বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৯ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৯ রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

--ইসসস আসছে আমার সিনিয়র বর।(বর্ষা)

--আচ্ছা তোমার সমস্যাটা কী বলো তো ?(নীল)

--অনেক বড় সমস্যা!(বর্ষা)

--কী সমস্যা?(নীল)

--আমার একটাই সমস্যা, যতোদিন তোমাকে বিয়ে না করছি ততদিন পর্যন্ত রাতে ঘুম হবে না।(বর্ষা)

--উফফফ  কী মেয়ে এইটা কিছুই বুঝছি না,আচ্ছা তোমার লজ্জা শরম কী কিছুই নেয়?(নীল)

--ওই গুলো বরের সামনে থাকে না ।আর শুনো ।(বর্ষা)

--কী?(নীল)

--কাল আমার সাথে দেখা করো‌ না একটু প্লিজ।(বর্ষা)

--কেন(নীল)

--তোমাকে দেখতে খুব ইচ্ছা করছে।(বর্ষা)

--পারবো না!(নীল)

--এসো না গো।বর প্লিজ।(বর্ষা)

--উফফফ পারছি না এই মেয়ের সাথে। তাই আর কিছু না বলে ফোন রেখে ঘুমিয়ে গেলাম, সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে কলেজে চলে আসলাম।

কলেজ গিয়ে দেখলাম, হৃদয়,আর সজীব বসে আছে। কি রে মামা কী খবর?(নীল)

--এইতো ভালো!(দুজন একসাথে)

--তো আমাদের দুলাভাই কই?(নীল)

--হয়তো ভাবিকে নিয়ে শুয়ে আছে ।(হৃদয়)

--চুপ সালা।(নীল)রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

--ওই দেখো মামা তোমার বোনের মাল তো চলে এসেছে!(সজীব)

--সজীবের কথা শুনে পিছনে তাকিয়ে দেখলাম ইমন আসছে।

--কিরে তোরা সবাই এইখানে। আমাকে না বলেই।(ইমন)

--কি আর করবো তোর তো এখন খোঁজ নেওয়ার মানুষ এসে গেছে।(হৃদয়)

--ওই সালা এসেছে তো কি হয়েছে । বউয়ের জন্য কি বন্ধুদের ভুলে যাবো।(ইমন)

--ডায়লগ তো ভালোই পারিস।(নীল)

--চুপ সালা । কিসের ডায়লগ হুম।(ইমন)

--আচ্ছা দুলাভাই ।(নীল)

--আচ্ছা শোন আজ স্যান্ধায় আমার বাসায় চলে আসবি ওকে!(ইমন)

--কোনো রে?(সজীব)

--বাবা সবাই তোদের যেতে বলেছে।(ইমন)

--ওহ আচ্ছা (সজীব)


--তারপরে ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। দুপুরে খেয়ে ঘুমিয়ে গেলাম।

বিকেলে মা ফোন দিলো।

--কিরে বাবা তোর খোঁজ পাওয়াই যাচ্ছে না।(মা)

--সরি মা। আসলে ব্যস্ত থাকার কারণে ঠিক মতো কথা বলা হয়নি।(নীল)

--তোর শরীর ভালো আছে তো বাবা?(মা)

--হুম মা।তারপরে মার সাথে আরো কিছু কথা বলে ফোন কেটে দিলাম।

মার ফোন কেটে দেওয়ার সাথে সাথে সজীব ফোন দিলো।

--কিরে কার সাথে কথা বলছিলি?(সজীব)

--এইতো মার সাথে?(নীল)

আরও পড়ুনঃ- ট্রেন স্টেশন রোমান্টিক গল্প

--ওহ আচ্ছা। আমরা ক্লাবে আছি তুইও চলে আয়। অনেক দিন ক্রিকেট খেলা হয় নাই।(সজীব)

--ওকে বন্ধু তোরা বস আমি ১০ মিনিটের মধ্যে আসছি বলে ফোন কেটে দিলাম। ক্রিকেট আমার ফেভারিট খেলা। তাই ক্রিকেটের কথা শুনলে আর পায়কে। যাইহোক । ফ্রেস হয়ে খেলা করতে চলে গেলাম। ওই যে কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আর কী।

৭ রানের জন্য হেরে গেলাম। তারপরে বাসায় এসে ফ্রেস হয়ে । ইমনের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আমি,হৃদয় আর সজীব। কিছুক্ষণের মধ্যেই ইমনের বাসায় পৌঁছিয়ে গেলাম।বাসায় এসে দেখলাম মোটামুটি অনেক মানুষ আছে। হয়তো ইমনের আত্বীয় । যাইহোক। আমরা আন্টি, আঙ্কেলের সাথে কথা বলে ইমনের রুমে আসলাম। রুমে ‌গিয়ে দেখলাম ইমন বসে আছে ‌।

--কিরে দোস্ত কখন এলি তোরা?(ইমন)

--এইতো কিছুক্ষন আগে,,,(নীল)

--আচ্ছা তোরা বস আমি একটু বিজি আছি পরে কথা বলছি!(ইমন)

--আচ্ছা!(নীল)রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

--তারপরে ইমন চলে গেল , কিছুক্ষণ পর নিলা কফি নিয়ে আসলো।

--ভাইয়া কেমন আছিস?(নিলা)

--হুম ভালো ।  তো কফি কী হোটেল থেকে নিয়ে আসলি নাকি?(নীল)

--না আমি বানিয়েছি(নিলা)

--🙄!(নীল)

--কি হলো ভাইয়া?(নিলা)

--তুই কফিও বানাতে পারিস!(নীল)

--ভাইয়াআআআআ......(নিলা)

--আচ্ছা তোর হিটলার ননদী কে তো দেখছি না।(নীল)

--ওহ ওর বান্ধবীদের বাসায় গিয়েছে কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবে।(নিলা)

--ওহ আচ্ছা ।ওহ যদি আমার কথা জিজ্ঞাসা করে তাহলে বলবি আমি আসি নাই।(নীল)

হুম।(নিলা) 


--বলে নিলা চলে গেলো!


--কিরে মামা কাহিনী কি?(সজীব)

--কিসের কাহিনী?(নীল)

--ইসসস মনে হচ্ছে সালা কিছুই বূঝে না।(হৃদয়)

--না দোস্ত। তেমন কিছু না।একটু একটু !(নীল)

--থাক মামা আর বলা লাগবে না।বুঝে গিয়েছি।(সজীব)

--কি বুঝলি?(নীল)

--অনেক কিছুই!(সজীব)

--চুপ সালা।(নীল)

--হুম হুম বুঝি বুঝি ।(হৃদয়)

--আসলে বন্ধুরা এমনি হয় । বাঁশ দেওয়াই কাজ। তারপরে আমরা সবাই গল্প করতে লাগলাম। আর এইদিকে বর্ষা , বান্ধবীদের নিয়ে বাসায় আসলো।বাসায় এসে। তার ভাবিকে বললো,,

--ভাবি। সজীব ভাইয়ারা এসেছে?(বর্ষা)

--হুম, হৃদয়, সজীব ভাইয়া এসেছে। কিন্তু নীল ভাইয়া আসেনি!(ভাবি)

--ওহ কেনো আসেনি ও।(বর্ষা)

--বাবাহ ও।🙄(ভাবি)

--মানে ভাইয়া।🙊(বর্ষা)

--থাক আর এতো ঢং করা লাগবে না'(ভাবি)

--🙄(বর্ষা)

--আচ্ছা আমার সাথে এসো।(ভাবি)

--কোথায়?(বর্ষা)

--চলো তো পরে বলছি।(ভাবি)


--তারপরে নিলা বর্ষাকে নিয়ে আমরা যে রুমে ছিলাম।সেই রুমে নিয়ে আসলো। বর্ষা আমাকে দেখে.....

নীলললল বলে লাফ দিয়ে উঠলো ।

আমি সহ আমার সব বন্ধুরা অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি কি হলো এইটা।

বর্ষা এইবার বুঝতে পারলো রুমে। আমি বাদে আরো মানুষ আছে। কিছু লজ্জা পেয়ে মাথা চুলকতে লাগলো।

বর্ষার এমন ভাব দেখে আমরা সবাই হাসতে লাগলাম। বর্ষা আমাদের হাসি দেখে দৌড়ে চলে গেল।

--কিরে মামা ভাবি তো লজ্জা পেয়ে চলে গেল।😁(সজীব)

--ওই সালা কিসের ভাবি হুম।আর আস্তে বল ইমন শুনলে কষ্ট পাবে।!(নীল)

--শুনবে কি সে তো জানেই!(নিলা)

--জানে মানে?(নীল)

--যখন ইমনের সাথে তোমার বন্ধুত্ব হয় এবং প্রথম দিন তোমাকে ইমনের বাড়িতে নিয়ে আসে । সেইদিন থেকেই ইমনের বাবা মানে, আমার শশুর। তোমাকে পছন্দ করে রাখে বর্ষার জন্য । পরে আস্তে আস্তে তোমাদের বন্ধুত্ব যখন‌ ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল তখন তোমার বেপারে ইমনের কাছে জানতে চাইলে যে তুমি কেমন। পরে ইমনের কথা মতেই তোমার বাবা ,মার সাথে কথা বললে।(নিলা)

--ওয়েট, ওয়েট। আমার বাবা, মার সাথে কথা বললো মানে?(আমি)

--হুম,তোমরা যখন বাসায় যাবে তার আগেই কথা বলেছিলো। তোমার মা বর্ষাকে দেখতে চাই । আর তার জন্যই তোমাদের সাথে বর্ষাকে নিয়ে যায়,(নিলা)

--তার মানে বর্ষা এই জন্যই আমার সাথে প্রেম করতে চাচ্ছে?(নীল)

--না। বর্ষা তো জানেই না।(নিলা)

--জানে না মানে?(নীল)

--তুমি আর বর্ষা বাদে সবাই জানে?(নিলা)

--আচ্ছা তুই এতকিছু জানলি কিভাবে?(নীল)

--ওহ কাল রাতে সব বলেছিলো আমাকে !(নিলা)

--ওহ টা আবার কে?(নীল)

--তোমার বন্ধু।(নিলা)

--ইসসস আমার বন্ধু  তোর ওহ হয়ে গেছে।(নীল)

--তুমি বুঝবে না!(নিলা)

--ভালো, তারপরে সবাই মিলে গল্প করতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর আমি ছাদে গেলাম । সিগারেট খাওয়ার জন্য। কিন্তু কপাল খারাপ থাকলে যা হয় আর কি। আমি ছাদে উঠতেছি আমার পিছে পিছে বর্ষাও চলে আসলো । হয়তো সে আমার জন্য অপেক্ষা করে আছে। 

--এই যে মিষ্টার ছাদে যেটার জন্য এসেছেন। সেটা হবে না।(বর্ষা)

--মানে?(নীল)

--মানে হচ্ছে সিগারেট খাওয়ার কোনো চান্স নাই।,(বর্ষা)

--কেনো?(নীল)

--এমনি । তবে সিগারেট বাদে অন্য একটা জিনিস দিতে পারি!(বর্ষা)

--কি?(নীল)

--মিষ্টি।(বর্ষা)

--মিষ্টি তো আমার ফেভারিট খাবার।(নীল)

--তাই নাকি তাহলে দেবো?(বর্ষা)

--কই তোমার হাতে তো মিষ্টি দেখছি না।(নীল)

--আচ্ছা আপনি চোখ বন্ধ করেন তারপরে দিচ্ছি।(বর্ষা)

--চোখ বন্ধ কেন?(নীল)

--ওহ শুধু চোখ না‌ ।হাতও বাধতে হবে।(বর্ষা)

--কেনো?(নীল)

--হুম না বাঁধলে পাবেন না।(বর্ষা)

--আচ্ছা । বাঁধেন। মিষ্টি আমি অনেক ভালবাসি তাই বর্ষার সব কথায় রাজি হয়ে গেলাম। তারপরে বর্ষা আমার হাত বেঁধে দেওয়ার পর।...


--এইবার চোখ বন্ধ করেন?(বর্ষা)


--বর্ষার কথা মতো চোখ বন্ধ করে রাখলাম। কিন্তু আমি ভাবতেও পারিনি বর্ষা আমাকে এমন মিষ্টি দিবে।।।

আমি চোখ বন্ধ করার সাথে সাথে বর্ষা ২ হাত  দিয়ে আমার গাল ধরে কিস করতে লাগল । আমি তো পুরাই আবাল মার্কা হয়ে গেলাম। কি হলো এইটা।। যা হচ্ছে শুধু দেখেই যাচ্ছি  ।

কি করবো হাত তো বাধা ।

একদিক দিয়ে মজাই লাগছিল ।

একটু মজা না , খুবিই মজা।

যাইহোক আমি যে মজা পাচ্ছি সেটা বর্ষা কে বলা যাবে না। প্রায় ৫ মিনিট পর বর্ষা আমাকে ছাড়লো।

--ওই এইটা কি হলো।(আমি হাঁপাতে হাঁপাতে বললাম)

--কেনো মিষ্টি দিলাম।(বর্ষা)

--এইটা কোন ধরনের মিষ্টি ।(নীল)

--লিপ মিষ্টি।(বর্ষা)

--ধুর।(নীল)

--কি হলো গো বর।(বর্ষা)

--কিছু না আমি নিচে যাবো । আমার হাত খুলে দেও।(নীল)

--খুলতে পারি ।তবে একটা শর্তে।(বর্ষা)

--কি শর্ত?(নীল)

--আমাকে কোলে করে নিয়ে যেতে হবে।(বর্ষা)

---😱!

--কি হলো।?(বর্ষা)

--আমি পারবো না ।(নীল)

--আচ্ছা তাহলে আমিও খুলছি না (বর্ষা)

--আচ্ছা থাক।(নীল)

--ওকে ডিয়ার বর।(বর্ষা)


--তারপরে আমি আর কিছু না বলে দাড়িয়ে থাকলাম। 

৫ মিনিট। ৩০ মিনিট। ১ ঘন্টা ।২ ঘন্টা। দাড়িয়ে থাকতে থাকতে পা ব্যথা হয়ে গেল। বর্ষা । (নীল)

--জি।(বর্ষা)

--বাঁধন খুলে দেও না প্লিজ। (নীল)

--আগে করবেন নাকি বলেন।(বর্ষা)

--😱।(নীল)

--ওরে আপনি যেটা ভাবছেন সেটা না। আমাকে কোলে তুলে নেন,(বর্ষা)

--আচ্ছা নিচ্ছি বাঁধন খুলে দাও।(নীল)

--ওকে ।(বর্ষা)

--তারপরে বর্ষাকে কোলে তুলে নিয়ে নিচে নামতে লাগলাম। কিন্তু এমন ভাবে বাঁশ দিবে সেটা ভাবতেও পারিনি।

বর্ষা কে কোলে নিয়ে নিচে নামচ্ছিলাম হঠাৎ আন্টির সাথে দেখা। আমি আন্টিকে দেখে বর্ষাকে ফেলে দিয়ে দৌড়ে ইমনের রুমে চলে গেলাম ।

আস্তে ফেলেছিলাম তাই বর্ষার বেশি লাগেনি। আমি এসে রুমে বসে আছি। কিছুক্ষণ পর ইমন এসে বললো....

--ওই নীল চল । বাবা খাওয়ার জন্য ডাকছে ।(ইমন)

--দোস্ত আমি যাবো না 😔😔!(নীল)

--কেনো রে ?(ইমন)

--এমনি ভালো লাগছে  না।(নীল)

--ওই সালা চল (ইমন)

--বলেই ইমন আমাকে টেনে নিয়ে গেল।

ডাইনিং রুমে ‌গিয়ে দেখলাম সবাই মিলে বসে আছে ।আমি আর ইমন একসাথে বসলাম । হৃদয় আর সজীব আমার পাশেই বসে আছে। দেখলাম বর্ষা আমার সামনের চেয়ারে বসে আছে। আন্টি খাবার দিচ্ছে । আন্টি আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দিলো। আমি তো লজ্জায় শেষ ।

আন্টি আমার লজ্জা পাওয়া দেখে আর তাকালো না। যাইহোক তারপরে খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। বর্ষার এমন দুষ্টুমিতে দিন চলে যাচ্ছিল।  একদিন সকালে ঘুমাচ্ছিলাম। তখন আমার ফোনটা বেজে উঠলো। ফোন হাতে নিয়ে দেখলাম ইমন ফোন করেছে। হুম ইমন বল!(নীল)

--এখনি রেডি হয়ে নে  মুক্তাগাছায় যেতে হবে।(ইমন)

--কোনো?(নীল)

--শশুর বাড়ী!(ইমন)

--তুই তোর শশুর বাড়ীতে যাবি তো আমি কি করবো?(নীল)

--আমার সাথে চল।(ইমন)

--না দোস্ত যাচ্ছি না তুই যা !(নীল)

--ওহ আচ্ছা তুই থাক আমি, নিলা,আর  বর্ষা ঘুরে আসি।(ইমন)

--ওই দোস্ত আমার তো মনেই ছিল না। মা তো আমাকেও বাসায় যেতে বলছিল!(নীল)

--হিহিহি,, আচ্ছা রেডি হয়ে নে।(ইমন)

--তারপরে রেডি হয়ে বের হলাম। বিকেলের মধ্যেই বাসায় পৌছে গেলাম।  রাতে খাওয়া দাওয়া শেষ করে ভালো লাগছিল না তাই ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি..

পরবর্তি পর্বঃ- বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ১০

Post a Comment

أحدث أقدم