![]() |
| রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস |
রাত বারোটার সময় প্রিয় মানুষটাকে মেসেজ
দিলাম।
"ফ্রী থাকলে ফোন দিও।"
দশ সেকেন্ড পরেই ফোনের স্ক্রিনে প্রিয় নামটা কলার আইডিতে ভেসে উঠল।
"হ্যালো! আয়াত, একটু তাড়াতাড়ি বল, বাইরের একজন মেম্বারের সাথে অনলাইনে একটা মিটিং আছে!"
"ও আচ্ছা, তাহলে পরে কথা বলি?"
"না, না, দেড় ঘন্টার মিটিং, কি বলবে বল না!"
"তেমন কিছু না", একটু ইতঃস্তত করে বললাম,
" তোমার গলায় একটা গান শুনতে ইচ্ছে করছিল খুব!"
"উমম.. কোন গান?"রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
"তুমি বিনে আকুল পরাণ.."
সে একটু দম নিয়ে সুরেলা গলায় টান দিল,
"তুমি বিনে আকুল পরাণ..
তুমি বিনে আকুল পরাণ,
থাকতে চায় না ঘরে রে,
সোনা বন্ধু ভুইলো না আমারে..
আমি এই মিনতি করি রে.."
আমি মন্ত্রমুগ্ধের মত শুনলাম।
ওর নাম ইমন।
ওর বাবা ইমন রাগ এর সাথা মিলিয়ে ওর নাম রেখেছিলেন।
সৃষ্টিকর্তা যেন ওনার ইচ্ছে পূরণের জন্যই জগতের সমস্ত মাধুর্য এই মানুষটার কন্ঠে ঢেলে দিয়েছেন।
প্রতিবার ওর গান শোনার সময় আমার চোখে অকারণেই পানি চলে আসে।
বুকের ভেতরটাতে চিনচিনে একটা ব্যথা হয়।
একটা মানুষের কন্ঠে এত দরদ কিভাবে থাকতে পারে!
দ্রুত তালে গান শেষ করে ইমন ফোনের ওপাশে অপরাধী গলায় বলল, "সরি, কাল তাহলে আবার কথা হবে?"
অন্যদিন হলে একটু টুকরো মন খারাপ মনটাকে মেঘলা করে দিত।
আজ সত্যিই খুশিমনে আমি সম্মতি জানিয়ে ফোন রেখে দিলাম। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
কিছু কিছু কথোপকথন এত মিষ্টি হয়,
ইচ্ছে করে সেগুলো যদি কোন কাঁচের বাক্সে তুলে রাখতে পারতাম!
যাতে সেই স্মৃতিটুকুতে কেউ কখনো কোন আঁচড়ও কাটতে না পারে!
এই মিনিট পাঁচেকের কথোপকথনে ভালবাসার স্বর্গীয় একটা স্পর্শ ছিল।
এই স্বর্গীয় অনুভূতির সাথে আমার প্রথম পরিচয় বছর পাঁচেক আগে বইমেলায়।
আমাদের ছোট শহরে বইমেলার আয়োজনটা যেন উৎসবের মত।
সেই বইমেলায় গিয়ে প্রথম ওকে চেনা, ওর গানে মাতাল হওয়া।
আকুল কণ্ঠে গাওয়া সেই "সুয়াচান পাখি" গানটা শুনতে শুনতে কখন যে চোখ থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়েছে, বুঝতে পারিনি!
ফেরার পথে কেমন এক মোহগ্রস্থের মত শুধু ওর কথাই ভেবে গেছি সারাটা পথ।
তারপর আরেক ফাল্গুনে ওর সাথে পরিচয় হল।
দেখলাম, মানুষটার কণ্ঠের মত মনের ভেতরটাও মসৃণ, স্বচ্ছ।
বাড়ির সবাই প্রথমে একটু নিমরাজিই ছিল বলা চলে।
শিল্পী মানুষ, সংসারী হবে কি?
কিন্তু আমি তো সংসারী কাউকে চাইনি।
আমি আমার বাউলকে চেয়েছি।
যে হবে বিশ্বসংসারের।
যার প্রতিটি গানের দরদে মিশে থাকব আমি।
আমি হব তার তানপুরার সুর,
সকাল বেলার আহিরভাঁয়রো।
তখনো আমার পড়াশোনা শেষ হয়নি।
ও চাকরি খুঁজছে।
দুই পরিবারের সম্মতিতেই আমাদের বিয়েটা হয়ে গেল।
দুইজন দুই শহরে থাকতাম।রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
মাঝখানে যোজন যোজন দূরত্ব।
মাস দুয়েক পর পর যখন বাড়ি যেতাম, কয়েক মূহুর্তের জন্য চেনা মানুষটাকেও কেমন অচেনা লাগত।
তারপর আবার একটু একটু করে যেন নতুন করে তার প্রেমে পড়তাম!
খুনসুটি, মান অভিমানগুলো মিলিয়ে লিখে চলতাম
দুজন খুব সাধারণ মানুষের অসাধারণ এক রূপকথা।
আজ প্রায় মাসখানেক হল, আমি ও বাড়ি থেকে মায়ের এখানে এসেছি।
শরীরটা কিছুদিন ধরে খারাপ ছিল।
ওখানে দেখাশোনার জন্য তেমন কেউ নেই, তাই ইমনই জোর করে আমাকে এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে ওকে বলছি, যেন আমাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।
কিন্তু ব্যস্ততার অজুহাতে দুষ্টুটা আসছে না।
আজ কিছুটা অভিমানী হয়েই মেসেজটা দিয়েছিলাম।
কিন্তু ওর কন্ঠে গান শুনলে আমি রাগ ধরে রাখতে পারি না।
এক মূহুর্তে মনের ভেতর জমে থাকা সব মেঘ যেন বৃষ্টি হয়ে ঝরে যায়!
আর এই যে, শত ব্যস্ততার মাঝেও মানুষটা আমার মাঝরাতের পাগলামি আবদার মিটিয়ে তবে নিজের কাজে গেছে, ভাবলেই মনটা অদ্ভুত ভাললাগায় ভরে উঠছে।
সবাই বলে, সময়ের সাথে সাথে ভালবাসা কমে যায়।
ভালবাসা আসলে কখনো কমে যায় না,
সময়ের সাথে সাথে শুধু তার রঙটা বদলায় মাত্র।
পূর্ণিমা রাত।
বারান্দায় জোৎস্নার আলো এসে পড়েছে।
আমি মোবাইলে ঘড়ি দেখলাম, দেড়টা বাজে।
ইমনকে ফোন দিলাম।
ফোনের ওপাশে ইমনের বিস্মিত স্বর শোনা গেল।
"আয়াত, ঘুমাওনি?"
"উহু।"
"কি ব্যাপার, বল তো? মন খারাপ লাগছে?"
"তুমি কাল একবার এসো না প্লিজ, তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে!"
"কিন্তু.."
"প্লিজ এসো, তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।
দেখা হলে বলব।"
"কি মুশকিল! এখনি বলো না।"
"উহু, তুমি কাল এসো, তারপর।"
"উফ, তুমি যে কী নাছোড়বান্দা, আয়াত!
আচ্ছা, আমি দেখছি। এখন রাখি?
তুমিও ঘুমাও, অনেক রাত হয়েছে।"
"এক মিনিট!"
"হুম, বলো।"
"কাল আমার সাথে আরো একজন তোমার অপেক্ষায় থাকবে।"
ইমন একটু বিব্রত কন্ঠে বলল, "না না, বাড়িতে আর কাউকে আগেই বোলো না, আয়োজন করে বসে থাকবে। আমি যদি না আসতে পারি?" রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস
"উহু, আর কাউকে বলব না।
আমরাই অপেক্ষায় থাকব।"
"আমরা মানে.." ইমনের কন্ঠে দ্বিধা।
আমি লাজুকস্বরে বললাম, "ভেবেছিলাম দেখা হলে বলব। কিন্তু এখনি বলতে ইচ্ছে করছে।
আমি এখন আর একা নই।
আজ বিকেলেই সনোগ্রাফি রিপোর্ট পেয়েছি।
এখন থেকে তোমার জন্য আমরা দুজন মিলে অপেক্ষা করব।"
ফোনের ওপাশটা হঠাৎ করে নীরব হয়ে গেল।
আমি নিচুস্বরে ডাকলাম, "এই! আছ?"
"আমি আসছি।"
"আসছি মানে!"
"আসছি মানে, আসছি!
আমি এক্ষুনি আসছি!"
"সমাপ্ত"

إرسال تعليق