![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
"দ্যা ম্যানিটু"
মূল - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু
(পর্ব ৮)
🏵এগারাে🏵
সাড়ে দশটা নাগাদ আমরা সবাই হাজির হয়ে গেলাম ইস্ট এইটি সেকেন্ডে,
মিসেস কারম্যানের অ্যাপার্টমেন্টে। বৃহদায়তন, উষ্ণ, সুসজ্জিত একটি
বাড়ি-গদিঅলা বড় আর্মচেয়ার, সেটি, মােটা লাল টকটকে মখমলের পর্দা,
অ্যান্টিক টেবিল এবং চিত্রকর্ম দিয়ে সাজানাে। সবকিছুতেই যেন প্রাচীন একটা
গন্ধ।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
মিসেস বারম্যান ভঙ্গুর চেহারার এক বৃদ্ধা, এক মাথা কাশফুল সাদা চুল,
বলিরেখা পড়া চেহারাটা একসময় সুন্দর ছিল বােঝা যায়, পরনে মেঝে ছুঁই ছুঁই সিল্কের পােশাক। তিনি আংটি পরা নরম হাতখানা বাড়িয়ে আমাদের
দিকে। এমেলিয়া এবং ম্যাকের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দিলাম।
‘আশা করি আমরা যা করতে যাচ্ছি তাতে ক্যারেনের ভালো বৈ মন্দ হবে
না।' বললেন তিনি।
এমেলিয়ার স্বামী ম্যাক ক্রফোর্ড বেশ লম্বা । মুখ ভর্তি দাড়ি। পরনে বহু দিনের
ব্যবহৃত ডেনিম । সে অ্যাপার্টমেন্ট ঘুরে ঘুরে দেখছে। চেয়ার
পরখ করতে ধুপধাপ বসেও পড়ছে। এমেলিয়া
পরেছে। ও এমনিতেই কম কথা বলে। আজ মুখে যেন তালা মেরে রেখেছে।
এমেলিয়া ফর্সা, রােগা। ডাগর এক জোড়া কালাে চোখ। ফোলা ঠোঁট দুটো
দেখলে মনে হয় ধমক খেলেই কেঁদে ফেলবে।
আপনার গােল কোনাে টেবিল আছে, মিসেস বারম্যান? অবশেষে মুখে রা-
ফুটল এমেলিয়ার।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ডাইনিং টেবিলটা ব্যবহার করতে পারেন,' বললেন মিসেস বারম্যান।
দেখবেন দাগ-টাগ যেন না পড়ে। আসল অ্যান্টিক চেরিউডের টেবিল।
তিনি আমাদেরকে ডাইনিংরুমে নিয়ে এলেন। টেবিলটা কালাে, চকচকে।
ওটার ওপরে কাচের ঝাড়বাতি ঝুলছে । ঘরের দেয়াল গাঢ় সবুজ কাগজ দিয়ে
মােড়া, সারা কামরায় আয়না আর তৈলচিত্রের ছড়াছড়ি।
“এতেই বেশ চলবে,' বলল এমেলিয়া। আমরা এখুনি শুরু করে দেবাে কাজ।
আমরা চারজন টেবিল ঘিরে বসলাম। একে অন্যের দিকে তাকিয়ে আছি।
ম্যাক তার বউয়ের আধিভৌতিক কাণ্ডকারখানার সঙ্গে পরিচিত। যদিও এসবে
তেমন বিশ্বাস নেই তার। সে টেবিলে বসেই বলতে লাগল, এখানে কেউ
আছেন? এখানে কেউ আছেন?
‘চুপ করাে,' বলল এমেলিয়া। ‘হ্যারি, তুমি বাতিগুলাে একটু নিভিয়ে দাও।
আমি টেবিল ছাড়লাম । নিভিয়ে দিলাম সবগুলাে আলাে । গাঢ় অন্ধকার গ্রাস
করল ডাইনিংরুম। আমি আঁধারে হাতড়ে হাতড়ে ফিরে এলাম নিতে
জায়গায় । অন্ধের মতাে খুঁজলাম মিসেস বারম্যান এবং ম্যাকের হাত।
বামে পুরুষালী শক্ত হাত । ডানে নরম মেয়েলী হাত। এমন নিকষ আঁধার যেন
কালাে একটা কম্বল চেপে ধরা হয়েছে আমার মুখের ওপর।
“এখন সবাই মনােসংযােগ করাে, নির্দেশ দিল এমেলিয়া। এ কামরায় যে
আত্মারা আছে তাদের ওপর মনােসংযােগ করাে । ভাবাে তারা এখানে, বাতাসে
ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের চাওয়া-পাওয়া, দুঃখ-বেদনার কথা ভাবো। কল্পনা
করাে তারা আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি এমন কোনাে আত্মার
সঙ্গে যােগাযােগের চেষ্টা করব যার কাছ থেকে প্রয়ােজনীয় তথ্যগুলাে পাওয়া
যাবে।'
আমরা টেবিল ঘিরে, হাতে হাত রেখে বসেছি। এমেলিয়া বিড়বিড় করে মন্ত্র
পড়তে লাগল। ঘরে যেসব আত্মা ঘােরাফেরা করছে তাদের ওপর
মনােনিবেশের প্রাণপণ চেষ্টা করছি আমি। কিন্তু যারা আত্ম-ফাত্মায় বিশ্বাস
করে না তাদের জন্য এ কাজটি কঠিন বৈকি । মিসেস বারম্যান আমার পাশে
বসেছেন। তার নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছি। ম্যাকের হাত আমার হাতের
ওপর অস্থির ভাবে নড়াচড়া করছে। তবে ও হাতটা যে ছেড়ে দেয়নি তা-ই
ভাগ্যি। শুনেছি প্রেত-বৈঠক শুরু হবার পরে কোনাে ভাবেই ভাঙা যাবে না
সার্কেল।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘আমাকে সাহায্য করতে পারেন এমন একজন আত্মাকে ডাকছি,' বলল
এমেলিয়া। আমাকে সাহায্য করতে পারেন এমন একজন আত্মাকে ডাকছি।'
আমার মনােসংযােগ ধীরে ধীরে বাড়তে লাগল, মনে করতে লাগলাম সত্যি
কেউ বা কিছু একটা ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের চারপাশে। একটা ভাইব্রেশন
আছে যেটা আমাদের ডাকে সাড়া দেবে । আমাদের সার্কেলের সবার নাড়ির
স্পন্দন টের পাচ্ছি আমার হাতে, অনুভব করছি আমাদের সবার শরীর এবং
মন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্কিটে যােগ দিয়েছে। একটা স্রোত বইতে শুরু করেছে
টেবিল ঘিরে, স্রোতটা বয়ে যাচ্ছে আমাদের হাত, মস্তিষ্ক এবং শরীরের মাঝে,
বৃদ্ধি করে চলেছে শক্তি।
‘কালেম এস্ট্রাডিম, ইকানাে পুরিস্টা,' ফিসফিস করল এমেলিয়া। ভেনােরা,
ভেনােরা, অপটু লুমিনারি ।
অন্ধকার জমাট পিচের মতাে সেঁটে রয়েছে কামরায়, সেই অদ্ভুত অনুভূতিটা
ছাড়া আর কিছুর অস্তিত্ব যেন নেই দুনিয়ায়, আমাদের অস্তিত্ব প্রমাণ করছে শুধু
নাড়ির স্পন্দন।
“স্পিরিটা হ্যালেস্টিম, ভেনােরা সুইম, জোরে জোরে শ্বাস ফেলছে এমেলিয়া।
‘কালেম এস্ট্রাডিম, ইকানাে পুরিস্টা ভেনােরা।'
হঠাৎ মনে হলাে কেউ যেন খুলে দিয়েছে দরজা। ঘরে শীতল দমকা হাওয়া
ঢুকে ঝাপটা দিল পায়ের গােড়ালিতে ।
‘ভেনােরা, ভেনােরা, অপটু লুমিনারি,' মৃদু গলায় আউড়ে চলেছে এমেলিয়া।
“ভেনােরা, ভেনােরা, স্পিরিটা হ্যালেস্টিম।
অন্ধকারে মনে হলাে কেউ ধীর গতিতে আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
প্রথমে ভাবলাম চোখ অন্ধকার সয়ে নিচ্ছে তাই এরকম দেখছি। এমেলিয়া, ম্যাক এবং মিসেস বারম্যানের ছায়া ছায়া আকারগুলাে আঁধারে যেন একত্রিত
হয়ে একটা কাঠামাে তৈরি করল। দেখতে পেলাম ওদের চোখ জ্বলজ্বল করছে। আমাদের মাঝখানে টেবিলটা যেন অতল এক কালাে পুকুর।
মুখ তুলে চাইলাম। বুঝতে পারলাম চোখ নয়, আসলে জ্বলতে শুরু করেছে
টেবিলের ওপরের ঝাড়বাতি। আবছা, সবুজ একটা আলাে ছড়া
ফিলামেন্টগুলাে স্রোতের মধ্যে যেন হামাগুড়ি দিচ্ছে, মিটমিট করা
রাতের জোনাকি পােকার মতাে। কিন্তু এখন গ্রীষ্মকাল নয় আর এখন
হাওয়ার স্রোত বইছে তা ঘরটাকে ক্রমে শীতলতর করে তুলছে।
“আপনি কি এসেছেন?' শান্ত গলায় প্রশ্ন করল এমেলিয়া । “আমি
আগমনের লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। আপনি কি আছেন এখানে?'
খসখসে একটা শব্দ হলাে, কেউ যেন পা ঘষতে ঘষতে ঢুকছে ঘরে
শপথ করে বলছি- নিঃশ্বাস নেওয়ার শব্দ পেলাম আমি- ফোঁস করে শ্বাস
ফেলল কেউ । তবে আমাদের মধ্যে যে কেউ নয় সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।
‘আপনি কি এখানে আছেন?' আবার জানতে চাইল এমেলিয়া । আপনার
উপস্থিতি টের পাচ্ছি। আপনি আছেন কি?
দীর্ঘ নীরবতা। আঁধারে মিটমিট জ্বলছে ঝাড়বাতি, এবারে নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ
আরাে পরিষ্কার এবং জোরালাে শােনাল।
কথা বলুন,' অনুনয় করল এমেলিয়া। আপনার পরিচয় দিন। আমি
আপনাকে আদেশ করছি কথা বলার জন্য।'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
বদলে গেল নিঃশ্বাসের আওয়াজ। কর্কশ এবং আরাে জোরালাে হয়ে উঠল,
প্রতিবার শ্বাস ফেলার সময় দপদপ করে উঠল ঝাড়বাতির বাল্বের শিখা।
চেরিউড টেবিলে ওটার সবুজাভ প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি আমি। মিসেস
বারম্যান এত জোরে আমার হাত চেপে ধরেছেন, নখ বসে গেছে মাংসে।
যদিও ব্যথা টের পাচ্ছি না । ঘরে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা, শীতল সেই বাতাসটা গােড়ালি
ছুঁয়ে এবারে আমার হাঁটুতে উঠে এলাে ।
কথা বলুন, পুনরাবৃত্তি করল এমেলিয়া । বলুন কে আপনি?'
ক্রাইস্ট, অধৈর্য গলা ম্যাকের। এসব....
‘শশশ,' বললাম আমি তাকে। দাঁড়াও ম্যাক। ওটা আসছে।
ওটা সত্যি আসছে। টেবিলের মাঝখানে স্থির দৃষ্টি আমার, টেবিলের কয়েক
ইঞ্চি ওপরে কী যেন কেঁপে উঠল । আমার ঘাড়ের পেছনের চুলগুলো সরসর
করে দাড়িয়ে গেল দেখে, বাতাসটা মােচড় খেয়ে দ্রুত একটা আকার গঠন
করতে চলেছে।
নিঃশ্বাসের শব্দ গভীর এবং উচ্চকিত হয়ে কাছিয়ে এলাে, যেন সত্যি কেউ
আমার কানের ওপর শ্বাস ফেলছে। ঝাড়বাতির মিটমিটে আলাে ক্রমে ক্ষীণ
হয়ে এলাে, তবে আমাদের সামনে সাপের মতাে মােচড় খেতে থাকা বাতাস
থেকে স্বয়ংক্রিয় ভাবে একটা আলাে বিচ্ছুরিত হতে লাগল ।
ওটার নিচে, কাঠের টেবিলের ঠিক সারফেসের ওপর খাড়া হতে লাগল একটা
পিণ্ড। উত্তেজনায় এত জোরে ঠোট কামড়ে ধরলাম, কেটে রক্ত বেরিয়ে এলাে ।
রক্তের স্বাদ পেলাম মুখে । ভয়ে অবশ হয়ে গেছে আমার শরীর কিন্তু পিণ্ডটার
ওপর থেকে চোখ সরিয়েও নিতে পারছি না। সার্কেলের শক্তি আমাদেরকে
নড়াচড়া করতে দিচ্ছে না, বসে বিস্ফারিত চোখে ভয়ংকর দৃশ্যটা দেখতে
হচ্ছে।
টেবিলের কালাে চকচকে কাঠ একটা মানুষের চেহারায় রূপ নিল, চোখ
বােজা। মুখ নয় যেন মৃত্যুর মুখােশ।
‘গড,' আঁতকে উঠল ম্যাক। এটা কী?
‘চুপ,' ফিসফিস করল এমেলিয়া। বাতাসের অস্বাভাবিক আলােয় ওর ফর্সা
মুখটা ফ্যাকাসে লাগছে। ব্যাপারটা আমাকে সামলাতে দাও।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
কাঠের জমাট বাঁধা মুখটার দিকে ঝুঁকল এমেলিয়া।
‘কে আপনি?' প্রায় আলাপের সুরে জিজ্ঞেস করল ও। ক্যারেন ট্যান্ডির কাছে
কী চান?
স্থির রইল মুখটা । ভয়ংকর দেখতে, কাটাকুটির গভীর দাগ চেহারায়, বয়স
হবে চল্লিশের কাছাকাছি, ঈগলের ঠোটের মতাে বাঁকানাে নাক, মােটা ওষ্ঠ।
‘আপনি কী চান?' আবার প্রশ্ন করল এমেলিয়া । আপনি কী খুঁজছেন?'
আমার দেখার ভুল হতে পারে তবে মনে হলাে কালাে কাঠের ঠোট জোড়া যেন
বেঁকে গেল, হাসল নিঃশব্দে। আত্মতৃপ্তির হাসি। মুখটা কয়েক সেকেন্ড রইল
ওখানে, তারপর মিলিয়ে গেল বাতাসে । চকচকে পালিশ করা টেবিলে আর
কিছু নেই।
গা ছমছমে আলােটা নিভে গেল, আমরা আবার ডুবে গেলাম অন্ধকারে।
‘হ্যারি,' বলল এমেলিয়া। জলদি আলাে জ্বালাে।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
🏵বারাে🏵
ম্যাকের হাত ছেড়ে দিলাম আমি, মিসেস কারম্যানের হাতের বন্ধন থেকে
নিজেকে মুক্ত করে নিয়ে সিধে হলাম । আর ঠিক তখন মড়াৎ করে কোনো
ফেটে যাবার বিকট একটা শব্দ হলো, চোখ ধাধিয়ে জ্বলে উঠল একটা 'আলো,
ঝনঝন শব্দে জানালাগুলোর কাচ ভাঙল যেন বোমা পড়েছে কামরায়। ভাঙা
টুকরােগুলাে ছড়িয়ে পড়ল ঘরময়। বাইরের তুষার ঢাকা রাতের হিম শীতল
বাতাস হুহু করে ঢুকছে ভাঙা জানালা দিয়ে, পাগলের মতো নাচানাচি করছে
পর্দা। ভয়ে-আতংকে চিৎকার দিলেন মিসেস বারম্যান।
আমি ছুটে গেলাম বাতির সুইচের দিকে। এক থাবড়ায় জ্বালিয়ে দিলাম সব
কটা সুইচ । ডাইনিংরুমে যেন বয়ে গেছে হারিকেন ঝড় । মেঝে ভর্তি কাচের
ভাঙা টুকরাে, দেয়ালে বাঁকা হয়ে ঝুলছে পেইন্টিং, চেয়ারগুলো উল্টে আছে।
চেরিউডের ডাইনিং টেবিল আড়াআড়ি ভাবে ফেটে চৌচির।
চেয়ার ছাড়ল ম্যাক । কার্পেটে ছড়ানাে কাচের টুকরাে সাবধানে বাঁচিয়ে হেঁটে
এলাে । যথেষ্ট হয়েছে। আমার মুদি দোকানই ভালাে, ভাই । আমি আর
এসবের মধ্যে নেই।
‘হ্যারি,' ডাকল এমেলিয়া । মিসেস বারম্যানকে এখান থেকে নিয়ে যাও।'
বৃদ্ধা নেতিয়ে পড়েছেন চেয়ারে । তাঁকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে পাশের
ঘরে চলে এলাম। শুইয়ে দিলাম সেটীতে । তাঁর মুখটা কাগজের মতাে সাদা,
কাঁপছেন। তবে কোথাও লেগেছে বলে মনে হলাে না। আমি ককটেল
কেবিনেট থেকে তাঁর জন্য এক গ্লাস ব্রান্ডি ঢেলে নিয়ে এলাম । এমেলিয়া
বৃদ্ধাকে উঠে বসতে সাহায্য করল।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘ঘরটা আদৌ আস্ত আছে?' গুঙিয়ে উঠলেন তিনি।
‘ঘরের সামান্য ক্ষতি হয়েছে, মিসেস বারম্যান,' বললাম আমি। জানালার কাচ
বােধহয় একটাও আস্ত নেই, আপনার কাচের তৈজসপত্রও কয়েকটা ভেঙেছে।
টেবিলটাও ফেটে গেছে। তবে ওটা বােধহয় জোড়া লাগানাে যাবে।
“কিন্তু ওটা কী ছিল? জিজ্ঞেস করলেন তিনি। ওই মুখটা?
জবাব দিল এমেলিয়া, ওটা কী ছিল আমি নিজেও জানি না, মিসেস বারম্যান।
মিডিয়াম হিসেবে অতটা এক্সপার্ট আমি নই যে চেহারা দেখেই পরিচয় বলে
দিতে পারব। তবে ওটা যা-ই হােক না কেন, অসম্ভব শক্তিশালী কেউ ছিল ।
সাধারণত আত্মাকে যা করতে বলা হয় তারা তা-ই করে। তবে এটা বুঝি
দিয়েছে আমাদের আদেশ মানতে সে বাধ্য নয়।
এমেলিয়া,' বললাম আমি । এটাই কি ক্যারেনকে দুঃস্বপ্ন দেখাচ্ছে?
মাথা ঝাকাল ও। "আমার তা-ই ধারণা। ওর এমনই শক্তি, এ অ্যাপার্টমেন্টে
এক ধরনের ভাইব্রেশন সৃষ্টি করেছে। আর সেটাই ক্যারেন স্বপ্নে দেখেছে।
ঘুমের সময় সবাই ভাইব্রেশনে সাড়া দেয়, এমনকী দুর্বল মানুষও। আর এটার
মতাে শক্তিশালী জিনিস আমি জীবনে দেখিনি। প্রকৃত জাদুর শক্তি আছে
ওটার।"
টেবিলে রাখা মিসেস কারম্যানের রূপাের সিগারেট বক্স খুলে সিগারেট নিলাম।
সিগারেট ধরিয়ে বললাম, ‘জাদুর শক্তি?
‘হ্যাঁ।' জবাব দিল এমেলিয়া। যে আত্মার ওরকম কন্ট্রোল করার ক্ষমতা আছে।
ওটা এমন কোনাে ব্যক্তির আত্মা যে জীবদ্দশায় অকাল্ট নিয়ে কাজ করত।
এমন হওয়াও বিচিত্র নয় লােকটা বেঁচে আছে এবং সে যখন ঘুমিয়ে থাকে, ওই
সময় তার আত্মাটা ঘুরে বেড়ায়। এরকম ঘটনা ঘটতেই পারে।"
‘কিন্তু আমার কাছে ব্যাপারটা বিশ্বাস হচ্ছে না,' বলল ম্যাক।
‘এমেলিয়া,' বললাম আমি। আজ রাতে যে জিনিসটা দেখলাম ওটা যদি সত্যি
কোনাে জাদুকরের আত্মা হয়ে থাকে তাহলে তাে ভাবনার কথা। কারণ আমি
গতকাল রাতে ট্যারট কার্ড দেখছিলাম । আমার হাতে বারবার ম্যাজিশিয়ানের
কার্ড উঠে আসছিল।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
চোখের ওপর থেকে ঝলমলে কালাে চুল আঙুল দিয়ে ঠেলে সরাল এমেলিয়া।
‘সেক্ষেত্রে আমার ধারণা, যে-ই এসব করে থাকুক না কেন, সে জীবিত হােক
বা মৃত, নিশ্চয় সে একজন জাদুকর।
‘উইচ-ডক্টর?' জিজ্ঞেস করল ম্যাক।
হতে পারে। লােকটাকে দেখে মনে হয়েছে আফ্রিকান। কালাে চেহারার জন্য
নয়, তার মােটা ঠোট জোড়া আফ্রিকানদের মতাে।
মিসেস বারম্যান ব্রান্ডির গ্লাস হাতে নিয়ে শিরদাঁড়া টানটান করলেন।
‘লােকটার চেহারা দেখে কিন্তু আমার আফ্রিকান মনে হয়নি। তার সঙ্গে
ইন্ডিয়ানদের মিল আছে।
মটমট শব্দে আঙুল ফোটাল ম্যাক। ঠিক বলেছেন- ইন্ডিয়ান। ওই বাঁকানাে
নাক, ঠোট, উঁচু চোয়াল । ও উইচ-ডক্টর নয়, মেডিসিনম্যান। ওঝা!'
উজ্জ্বল দেখাল এমেলিয়ার চেহারা। শােনাে। আমার কাছে ইন্ডিয়ানদের ওপর
কয়েকটা বই আছে। আমি বাসায় গিয়ে বইগুলাে ঘেঁটে দেখছি
মেডিসিনম্যানদের ওপর কিছু পাই কি না। মিসেস বারম্যান, আমরা কি এখন
যেতে পারি? আপনি ভয়-টয় পাবেন না তাে?
'না, না। আপনারা যান,' বললেন বৃদ্ধা, আমার কোনাে অসুবিধে হবে না।
আমি আজ রাতটা পাশের ফ্ল্যাটের মিসেস রডরিকের সঙ্গে থাকব।
ক্যারেনের বাবা-মা তাে কাল আসছেই। বইটই ঘেঁটে যদি এমন কিছু যদি পাওয়া
যায় যাতে উপকার হবে ক্যারেনের, তাহলে আপনারা যত তাড়াতাড়ি কাজটা
শুরু করবেন ততই মঙ্গল।'
চলবে.....


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন