সাদমান টেবিলে বসে আছে।অফিসের জন্য তৈরি হয়ে এখন নাস্তার অপেক্ষায় সময় গুনছে।তবে মন থেকে গতকালের ঘটনা ফেলে দিতে পারেনি সে।সাদমান ফারহানার সামনে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে।কিন্তু কিছুতেই পারছে না।বারবার মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে।ফারহানা নাস্তা নিয়ে আসার শব্দ শুনতেই সাদমান নড়েচড়ে বসলো।ফারহানার দিকে তাকিয়ে গ্লাসে পানি ঢালছে।
-কি ব্যাপার,চুপ করে বসে আছো যে?একটু কথা তো বলতে পারো,বলল ফারহানা।
-না,এমনি ভালো লাগছে না।তাড়াতাড়ি নাস্তা দাও।আমার আবার বের হতে হবে,বলল সাদমান।
ফারহানা টেবিলে বসলো।প্লেটে খাবার বেড়ে সাদমানের দিকে দিয়ে বলল,তোমার কি হয়েছে বলো তো?গতকাল থেকে কেমন যেন লাগছে তোমাকে?আমার উপর তুমি কি রেগে আছো কোনো কারনে?
কথাটা শুনে সাদমানের পঞ্চইন্দ্রিয় যেন নড়েচড়ে উঠল।ফারহানার দিকে শীতল দৃষ্টিতে চেয়ে রইল।এমন ভাব করছে যেন গতকাল কিছুই হয়নি।নিজেকে সামলে বলল,আচ্ছা ফারহানা,আমার সংসারে তুমি কি খুশি নও?আমি কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছি?
ফারহানার মুখখানা মলিন হয়ে গেল।এমন কিছু শুনবে কল্পনা করেনি সে।তবে স্থির বসে রইল।বলল,গতকাল থেকে এমন প্রশ্নগুলো কেন করছো বলবে তো?শুনলে ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠে।আমার চিন্তা বাড়ছে তুমি বুঝতে পারছো না,সাদমান?জিজ্ঞেস করল ফারহানা।
সাদমান স্বাভাবিকভাবে বলল,আমি যা প্রশ্ন করেছি তার উত্তর দাও।
-আমি তোমার সংসারে খুব খুশি।তোমার দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে উপরওয়ালা অনেক আনন্দে রেখেছে আমাকে।আমার আর কিছুই চাই না,কাঁদতে কাঁদতে টেবিলে থেকে উঠে চলে গেল ফারহানা।
ফারহানার অবস্থা দেখে সাদমানের কিছুটা খারাপ লাগল।ভাবছে,সত্যিই কি মেয়েটা এমন করতে পারে?যার মুখে এত মায়া,তার পক্ষে পরকীয়া করা কি সম্ভব?সাদমান আর ভাবতে পারছে না।খাবারের বাকিঅংশ প্লেটে রেখে উঠল পড়ল সাদমান।কাঁধে ব্যাগ নিয়ে একবার ভাবছে,ফারহানা আজও পানির বোতল নিয়ে আসবে তো?সাদমান একবার পেছনে তাকালো।ফারহানার ছায়াটুকু নেই।হয়তো অভিমান করেছে ভীষণ।আর না ভেবে সামনে পা বাড়াতেই কাঁধে নরম হাতের স্পর্শ পেল সাদমান।ফারহানা পানির বোতল হাতে দাঁড়িয়ে আছে।চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।পানি জমে আছে চোখের কোণে।
-একটু নাহয় রাগ করে ভেতরে চলে গিয়েছি।তাই বলে অভিমান করে পানির বোতল না নিয়ে চলে যাবে?আমার কষ্ট হয়না বুঝি?ভালো লাগে কাঁদাতে তাই না,বলল ফারহানা।
সাদমান কি বলবে বুঝতে পারছে না।ফারহানার মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছে সে।হাতটুকু বাড়ালো পানির বোতল নিতে।ফারহানা সাদমানের মুখ থেকে কিছু শুনতে না পেয়ে চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারল না।সাদমান সেদিকে খেয়াল না করে পানির বোতল নিয়ে বেরিয়ে পড়লো বাসা থেকে।ফারহানা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাদমানের পথের দিয়ে চেয়ে দরজা বন্ধ করে দিল।
সাদমানের নিজের আচরনের জন্য খারাপ লাগছে।ফারহানার সাথে আরেকটু ভালো ব্যবহার করা যেতো।এখনও তো সে প্রমান করতে পারেনি।সবটুকু আন্দাজের উপর পা ফেলছে।সাদমান গেটের সামনে আসতেই দেখতে পেল দারোয়ান হামিদ টুলে বসে ঘুমাচ্ছে।সাদমানের মেজাজ বেশ গরম হয়ে গেল ব্যাপারটা দেখে।বেশ জোরে বলল,এই যে হামিদ মিয়া,সারাদিন ঘুমালে বাসার সব তো চুরি হয়ে যাবে।
সাদমানের কথায় বেশ হকচকিয়ে উঠল দারোয়ান হামিদ মিয়া।সালাম দিয়ে বলল,স্যার একটু চোখ লেগে আসছিল।আর হবে না এমন,স্যার।
-তোমার শিফট সকাল থেকে শুরু।সারারাত কি করছো?যাই হোক,গতকাল বিকালে বাসায় কেউ এসেছিল?জিজ্ঞেস করল সাদমান।
-না স্যার,আমি তো কাল গেইটে ছিলাম।অপরিচিত কেউ বাইরে থেকে আসে নাই,বলল দারোয়ান হামিদ মিয়া।
-বসে বসে ঘুমালে কাউকেই দেখবে না,বলল সাদমান।আমার এইদিকে সংসার ভাঙতে চলছে।আর ব্যাটা,বসে বসে ঝিমায়,কথাটা বেশ আস্তে বলল সাদমান।
-স্যার,কিছু বলছেন আমারে,জিজ্ঞেস করল দারোয়ান হামিদ মিয়া।
-ভালো করে ডিউটি করো।ঘুমাতে দেখলে সোজা চাকরি খেয়ে ফেলবো,বেশ রেগে কথাগুলো বলে বেরিয়ে গেল সাদমান।
দারোয়ান হামিদ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল চেয়ারে।বিড়বিড় করে বলল,আমার চাকরি গেছে।আর ঘুমান যাইবো না।
ত্রিশ মিনিট দেরিতে অফিসে প্রবেশ করল সাদমান।আড় চোখে একবার গ্লাসের ফাঁকে বসের দিকে তাকিয়ে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সাদমান।এখনও বস অফিসে আসেনি।হয়তো জরুরি কাজে আটকে আছে।টেবিলে বসতেই তিনটি ফাইল চোখে পড়ল।কাঁধ থেকে ব্যাগ পাশে রেখে ফাইলে হাত দিল।আজ একটু তাড়াতাড়ি বের হতে হবে তাকে।বিকালে নিরার সাথে কথা বলতে হবে।প্রথম ফাইলটা খুলতেই ইমরান মাহমুদ নামটা চোখে পড়ল।হঠাৎ সাদমানের পঞ্চইন্দ্রিয় সজাগ হয়ে উঠল।এই ছেলেটাকে সন্দেহের তালিকায় রাখা যেতে পারে।গত চার মাস আগে ফারহানার জন্মদিনে অফিসের সবাইকে পার্টিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়।সেখানে ইমরান সবাইকে তার জাদু দেখিয়ে বেশ সাড়া ফেলে।চোখের পলকে ফুলদানি উধাও করার মতো জাদুবিদ্যা সে আয়ত্ত করেছে।যদিও সাদমান এসব বিশ্বাস করেনা।তার ধারনা,প্রতিটা জাদুর পিছনে কিছু কৌশল প্রয়োগ করে।এই কৌশল ধোঁকা দেয় মানুষের চোখ।তবুও মন থেকে ইমরানকে ফেলে দেয়া যাচ্ছে না।পার্টির পর থেকে ফারহানার সাথে বেশ সখ্যতা গড়ে উঠেছিল ছেলেটার।মাঝেমাঝে ফোনেও কথা হতো।কিন্তু তখন বিষয়টা স্বাভাবিক চোখে দেখা গেলেও এখন আর হালকা করে দেখার সুযোগ নেই।সাদমানের থেকে চাকরির দিক থেকে জুনিয়র হলেও বয়সের দিক থেকে সময়বসী।তবে ছেলেটার আলাদা ব্যক্তিত্ব আছে।যেকোনো মেয়েকে সহজেই আকর্ষন করতে পারে।সাদমান এই বিষয়ে কিছুটা ঈর্ষান্বিত।পেছনে ফিরে দেখে,ইমরান একমনে কাজ করছে।সাদমান কিছু একটা ভেবে বেশ জোরে বলল,এই ইমরান একটু এদিকে আসবে?
ইমরান সাদমানের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,এইতো আসছি ভাই।ইমরান টেবিল থেকে উঠে এসে সাদমানের পাশে দাঁড়ালো।হাত বাড়িয়ে বলল,কেমন আছো সাদমান?
সাদমান মুচকি হেসে বলল,ভালোই।তোমার কি খবর,ইমরান?
-জ্বি,আলহামদুলিল্লাহ।ভাবি কেমন আছে?জিজ্ঞেস করল ইমরান।
-কেন তোমার সাথে এখন কথা হয়না?কিছুটা আন্দাজে বলল সাদমান।এখন কথা হয়না বললে চলে।তবুও একটা সন্দেহ থেকেই যায়।
-না,ভাই,এখন হয়না।তবে ভাবির হাতের রান্না খুব মিস করি,বলল ইমরান।
-আচ্ছা ইমরান,একটা ফাইল আছে ওইদিকে।আমার একটু দরকার।তুমি একটু খুঁজে দেখো না,বলল সাদমান।
ইমরান হাতের মোবাইলখানা টেবিলে রেখে হাসিমুখে চলে গেল ফাইল খুঁজতে।হাজার হলেও সিনিয়রের নির্দেশ।ইমরান চলে যেতেই সাদমান সুযোগটা লুফে নিল।সে এমন কিছু আন্দাজ করেই ফাইল নিয়ে আসার কথা বলেছিল।সাদমান জানে ইমরানের ফোনের লক কিভাবে খুলতে হয়।প্রায়সময়ই ইমরানের সাথে কথা বলার সময়ে সে খেয়াল করেছিল।মোবাইল হাতে নিয়ে পরিচিত লক খুব সহজে খুলে ফেলল সাদমান।চলে গেল কল লিস্টে।কিন্তু সেখানে তেমন কিছুই নেই।সবই পরিচিত নাম্বার।তারপর চলে গেল মেসেজ লিস্টে।সেখানে একটি ফোল্ডারে ক্লিক করতেই সাদমান চমকে উঠল।ফারহানার সাথে মাঝেমাঝে কথা হয় ইমরানের।শেষ কথা হয়েছিল পনেরদিন আগে।তবে তেমন কিছুই পায়নি।সাদমান আর দেরি না করে ইমরানের মোবাইল ঠিক আগের মত রেখে ফাইল দেখায় মনোযোগ দিল।এতে সন্দেহ থাকবে না।বেশ কিছুক্ষন পর ইমরান হাসিমুখে দাঁড়ালো সাদমানের পাশে।বলল,এই নিন ভাই।
-ধন্যবাদ,তুমি এখনও যাও।আমি ফাইলগুলো দেখে তোমাকে বলবো,বলল সাদমান।
ইমরান টেবিল থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়ল।
সাদমানের মনে ঝড় বয়ে চলছে।হতে পারে,ইমরান মেসেজ ডিলিট করে দিয়েছে।ফারহানার ফোন সে কখনো ধরে না।কিন্তু এখন সন্দেহ ধীরে ধীরে দানা বাঁধছে।সাদমান দুইয়ে দুইয়ে চার করার চেষ্টা করছে।ইমরান যেহুতু জাদু জানে,হতে পারে গতকাল চোখের ধোঁকায় সে বাসা থেকে পালিয়ে গিয়েছিল।বিকেলের কথা মনে পড়তেই সাদমান ফাইলগুলো দেখতে শুরু করল।বিকেল চারটায় বেরিয়ে পড়তে হবে।কিন্তু সাদমানের মাথায় তখনও বয়ে চলছে মরুভূমির বালু ঝড়।যে ঝড়ে কিছুই দেখা যায়।শুধু চোখ বন্ধ করে অনুভব করা যায়।
তিন.
ফারহানা সোফায় বসে টিভি দেখছে।একটার পর একটা চ্যানেল পাল্টে যাচ্ছে।কিন্তু স্থিরভাবে কিছুই দেখছে না।গতকাল থেকে সাদমানের আচরনে কিছুটা অবাক ফারহানা।মানুষটা বাইরে থেকে আসলে কত হাসি দিয়ে কথা বলতো!অথচ গতকাল এসে কি যেন খুঁজছে!কিছুই বলছে না।শরীরের খারাপের কিছু নেই।তবে কি কোনো বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে সাদমান।এমন সময়ে ফারহানার মোবাইল বেজে উঠল।দেখতে পেল ইমরান ফোন করেছে।হাতে নিয়ে রিসিভ করতেই ইমরানের কন্ঠ শুনতে পেল ফারহানা।
-হ্যালো ভাবি,কেমন আছেন?জিজ্ঞেস করল ইমরান।
-ভালো তো ছিলাম ভাই।কিন্তু সাদমানের জন্য তো খুব চিন্তা বাড়ছে গতকাল থেকে,বলল ফারহানা।
-আমিও ব্যাপারটা লক্ষ্য করলাম আজ।সাদমান ভাই মনমরা হয়ে কি যেন ভাবছে।আপনাদের দুজনের ঝগড়া হয়েছে নাকি?জিজ্ঞেস করল ইমরান।
-আরে দূর,তোমার ভাই করবে ঝগড়া।সে ঝগড়া করতে গেলে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায় বিছানায়।একটু রাগ দেখাতে গেলে এমন কথা বলে,আমিও না হেসে পারি না।কিন্তু গতকাল থেকে তো কিছুই বুঝতে পারছি না,বলল ফারহানা।
-আমি ভাবলাম,ঝগড়া হয়েছে।অযথা চিন্তা করতে বারন করবেন ভাবি।এখন চিন্তা করলে যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।তখন তো আরও সমস্যা,বলল ইমরান।
ফারহানা ইমরানের কথায় উত্তর দিচ্ছে আপনমনে।তখনও একটার পর একটা চ্যানেল চলছে।কোথাও যেন আযানের সুর ভেসে আসছে।সময় হয়েছে সকাল পেরিয়ে দুপুর।
সাদমান অফিস থেকে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করেছে।ফাইল তিনটা শেষ করতেই বস এসে আরও দুটো ধরিয়ে দিল।বলল,শেষ না করে কোথাও যাওয়া যাবে না।অগত্যা শেষ করতে করতে বেশ দেরি হয়ে গেছে।রেস্টুরেন্ট বেশি দূরে নয় অফিস থেকে।হেঁটে গেলে মাত্র ১০ মিনিট।কিন্তু সাদমানের এখন আস্তে হাঁটার সময় নেই।ইরাকে বসিয়ে রাখলে মেয়েটা রেগে যাবে।তাছাড়া জগতের নিয়ম,সবসময় পুরুষই অপেক্ষা করবে নারীর জন্য।সাদমান রেস্টুরেন্টের সামনে আসতেই দেখতে পেল,ইরা বসে আছে।সাদমান আর দেরি না করে রেস্টুরেন্টের ভেতরে প্রবেশ করল।ইরা সাদমানকে দেখতে পেয়েছে।
-সরি,একটু দেরি হয়ে গেল।কাজের চাপে সময় করে আসতে পারিনি,মুচকি হেসে চেয়ারে বসে বলল সাদমান।
-না,ভাইয়া,আমি একটু আগে এসেছি।বেশিক্ষন হয়নি,বলল ইরা।
-তোমাকে কিছু কথা জানার জন্য এখানে আসতে বলেছি।প্লিজ,আমার কাছে মিথ্যা বলবে না।আমার জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে ব্যাপারটা,কিছুটা ঝুঁকে এসে বলল সাদমান।
-এমন কি কথা,ভাইয়া?জিজ্ঞেস করল ইরা।
-ফারহানার কোনো ছেলে বন্ধু ছিল?সোজা কথায় বিএফ বলতে যা বলে আজকাল,কথাটি মাথা নিচু করে বলল সাদমান।
-না,ভাইয়া,তেমন কেউ তো ছিল না।হঠাৎ এতদিন পর এইকথা,বলল ইরা।
-তোমরা দুইজনে তো একসাথে কলেজে পড়াশুনা করেছো।আমি যতদূর জানি,কাছের বান্ধবী হিসেবে তুমিই ফারহানার সাথে পড়তে,বলল সাদমান।
-ভাইয়া,সত্যিই বলতে ফারহানা তেমন মেয়ে নয়।আমি বুঝতে পারছি,আপনাদের মধ্যে হয়তো ভুল বুঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে।কিন্তু আমি এতটুকু বলতে পারি,ফারহানা কখনো এসবে জড়াতে চায়নি।কিন্তু অনেক প্রস্তাব পেয়েছিল।আপনি তো ওর পরিবার সম্পর্কে সবই জানেন।পরিবারের দিকে তাকিয়ে ফারহানা এসবে কখনো জড়ায়নি,বলল ইরা।
সাদমান চুপ করে রইল।মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরছে।ফারহানার কোনো ছেলে বন্ধু ছিল না।বাকি আছে শুধু ইমরান।আর ছেলেটার ফোনে মেসেজ দেখে সন্দেহ থেকেই যায়।তবে কি গতকাল ইমরান ছিল?সাদমান বয়কে ঢেকে খাবার অর্ডার করল।কিন্তু স্বাভাবিকভাবে কিছুতেই স্বস্তি আসছে না তার।
সাদমান গেইট দিয়ে ঢুকতেই দেখতে পেল দারোয়ান হামিদ দাঁড়িয়ে আছে।দেখতে পেয়ে হাত উঠিয়ে সালাম জানালো।সকালের হুমকিতে বেশ কাজে ধরেছে।ব্যাটা তাহলে বেশ নজর রাখছে আশপাশে।দারোয়ান হামিদের কাজে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে সাদমান।আশা করি,এখন কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবে না।বলল,কি ব্যাপার,কেউ এসেছিল আমি যাওয়ার পরে?
হামিদ পান খাওয়া লাল টকটকে দাঁত বের করে বলল,না স্যার,কেউ আসেনি।স্যার,একটা কথা,কোনো সমস্যা হইছে?এত কড়াকড়ি যে,জিজ্ঞেস করল হামিদ।
-শহরের খবর কিছু রাখো?দিনদুপুরে ডাকাত ঢুকে গলাকেটে রেখে চলে যায়,মিথ্যা বলল সাদমান।ভয়টা অন্য জায়গায়।নিজেদের সমস্যা বাইরের মানুষকে জানানো ঠিক নয়।কর্মচারী তো নয়ই।এরা আড্ডার সময়ে হঠাৎ করে সব ফাঁস করে বলে,আমার স্যারের পরিবারে তো গন্ডগোল লাগছে।সবাই সেটা নিয়ে বেশ মজা নেয়।
-স্যার,আপনি চিন্তা করবেন না।আসতে দেন খালি,পিঠাইয়া হাড্ডি ভাঙি রাখমু।আমারে তো চেনে না,বলল দারোয়ান হামিদ।
-কি যে করবে জানা আছে।বাইরে থেকে লোক এসে আড্ড দেয়।যাই হোক,ঠিকমতো পাহারা দাও।আর রমিজ আসলে আমার কথা বলবে।ফাঁকি দিলে দুইজনের চাকরি যাবে বলে দিলাম,এই বলে সাদমান সামনে পা বাড়ালো।
ভেতরে ঢুকতেই কিছুটা ভয় লাগল সাদমানের।ভয়টা গতকালের।আজও যদি বাসার ভেতর থেকে অচেনা পুরুষ কন্ঠ শুনে,নিজেকে সামলে রাখতে পারবে তো সে?ফারহানা এখন কি করছে?অপেক্ষা করছে তার জন্য নাকি ভেতরে হাসাহাসি করছে?সাদমান নিজেকে অভয় দিয়ে সিড়ির কাছে এসে দাঁড়ালো।চোখ বন্ধ করে দরজায় কান পাতলো।কয়েক পা পেছনে সরে আসলো সাদমান।ভেতর থেকে গম্ভীর পুরুষ কন্ঠ ভেসে আসছে।আজ কি তবে অন্য কেউ এসেছে?গতকালের কন্ঠের সাথে আজকের কন্ঠ সম্পূর্ণ অপরিচিত।সাদমানের মাথার ভেতর রক্তগুলো দ্রুত ছুটতে শুরু করেছে।বেরিয়ে আসতে পারে যেকোনো মুহূর্তে।নিজেকে সামনে দরজায় বেশ জোরে আঘাত করল সাদমান।আওয়াজ থেমে গেছে।হঠাৎ সবকিছু চুপ।বেশ কিছুক্ষন পর ফারহানার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেল সাদমান,কে এসেছে,সাদমান তুমি?
সাদমান চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল।মুখ দিয়ে কথা যেন বন্ধ হয়ে গেছে।হাতের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে।হাত ছেড়ে দিলেই মুখ থুবড়ে পড়বে সিড়িতে।
-কি ব্যাপার চুপ করে আছো কেন?কে এসেছে জিজ্ঞেস করেছি তো,দরজা খুলে বলল ফারহানা।।
সাদমান কিছু না বলে বেশ দ্রুত বাসার ভেতরে ঢুকে দেখতে পেল,কেউ নেই।সবকিছু স্বাভাবিক।একটু আগে যে কেউ কথা বলছিল তার কোনো অস্তিত্বই নেই।আজও কি আমায় ধোঁকা দিয়ে চলে গেল?নাকি সত্যিই ফারহানার সঙ্গে ভৌতিক কিছুর অস্তিত্ব আছে?
...........চলবে.........
written by Habib Khan Hridoy


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন