে না?

কাব্য পুষ্পের থেকে সরে এসে মাথা নিঁচু করে দাঁড়িয়ে রইল।হঠাৎ মনে হলো,বিন্তী আশেপাশেই আছে।কাব্য মাথা তুলে দেখে,বিন্তী সামনে দাঁড়িয়ে আছে,সঙ্গে রাসেল।বিন্তী মাথা নেড়ে কাব্যকে সায় দিল।কাব্য মুচকি হেসে টব থেকে লাল গোলাপ ছিঁড়ে পুষ্পের পেছনে এসে দাঁড়ালো।পুষ্প কাঁদছে।

কাব্য পুষ্পের কাঁধে হাত রেখে বলল,পুষ্প,আমি কিন্তু একবারও বলিনি,মেয়েটাকে ভালোবাসি।শুধু বলেছি,খোলা চুল,স্নিগ্ধ আঁখি,মিষ্টি কন্ঠের মায়ায় পড়েছি।মায়ায় মানুষ পড়তেই পারে।কিন্তু এই ছেলেটা একটি মেয়েকে ভালোবেসে ফেলেছে।মুচকি হাসল কাব্য।

ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

পুষ্প পেছনে ফিরে অভিমানি কন্ঠে বলল,সেই মেয়েটিও নিশ্চয়ই আমি নই।আমাকে ভালোবাসার মত কি আছে,তবুও তোমাকে ভালো দেখতে চাই।

কাব্য হঠাৎ হাঁটু গেড়ে ছাদে বসে পড়ল।পুষ্প আচমকা কাব্যের এমন পাগলামিতে সত্যিই অবাক।এই মেয়েটিকে খুব ভালোবাসি।যদিও কখনো বলা হয়নি।কিন্তু দূর থেকে অনুভব করেছি মিষ্টি মেয়েটাকে।আর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হবে না।এই চিলেকোঠাকে সাক্ষী রেখে বলছি,ভালোবাসবে তো আমায়,পুষ্প?

পুষ্প খুশিতে কেঁদে ফেলল।হঠাৎ কাব্যকে জড়িয়ে ধরে বলল,হুম খুব ভালোবাসি।

কাব্য আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেল,বিন্তী রাসেলের পাশে দাঁড়িয়ে হাসছে।যেন বলছে,চিলেকোঠার প্রেম ছড়িয়ে পড়ুক নতুন দিগন্তে।শুভ কামনা তোমাদের জন্য ভালোবাসার নতুন জীবনে।

............সমাপ্ত.............

written by Habib Khan Hridoy


Post a Comment

أحدث أقدم