সরিষা বউ - রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

সরিষা বউ - রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
সরিষা বউ - রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

বউয়ের ঘ্যানঘ্যানানিতে আজ বাধ্য হয়ে বের হলাম বিকেলে।অনেক দিন ধরেই রাগারাগি অভিমান এসব চলছে।আমি চুপ থাকি ও রেগে গেলে।কথা বললেই বিপদ তখন তার খাওয়া দাওয়া অফ হয়ে যায়।আর ঘুমের ভিতরে ভুলেও গায়ে হাত চলে গেলে এক ছটকা দিয়ে সরিয়ে দেয়।বুঝুন তাহলে জেগে থাকলে ভাইব্রেশনের মতন বউ আমার শব্দ করে আর কাঁপতে থাকে।চোখে তার আগুন জ্বলে।কি আর করার আমি অবলা অসহায়, চুপচাপ ঘুমিয়ে যাই। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
বউকে নিয়ে যাচ্ছি সরিষা ফুলের ক্ষেতে।এই ছিল বউয়ের এতদিনের চাহিদা রাগ আর আমায় দূরে রাখার কারণ। বউ আমার ফেসবুক, ইনেস্টাগ্রাম এক্টিভিটিস।যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফেসবুক এবং তার ভিতরে হাজারো ফ্রেন্ডদের সাথে ট্রেন্ডে চলা মানুষ সে।আমি সেসব দেখতে যাই না।মাঝেমধ্যে দেখা লাগে যখন অফিস থেকে এসে ড্রেসটা অব্দি ছেড়ে পারিনা তখনই বলে এ্যাই তুমি আমার নতুন ছবিতে কোন রিয়েক্ট দাওনি কেন এখনো! তখনই ঢুকে রিয়েক্ট দিয়ে তারপর আমার নিস্তার।
একদিন অফিস মিটিংয়ে বউয়ের ফোন।অনেকবার ধরে রিং দিচ্ছে।আমার বিব্রত হয়ে লাভ নাই।রিসিভ করতেই হবে।কোন বিপদ আপদ ও হতে পারে।রিসিভ করে আবিস্কার করলাম সে মাত্র নিউ একটা পিক আপলোড করেছে সেখানে রিয়েক্ট দিতে হবে এবং প্রশংসা করে ভালোবাসাময় একটি কমেন্ট করতে হবে।আমি অবাক হইনি।কারণ আমার কাছে নতুন না।তবে বউ আমাকে ভালোবাসে খুব।এ নিয়ে কোন সন্দেহ নাই।ভালোবেসেই বিয়ে করেছি আজ তিনবছর হল। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
হ্যা,সরিষা ফুল সাথে নিয়ে নাকি সকল মেয়েরা ছবি দিয়ে ফেসবুক ভরে ফেলছে।এ নিয়ে প্রতিদিন শুনছি।বিছানায় শুয়ে শুয়ে কাঁদছে আর বলছে তুমি আমায় একটুও ভালোবাসো না,বাসলে এতদিন ধরে বলাই লাগত না।অন্যের বরেরা একবার নয় বারবার নিয়ে যাচ্ছে তাদের বউদের।আর একসাথে কত্ত সুন্দর সুন্দর ছবি তুলছে।এসব নিয়েই যত সমস্যা চলছে।আমার সময় হয়না,এক শুক্রবারে একটু রিলাক্সে থাকব কিন্তু তার উপায় নাই।বউ আমার সেল্ফি ছবি নিয়ে ব্যস্ত,বাইরে গেলেও একই অবস্থা।মনে আছে আপনাদের গতবার কাশফুল নিয়ে কি না করল! সেবারও লিখলাম #কাশফি'নিয়ে।
আজ এলাম অবশেষে সরিষার ক্ষেতে।একপলকের জন্য ভালোই লাগল দেখতে।হলুদময় হয়ে উঠেছে ধরনী,আবার যেন হলুদ সমুদ্র।কিন্তু একটুপর খেয়াল করলাম চারিদিকে মানুষ আর মানুষ। দল বেঁধে মেয়েরা এসেছে ছবি তুলছে।সিঙ্গেল মেয়েরাও আছে।পরিবার নিয়েও এসেছে অনেকে ছেলেমেয়ে নিয়েও দেখছি।বেশির ভাগই কাপল দেখছি।সবার চোখ মুখে আনন্দ।শুধুমাত্র প্রত্যেক মেয়ের ছেলে পার্টনার গুলোর মুখগুলো মলিন হয়ে আছে।কারণ কি! আমি ফোনের ডিসপ্লে তে নিজেকে আবিস্কার করলাম আমার মুখও মলিন। কি সাংঘাতিক! কি সাংঘাতিক! রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প
বউ আমাকে হাত টেনে আইল ধরে ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে যাচ্ছে কই আসো আসো বলে।বলছি,আরে! টানছ কেন আসতেছি তো।চারিদিকে শুধু মেয়ে মানুষ। এত মেয়েরা কি একা আসছে! নাহ,এদের পুরুষেরা ক্ষেতের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।কেউ কেউ ক্যামেরা ম্যানের দায়িত্ব পালন করছে।আমিও ক্যামেরা ম্যান হয়ে গেলাম।এবার আমার বউয়ের ছবি তোলা শুরু।একবার বলছে তোমার ফোন দিয়ে তুলো আরেকবার বলছে আমার ফোন দিয়েও তুলো।কত রকম স্টাইলে যে বউ ছবি তুলল তা ভুলে গিয়েছি।আমাকে ধরে বসিয়ে ফুল মুখের দিকে টেনে সেল্ফি তোলা শুরু।আর থামে না! রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প

কিছুক্ষণ পর খেয়াল করলাম আমার বউকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।কিন্তু বউ আমার সমানে ডাকছে।আমি এদিক সেদিক কোথাও খুঁজে পাচ্ছি না।পরে আবিস্কার করলাম বউ আমার সরিষার ক্ষেতের মধ্যেই শুয়ে পড়েছে। আমাকে দেখা মাত্র বলতে শুরু করল তাড়াতাড়ি তুলো।এমন পোজে অনেক গুলো ছবি তুলতে থাকো।আমি অসহায় হা হয়ে তুলে যাচ্ছি।এরপর বলে তুমিও আসো সেল্ফি তুলি শুয়ে! আমি হকচকিয়ে গেলাম।আমি দৌড়ে বেরিয়ে এলাম।বউ আমার হাসছে আর বলছে লজ্জা লাগে? দেখো সব কাপলই তুলছে এভাবে। আমি মনে মনে বললাম,তারা সবাই আমারই মতন বাধ্য হয়ে তুলছে আর তাদের মুখের দিকে তো চাওয়াই যাচ্ছে না।ভাজ্ঞিস বাইরে, ঘরে থাকলে সব ব্যাটা কান্নাকাটি শুরু করে দিতো।
আমরা হাজার খানেকের মতন ছবি তুললাম।বাইরে খাওয়াদাওয়া করে বাসায় পৌছাতে রাত হয়ে গেল।আমি খুব ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে গেলাম।হঠাৎ বউয়ের ঠ্যালাঠ্যালিতে জেগে উঠলাম।বললাম,সকাল হয়ে গেছে নাকি? বলল,না।ঘড়িতে দেখি রাত ২টা বাজে।বউ বলছে,এ্যাই অনেকগুলো ছবি আপলোড দিয়েছি-এবার রিয়েক্ট দাও!

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন