--কি হয়েছে মা?এতো সকালে ডাকছো কেনো?(নীল)
--আজ তোর ভাইয়ার বিয়ে দুপুরে যেতে হবে আমাদের !( মা)
--তুমি আমার সাথে এতো সকালে ফাজলামো করার জন্য !আমাকে ঘুম থেকে তুললে?(নীল)
--সত্যি বলছি!(মা)
--কি?কার সাথে বিয়ে আর হবু ভাবির বাসা কোথায়?(আমি অবাক হয়ে)
--ভোলা !এখন ওঠ সব কিছু ঠিকঠাক করে নে!(মা)
--হুম সেটা তো নিবো আগে ভাইয়া কোথায় সেটা বলো?(মা)
--তার রুমে আছে!বলেই মা চলে গেলো! আর আমি ভাইয়ার রুমে গেলাম!রুমে গিয়ে দেখলাম মহারাজ এখনো ঘুমাচ্ছে !মেজাজটা আরো গরম হয়ে গেলো!যার বিয়ে তাকেই এখনো ডাকলো না আর আমাকে নিয়ে টানাটানি! টেবিলের ওপরে পানির জগ দেখলাম!সেটা হাতে নিয়ে মারলাম তার মুখ বরাবর! আর ভাইয়া তো ভয়ে লাফ দিয়ে ওঠলো!
--কে ভূত,ভূত!(ভাইয়া)
--ভূত না!ভাইয়া আমি!
--কি হলো একটা?(ভাইয়া)
--শাস্তি দিলাম!(নীল)
--কিন্তু কিসের শাস্তি?(ভাইয়া)
--ইসস মনে হচ্ছে তুই কিছুই যানিস না?(নীল)
--আরে বেটা না বললে কিভাবে জানবো?(ভাইয়া)
--তার মানে সত্যি তুই কিছুই জানিস না?(নীল)
--আরে মেরা ভাই আমি কিছুই জানি না!কি হয়েছে বল?(ভাইয়া)
--হাহাহাহহাহাহা!(নীল)
--কিরে তুই হাসছিস কেনো?(ভাইয়া)
--আজ তোর বাশের দিন!(নীল)
--মানে?(ভাইয়া)
--মানে আজ তোর বিয়ে!(নীল)
--What?কি বলিস এইসব!আমার বিয়ে মানে?(ভাইয়া)
--বিয়ে মানে বুঝো না দুদু খাও!(নীল)
--দেখ ভাই সকাল সকাল এমন ফাজলামো করিস না!প্লিজ!(ভাইয়া)
--আচ্ছা আমার কথা তোর ফাজলামো মনে হচ্ছে!ওকে তাহলে থাক আমি আর কি বলবো!(নীল)
--এই নীল শোন শোন?(ভাইয়া)
--হুম বলো তাড়াতাড়ি আমার কাজ আছে!(নীল)
--সত্যি আমার বিয়ে?(ভাইয়া)
--আচ্ছা তুই কি আমার বিয়াই লাগছ যে তোর সাথে আমি মজা করবো?(নীল)
--কিন্তু কার সাথে বিয়ে আর মেয়ের বাসা কোথায়?(ভাইয়া)
--মার বান্ধবীর মেয়ে!বাসা ভোলা!(নীল)
--সেটা বুঝলাম !কিন্তু হঠাৎ বিয়ে মানে কি?সেটা বুঝলাম না!(ভাইয়া)
--আচ্ছা তুমি বাবার কাছে থেকে শুনে আসো!(নীল)
--না,না!তার দরকার নেই!(ভাইয়া ভয়ে ভয়ে বললো)
--ভাইয়ার কথা শুনে আমি হাসতে লাগলাম কারন!আমি জানি ভাইয়া বাবার সামনে গিয়ে এই কথা কখনোই বলতে পারবে না!কি হলো ভাইয়া তুই বিয়েতে রাজি না!আচ্ছা আমি বাবাকে গিয়ে বলি যে তুই বিয়ে করবি না!(নীল)
--না,না!আমি বিয়ে করবো তো!(ভাইয়া)
--এইতো লক্ষি ছেলের মতো কথা!আচ্ছা তুই ফ্রেস হয়ে বাইরে আয় আমি চলে গেলাম!(নীল)
--হুম!(ভাইয়া)
--তারপরে আমি আমার রুমে চলে আসলাম!আমার রুমে এসে হৃদয়কে ডাকলাম!ইমন আর সজীব কেউ ডাকলাম!
--কিরে বন্ধু তোর বাসা এসেছি বলে কি একটু শান্তি তেও ঘুমাতে দিবি না?(সজীব)
--আরে সালা ঘুম বাদ দে আগে কাহীনি শোন!(নীল)
--কি কাহীনি ভাই?(হৃদয়)
--তোরা তো আমার ছোট বোনের বিয়ে খেতে এসেছিলি কিন্তু আরো একটা বিয়ে দাওয়াত পেয়ে গেলি!(নীল)
--মানে?(হৃদয়)
--মানে আজ আমার ভাইয়ার বিয়ে!(নীল)
--কি বলিস সত্যি?(হৃদয়)
--হুম রে!(নীল)
--তাহলে তো অনেক মজা হবে !(ইমন)
--সেটা আর বলতে! তোরা তাড়াতাড়ি ফ্রেস হয়ে নিচে আয়!বলে আমি নিলার রুমে গেলাম!
--কিরে ভাইয়া তুই এতো সকালে ?(নিলা)
--হুম তোদের একটা সারপ্রাইজ দিবো!(নীল)
--কি সারপ্রাইজ ভাইয়া?(নিলা)
--আজ ভাইয়ার বিয়ে!(নীল)
--কি বলিস সত্যি ?(নিলা)
--হুম!আমি যখন এই কথা বললাম!তখন বর্ষা আমাদের থেকে একটু দুরে ছিলো তাই আমাদের কথা শুনতে পেলো না! আচ্ছা রেডি হয়ে আয় তোরা আমার অনেক কাজ আছে!(নীল)
--ওকে।(নিলা)
--তারপরে আমি নাস্তা করতে গেলাম!
সেখানে সবাই বসে ছিলো ভাইয়া আমার পাশেই বসে ছিল!
ভাইয়া তুমি বলো বাবাকে, না আমি বলবো?(আমি ভাইয়াকে আস্তে করে বললাম)
--কি বলবি?(ভাইয়া)
--যে তুমি বিয়ে করবে না!(নীল)
--দেখ ভাই এইখানে অনেক মানুষ আছে এদের সামনে আমাকে অপমান করিস না প্লিজ!(ভাইয়া)
--ওকে তবে একটা শর্তে!(নীল)
--কি শর্তে বল?(ভাইয়া)
--নগদ ১০,০০০ টাকা দিতে হবে!(নীল)
--কি এতো টাকা কই পাবো!আমি দিতে পারবো না!(ভাইয়া)
--আচ্ছা আমিও মুখ বন্ধ রাখতে পারলাম না!বাবা..(নীল)
--ওই ওই চুপ চুপ ভাই আমি তোকে ১০,০০০ হাজার টাকায় দিচ্ছি প্লিজ বলিস না!(ভাইয়া)
--সত্যি দিবে তো?(নীল)
--হুম দিবো!(ভাইয়া)
--কি হল নীল কিছু বলবি?(বাবা)
--হুম!(নীল)
--ভাইয়ার দিকে তাকিয়ে দেখলাম ভাইয়ার মুখ শুকিয়ে গেছে!আর করুন দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে!
--কি কথা বল?(বাবা)
--বলছিলাম আমরা রওনা দিবো কখন?(নীল)
--৩টার সময়!(বাবা)
--ওহ কিন্তু ভাইয়ার তো কিছুই কেনা হয়নি!(নীল)
--কনের সব কিনা হয়েছে!শুধু তোর ভাইয়ার বাদে!নাস্তা শেষ করে তুই যা !আর যা লাগে সবকিছু কিনে নিয়ে আয়!(বাবা)
--জি !(নীল)
--তারপরে আমি নাস্তা শেষ করে রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে মার্কেটে যাওয়ার জন্য রেডি হলাম!
--আচ্ছা তোরা কি আমার সাথে যাবি? না,বাসায় থাকবি?(নীল)
--না দোস্ত আমরা যাবো না!(সজীব)
--আচ্ছা হৃদয় তুই চল!(নীল)
--সরি রে দোস্ত,জান্নাত বারবার ভিডিও কল করতেছে,,তুই ইমনকে নিয়ে যা!(হৃদয়)
--তারপরে আমি ইমনকে সাথে নিয়ে মার্কেটে চলে আসলাম! মার্কেট থেকে ভাইয়ার জন্য সেরোয়ানী কিনলাম আর আমার জন্য একটা নিল রং এর পান্জাবি কিনলাম!তারপরে আরো কিছু কেনাকাটা করে ইমনকে বললাম!...
--কিরে দোস্ত তুই কিছু নিবি না?(নীল)
--না!তবে!(ইমন)
--তবে কী?(নীল)
--বর্ষার জন্য একটা শাড়ি নিবো তাই ভাবছিলাম!(ইমন)
--আরে সালা এত ভাবার কি আছে নিয়ে নে!(নীল)
--কিন্তু সমস্যা আছে!(ইমন)
--কি সমস্যা ?(অবাক হয়ে আমি)
--আমি তেমন পছন্দের রং চিনি না!(ইমন)
--হাহাহাহাহা!আচ্ছা এইটা কোনো সমস্যা নয়!চল আমার সাথে!(নীল)
তারপরে আমি আর ইমন শাড়ির দোকানে আসলাম! তারপরে শাড়ি দেখতে দেখতে হঠাৎ একটা শাড়ির ওপরে আমার চোখ আটকিয়ে গেল!
অনেক সুন্দর একটা শাড়ি!শাড়ির রংটা কালো !তাই সেটাই নিয়ে নিলাম!
তারপরে আমরা কেনাকাটা শেষ করে বাসায় চলে আসলাম!আমি ভাইয়ার রুমে গেলাম!
--এইযে আমার হবু কোরবানী ভাইয়া!(নীল)
--হবু কুরবানী মানে?(ভাইয়া অবাক হয়ে)
--মানে আজ তোর বিয়ে !আর বিয়ের পর তো বর বউয়ের কাছে কেরবানির পশু হয়ে যায়!(নীল)
--দেখলাম ভাইয়ার মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে!
--ইসস ইসস ভাইয়া কি হলো এইটা?(নীল)
--কোনটা?(ভাইয়া)
--ভাবির কথা শুনেই কেমন যেনো লজ্জা পাচ্ছিস!(নীল)
--কই না তো!(ভাইয়া)
--থাক আর বলা লাগবে না!আচ্ছা ভাবিকে দেখেছিস ভাইয়া?(নীল)
--হুম একটু, কিছুক্ষন আগে মা দেখালো!(ভাইয়া)
--কি মা তোকে দেখালো আর আমাকে দেখালো না কেন?(নীল)
--সেটা আমি কিভাবে বলবো!(ভাইয়া)
--আচ্ছা ভাবির ছবি তোর কাছে আছে ?(নীল)
--হুম!(ভাইয়া)
--তো তাড়াতাড়ি দে!(নীল)
--তারপরে ভাইয়া ছবিটা নিয়ে আসলো! ছবি দেখা শেষে ভাইয়াকে বললাম! ভাইয়া আমাকে একটা সাহয্য করবি?প্লিজ ভাইয়া!(নীল)
--কি সাহয্য?(ভাইয়া)
--এই মেয়েটাকে বিয়ে করিস না!(নীল)
--কেনো?(ভাইয়া)
--এই মেয়েটাকে আমি ভালোবাসি!(নীল)
--কি?কবে থেকে?(ভাইয়া)
--এই যে এখন থেকে!(নীল)
--মানে?(ভাইয়া)
--মানে ভাবির ছবিটা দেখে আমি ক্রাশ খেয়েছি!(নীল)
--না!ভাই আমার, তুই এমন কাজ করিস না !আমি তোর বড় ভাইয়া না?বড় ভাইয়ের সাথে এমন করতে পারবি?(ভাইয়া)
--ভাইয়ার কথা শুনে আমি হাসতে লাগলাম! হাহাহাহাহাহা!(নীল)
--তুই হাসছিস কেনো?(ভাইয়া)
--আরে বোকা তোর সাথে তো আমি মজা করছিলাম!(নীল)
--সত্যি?(ভাইয়া)
--হুম!তবে ভাবিটা দেখতে খুব সুন্দর!তোর সাথে ভালোই মানাবে!(নীল)
--সত্যি!(মুচকি হাসি দিয়ে ভাইয়া)
--থাক এতো ঢং দেখানো লাগবে না !(নীল)
--আচ্ছা ভাইয়া তুই রেডি হয়ে নে !আর তোর পান্জাবি আছে না?(নীল)
--হুম আছে তো কেনো?(ভাইয়া)
--Good !তাহলে তুই পান্জাবি পরবি আর আমি তোর সেরায়নানি পরবো!(নীল)
--কেনো?(ভাইয়া)
--উফফফ এতো কেনো কেনো করিস না তো ?(নীল)
--হুম!(ভাইয়া)
--তাহলে আর কোনো কথা নয়!(আমি)
--আচ্ছা!(ভাইয়া)
--তারপরে আমি আমার রুমে চলে এসে গোসল করতে গেলাম! আর এইদিকে ইমন বর্ষার কাছে গেলো!
--ভাইয়া তোমার হাতে ওইটা কী?(বর্ষা)
--তোর জন্য শাড়ি কিনে আনলাম!(ইমন)
--কিন্তু আমি তো শাড়ি পরতে পারি না!(বর্ষা)
--হুম সেটা তো জানি!তবে আজ বিয়েতে এই শাড়িটা পরে যাবি! নীলের সাথে গিয়ে তার পছন্দেই কিনে আনলাম!(ইমন)
--নীলের কথা শুনে বর্ষা আর কিছু বললো না!.(হৃদয়)
--তবে! আজ কার বিয়ে ভাইয়া?(বর্ষা)
--সেটা গেলেই বুঝতে পারবি এখন রেডি হয়ে নে!(ইমন)
--আচ্ছা!(বর্ষা)
--তারপরে ইমন আমার রুমে আসলো!
--নীল ওই নীল কই তুই(ইমন)
--আমি তো বাথরুমের ভিতরে কিছু বলবি?(নীল)
--বাকিগুলো কই?(ইমন)
--পাশের রুমে সবাই রেডি হচ্ছে তুই ও রেডি হয়ে নে!(নীল)
--দোস্ত আমার শরীরটা ভালো লাগছে না!আমি যাচ্ছি না তোরা ঘুরে আয়!(ইমন)
--ওই কি বললি সালা!বলে আমি বাথরুমের মধ্যে থেকে বের হয়ে আসলাম!
কি বললি আবার বল!(নীল)
--না মানে কিছু না তো!(ইমন ভয়ে ভয়ে বললো)
--হুম তুই রেডি হয়ে নে!(নীল)
--আমি কথা বলছিলাম হঠাৎ বর্ষা কোথায় থেকে এসে ভাইয়া ভাইয়া করে ডাকছিলো! আর আমার রুমের মধ্যে ঢুকে আমাকে দেখে দৌড়ে পালিয়ে গেলো! কিছুই তো বুঝলাম না!
--ওই তোর কি লজ্জা বলতে কিছুই নেই?(ইমন)
--কেনো?(নীল)
নিচে তাকা!(ইমন)
--তারপরে আমি নিচে তাকিয়ে দেখলাম আমার পরনে শুধু টাওয়াল ছাড়া অন্য কিছু নেই!আমি তাড়াতাড়ি বাথরুমের মধ্যে ঢুকে গেলাম!.তারপরে ফ্রেস হয়ে ভাইয়ার সেরোয়ানিটা পরে নিচে আসলাম!
--এই এই তুই ভাইয়ার সেরোয়ানি পরেছিস কেনো?(মা)
--তো কি হয়েছে?(নীল)
--বিয়েটা তোর ভাইয়ার !তোর না!(মা)
--হুম,সেই জন্যই তো পরছে! ভাইয়া একটা কিউট বউ পেয়ে যাবে !আর আমি কি পাবো ?তাই আগে থেকেই বিয়ের সাধটা নিয়ে নিচ্ছি! আমার কথা শুনে সবাই হাসতে লাগলো!
কিছুক্ষন পরে আমরা যেখানে কথা বলছিলাম সেইখানে…
আরও পড়ুনঃ- বন্ধুর বোন যখন বউ পর্ব ০৬


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন