![]() |
| ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস। ভালোবাসার গল্প ছবি |
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস।
এক.-চাচা,এই বাড়িটি কি ভাড়া দেয়া হবে?
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রোদে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন।পত্রিকায় আজকাল ভালো কোনো খবর চোখে পড়ে না।দুর্নীতি-খুনে ভরা পত্রিকার পাতাগুলো।বেশ বিরক্ত ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।বিরক্ত মুখে পাতা উল্টাতেই কারো কন্ঠ শুনতে পেলেন তিনি।পত্রিকা মুখের উপর থেকে সরাতেই দেখতে পেলেন একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে।চোখে চশমা পড়া।গায়ে নীল রঙের পান্জাবি।বেশ উসখুস করছে আশপাশে তাকিয়ে।ইয়াজউদ্দিন আহমেদ ছেলেটার এমন স্বভাবে বেশ বিরক্ত।এখনকার ছেলে-ছোখরা সুন্দর করে দাঁড়াবে।এমনভাবে মুখ নিঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে যেন মহা অন্যায় করে ফেলেছে।এখন লজ্জায় মুখ তুলে তাকাতে পারছে না।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বেশ নড়েচড়ে বসলেন।পত্রিকা ভাজ করে হাঁটুর উপর রেখে বেশ গম্ভীর হয়ে বললেন,কি নাম তোমার?
ছেলেটি একবার পেছনে তাকালো।কাঁধে ঝুলে থাকা ব্যাগ ডান হাতে টেনে একটু পেছনে সরে গেল।বলল,আমার নাম কাব্য।
তুমি আমার ছেলের বয়সী।তাই তোমাকে তুমি করেই বলি।তা তুমি কি কোনো অপরাধ করেছো,কাব্য?জিজ্ঞেস করলেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
-না তো চাচা।অপরাধ করবো কেন?আমি তো এই নিয়ে মাত্র দিত্বীয়বার ঢাকায় পা রাখলাম,ভয়ে ভয়ে বলল কাব্য।
-তাহলে তুমি ঢাকার ছেলে নয়।তাই তো বলি,এখনকার ছেলেরা তো এমন হওয়ার কথা নয়।তুমি যেভাবে উসখুস করছো,একবার সামনে আসছো,আবার পেছনে সরে কথা বলছো,তাই মনে হচ্ছে তুমি বিরাট কোনো অপরাধ করে আমার সামনে দাঁড়াতে লজ্জা পাচ্ছো,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
-না চাচা,আসলে তেমন কিছু নয়।আমি শুনেছি,ঢাকার বাড়িওয়ালারা খুব কঠোর হয়।আমার মা বারবার বলে দিয়েছে,ওদের সাথে যেন মাথা নিঁচু করে কথা বলি,চুলে হাত দিয়ে বলল কাব্য।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বেশ জোরে হেসে উঠলেন।হাসতে হাসতে হাঁটু থেকে পত্রিকা নিচে পড়ে গেল।তিনি সেদিকে খেয়াল করলেন বলে মনে হয় না।হাসি থামিয়ে বলল,তুমি তোমার মায়ের বেশ বাধ্য সন্তান।শুনে খুব ভালো লাগলো।তবে তোমার ধারনা সম্পূর্ণ ভুল।এই ঢাকা শহর হলো মানুষের স্বপ্ন বোনার জাদুর কাঠি।অনেকে ভাগ্যের চাঁকা খুলতে এই শহরে পাড়ি ঝমায়।কেউ চাঁকা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে পারে,কেউ বা রাস্তা পার হতে গিয়ে গাড়ির চাকায় মরে।অন্য শহরের তুলনায় এখানে মানুষের আনাগোনা বেশি বিধায় একটু হিসাব করে চলতে হয়।এখানে হিসাব করে না চললে তুমি যে টিকতে পারবা না,বাবা,হাসতে হাসতে বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
কাব্য কিছু বলল না।চুপ করে তাকিয়ে রইল ইয়াজউদ্দিন আহমেদের মুখের দিকে।মাঝেমাঝে মুচকি হেসে ওনার হাসির জবাব দিচ্ছে কাব্য।
-তা তুমি ঢাকায় কেন?পড়াশুনার জন্য এসেছো বুঝি?জিজ্ঞেস করলেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
-চাচা,আমি ঢাকা মেডিকেলে চান্স পেয়েছি।কিছুদিন পর থেকে ক্লাস শুরু হবে।গ্রামে থেকে পড়াশুনা করেছি তো।তাই শহরের হাবভাব এখনো বুঝে উঠতে পারিনি,বলল কাব্য।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ পেছনে ফিরে বেশ হাক ছেড়ে বললেন,এই ফুলি,বারান্দায় একটা চেয়ার দিয়ে যা তো।আর দু'কাপ চা দিয়ে যা।সঙ্গে মিষ্টি টোস্ট বিস্কুট।
কাব্য চেয়ারে বসে আছে।কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ হাঁটুতে রেখে ইয়াজউদ্দিন সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছে।কাব্য এখনও বুঝে উঠতে পারছে না,সে কি এই বাড়িটি ভাড়া পাবে কিনা?আর যদি ভাড়া নাইবা দিবে,তাহলে চা-নাস্তা দিয়ে অ্যাপায়ন না করে সরাসরি বলে দিলেই পারে।সময় নষ্ট না করে অন্য বাসা খুঁজতে বের হতে পারে সে।হাতে সময় আছে মাত্র দুদিন।
-কি ভাবছো কাব্য,তোমাকে এখনও কেন বাড়ি ভাড়া নিয়ে কিছু বলছি না।চা-নাস্তা নিয়ে বসে কথা বলছি কেন?চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
কাব্য বেশ চমকে উঠল।লোকটি কি মনের কথা বুঝতে পারে?এখন থেকে তাহলে বেশ সাবধানে ভাবতে হবে।বলা তো যায় না,আবার কি বিপদ ঘাড়ে এসে পড়বে।কাব্য বলল,জ্বি চাচা,আসলে আমি এখনও দ্বিধায় ভুগছি,আপনি ভাড়া দিবেন কিনা?
ইয়াজউদ্দিন সাহেব মুচকি হাসলেন।চায়ের কাপের শেষ চুমুক দিয়ে কাপ ট্রে তে রেখে দিলেন।সত্যি বলতে কি,আমি আসলে খুব একা।আল্লাহপাকের রহমতে জমি-পয়সা কোনো কিছুরই কমতি নেই।আমার দুই মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায়।সিডনিতে স্বামী-সংসার নিয়ে ব্যস্ত আছে।বছরে একবার দুজনে দেখা করতে আসে।তখন এই বাড়ি প্রাণ ফিরে পায়।নাতি-নাতনিদের নিয়ে সময় দিব্যি চলে যায়।সবাই চলে যাওয়ার পর আবার যেন চারপাশ নিরব হয়ে যায়।আমার দেখাশোনার জন্য ফুলিকে গ্রাম থেকে নিয়ে আসলাম।তবে ওর সাথে কথা বলে আর কতক্ষণ!তাই এই একাকীত্ব থেকে বাঁচার জন্য একটা পথ খুঁজে বের করি।বাড়ি ভাড়ার সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে বাইরে রেখে অপেক্ষা করি।বাসা ভাড়ার জন্য আসলে তাদের সাথে আড্ডা দিয়ে কিছুটা সময় পার করি।প্রতিদিন ভিন্নমতের মানুষের সাথে পরিচিত হই।একটা কথা হলো,এই শহরে মানুষের অভাব নেই।কিন্তু ভালো বাসার বড় অভাব।তাই ভাড়ার ছলে আড্ডা দেয়ার মানুষের অভাব হয়না।সত্যি বলতে,মানুষ সবচেয়ে একাকীত্ব ভোগ করে বৃদ্ধ বয়সে।কথা বলার জন্য সঙ্গী খুঁজে পায় না।একজন কথা বলার মানুষ পেলে বৃদ্ধ বয়সে খুব খুশি হয়।
ইয়াজউদ্দিন সাহেবের কথা শুনে কাব্যের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল।যতটুকু আশা ছিল তা আর রইল না।তার মানে এই বাড়ি ভাড়া দেয়া হয়না।শুধুমাত্র কথা বলার জন্য বৃদ্ধ লোকটি সাইনবোর্ড ঝুঁলিয়ে রাখে।পুরো সময়টাই নষ্ট।
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস।
ইয়াজউদ্দিন সাহেব কাব্যের অবস্থা দেখে বুঝতে পারলো,সে আশা একদম ছেড়ে দিয়েছে।তিনি কাব্যের হাতে হাত রাখলেন।বললেন,আমি বাড়ি ভাড়া দেই না এটা যেমন সত্য,তবে তোমাকে বাসাটা আমি ভাড়া দিবো এটাও সত্য।তোমার সাথে কথা বলে বেশ ভালো লাগল।মায়ের বাধ্য ছেলে,এটা আমায় মুগ্ধ করেছে।তবে তোমার জন্য ছাদের চিলেকোঠায় জায়গা হবে।সেখানে তোমাকে মানিয়ে নিতে হবে।ভাড়া দিতে হবে না।বাকিটুকু তোমার উপর।কথাটা শুনে কাব্যের মুখে হাসি ফুটে উঠল।ইয়াজউদ্দিন সাহেবের দিকে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে পা ছুঁয়ে সালাম করল।
ইয়াজউদ্দিন সাহেব যেন আবার মুগ্ধ হলো।একটু গম্ভীর হয়ে বলল,তবে এটা মনে রাখবে,আমি কিন্তু খুবই কঠোর।এখন চা শেষ করে বাসায় উঠে পড়ো বিকেলের মধ্যে।
কাব্য ইয়াজউদ্দিন সাহেবের কথা শুনে হেসে ফেলল।
সূর্য পশ্চিম আকাশের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়ে আছে।এই সময়ে সূর্য মামাকে কেন যেন খুব অসহায় মনে হয়।যেন সে নিজের অস্ত যাওয়ার প্রহর গুনছে নিঃশব্দে।কাব্য ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে।হাতে চায়ের কাপ।সকাল থেকে টুকিটাকি জিনিসপত্র তিনতলায় আনতে আনতে বেশ হাঁপিয়ে উঠেছে সে।ঢাকায় আসার আগে রান্নাঘরের জিনিসপত্র একটা আলাদা ব্যাগে রেখেছিল বলে দুপুরে ভাত-ডাল রাঁধতে তেমন সমস্যা হয়নি।পাড়ার দোকান থেকে ডিন কিনে নিয়ে এসেছিল।ব্যাচেলর লাইফে এর চেয়ে অমৃত আর হতে পারে না।এখন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে একটু হালকা করছে নিজেকে।কাব্য মনে করে,বিকেলবেলায় মানুষ না ঘুমিয়ে এই সুন্দর আকাশ দেখতে পারে।পাখিদের কলকাকলি দেখে সময় কাটাতে পারে।বিকেলবেলায় ঘুম থেকে উঠে আশপাশ কেমন যেন রঙহীন মনে হয়।মনে হয়,কেউ যেন মারা গেছে এমন একটা ভাব।চায়ের কাপে শেষ চুমুক দিয়ে কাপখানি রেলিং এর এক প্রান্তে রেখে দিল।হাতে একটি কবিতার বই নিয়ে পৃষ্টা উল্টাতে শুরু করল।এই বইটি কাব্যের খুব প্রিয় একটি বই।কাব্যের মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পড়াশুনা করতো।কবিতার প্রতি ছিল ভীষণ ঝোঁক।সারাক্ষন মুখে কবিতার বু্লি আওড়াতেন।কাব্যের যখন আঠার বছর বয়স তখন তিনি এই বইটি কাব্যের হাতে তুলে দিয়ে বললেন-
"মানুষ বৈইমানি করবে,চারপাশ তোমার সাথে বৈইমানি করবে।
কিন্তু কবিতা কখনো তোমার সাথে বৈইমানি করবে না।সে তোমার সুখ-দুঃখ বুঝবে।তুমি একটি কবিতাকে যেভাবে আবৃত্তি করবে,সেভাবেই তোমায় আপন করে নিবে।"
সেদিন কথাগুলো কাব্যের মন ছুঁয়ে যায়।বইখানি বেশ যত্ম রেখে দেয় সে।তবে তখনও পড়া হয়নি।কাব্যের উনিশতম জন্মদিনের ঠিক দশদিন আগে মামা পানিতে ডুবে মারা যায়।তবে মামা কিন্তু দারুন সাঁতারু ছিলেন।গ্রামের মানুষ ধারনা করেন,খারাপ কিছু তার মামাকে ডুবিয়ে মেরে ফেলে।তবে কাব্যের কাছে সেগুলো বড্ড আজগুবি মনে হয়।মামার মৃত্যুর দিন কাব্য টেবিলের ড্রয়ার খুলে বইটি বের করে।সেদিন কাব্যের কবিতা আবৃত্তি দেখে মানুষজন অনেক কথা বলে একে-অপরকে।কিন্তু কাব্য গায়ে মাখেনি।মামার শখ তো বৃথা যেতে পারে না।কাব্যকে তো সেটা চালিয়ে যেতে হবে।১৮ পৃষ্টায় থেমে গেল কাব্যের হাত।এই কবিতাটি কাব্যের খুব পছন্দের একটি কবিতা-
"আমি কোন কালেই পুরোদস্তুর
কবি ছিলাম না!
কখনো প্রেমিক, কখনো ক্রিকেটার
কিংবা কখনো বাউন্ডুলে ছাত্র।
কেবল তোমার কথা চিন্তা করলেই
আমি কাব্যের প্রলাপবাক্য বকতে পারতাম।
কেবল তোমার কথা চিন্তা করলেই
হয়ে যেতাম মহাপ্রেমিক,মহাকবি,
হয়তো মহাপুরুষ!
কেবল তোমার চিন্তা করলেই
পাড়ি দিতে পারতাম সপ্ত আকাশ,
নক্ষত্রমন্ডলী...
-এই যে কবি সাহেব,বিকালবেলায় ছাদে কবিতা পড়ছেন বুঝি?তা বেশ তোমার গলা,মাঝেমাঝে তোমায় একটু বিরক্ত করবো কবিতা আবৃত্তির জন্য,নিচতলা থেকে হাসতে হাসতে বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
হঠাৎ কবিতায় বাঁধা পড়ায় কাব্য একটু হকচকিয়ে গেল।তবে নিজেকে সামলে নিচের দিকে তাকিয়ে বলল,জ্বি চাচা,অবশ্যই শুনাবো।
-তবে বিকালে ছাদে উঠো সমস্যা নেই।কিন্তু বেশি রাতে ছাদে উঠো না যেন।কি দেখতে কি দেখে ফেলো,একটা হুলুস্তুল কান্ড বেঁধে যাবে,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
কাব্যের কাছে কথাটা বেশ মজার লাগলো।তবে বয়োজেষ্ঠ মানুষের সাথে মজা না করাটাই ভালো।কাব্য বলল,ছাদে ভূত আছে নাকি,চাচা?
ইয়াজউদ্দিন কথাটা শুনে বেশ এড়িয়ে গেল।উনি একটু গম্ভীর হয়ে বললেন,এতকিছু তোমাকে জানতে হবে না,বাবা।শুধু আমার কথাটা মনে রাখলেই আমি খুশি।
কাব্য হাসিমুখে বলল,আচ্ছা চাচা।কাব্য বেশ লজ্জা পেয়ে গেল।ছাদের রেলিং থেকে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ভেতরে চলে গেল।
দুই.
চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার।সন্ধ্যা হয়েছে বেশ অনেকক্ষন হয়ে গেছে।অথচ এখনও রুমে লাইট জ্বালিয়ে দেয়া হয়নি।এই রুমে বিশেষ একজন মানুষ থাকে।বিশেষ এই কারনে বলা হয়েছে,এই ব্যক্তিটির পরিচয় বাইরের খুব কম মানুষই জানে।ইয়াজউদ্দিন সাহেবের ছোট ছেলে রাসেল।এই রুমে বাড়ির কাজের মেয়ে ফুলি ছাড়া আর কারও যাতায়াত নেই।দরজা খুলে খাবার দিয়ে আবার দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়।গত তিন বছর ধরে এভাবেই চলছে রাসেলের জীবন।রাসেল কেন এই রুমে বন্দী তা কেউ জানে না,হয়তো রাসেল এই বাড়িতে আছে সেটাই অনেকের জানার বাইরে।ভেতর থেকে রাসেলের গলার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।মনে হচ্ছে,নিউটনের সূত্র নিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করছে।মাঝেমাঝে খুব জোরে হাসতে হাসতে বলছে,"আমার দ্বারা সম্ভব নয়।আবার কাঁদতে শুরু করে।ভালোবাসার গল্প ছবি
বারান্দায় কারো পায়ের আওয়াজ আসছে।রাসেলের রুমের দিকেই ফুলিকে দেখা গেল।হাতে স্টিলের প্লেট,উপর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।দরজার সামনে দাঁড়িয়ে সুইচে চাপ দিল ফুলি।রাসেলের রুমে আলো জ্বলে উঠল।ভেতর থেকে রাসেলের হাত তালির আওয়াজ আসছে।ফুলি হাত থেকে প্লেট নিচে রাখলো।ওড়নায় পেঁচিয়ে রাখা চাবির তোড়া থেকে একটা ছোট চাবি নিয়ে দরজার তালা খুলে দিল।নিচ থেকে প্লেট নিয়ে দরজা ধীরে ধীরে সরিয়ে রুমের ভেতরে পা দিল ফুলি।
![]() |
| ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস। ভালোবাসার গল্প ছবি |
-ভেতরে আসলে একদম কামড় দিবো,বজ্জাত মেয়ে।আমার রুমে তালা মেরে রাখা!,বেশ রেগে তেড়ে আসলো রাসেল।
ফুলি তাড়াতাড়ি প্লেটখানা বিছানার পাশে রেখে দরজা মেরে দিল।একটুর জন্য রাসেল ধরতে পারেনি ফুলিকে।ফুলি বেশ জোরে জোরে নিঃশ্বাস ফেলতে লাগল।মনে হচ্ছে,বেশ ভয় পেয়ে গেছে।দরজায় তালা মেরে খালুজান বলে চেঁচাতে চেঁচাতে ভেতরে চলে গেল ফুলি।
ভালোবাসার গল্প ছবি
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল কাব্যের।ঘুম ভাঙাতে কাব্য বেশ বিরক্ত।একবার ঘুম ভাঙলে আবার ঘুমানো বেশ কষ্টকর তার জন্য।তার মায়ের দেয়া ঘড়িটা বালিশের পাশে রেখে ঘুমানো কাব্যের পুরানো অভ্যাস।ঘড়িটা হাতে নিয়ে দেখতে পেল,একটা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট।এত রাতে ঘুম ভাঙার তো কথা নয়।ঘুমটা ভাঙলো কেন?বিছানায় উঠে বসলো কাব্য।মাথার উপরে ফ্যান ঘুরছে বেশ জোরে।তবুও সে ঘেমে একাকার।গায়ে থাকা পান্জাবি খুলে বালিশের পাশে রেখে দিল কাব্য।হঠাৎ কানে মিষ্টি একটা কন্ঠ ভেসে আসল।এত সুন্দর কন্ঠ এর আগে সে শুনেনি।মেয়েলি কন্ঠ কাছে কোথাও থেকে ভেসে আসছে।বিছানা বরাবর একটা জানালা।বেশ তাড়াহুড়ায় পর্দা লাগাতে মনে নেই কাব্যের।আসলে ক্লান্ত শরীরে কতটুকু আর খেয়াল থাকে?কাব্য জানালা দিয়ে তাকাতেই চমকে উঠল।ছাদের রেলিং ধরে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।চুলগুলো বাতাসে উড়ছে।মেয়েটি শাড়ি পড়ে আছে।তবে ছাদ অন্ধকার থাকায় শাড়ি কি রঙের ভালো করে দেখা যাচ্ছে না।সুরেলা কন্ঠ সেখান থেকেই আসছে।মেয়েটি গান গাইছে।
"শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে,পড়ুক ঝরে
তোমারই সুরটি আমার,মুখের পরে,বুকের পরে
শ্রাবণের ধারার মতো পড়ুক ঝরে"
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস।
![]() |
| ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস। ভালোবাসার গল্প ছবি |
কাব্য বেশ মুগ্ধ হয়ে শুনছে একমনে।তবে সে ভাবছে,এই বাড়িতে ইয়াজউদ্দিন সাহেব ছাড়া তো আর কেউ থাকে না।তাহলে এই সুরেলা কন্ঠের মেয়েটি এত রাতে ছাদে কিভাবে আসল?
ঘুমে দু'চোখ বন্ধ হয়ে আসল কাব্যের।ঢুলে পড়ল বিছানায়।চিলেকোঠার গায়ে এসে পড়ল চাঁদের মায়াবী আলো।
..চলবে...
written by Habib Khan Hridoy



إرسال تعليق