রহস্যাময় ভুতের গল্পঃ দ্যা ম্যানিটু পর্ব- ১ (Golpo Share : গল্প শেয়ার)

photo: pixababy নতুন ভালোবাসার গল্প

"দ্যা ম্যানিটু"
লেখক- গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু

(পর্ব ১)

ঝনঝন শব্দে বেজে উঠল ফোন। মুখ না তুলেই ডেস্কে, রিসিভারে হাত
বাড়ালেন ড. হিউজেস। হাতটা এগিয়ে গেল কাগজের তাড়া, কালির বােতল,
গত হপ্তার পুরানাে খবরের কাগজ আর দোমড়ানাে-মােচড়ানাে স্যান্ডুইচের
প্যাকেটের মাঝ দিয়ে। স্পর্শ পেল রিসিভারের। তুলল ।
কানে রিসিভার ঠেকালেন ড. হিউজেস। চেহারায় বিরক্তি। ড. হিউজেস!
ম্যাকেভয় বলছি।'
‘তাে? আমি দুঃখিত ড, ম্যাকেভয়, এ মুহুর্তে খুব ব্যস্ত আছি।'
‘আপনাকে কাজের সময় বিরক্ত করতে চাইনি মি. হিউজেস । আমার কাছে
এক পেশেন্ট এসেছে। ওর শারীরিক অবস্থার কথা শুনলে রােগিণীকে হয়তাে
একবার দেখতে ইচ্ছে করবে আপনার।

নাক টানলেন ড. হিউজেস, চোখ থেকে খুলে নিলেন রিমলেস গ্লাস।
কী অবস্থা?' জিজ্ঞেস করলেন তিনি। শুনুন, ড. ম্যাকেভয়, আমার কাঁধে
পাহাড় সমান কাজের বােঝা। এ মুহূর্তে-'
ড, ম্যাকেভয় সহজে হাল ছাড়ার পাত্র নন। বললেন, কিন্তু কেসটা আপনাকে
সত্যি আগ্রহী করে তুলবে, ড. হিউজেস। আমার রােগিণীর টিউমার হয়েছে।
‘তাতে কী হলাে?'
‘টিউমারটা তার ঘাড়ের ওপর। মেয়েটি ককেশিয়ান, বয়স তেইশ। তার আগে
কখনাে টিউমার হয়নি, বিনাইন কিংবা ম্যালিগন্যান্ট কোনােটাই না।'

‘আর?
‘টিউমারটা নড়াচড়া করছে,' জানালেন ড. ম্যাকেভয়। দেখলে মনে হয়।
চামড়ার নিচে জ্যান্ত কিছু একটা নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে।
বলপেন দিয়ে কাগজে আঁকিবুকি কাটছিলেন ড. হিউজেস। কথাটা শুনে
কপালে ভাঁজ পড়ল । জিজ্ঞেস করলেন, ‘এক্স-রে রিপাের্ট কী বলে?
‘কুড়ি মিনিটের মধ্যে রিপাের্ট পেয়ে যাব।
‘প্যালপিটেশন?'
‘অন্য আর দশটা টিউমারের মতােই দেখতে । পার্থক্য কেবল এটা মােচড়
খায়। নতুন ভালোবাসার গল্প

‘আপনি পরীক্ষা করে দেখেছেন? স্রেফ ইনফেকশনও হতে পারে ।
‘এক্স-রে রিপাের্ট কী বলে আগে দেখি।'
কলমের পাছার দিকটা মুখে পুরে অন্যমনস্কবভাবে চিবুতে লাগলে
হিউজেস। চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে পড়া বইগুলাের কথা মনে করার চেষ্টা করছেন
ওসব বইতে এ ধরনের কোনাে কেস নিয়ে কি কিছু লেখা ছিল? কিংবা জাতে
টিউমারের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনাে প্রবন্ধ? কিন্তু এ মুহূর্তে সেরকম কিছু মনে
পড়ছে না।
‘ড, হিউজেস?
“ও, হ্যা, শুনছি। আচ্ছা, আমি আসছি।'

ফোন রেখে চেয়ারে হেলান দিলেন ড. হিউজেস। হাত দিয়ে চোখ ঘষছেন।
আজ সেন্ট ভ্যালেনটাইন ডে। বাইরে, নিউ ইয়র্ক মহানগরীর রাস্তায় তাপমাত্রা
নেমে এসেছে মাইনাস আট ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে। মাটিতে ছ'ইঞ্চি পুরু বরফ।
আকাশের রঙ ধাতব বর্ণ, থমথমে। রাস্তায় গাড়ি আর গাড়ি। সিস্টারস অব
জেরুজালেম হাসপাতালের আঠারাে তলার ওপর দিয়ে শহরটাকে অদ্ভুত এবং
‘ও, হ্যা, চেয়ারে হেলান দিবহরে, নিউ ইয়র্ক মতে দু'ইঞ্চি পুরু
আলােকজ্জ্বল লাগছে।
হিটিং সিস্টেমে বােধহয় কোনাে সমস্যা হয়েছে। ঘর ঠিকমতাে গরম হচ্ছে না।
ড. হিউজেস গায়ে ওভারকোট চড়ালেন। তার বয়স চল্লিশ । খাড়া নাক, ডগাটা
স্ক্যালপেলের মতােই ছুচালাে, মাথা ভর্তি এলােমেলাে বাদামী চুল। তাকে অটো
মেকানিকের মতাে দেখাচ্ছে। দেখে বােঝার জো নেই এই মানুষটি দেশের
সবচেয়ে বড় টিউমার বিশেষজ্ঞ।
ড. হিউজেসের অফিসের দরজা খুলে গেল। ভেতরে ঢুকল মােটাসােটা, সাদা।
চুলের এক মহিলা, চোখে চশমা। তার এক হাতে একগাদা কাগজপত্র, অপর
হাতে কফির কাপ । 'আর খানিকটা পেপারওয়ার্ক বাকি আছে, ড. হিউজেস।
আপনার জন্য কফিও এনেছি । শরীরটা চাঙা লাগবে।'
‘ধন্যবাদ, মেরী । মহিলার নিয়ে আসার নতুন ফাইল খুললেন ডাক্তার। আবার
নাক টানলেন। যীশাস, এ জিনিসে চোখ বুলিয়েছ তুমি? আমি একজন
কনসালট্যান্ট, ফাইলিং ক্লার্ক নই। শােনাে, এগুলাে রিজওয়ের টেবিলে রে
এসাে। সে পেপারওয়ার্ক খুব ভালােবাসে । নিজের গায়ের চামড়ার চেয়ে তা
পছন্দ কাগজ-পত্র।

কাঁধ ঝাকাল মেরী । ড. রিজওয়েই এগুলাে আপনার কাছে পাঠিয়ে দিলে" '
চেয়ার ছাড়লেন ড. হিউজেস । ওভারকোটে এ মুহূর্তে তাকে দেখালে
গােল্ড রাশ'-এর চার্লি চ্যাপলিনের মতাে। তিনি হতাশ চেহারা নিয়ে ফাইলে
আঙুল দিয়ে ঠোকর দিলেন । ওটার আঘাতে ধরাশায়ী হলাে হিউজেসের মা'র
পাঠানাে ভ্যালেনটাইন কার্ডখানা ।
“ঠিক আছে। পরে ফাইল দেবাে’খন । আমি এখন নিচে যাচ্ছি ড. ম্যাকেভয়ের
সঙ্গে দেখা করতে। তার এক পেশেন্ট এসেছে। আমাকে অনুরােধ করেছে।
পেশেন্টকে যেন একবার দেখে দিই।'
‘ফিরতে দেরি হবে, ডক্টর?' জিজ্ঞেস করল মেরী । সাড়ে চারটায় আপনার
একটা মিটিং আছে।নতুন ভালোবাসার গল্প
উদভ্রান্ত দৃষ্টিতে সহকারীর দিকে তাকালেন ড. হিউজেস, যেন মহিলাকে
চিনতে পারছেন না।
‘দেরি? না, মনে হয় না দেরি হবে। শেষ হলেই চলে আসব।'

অফিস থেকে বেরিয়ে নিয়ন বাতির আলােয় উজ্জ্বল করিডরে পা রাখলেন ড.
হিউজেস । সিস্টারস অব জেরুজালেম অত্যন্ত ব্যয়বহুল একটি প্রাইভেট
হাসপাতাল। এ হাসপাতালের করিডােরে কখনাে কার্বলিক কিংবা ক্লোরােফর্মের
গন্ধ ভেসে বেড়ায় না। করিডােরে পুরু লাল কার্পেট বিছানাে, প্রতিটি কিনারে
তাজা ফুলের ফ্লাওয়ার ভাস সাজানাে। হাসপাতাল নয়, দেখলে মনে হয় এটি
একটি হােটেল যেখানে মধ্যবয়স্ক এক্সিকিউটিভরা তাদের সেক্রেটারিদের নিয়ে
সাপ্তাহিক ছুটিতে গােপনে স্ফুর্তি করতে আসে।
ড. হিউজেস এলিভেটরে ঢুকে পনেরাে তলার বােতাম টিপলেন। তাকালেন
এলিভেটরের আয়নায়। নিজের রােগীদের চেয়েও তাঁকে বেশি অসুস্থ লাগছে।
তার আসলে ছুটি নেওয়া উচিত। মা তাকে ফ্লোরিডা যেতে বলছেন, বােন
থাকে সানডিয়ােগােতে । ওখানেও যাওয়া যায় ।

এলিভেটর এসে থামল পনেরাে তলায় । খুলে গেল দরজা। ড, হিউজেস
এলিভেটর থেকে বেরুলেন। সুইংডোের ঠেলে ঢুকলেন ড. হিউজেসের
অফিসে । ড. ম্যাকেভয় প্রায় তার সমবয়েসী, বেঁটে, শক্ত, পেশিবহুল শরীর।
সাদা কোটটা গায়ে টাইট হয় । মুখটা প্রকাণ্ড ড, ম্যাকেভয়ের, চাঁদের মতাে
গােল, তাতে অসংখ্য বুটি দাগ। নাকটা ভোতা । একসময় হাসপাতাল দলের
হয়ে ফুটবল খেলতেন। কিন্তু হাঁটুর মালাইচাকিতে ব্যথা পাবার পরে ছেড়ে
দিয়েছেন খেলা । আজকাল একটু খুঁড়িয়ে হাঁটেন।
আপনি এসেছেন খুব খুশি হয়েছি,' হাসলেন ড, ম্যাকেভয়। এটা সত্যি অদ্ভুত
একটা কেস । আর এ কেস আপনারই দেখা উচিত কারণ আপনি হলেন
বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিউমার এক্সপার্ট।নতুন ভালোবাসার গল্প
এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে,' বললেন ড. হিউজেস। 'তবু প্রশংসার জন্যে
ধন্যবাদ।'
photo: pixababy নতুন ভালোবাসার গল্প

ড. ম্যাকেভয় কানের ফুটোয় আঙুল ঢুকিয়ে চুলকোতে চুলকোতে বললেন
‘এক্স-রে রিপােট অল্পক্ষণের মধ্যেই পেয়ে যাবো,  কী করব বুঝতে
পারছিলাম না।'
পেশেন্টকে একবার দেখা যায়?' জিঙেস করলেন ড. হিউজেস ।
“নিশ্চয় । রােগিণী আমার ওয়েটিং-রুমে বসে আছে। আপনি বরং ওভারকোটটা
এখানে খুলে রাখুন। নইলে আমার পেশেন্ট দেখলে ভাববে আপনাকে আমি
রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এসেছি।'
ড. হিউজেস তার শ্রীহীন কালো কোটটা র্যাংকে ঝােলালেন তারপর ড, ম্যাকেভয়ের
পেছন পেছন ঝলমলে ওয়েটিং-রুমে ঢুকলেন। ঘর সাজানাে আর্মচেয়ার, পত্রিকা,
ফুল আর সুদৃশ্য একটি অ্যাকুরিয়াম দিয়ে। ভেনেশিয়ান ব্রাইন্ডের ফাক দিয়ে ড,
হিউজেস বিকেলের মুখ গােমড়া আকাশের তুষারপাত দেখলেন।নতুন ভালোবাসার গল্প
ঘরের এক কোণে বসে একহারা গড়নের, কালাে চুলের একটি মেয়ে টাইম
সাময়িকী পড়ছে। লাবণ্যময়ী এবং সুশ্রী। পরনে কফিরঙা সাধারণ একটি
ড্রেস। সে যে নার্ভাস হয়ে আছে, বােঝা যায় অ্যাসট্রে বােঝাই আধপােড়া
সিগারেট দেখে । ঘর ভর্তি হয়ে আছে সিগারেটের ধোঁয়ায়।

‘মিস ক্যারেন ট্যান্ডি,' বললেন ড, ম্যাকেভয়, ‘ইনি ড. হিউজেস । ড. হিউজেস
টিউমার বিশেষজ্ঞ। আপনাকে উনি একবার পরীক্ষা করে দেখতে চাইছেন।
ক্যারেন ট্যান্ডি পত্রিকাটি টেবিলে নামিয়ে রেখে হাসল। শিওর, নিউ
ইংল্যান্ডের অ্যাকসেন্টে বলল সে। অভিজাত পরিবারের মেয়ে, অনুমান
করলেন ড. হিউজেস । এবং নিশ্চয় পয়সাঅলা । অবশ্য বড়লােক না হলে
সিস্টারস অব জেরুজালেমে চিকিৎসা করার কথা ভাবাও যায় না।
‘একটু সামনে ঝুঁকে আসুন তাে,' বললেন ড. হিউজেস। সামনে ঝুঁকল
ক্যারেন, ওর ঘাড়ের পেছনের চুলগুলাে উঁচু করে ধরলেন ডাক্তার।
ঘাড়ের ঠিক গর্তের মধ্যে ফুলে রয়েছে গােলাকার একটি মাংসপিণ্ড, আকার
এবং আয়তনে কাচের পেপারওয়েটের সমান। দেখতে স্বাভাবিক টিউমারের
মতােই লাগছে।

‘কদিন ধরে টিউমারটা আছে?' জিজ্ঞেস করলেন ড. হিউজেস।
‘দু'তিন দিন হলাে,' জবাব দিল ক্যারেন। 'ওটা আকারে বাড়ছে দেখেই
ডাক্তার ম্যাকেভয়ের সঙ্গে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করি। আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম,
ভেবেছি ক্যান্সার-ট্যান্সার হলাে কী না।
ড. হিউজেস তাকালেন ড, ম্যাকেভয়ের দিকে। ভুরু কুঁচকে গেছে তাঁর।
‘দু'তিন দিন? আপনি শিওর?
‘জি,' বলল মিস ট্যান্ডি। আজ তাে শুক্রবার, না? আমি মঙ্গলবার সকালে ঘুম
থেকে জেগে দেখি আমার টিউমার হয়েছে।'
ড. হিউজেস হাত দিয়ে মৃদু চাপ দিলেন টিউমারের গায়ে। শক্ত। তবে
নড়াচড়া করল না টিউমার ।
ব্যথা লাগে? জানতে চাইলেন তিনি।

‘সুড়সুড়ি লাগে শুধু।
ড, ম্যাকেভয় বললেন, “আমি টিউমারে হাত দেওয়ার সময় একই কথানতুন ভালোবাসার গল্প
বলেছিল ও।
মিস ট্যান্ডির চুল ছেড়ে দিলেন ড. হিউজেস। ওকে সােজা হয়ে বসতে
বললেন। একটা আর্মচেয়ার টেনে নিলেন তিনি, পকেট থেকে এক টুকরাে
কাগজ বের করলেন, চেয়ারে কাগজ রেখে ক্যারেনের সঙ্গে কথা বলতে বলতে
নােট নিলেন।
‘টিউমারটা যখন দেখলেন তখন কত বড় ছিল ওটা?
‘খুব ছােট। সীমের বিচির মতাে।
‘ওটা কি সারাক্ষণই বড় হচ্ছিল নাকি বিশেষ সময়ে?'
‘শুধু রাতের বেলা বড় হয়। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি ওটা বড় হয়ে
গেছে।'
ড. হিউজেস দ্রুত নােট নিচ্ছেন।

‘স্বাভাবিক মনে হচ্ছিল কি ব্যাপারটা? ওটাকে কি এখন টের পাচ্ছেন?
বেশিরভাগ সময় ওটাকে স্বাভাবিক টিউমার বলেই মনে হয়। তবে মাঝে
মাঝে মনে হয় ওটা নড়াচড়া করছে।'
মেয়েটির গাঢ়, কালাে চোখে ভয়ের চেয়েও বেশি কিছু ফুটল।
‘কিছুক্ষণ নড়াচড়া করে তারপর নিশ্চল হয়ে যায়।'
‘ক’বার ঘটেছে এরকম?'
‘দিনে চার-পাঁচ বার ।।
ড. হিউজেস আরাে কিছু নােট নিলেন, ঠোট কামড়াচ্ছেন ।
‘মিস ট্যান্ডি, গত ক'দিনে আপনার স্বাস্থ্যের কোনাে অবনতি বা পার্থক্য লক্ষ
করেছেন- এ টিউমার হবার পর থেকে?
একটু একটু ক্লান্তি লাগে শুধু। রাতে ভালাে ঘুমও হয় না। তবে শরীরের ওজন
হারাইনি বা অন্য কোনাে পরিবর্তন চোখে পড়েনি।

ড. হিউজেস আরাে কিছু কিছু নােট নিলেন কাগজে, তারপর একবার
এতে চোখ বুলালেন, আপনার ধূমপানের অভ্যাস কীরকম?'
'দিনে আধ প্যাকেটের বেশি নয়। আমি খুব একটা সিগারেট খাই না। তবে
নার্ভাস লাগছে বলে এখন ঘনঘন সিগারেট খাচ্ছি।'
ড. ম্যাকেভয় জানালেন "অল্প কদিন আগে ও এক্স-রে রিপোর্ট করেছে।নতুন ভালোবাসার গল্প
ড. হিউজেস প্রশ্ন করলেন, “মিস ট্যান্ডি, আপনি কি একা থাকেন? কোথায়
থাকেন ?
আমার আন্টির সঙ্গে থাকি এনটি টু স্ট্রিটে। একটা রেকর্ড কোম্পানিতে আছি
পার্সোনাল অ্যাসিস্টান্ট হিসেবে। নিজেই বাসা নিয়ে থাকতাম কিন্তু বাবা-মা
বললেন আন্টির সঙ্গে থাকলেই ভালাে হবে। আন্টির বয়স চৌষট্টি। খুব ভালাে
মানুষ তারা। খুব ভালাে আছি।'

মুখ নামিয়ে , হিউজেস বললেন, 'এসব প্রশ্ন করছি বলে কিছু মনে করবেন
না, মিস ট্যান্ডি। এসব প্রশ্ন করার মানে আশা করি বুঝতে পারছেন। আপনার
আন্টি কি সুস্থ আছেন? আপনাদের অ্যাপার্টমেন্টটি কি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন?
তেলাপােকার যন্ত্রণা, পচা খাবারের দুর্গন্ধ ইত্যাদি নেই তাে ঘরে?'
প্রায় হেসে ফেলল ক্যারেন। এই প্রথম মেয়েটিকে হাসতে দেখলেন ড. হিউজেস
“আমার আন্টি একজন ধনবতী নারী, ড. হিউজেস। আমাদের বাসায় একজন
ফুল-টাইম ক্লিনার এবং একজন কাজের হেল্পার আছে। প্রথমজন ঘরদোর ধুয়ে
 ঝকঝকে তকতকে করে রাখে, দ্বিতীয়জন রান্না করে। এবং কখনাে
খাবারের আবর্জনা জমিয়ে রাখে না।
মাথা দোলালেন ড. হিউজেস। "বেশ। আপাতত, আমার আর কোনাে প্রশ্ন-
নেই। চলুন, ভ, ম্যাকেভয়, মিস ট্যান্ডির এক্স-রে রিপাের্ট দেখি।

ম্যাকেভয়ের অফিসে ফিরে এলেন দুজনে। বসলেন। ড, ম্যাকেভয় পকেট
থেকে একটি চুয়িংগাম বের করে দাঁতের ফাঁকে ফেললেন।
"কি বুঝলেন ড. হিউজেস?"
 "এখন পর্যন্ত কিছুই বুঝতে পারিনি। এই
টিউমারটা মাত্র দু'তিন দিনে এত বড় হয়ে গেছে । এত কম সময়ে কোন
টিউমারকে এত বড় হতে দেখিনি আমি । তারপর ওটা আবার নাকি নড়াচড়া
করে! অাপনি ওটাকে নড়াচড়া করতে দেখেছেন?
দেখেছি, বললেন ম্যাকেভয় । 'ঘাড়ের চামড়ার নিচে কিলবিল করছিল।
‘ঘাড় নড়ানাের কারণেও ওরকম হতে পারে। তবে এক্স-রে রিপাের্ট না দেখা
পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনাে মন্তব্য করা উচিত হবে না।'

কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে রইলেন দুজনে। ড. হিউজেসের শীত শীত লাগছে। কেমন
টেনশনও হচ্ছে। কখন বাড়ি ফিরবেন ভাবছেন। গতকাল রাত দুটো পর্যন্ত
হাসপাতালে থাকতে হয়েছে তাঁকে, ফাইল আর পরিসংখ্যান নিয়ে ধস্তাধস্তি
করেছেন। আজ রাতেও বােধহয় বাড়ি ফিরতে দেরি হবে । নাক টানলেন তিনি,
ক্ষয়ে যাওয়া নিজের জুতাের দিকে তাকিয়ে রইলেন এক দৃষ্টিতে।
পাঁচ ছ'মিনিট পরে খুলে গেল অফিসের দরজা। হাতে বাদামী রঙের বড়নতুন ভালোবাসার গল্প
একখানা খাম নিয়ে ঘরে ঢুকল রেডিওলজিস্ট। মেয়েটি লম্বা এক নিগ্রো, খাটো
চুল, মুখে হাসির ‘হ’ও নেই ।
কী দেখলে, সেলেনা?' খামটা হাতে নিলেন ড. ম্যাকেভয় ।

‘দেখে কিছুই বুঝতে পারিনি, ডক্টর, জানাল সেলেনা।
ড, ম্যাকেভয় খাম খুলে কালাে এক্স-রে ফিল্ম বের করে ক্লিপ দিয়ে ওটাকে টাঙিয়ে
নিলেন। জ্বাললেন বাতি। ক্যারেন ট্যান্ডির মাথার খুলির একটা পাশ দেখা যাচ্ছে।
পেছন থেকে । টিউমারটি বােঝা যাচ্ছে পরিষ্কার-বড়সড় একটা কালাে পিণ্ড। তবে
ভেতরে আঁশের বদলে জট পাকিয়ে রয়েছে টিস্যু আর হাড়।
‘এদিকটা দেখুন,' বলপেন দিয়ে ইংগিত করলেন ড. ম্যাকেভয় । মনে হচ্ছে
এক ধরনের হাড়ের শিকড়, ঘাড়ের সঙ্গে টিউমারকে চেপে ধরে রেখেছে। কী
এটা?'
‘বিন্দুমাত্র ধারণা করতে পারছি না, সরল স্বীকারােক্তি ড. হিউজেসের।
এরকম জিনিস জীবনেও দেখিনি। এটাকে টিউমার বলেই তাে মনে হচ্ছে।
শ্রাগ করল ড, ম্যাকেভয় । “ঠিক আছে, বুঝলাম এটা টিউমার নয়। তাহলে
এটা কী?'

এক্স-রের দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকালেন ড. হিউজেস। টিস্যু এবং হাড়গুলাে
এখনাে কোনাে আকার পায়নি। তাছাড়া এমনভাবে তালগােল পাকিয়ে জড়িয়ে
রয়েছে যে বােঝা মুশকিল জিনিসটা কী। এখন করণীয় একটাই রয়েছে আর
তা হলাে অপারেশন। ওটাকে কেটে বের করে তারপর পরীক্ষা করে দেখবেন ।
আর যে হারে জিনিসটা আয়তনে বেড়ে চলেছে, দ্রুত অপারেশনই মঙ্গল।

ড, ম্যাকেভয়ের ডেস্কের ফোন তুললেন ড. হিউজেস। মেরী? শােনাে, আমি
এখনাে ড. ম্যাকেভয়ের অফিসে আছি। একটু খোঁজ নিয়ে দেখাে তাে
ড.গিলবার্ট একটা অপারেশন করতে পারবেন কি না। দ্রুত করতে হবে
অপারেশন। ... হ্যা, টিউমার, ম্যালিগন্যান্ট। তাড়াতাড়ি অপারেশন করা
গেলে সমস্যা হতে পারে । আচ্ছা, রাখলাম । ধন্যবাদ।'
‘ম্যালিগন্যান্ট?' প্রশ্ন করলেন ড, ম্যাকেভয়। আমরা কী করে বুঝলাম যে এটা
ম্যালিগন্যান্ট?নতুন ভালোবাসার গল্প
মাথা নাড়লেন ড. হিউজেস । আমরা জানি না। তবে ওটা বিপজ্জনক নাকি
ক্ষতিকর নয় না জানা পর্যন্ত ধরে নিচ্ছি জিনিসটা বিপজ্জনক।
photo: pixababy নতুন ভালোবাসার গল্প

‘জিনিসটা যে কী যদি জানা যেত! গম্ভীর মুখে বললেন ড. ম্যাকেভয়। আমি
মেডিকেল ডিকশনারি তন্ন তন্ন করে ঘেঁটেও এরকম কিছুর খোঁজ পাইনি।'
ক্লান্ত ভঙ্গিতে হাসলেন ড. হিউজেস, হতে পারে এটা নতুন কোনাে রােগ।
হয়তাে রােগটার নামকরণ করা হবে আপনার নামে। ম্যাকেভয় রােগ। দ্রুত
বিখ্যাত হয়ে যাবেন। আপনি তাে সবসময় বিখ্যাত হতে চান, তাই না?
‘এ মুহূর্তে আমি যা চাই তা হলাে এক কাপ কফি আর গরম বিফ স্যান্ডুইচ। নােবেল
প্রাইজ পরে পেলেও চলবে। ফোন বাজল। রিসিভার তুলেলন ড. হিউজেস।
নতুন ভালোবাসার গল্প
মেরী? ওহ, ঠিক আছে। খুব ভালাে কথা। হ্যা, অসুবিধে নেই । ড.
গিলবার্টকে আমার পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়াে।'
‘ডাক্তার ফ্রি আছেন?' জানতে চাইলেন ম্যাকেভয়।
‘কাল সকাল ১০টায় অপারেশন করবেন জানিয়েছেন। যাই, খবরটা মিস
ট্যান্ডিকে দিয়ে আসি।

চলবে......

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন