![]() |
| রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস |
--বর্ষা আমার উপরে শুয়ে আছে।
আমি বুঝিনা । আমার রুমের ভিতর দিয়ে লক করা থাকে। তাহলে ওহ ঢুকে কিভাবে।। ওই বেহায়া মেয়ে ওঠ..!(নীল)
--উমম আর একটু থাকি না । খুব ভালো লাগছে।(বর্ষা)
--ভালো লাগা শিখাচ্ছি তারাতাড়ি ওঠ। নয় তো মাকে ডাক দিবো।(নীল)
--আচ্ছা তুমি ডাকতে থাকো ততক্ষণ আমি আপনার বুকে ঘুমায়,!(বর্ষা)
--এই মেয়ের কি কোনো ভয় নেই ।
বর্ষা আমাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে আছে।
হঠাৎ আমার রুমের দরজায় কে যেনো ধাক্কা দিতে লাগলো। এই সেরেছে এখন কী হবে।
--ওই নীল দরজা খুল।(বাবা)
--ওই ওই ওঠো বাবা এসেছে।(নীল)
--কে বাবা, আচ্ছা আসতে দেন।(বর্ষা)
--বলে কি এই মেয়ে। ওই বেশি কথা না বলে তাড়াতাড়ি চলে যাও প্লিজ!(নীল)
--যেতে পারি তবে একটা শর্তে!(বর্ষা)
--এবার সেই শর্ত । আচ্ছা বলো কি শর্ত?(নীল)
--আমাকে জরিয়ে ধরতে হবে।(বর্ষা)
--কখনোই না।(আমি)
--আচ্ছা তাহলে আমি বাবাকে ডাক দিচ্ছি (বর্ষা)
--বলেই যেই বা... বলে ওঠলো তখনিই আমি তার মুখ চেপে ধরলাম। ওই শালী চুপ!(রেগে বললাম)
--শালী নয় তো বউ!হিহি(বর্ষা)
--এর সাথে কথা বলে কোনো লাভ নেই তার থেকে একবার জরিয়ে ধরাই ভালো। তাই তাকে জরিয়ে ধরলাম।
এইদিকে বাবা।
--ওই নীল শুনতে পাচ্ছিস না!(বাবা রেগে বললো)
--আমি বর্ষাকে জোর করে বাথরুমে ঢুকিয়ে দিলাম। তারপরে দরজা খুলে দিলাম।
--ওই কোথায় ছিলে এতক্ষণ?(বাবা)
--বাথরুমে ছিলাম বাবা।(নীল)
--ওহ আচ্ছা।আসলে আমাদের বাথরুমে একটু সমস্যা হয়েছে তাই তোর রুমে আসলাম।(বাবা)
--কী। না মানে আমারো বাথরুমের দরজা লক হয়ে গেছে।(নীল)
--আচ্ছা আমি দেখছি (বাবা)
--বলেই বাবা বাথরুমের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আমি দৌড় দেওয়ার জন্য প্রস্তূত নিচ্ছিলাম তার আগেই বর্ষা বাথরুমের ভিতরে তেলাপোকা দেখে জোরে একটা চিৎকার দিয়ে উঠল।আর সাথে সাথে দরজা খুলে দিয়ে দৌড়ে এসে এক লাফে আমার কোলে উঠে পড়লো। শালী আর সময় পেল না চিৎকার করার । থুক্কু ফাজিল মেয়ে।
--ওহ এই জন্যই লক বন্ধ হয়ে ছিল তাই না!(বাবা)
--না মানে বাবা!(নীল)
--বাবার কথা শুনে বর্ষা সাথে সাথে কোলে থেকে নেমে দৌড়ে চলে গেল।
আর আমি আবালের মতো দাঁড়িয়ে আছি।
--বাবা এই তোমার লকার তাই না।(বাবা)
--না মানে বাবা(নীল)
--থাক আর এতো ঢং করা লাগবে না। (বাবা)
--🙄!(নীল)
--বিয়ের বয়স হয়ে যাচ্ছে তাই তো?(বাবা)
--তা না বাবা!(নীল)
--থাক বাবা আমাকে আর কিছু বলা লাগবে না। তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করছি (বাবা)।
--বলে বাবা চলে গেল।কি হলো এইটা,
যাইহোক রাতে খাওয়া দাওয়া করে ছাদে গেলাম। কিছুক্ষণ পর দেখলাম বর্ষাও আসলো । এইতো সময় ওর সাথে মজা নেওয়া। ফাজিল মেয়েটার জন্য আমার বাবা মার সামনে অনেক অপমান হয়েছি । এবার দেখাচ্ছি মজা।
--সরি আমার জন্য আপনাকে তখন বিপদে পড়া লাগলো ।(বর্ষা)
--সমস্যা নেই। আচ্ছা তোমার সাথে একটা কথা ছিল।(নীল)
--জি বলেন?(বর্ষা)
--আসলে আমি একটা মেয়েকে ভালবাসি তাকে অনেক আগে প্রপোজ করেছিলাম। কিন্তু সে তখন রাজি হয়েছিল না। কিন্তু আজ সে রাজি হয়ে যায়। আর উল্টো আমাকে প্রপোজ করে। আমিও রাজি হয়ে যাই। ওর কথা বাবা মাকে বলি। আর আমার বাবা মা।ওর সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য রাজি হয়ে যায়।( আমি ডাহা মিথ্যা বললাম)
--কিন্তু এতদিন আমাকে বলেন নাই কেন?(বর্ষা)
--এমনি।(নীল)
--ওহ আচ্ছা। সরি আপনার সাথে এমন ধরনের ব্যবহার করার জন্য।(বর্ষা)
--ঠিক আছে।(নীল)
--তারপরে বর্ষা আর কিছু না বলে চলে গেল। দেখো ফাজিল মেয়ে এখন কেমন লাগে। কিছুক্ষণ থেকে,আমিও নিচে চলে গেলাম। রুমে গেলাম। বাবা মা আমার রুমে আসলো।
--কি হয়েছে বাবা আপনারা এখন?(নীল)
--তেমন কিছু না বাবা তোর বিয়ের কথা বলছিলাম।(বাবা)
--মানে?(নীল)
--থাক এতো মানে মানে করা লাগবে না। কালকেই তোর বিয়ে (বাবা)
--কী?(নীল)
--হুম কাল।(বাবা)
--কখনোই না।(নীল)
--কেনো?(বাবা)
--কারন আমি আগে এনগেজ করে রাখবো আর ২ বছর পর বিয়ে করবো .!(নীল)
--সেটা হবে না।(বাবা)
--প্লিজ বাবা আমি আগে নিজের পায়ে দাড়াই তারপরে বর্ষাকে বিয়ে করবো।(নীল)
--বাহ এতো শিয়র হচ্ছিস কি করে যে আমি বর্ষার সাথেই তোর বিয়ে দিবো ?(বাবা)
--হুম আমি জানি (নীল)
--আচ্ছা শোন কাল আমরা সবাই ময়মনসিংহ যাবো আর পরশু তোদের এনগেজমেন্ট।(বাবা)
--হুম কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে!(নীল)
--কি!(বাবা)
--হুম, আমি যে বর্ষাকে বিয়ে করবো সেটা বর্ষাকে বলা যাবে না এনগেজ এর পরে আমিই তাকে সারপ্রাইজ দিবো প্লিজ বাবা!(নীল)
--আচ্ছা কেমন সারপ্রাইজ শুনি?(বাবা)
--হুম । তারপরে আমি বাবাকে আর মাকে সব বললাম।(আপনাদের আগে বলা যাবে না নয়তো আপনি বর্ষাকে বলে দিতে পারেন)
--একদম বাজে সারপ্রাইজ মেয়েটা অনেক কষ্ট পাবে (মা)
--প্লিজ, প্লিজ মা কোনো কষ্ট পাবে না। প্লিজ রাজি হয়ে যাও।(নীল)
--আচ্ছা আচ্ছা তাই হবে!(মা)
--আমি তো অনেক খুশি,যাইহোক বাবা মা চলে গেল ।আমিও ঘুমিয়ে গেলাম।
পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে রওনা দিলাম ময়মনসিংহ এর উদ্দেশে। বর্ষা আমার সাথেই বসে ছিল। কিন্তু প্রতিবারের মতো এবার আর কিছুই করলোনা চুপচাপ বসে আছে। আমিও আর কিছু বললাম না। কয়দিন পর তো বোঝাবোই।বিকেলের মধ্যেই বাসায় পৌছে গেলাম।
তারপরে ইমনরা চলে গেল।আর আমরা আমার বাসায় চলে আসলাম।
এইদিকে বর্ষা বাসায় পৌঁছে কারো সাথে কোনো কথা না বলে রুমে চলে গেল।বর্ষার এমন ব্যবহার দেখে তার মা তার রুমে গেল।
--কি হয়েছে মা তোর?(বর্ষার মা)
--কিছু না।(বর্ষা)
--আচ্ছা শোন কাল রেডি হয়ে থাকিস । তোর এনগেজমেন্ট কাল!(বর্ষার মা)
--কী?(অনেক অবাক হয়ে বর্ষা)
--বলছি কাল রাতে তোর এনগেজমেন্ট আর এনগেজমেন্টের পরে বিয়ের তারিখ ঠিক করা হবে !(বর্ষার মা)
--কিন্তু আমি বিয়ে করবো না !(বর্ষা)
--আমি কিছু বলতে পারবো না তোর বাবা সব ঠিক করেছে ।(বর্ষার মা)
--বর্ষা আর কিছু বললো না । কারন সে জানে তার বাবার উপরে এই বাসায় কেউ কথা বলবে না।বর্ষার মা চলে গেল আর বর্ষা দরজা বন্ধ করে দরজার পাশেই বসে কান্না করতে লাগলো। আর বলছে ।
--নীল তুমি আমার সাথে এমন করলে কেন। আমি তো তোমাকে অনেক ভালবাসি।
--তুমি আমাকে একটুও বুঝলে না আর দেখো, তোমার মতোই আমার বাড়ীর মানুষও আমাকে বোঝার চেষ্টা করছে না।(বর্ষা)
--এইসব কথা ভাবছে আর কান্না করছে। এইসব কথা ভাবতে ভাবতে। বর্ষা দরজার পাশেই ঘুমিয়ে পরে ।
এতো ঘুমায় যে সে এক ঘুমে রাত পার করে সারাদিনটাও পার করে দেয়।
সন্ধ্যায় তার মা এসে ডাক দিলে তার ঘুম ভাঙলো।
--বর্ষা মা দরজা খুল ওরা সবাই এসে পরেছে তুই রেডি হয়ে নিচে আয়!
--বলে বর্ষার মা চলে গেল ।বর্ষার ইচ্ছা না থাকার শর্তেও তাকে যেতে হলো।
নিচে যেয়ে দেখলো। নীলের পরিবারের সবাই এসেছে শুধু নীল বাদে।
--সবাই তো আছে কিন্তু বর কোথায়? আর আমার বর বাই কে ?(বর্ষা)
--এইসব কথা বর্ষা ভাবচ্ছিল হঠাৎ করেই.

إرسال تعليق