রহস্যময় ভুতের গল্পঃ দ্যা ম্যানিটু পর্ব-২ (Golpo Share ভালোবাসার গল্প)

ভালোবাসার গল্প fb

"দ্যা ম্যানিটু"
লেখক - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু
(পর্ব ২)

ডাবল ডােরের দরজা ঠেলে ওয়েটিং-রুমে ঢুকলেন ড. হিউজেস। মিস ট্যান্ডি
আগের জায়গাতেই বসে আছে, হাতে আধ-খাওয়া সিগারেট, কোলে খুলে রাখা
পত্রিকার পাতায় শূন্য দৃষ্টি পড়ছে না।
‘মিস ট্যান্ডি?
চমক ভাঙল ক্যারেনের। মুখ তুলে চাইল। জি?
একটা চেয়ার টেনে নিয়ে মেয়েটির পামে বসলেন ড. হিউজেস। হাত জোড়াভালোবাসার গল্প fb

কোলের ওপর। চেহারাটাকে গম্ভীর এবং শক্ত করে তুলতে চাইলেন। কিন্তু
এমন শ্রান্ত তিনি, চেহারায় ক্লান্তি ছাড়া কিছুই ফুটল না।
‘শুনুন, মিস ট্যান্ডি, আমার মনে হচ্ছে আপনার একটা অপারেশন দরকার
হবে। পিণ্ডটা দেখে যদিও ভয় পাবার কিছু নেই তবে যে হারে ওটা যে
চলেছে তাতে ওটাকে যত তাড়াতাড়ি শরীর থেকে কেটে বাদ দেওয়া যায় ততই ভালো।"
মাথার পেছনে হাত নিয়ে গেল ক্যারেন, টিউমার স্পর্শ করে মাথা নাড়লো
‘জি, আমি বুঝতে পারছি।
‘কাল সকাল আটটার মধ্যে এখানে চলে আসুন।

ড, গিলবার্ট আপনার টিউমার অপারেশন করবেন। উনি খুব ভালাে সার্জন।
আপনার মতাে টিউমার অপারেশন তার কাছে ডাল-ভাত।'
হাসার চেষ্টা করল ক্যারেন। সে আপনাদের দয়া। ধন্যবাদ।'
কাঁধ ঝাকালেন ড. হিউজেস । আমাকে ধন্যবাদ দিতে হবে না। কারণ আমি
কেবল আমার কর্তব্য পালন করছি। আর আপনার অবস্থা স্বাভাবিক আছে।
এরকম কিছু আমি বলতে চাই না। তবে আমরা যে পেশায় আছি এখানে
অস্বাভাবিক অনেক কিছুই ঘটে। আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন।
অ্যাসট্রেতে সিগারেটের ঘাড় মুচড়ে ভাঙল ক্যারেন। নিজের ব্যক্তিগত
জিনিসপত্রগুলাে গুছিয়ে নিল । আমার বিশেষ কিছু কি দরকার হবে?' জিজ্ঞেস
করল ও। ধরুন নাইটড্রেস কিংবা কম্বল টম্বল জাতীয় কিছু।
হাসলেন ড. হিউজেস, সঙ্গে একজোড়া চপ্পলও নিয়ে আসবেন। কারণ
সারাক্ষণ আপনাকে আমরা বিছানায় শুইয়ে রাখব না।'
“ঠিক আছে,' বলল ক্যারেন ।
ড. হিউজেস ওর জন্য ঘরের দরজা খুলে দিলেন। মেয়েটি বেরিয়ে গেল ঘর থেকে,
পা বাড়াল এলিভেটরে । ওর গমনপথে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ডাক্তার।
করিডােরে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন ড. হিউজেস, তার ধ্যান ভাঙলেন ড.
ম্যাকেভয় । দরজা খুলে উঁকি দিলেন।
‘ড. হিউজেস?
বলুন?
‘একটু ভেতরে আসুন। জিনিসটা একবার দেখে যান।'

তিনি ক্লান্ত পায়ে ড, ম্যাকেভয়কে অনুসরণ করে তার অফিসে ঢুকলেন। তিনি
যখন ক্যারেনের সঙ্গে কথা বলছিলেন ওই সময় ড, ম্যাকেভয় মেডিকেল
রেফারেন্স বই ঘেঁটে দেখেছেন। তাঁর ডেস্কের সর্বত্র ছড়ানাে-ছিটানাে ডায়াগ্রাম
আর এক্স-রে প্লেট।
‘কিছু পাওয়া গেল?' জানতে চাইলেন ডাক্তার। বুঝতে পারছি না। পুরাে
ব্যাপারটাই কেমন হাস্যকর লাগছে।'
ড, ম্যাকেভয় ড, হিউজেসের হাতে ভারী একটি টেক্সট বই তুলে দিলেন।
একটা পৃষ্ঠা খুলে দেখালেন। পৃষ্ঠা ভর্তি নানান চার্ট এবং ডায়াগ্রাম । কপালে
ভাঁজ পড়ল ড. হিউজেসের। সতর্কতার সঙ্গে ওগুলাে পরীক্ষা করলেন।
তারপর লাইট-বক্সের কাছে গিয়ে আবার উঁকি দিলেন মিস ট্যান্ডির এক্স-রের
ছবিতে।ভালোবাসার গল্প fb

‘আশ্চর্য তাে!' মন্তব্য করলেন তিনি।
নিতম্বে হাত রেখে দাঁড়ানাে ড. ম্যাকেভয় মন্তব্য শুনে সায় দেওয়ার ভঙ্গিতে
মাথা ঝাকালেন। 'ঠিকই বলেছেন। খুবই অদ্ভুত । কিন্তু নিশ্চয় স্বীকার করবেন
জিনিসটা অনেকটা ওরকম দেখতে?
বই বন্ধ করলেন ড. হিউজেস। কিন্তু আপনার কথা যদি সত্যি হয় তাহলে
মাত্র দুদিনের মধ্যে?

‘যদি এরকম কাণ্ড ঘটা অস্বাভাবিক না হয় তাহলে অন্য সব কিছু ঘটাও
স্বাভাবিক।
হাসপাতালের পনেরাে তলায় নিজেদের অফিসে শুকনাে মুখে, এক্স-রে-র দিকে
তাকিয়ে চুপ করে রইলেন দুই ডাক্তার। বুঝতে পারছেন না কী করবেন।
‘এটা কোনাে ভেলকি নয়তাে? অবশেষে নীরবতা ভঙ্গ করলেন ড, ম্যাকেভয় ।
ডানে-বামে মাথা নাড়লেন ড. হিউজেস। এটা কোনাে ভেলকি নয়। কেন এটা
ভেলকি হতে যাবে? কীসের জন্য? আমি জানি না। তবে লােকে কতরকম
ভেলকি দেখাতেই তাে পছন্দ করে।'
‘এটা যে ভেলকি হতে পারে তার কোনাে কারণ দেখাতে পারবেন কি?
মুখ বিকৃত করলেন ড, ম্যাকেভয়। আপনি সত্যি বিশ্বাস করছেন এটা বাস্তব
কিছু?
‘জানি না, জবাব দিলেন ড. হিউজেস। হয়তােবা এটা বাস্তবই। দশ লাখে
হয়তাে একটা এরকম ঘটে।
আবার বইটি খুললেন তারা। আবারও পরখ করলেন এক্স-রে, মিস চ্যাতিম
টিউমারের সঙ্গে ডায়াগ্রামের যতই তুলনা করলেন ততই খুঁজে পেলেন মিল।
Clinical Gynaecology'র বর্ণনা অনুসারে, ক্যারেনের ঘাড়ের পেছনে
এবং হাড় নিয়ে যে জিনিসটি বেড়ে উঠছে তা একটি মানব ভ্রণ এবং আশা
দেখে অনুমান করা যাচ্ছে, ওটার বয়স প্রায় আট হপ্তা ।

🏵️এক🏵️

আপনি ভাগ্যে বিশ্বাস করেন? জ্যোতিষ শাস্ত্রে আস্থা আছে? না থাকলেও
অসুবিধে নেই। আপনার যেকোনাে সমস্যা-হােক সেটা পারিবারিক কিংবা
অফিশিয়াল, আমার কাছে আসুন । ত্রিশ ডলারের বিনিময়ে, পনেরাে দিনের
গ্যারান্টিতে আপনার যেকোনাে সমস্যার সামধান করে দেবাে। বিশ্বাস হচ্ছে না? আমার অফিসে একবার আসুনই না । আমি ট্যারট কার্ড দেখে বলে দেবাে
আগামী সাত দিনে আপনার জীবনে কী ঘটতে যাচ্ছে। পাথরে ভাগ্য ফেরায়
শুনেছেন নিশ্চয়। আমার কাছ থেকে পাথর নিয়ে যাবেন। ফিরে যাবে ভাগ্য।
কী, ভাবছেন বকোয়াস ঝাড়ছি? বিশ্বাস না হলে আমার মক্কেলদের জিজ্ঞেস
করতে পারেন। তাঁদেরকে শুধু জিজ্ঞেস করবেন ইনক্রেডিবল হ্যারি আর্সকিন
জ্যোতিষী হিসেবে কেমন? তারা যদি আমার প্রশংসা করে আপনার কানের
পােকা নড়িয়ে না দেয় তাে আমার নাম পাল্টে...শুধু আমার নাম না, আমার
বাপের নামও পাল্টে রাখব।
সিস্টারস অব জেরুজালেম হাসপাতালে যে মুহূর্তে ক্যারেন ট্যান্ডির সঙ্গে
কথা বলছিলেন ড. হিউজেস এবং ড, ম্যাকেভয়, ওই মুহর্তে আমি ট্যারট
কার্ড দেখে বলে দিচ্ছিলাম মিসেস উইনকনিসের আগামী হপ্তাটা কেমন
যাবে।
আমরা বসে আছি আমার টেনথ অভিন্নর ফ্ল্যাটে, সবুজ টেবিলটি ঘিরে।ভালোবাসার গল্প fb

আমার বাসাতেই অফিস। জানালার পর্দা টেনে দেওয়ার ফলে ঘরটি ছায়াময় ।

ধূপ জ্বলছে । অ্যান্টিক অয়েল-ল্যাম্প রহস্যময় ছায়া ফেলছে দেয়ালে । মিসেস
উইনকনিসের বয়স পঁয়ষট্টি। কড়া পারফিউমের গন্ধ আসছে পরনের শেয়ালের
চামড়ার কোট দিয়ে। তিনি প্রতি শুক্রবার সন্ধ্যায় আসেন আগামী এক হপ্তা
তার কেমন যাবে জানার জন্য।
আমি ট্যারট কার্ডগুলাে কেলটিক ক্রসে রাখতেই তিনি অস্থির হয়ে উঠলেন,
নাক টেনে আমার দিকে গলা বাড়িয়ে দিলেন মথখেকো আরমিনের (আরমিন
কি জানেন তাে? এক ধরনের প্রাণী। এদের লােম গরমের সময় বাদামী এবং
শীতকালে সাদা হয়ে যায়) মতাে। যেন শিকারের গন্ধ পেয়েছেন। জানি তিনি
ভেতরে ভেতরে কৌতূহলে মরে যাচ্ছেন আমি কার্ডে কী দেখেছি তা জানার
 জন্য। কিন্তু আমি আগে কখনাে কোনাে রকম ইঙ্গিত দিই না। সাসপেন্স
জিইয়ে রাখি। ভুরু কোচকাই, দীর্ঘশ্বাস ফেলি, ঠোট কামড়াতে থাকি ,
ভান দেখাই যেন অদৃশ্য কোনাে শক্তির সঙ্গে আমার যােগাযােগ হচ্ছে। এ
রহস্য করতেই হয়। সাদামাটা ভাবে জবাব দিলে মক্কেল আমার প্রতি আগ্রহ
হারিয়ে ফেলবে। শত হলেও ত্রিশ ডলারের মামলা!

কিন্তু আর ধৈর্য ধরতে পারলেন না মিসেস উইনকনিস। শেষ কাৰ্ডখানা টেবিল
রাখার পরে সামনে ঝুঁকে এলেন তিনি। জিজ্ঞেস করলেন, কী দেখলেন মি.
আর্সকিন? ড্যাডির ব্যাপারে কিছু লেখা আছে?'
‘ড্যাডি' তার বাপ নয়, স্বামীর ডাক নাম। মােটাসােটা, একগুঁয়ে স্বভাবের এক
সুপার মার্কেট ম্যানেজার। সারাদিন সিগারেট ফুঁকে চলেছেন। হাত-টাত দেখাভালোবাসার গল্প fb

তার একদমই বিশ্বাস নেই। মিসেস উইনকনিস মুখ ফুটে কখনাে কিছু বলেননি।
তবে তার কথা শুনে অনেক আগেই বুঝে নিয়েছি, ‘ড্যাডি' কবে পটল তুলবেন সে
অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় আছেন বৃদ্ধা। স্বামী মারা গেলেই তার টাকা-
পয়সা, বিষয়-সম্পত্তি সব কিছু তিনি একা ভােগ করতে পারবেন।
আমি ট্যারট কার্ডে মনােসংযােগের ভান করলাম। ট্যারট কার্ড দেখা শিখেছি
tarrot made easy বই পড়ে। এ বই পড়ে আমার মতাে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী
করতে পারবে। তবে তারা ভবিষ্যদ্বাণী করার স্টাইলটা জানে না, আর আমি
খুব ভালাে ভাবে রপ্ত করে নিয়েছি কৌশলটি।
ভালোবাসার গল্প fb

এই দেখুন, কাজের কথা বাদ দিয়ে এতক্ষণ শুধু ভ্যাজর ভ্যাজর করে গেলাম।
আসলে হাত দেখার সময় প্রচুর কথা বলতে হয়তো, স্বভাবটা হয়ে গেছে
ক্যানভাসারদের মতাে। যাকগে, গৌরচন্দ্রিকা বাদ দিয়ে এবারে আসল
কাহিনিতে ফিরে আসি।ভালোবাসার গল্প fb

ও, হ্যা, আমি দেখতে কেমন, বয়স কত ইত্যাদি কিছুই তাে বলা হয়নি।
আমার বয়স বিয়াল্লিশ, বাড়ি ওহাইয়াের ক্লিভল্যান্ডে। উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ।
গায়ের রঙ ফর্সা। চেহারা সুরত খুব একটা খারাপ না। মােটামুটি সুদর্শন ই বলা
যায়। খাড়া নাক, পাতলা ঠোট। উচু চোয়াল। তবে মাথা বাদামী চুল পাতলা
হয়ে টাকের আভাস দিচ্ছে। আমি হাত দেখার সময় সবুজ স্যাটিনের একটা
আলখেল্লা পরে থাকি, তাতে চাঁদ-তারা জ্বলজ্বল করে। মাথায় একটি হ্যাট
থাকে। তাতে লেখা 'ইনক্রেডিবল হ্যারি অনিন। তবে হ্যাটও না কেন
হাত দেখার সময়। কাগজে নিয়মিত আমার যে বি৩াপনাট ছাপা হয় তাতে
লেখা থাকে: “ইনক্রেডিবল হ্যারি আর্সকিন, হাত দেখে ভবিষ্যত বলে দেওয়া "
হয়, জেনে নিন আপনার আগামী দিনগুলো কেমন যাবে।'

এক বান্ধবীর মুদির দোকানের কাজ ছেড়ে আসার বছর খানেকের মধ্যে ফরচুন
টেলার হিসেবে মােটামুটি একটা পরিচিতি চলে আসে আমার। দুই বছরের
মাথায় কিনে ফেলি ঝাঁ চকচকে একটি মার্কারি কুগার। তবে বাড়ি কেনার
সামর্থ্য এখনাে করে উঠতে পারিনি। ভাড়া বাড়িতেই থাকছি।
আমার কাছে যারা হাত দেখাতে আসে, বেশিরভাগ মধ্যবয়স্ক মহিলা। তারা
তাদের নিস্তরঙ্গ মধ্য-জীবনে তরঙ্গময় কোনাে ঘটনা ঘটবে কিনা জানার জন্য
হাঁ করে থাকে।
‘তাে?' মিসেস উইনকনিস বলীরেখা পড়া আঙুল দিয়ে তাঁর কুমিরের চামড়ার
পকেট বুকটি খামচে ধরলেন। আপনি কী দেখলেন, মি. আর্সকিন?
আমি গম্ভীর মুখে মাথা নাড়লাম। আজ কার্ডের চেহারা বিশেষ ভালাে নয়,
ডিয়ার মিসেস উইনকনিস। নানান ওয়ার্নিং দিচ্ছে কার্ডগুলাে। বলছে
আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে এত বেশি চিন্তায় আছেন যে যখন সত্যি সে দিনগুলাে
আসবে, আপনি দিনগুলাে তেমন একটা উপভােগ করতে পারবেন না ।
আমি সিগার মুখে স্থূলকায় এক ভদ্রলােককে দেখতে পাচ্ছি-উনি নিশ্চয়
ড্যাডি হবেন। চোখ-মুখ করুণ করে কী যেন বলছেন । টাকা-পয়সা
সংক্রান্ত কিছু একটা।'
‘ও কী বলছে? কার্ড দেখে কি বলা যাবে কী বলছে ড্যাডি?' ফিসফিস করলেন
মিসেস উইনকনিস।ভালোবাসার গল্প fb


আমি ‘টাকা’ শব্দটি উচ্চারণ করলেই উনি এমন ভাবে লাফিয়ে ওঠেন যেন গরম
চুল্লিতে তাঁকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তরুণীরাও আসে আমার কাছে। কিন্তু
এই বুড়িগুলাে যখন ‘টাকা টাকা করে মুখ দিয়ে ফেনা তুলে ফেলে তখন
এদের ওপর আমার শুধু বিতৃষ্ণাই জন্মায়।
‘উনি দামী কী একটা জিনিস নিয়ে কথা বলছেন, আমি আমার বিশেষ শূন্যগর্ভ
কণ্ঠে বলে চললাম। খুব মূল্যবান কিছু একটা। আমি জানি ওটা কী। আমি
এখন ওটা দেখতে পাচ্ছি । উনি বলছেন টিনজাত স্যামনের দাম অনেক বেশি।
তাঁর ধারণা লােকে এত দাম দিয়ে এ মাছ কিনতে চাইবে না।'
‘অ,' বিরক্তি প্রকাশ পেল বৃদ্ধার কণ্ঠে।
আমি আজ সকালে সুপার মার্কেট রিপাের্ট-এ দেখেছি স্যামন মাছের দামভালোবাসার গল্প fb

বাড়ছে। আগামী হপ্তায় যখন ড্যাডি এ নিয়ে ঘ্যানরঘ্যানর করবেন, আমার
কথা মনে পড়ে যাবে মিসেস উইনকনিসের । আমার ভবিষ্যদ্বাণীর প্রতি তাঁর
ভক্তি বেড়ে যাবে বহু গুণ।
‘আর আমি?' জিজ্ঞেস করলেন মিসেস উইনকনিস । আমার কী হবে?

আমি চেহারা থমথমে করে কার্ডগুলাের দিকে তাকালাম। এ হপ্তাটা
ভালো যাবে বলে মনে হচ্ছে না। একদমই ভালাে কাটবে না। সােমবার আপনার
অ্যাক্সিডেন্ট হবে। পায়ের ওপর কিছু একটা পড়তে পারে। তবে মারাত্মক
কিছু না। ব্যথার চোটে রাতে ঘুমাতে পারবেন না। মঙ্গলবার আপনি আপনার
বন্ধুদের সঙ্গে যথারীতি তাস খেলবেন। কেউ একজন আপনার সঙ্গে প্রতারণা
করবে যদিও আপনি ধরতে পারবেন না সে কে। কাজেই অল্প টাকায় বাজি
ধরবেন, কোনাে রকম ঝুঁকিতে যাবেন না। বুধবার বাজে একটা ফোন পাবেন
আপনি। সম্ভবত অশ্লীল। বৃহস্পতিবার যা-ই খান না কেন, হজমে গণ্ডগােল
হবে। আফসােস হবে কেন মরতে ওসব খেতে গিয়েছিলেন।
প্রাণহীন, ধূসর চোখ দিয়ে আমাকে দেখছেন মিসেস উইনকনিস। সত্যি
এতটা খারাপ যাবে এ হপ্তাটা?’
‘না-ও যেতে পারে। ভুলবেন না কার্ড ভবিষ্যৎ বলার পাশাপাশি মানুষকে
সাবধান করে দেয়। আপনি এ চোরা-গর্তগুলাে এড়িয়ে যেতে পারলে হপ্তাটা
অতটা খারাপ যাবে না।'
“থ্যাংক গড,' বললেন মহিলা । তবু মনে একটু শান্তি পেলাম।
‘আত্মারা আপনার মঙ্গল কামনা করবে, মিসেস উইনকনিস,' আমি আমার
বিশেষ কণ্ঠে বললাম। ওরা আপনার ওপর লক্ষ রাখবে, আপনার কোনাে
ক্ষতি হতে দেবে না। আপনি যদি আত্মাদের সম্মান করেন, ওরাও আপনাকে
সম্মান করবে।

চেয়ার ছাড়লেন বৃদ্ধা। মি. আর্সকিন, আপনাকে কী বলে ধন্যবাদ দেবাে জানি না।
এখন ভাল্লাগছে আমার। আগামী হপ্তায় আবার কি দেখা করা যাবে?
আমি মৃদু হাসলাম। অবশ্যই দেখা করা যাবে, মিসেস উইনকনিস। এ হপ্তার
আধ্যাত্মিক বাণীর কথা ভুলবেন না যেন।
‘অবশ্যই ভুলব না । এ হপ্তার বাণীটি কি, মি. আর্সকিন?'
আমি টেবিলে রাখা জীর্ণ একটি খাতা তুলে নিলাম। আপনার এ হপ্তার বানীভালোবাসার গল্প fb

হলাে: “সাবধানে গাছের যত্ন নিন, ফল নিজেই জন্মাবে।”
মিসেস উইনকনিসের কোঁচকানাে মুখে আবছা হাসি ফুটল। দ্যাটস বিউটিফুল,
মি, আর্সকিন । আমি ঘুম থেকে উঠেই কথাটা আবৃত্তি করব। চমৎকার
চমৎকার একটি সেশনের জন্য ধন্যবাদ।
‘দ্য প্লেজার,' বললাম আমি, ‘ইজ অল মাইন।

এলিভেটর পর্যন্ত পৌছে দিলাম মিসেস উইনকনিসকে। হাত তুলে
জানালাম। মহিলা এলিভেটরে ঢুকতেই ফিরে এলাম নিজের ঘরে। জ্বেলে
দিলাম বাতি। ধূপকাঠি নেভালাম। তারপর টিভির সুইচ অন করলাম। সময় ও
সুযােগ থাকলে আমি টিভি সিরিজ ‘কোজাক’ পারতপক্ষে মিস করি না।
আইসবক্স খুলে একটা বিয়ারের ক্যান হাতে নিয়েছি মাত্র, এমন সময় বেজে
উঠল ফোন । থুতনি দিয়ে ফোন চেপে ধরে ক্যান খুলতে খুলতে কথা বলতে
লাগলাম। অপর প্রান্তের নারী কণ্ঠটি মনে হলাে নার্ভাস। একমাত্র নার্ভাস
মহিলারাই ইনক্রেডিবল হ্যারি আর্সকিনের সাহায্য প্রার্থনা করে।
‘মি. আর্সকিন?
‘আর্সকিন ইজ দ্য নেইম, ফরচুন-টেলিং ইজ দ্য গেইম।
‘মি, আর্সকিন, আপনার সঙ্গে একটু দেখা করতে চাই।'
ভালোবাসার গল্প fb

“নিশ্চয়, নিশ্চয়। একমাসের ভাগ্যগণনার জন্য আমার চার্জ ত্রিশ ডলার, এক
বছরের জন্য চল্লিশ ডলার আর সারা জীবনের ভাগ্যের কথা জানতে চাইলে
ষাট ডলার দিতে হবে।
কাল আমার ভাগ্যে কী আছে শুধু তা-ই জানতে চাইছি।' কণ্ঠটি মিষ্টি, সুরেলা
এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
আমি কল্পনায় দেখলাম চাকরি হারানাে কোনাে গর্ভবতী তরুণী সেক্রেটারি কথা
বলছে।
‘ওয়েল, ম্যাডাম । আমার কাজই তাে ভাগ্য গণনা। আপনি কখন আসতে চান?
‘রাত ন'টায় । খুব কি দেরি হবে?
‘আমার জন্য সন্ধ্যা ছ'টা যা রাত ন'টাও তাই। আপনি স্বচ্ছন্দে চলে আসুন।
আপনার নামটা জানতে পারি, প্লিজ?
‘ট্যান্ডি। ক্যারেন ট্যান্ডি । ধন্যবাদ, মি. আর্সকিন । আমি ন'টার মধ্যে আপনার
ওখানে আসছি।'

আপনাদের হয়তাে অবাক লাগতে পারে ভেবে ক্যারেনের মতাে বুদ্ধিমতী
একটি মেয়ে আমার মতাে হাতুড়ে জ্যোতিষীর কাছে কেন আসছে। কিন্তু
জনাব, আপনি জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস না করলে বুঝতে পারবেন না মানুষ
যখন অজানা বিপদে পড়ে যায় তখন খড়কুটো আঁকড়ে ধরেও ভেসে থাকতেভালোবাসার গল্প fb

চায়। বিশেষ করে অসুস্থতা, মৃত্যু এসব বিষয় নিয়ে লােকে এমন শংকিত
থাকে, জ্যোতিষীর কাছে গিয়ে জানতে চায় তারা নীরােগ থাকতে পারবে কিনা,
কতদিন তাদের আয়ু ইত্যাদি ইত্যাদি। একজন সার্জন নিজের কাজে যতই
ভালাে এবং দক্ষ হােন না কেন, যখন জীবন মৃত্যুর প্রশ্ন আসে সে নিশ্চয়তা
দিয়ে বলতে পারে না রােগী বেঁচে থাকবে নাকি মরে যাবে।
ভালোবাসার গল্প fb

ডাক্তার যখন বলেন, 'ম্যাডাম, আপনার মস্তিষ্ক যদি আর ইমপালস না দেয়া
তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার আয়ু শেষ,' কাজটা তিনি ঠিক করেন না।
মৃত্যু খুব ভীতিকর, বিশেষ করে তাদের ক্ষেত্রে যারা বিশ্বাস করতে চায় ওষুধভালোবাসার গল্প fb

এবং সার্জারীর মাধ্যমে তারা বেঁচে যাবে। তার মৃত্যুর পরের জীবনে বিশ্বাস
করে, অন্তত প্রেতলােকে তাদের বিশ্বাস আছে যেখানে নাকি তাদের বহু আগে
গত হওয়া পূর্বপুরুষদের শােকাতুর প্রেতাত্মারা এখনো ঘুরে বেড়াচ্ছে।

চলবে...........

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন