রহস্যময় ভুতের গল্পঃ দ্যা ম্যানিটু পর্বি-১০ (Golpo Share : গল্প শেয়ার)

সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

"দ্যা ম্যানিটু"
মূল - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু

(পর্ব ১০)

🏵পনেরাে🏵

ড. আর্নেস্ট স্নাে আলবানির উপকণ্ঠে, ছােট্ট সুগঠিত, ইটের তৈরি একটি
বাড়িতে বাস করেন। বাড়িটি ঘিরে রেখেছে শােকাতুর চেহারার কালাে
সাইপ্রেসের ঝাড়, জানালায় ঝুলছে হলুদ পর্দা। আকাশের চেহারা বেশি
সুবিধের নয়। এখনাে থম মেরেই আছে। আমরা থিকথিকে কাদা আর বরফ
ঢাকা রাস্তা ঠেলে পৌছুলাম গন্তব্যে। উত্তর-পুব দিক থেকে হুহু করে বইছে।
শীতল বাতাস।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
রক্ত সঞ্চালন যাতে বন্ধ না হয়ে যায় সেজন্য দুহাত ঘষতে ঘষতে এসে
দাঁড়ালাম ড, স্নেয়ের বাড়ির দোরগােড়ায়। টিপলাম বেল । ঢংঢং শব্দে ঘণ্টা
বেজে উঠল পুরানাে বাড়িটার ভেতরের দিকে কোথাও।
খুলে গেল দরজা। দোরগােড়ায় উদয় হয়েছেন ড. স্নাে। লম্বা, আশ্রমের
সন্ন্যাসীদের মতাে মাথায় সাদা চুল, চোখে সােনালি রিমের চশমা। পরনে
মেরুন রঙের কার্ডিগান, ঢােলা পকেটপ্যান্ট, পায়ে কার্পেট হিপর।
মি,আর্সকিন? বললেন তিনি, আসুন। ভেতরে হাসুন।'
আমরা অন্ধকার হলওয়েতে ঢুকে পড়লাম। ল্যাভেন্ডার পলিশের ঝাঁঝালো গন্ধ,
ঘরের কোনায় বড় একটি দেওয়াল ঘড়ি টিকটিক শব্দে সময়ের বার্তা ঘোষনা
করে চলেছে। আমরা যে যার কোট খুলে ফেললাম ।

 ড, স্লো আমাদেরকে
নিয়ে বরফ শীতল পার্লারে চলে এলেন । এখানে দেওয়াল জোড়া ভয়ঙ্কর
সব ইন্ডিয়ান মুখােশ, গম্বুজের মতো কাচের পাত্রে লিনেট পাখির মূর্তি,
আছে স্টিভেনগ্রাফের কয়েকটি দুর্লভ তৈলচিত্র।
বসুন,' বললেন , স্লো। পুরাে ব্যাপারটা আমাকে একটু খুলে বলুন। আমার
স্ত্রী আপনাদের জন্য কফি নিয়ে আসছে। আর মদ-টদ খাই না।'
কথাটা শুনে ম্যাক ফোর্ডের মুখ পেঁচার মতাে হয়ে গেল । ও মদ পান করতে
খুব ভালােবাসে। বুরবনের একটা ফ্লাস্ক রয়ে গেছে গাড়িতে। কিন্তু এটা নিয়ে
আসতে ওর লজ্জা করছে, চেহারা দেখে বুঝতে পারলাম। এমেলিয়া মদ্যপান
থেকে সভয়ে দূরে থাকে। আমার অভ্যাস আছে। তবে ভদ্রতার খাতিরে চুপ
হয়ে রইলাম।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ড, স্নো বেতের শক্ত, ছোট একটি চেয়ারে বসলেন !
আমি আর এমেলিয়া নিচু এবং আরামদায়ক একটি সোফাতে বসলাম।
ম্যাক দখল করল জানালার ধারের আসনটি তে, জানলা দিয়ে বাইরে
তুষারপাত দেখা যায়।
যতটা সংক্ষেপে সম্ভব ক্যারেন এর, শরীরিক অবস্থার বর্ণন দিলাম ,
স্নোকে। আমাদের প্রেত-বৈঠকের কথাও উল্লেখ করলাম। তিনি এক
মনােযােগে আমার কথা শুনলেন, মাঝে মাঝে দু'একটা প্রশ্ন করলেন ক্যারেন
এবং তার আন্টির সম্পর্কে জানতে চাইলেন মিসেস বারম্যানের চেরিউড
টেবিলে দেখা অশরীরী আত্মার ব্যাপারে।

আমার গল্প বলা শেষ হলে দুহাত একসঙ্গে চেপে ধরে ভাবনার গভীরে ডুব
দিলেন ড. স্লো। তারপর বললেন, ‘মি, অর্সকিন, এই দুর্ভাগা মেয়েটির গল্প
আমার কাছে একটুও অতিরঞ্জিত মনে হয়নি। মেডিসিনম্যানের পুনর্জন্মের
ঘটনা ১৮৫১ সালে একবার ঘটেছিল। ওই সময়েও এক লােককে হোস্ট
হিসেবে বাছাই করা হয়। ঘটনা ঘটে মিসৌরীর কোর্ট বার্থন্ডে, হিটাডসা
ইন্ডিয়ানদের মধ্যে। এক তরুণী ইন্ডিয়ানের হাতে প্রথমে একটি মাংস
ফুলে ওঠে। পরে পিণ্ডটা আকারে এত বড় হয়ে ওঠে যে তাকে প্রায় গ্রাস করে
ফেলে। মারা যায় মেয়েটি। ফোলা পিণ্ড থেকে বেরিয়ে আসে প্রাপ্ত বয়স্ক,
সম্পূর্ণ একজন মানুষ। বলা হয় সে নাকি পঞ্চাশ বছর
আগে তাদের উপজাতির একজন ম্যাজিশিয়ান ছিল।
সত্যতার বিষয়ে তথ্যগত প্রমাণ নেই বললেই চলে। আজও এ ঘটনা মিথ কিংবা
কিংবদন্তী হিসেবে পরিচিত । আমি হিডাটাসদের নিয়ে লেখা নিজের বইতেও মিথ বলেই চালিয়ে দিয়েছি। কিন্তু এ গল্প আপনার মিস ট্যান্ডির
এমন মিলে গেছে যে এটাকে এখন কী বলে অভিহিত করব বুঝতে পারছি না। কিওয়া
ইন্ডিয়ানদের মধ্যে গল্প প্রচারিত মেডিসিনম্যানরা গাছ হয়ে জন্ম নিয়ে
তাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে। গাছ জঙ্গলের রয়েছে নিজস্ব রহস্যময় জীবনী শক্তি।
, মেডিসিনম্যানরা এটাকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাত। তাই
চেরি উড টেবিলের গল্পও আমার কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয়নি। শুরুতে ভেবেছিলাম আপনি বুঝি আমার সঙ্গে মশকরা করছেন। কিন্তু আপনি যেসব তথ্য
প্রমাণ হাজির করেছেন তাতে এ বিষয়ে সন্দেহের আর অবকাশ থাকেনি।"সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
"তাহলে আপনি ঘটনাটা বিশ্বাস করেছেন?' চোখের ওপর থেকে চুল হাত দিয়ে
ঠেলে সরাল এমেলিয়া।

হ্যাঁ, চশমার আড়াল থেকে এমেলিয়ার দিকে তাকালেন স্নাে । আমি গল্পটা
বিশ্বাস করেছি। আমি সিস্টারস অব জেরুজালেমে ফোন করে ড. হিউজেসের
সঙ্গে কথা বলেছি। আপনারা যা বলেছেন ডাক্তারও আমাকে একই কথা
বলেছেন। জানিয়েছেন মিস ট্যান্ডির অবস্থা খুবই খারাপ। তার জীবন বাঁচাতে
যে কেউ এগিয়ে আসতে পারে, মানা করবেন না ড. হিউজেস।'
"ড, স্লো,' বললাম আমি, এই মেডিসিনম্যানের বিরুদ্ধে লড়াই করার কি
কোনাে উপায় নেই? আমরা কি ওকে ধ্বংস করতে পারি না?'
কপালে ভাঁজ পড়ল ড, স্নেয়ের। মি. আর্সকিন, একটা কথা আপনাদেরকে
বুঝতে হবে ইন্ডিয়ানদের জাদুর ক্ষমতা খুবই শক্তিশালী এবং দূরগামী। তারা
ন্যাচারাল এবং সুপার ন্যাচারালের মধ্যে পরিষ্কার কোনাে পার্থক্য নির্ধারণ করত না। প্রতিটি ইন্ডিয়ান মনে করত তার সঙ্গে আত্মাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আর
এ আত্মারা নিয়ন্ত্রণ করত তার অস্তিত্ব। সাধারণ ইন্ডিয়ানরা তাদের জীবনের বেশীরভাগ সময় কাটিয়ে দিয়েছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান করে। তারা যেমন দক্ষ শিকারী ছিল, ধর্মকর্ম এবং মেডিসিন সাইন বা সাংকেতিক ভাষা তৈরির ব্যাপারেও
দক্ষতার কমতি ছিল না। আর তারা ভাবত এসব আচার-অনুষ্ঠান মহিষ
শিকারে আরাে দক্ষ এবং চতুর করে তুলবে। আবার একই সঙ্গে তারা
একমাত্র আত্মারাই তাদেরকে সকল শিকারের জন্য শক্তি এবং সাহস জোগাবে।
 এদের অধিকাংশ গােপন লােক-বিদ্যার কথা আমাদের অজানা তবে এ
ব্যাপারে কোনাে সন্দেহ নেই মেডিসিনম্যানদের সত্যি অস্তিত্ব ছিল এবং অসাধারণ
ক্ষমতারও অধিকারী তারা ছিল।'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
এমেলিয়া মুখ তুলে চাইল, ‘ডা. স্লো, আপনি কি ইঙ্গিত দিচ্ছেন এই
মেডিসিনম্যানকে ঠেকানাের মতাে জাদুর ক্ষমতা আমাদের নেই...?'
মাথা দোলালেন নৃতত্ত্ববিদ। আপনি ঠিক ধরেছেন। আর এ মেডিসিনম্যানের
বয়স যদি সত্যি সাড়ে তিনশাে বছর হয়ে থাকে, সে এসেছে এমন একটা কাল
থেকে যখন ইন্ডিয়ানদের জাদুর ক্ষমতা ছিল তুঙ্গে।
উপনিবেশিক আমলের শুরুর দিকে উত্তর আমেরিকার অকাল্ট স্পিরিট বা
আত্মা ইউরােপের যে কোনাে দানব কিংবা পিশাচের চেয়ে কয়েক লাখ গুণ
বেশি শক্তিশালী এবং বিপজ্জনক ছিল। যেসব মিডিয়াম আত্মায় বিশ্বাস করে
এবং এদেরকে বুঝতে পারে, শুধু তাদের মাধ্যমে আত্মারা মানুষের ওপর
নিজেদের জাদুর খেলা দেখাতে পারে । আত্মার স্বাধীন অস্তিত্ব রয়েছে তবে
তাদেরকে সচেতন ভাবে কিংবা অচেতন ভাবে আহ্বান না করা পর্যন্ত
আমাদের ম্যাটেরিয়াল পৃথিবীতে তাদের কোনাে ম্যাটেরিয়াল শক্তি থাকে না ।
আর কেউ যদি আত্মায় বিশ্বাস না করে অথবা আত্মাকে বুঝতে না পারে,
আত্মাকে তখন আহ্বান করা যায় না।
‘ইউরােপের দানবদের সঙ্গে রেড ইন্ডিয়ান পিশাচদের হাস্যকর তুলনা করার
চেষ্টা করা হয়েছে। দ্য এক্সরসিস্ট' গল্পে পাজুজু নামে এক দানবের কথা
বলেছেন লেখক। এ হলাে অসুস্থতা এবং ভঙ্গুর স্বাস্থ্যের প্রতীক। কিন্তু একজন
রেড ইন্ডিয়ানের পৈশাচিক আত্মার ক্ষমতা তার চেয়ে বহুগুণ।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘আমি মনে করি না যে শ্বেতাঙ্গদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং লােভ লাল
মানুষগুলাের ধ্বংসের মূল কারণ। এজন্য দায়ী মেডিসিনম্যানদের অকাল্ট
ক্ষমতার হ্রাস। রেড ইন্ডিয়ানরা সাদা মানুষের বৈজ্ঞানিক নানা চমক দেখে
দারুণ বিমােহিত হয়ে পড়েছিল। নিজেদের জাদুর প্রতি তারা বিশ্বাস হারিয়ে
ফেলে। অনেকেই বলেন, যদি এই জাদু সঠিক ভাবে ব্যবহার করা হতাে
তাহলে রেড ইন্ডিয়ানরা নিজ ভূমি থেকে সমূলে উৎখাত হতাে না।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
বাধা দিল এমেলিয়া। কিন্তু ক্যারেন ট্যান্ডির মেডিসিনম্যানের ব্যাখ্যাটা কী? সে
কী করছে? সে কেন ওই মেয়েটির শরীরে পুনর্জন্ম নিতে চাইছে?
কান চুলকালেন ড. স্নাে । এ প্রশ্নের জবাব দেওয়া কঠিন। ওলন্দাজ জাহাজের
স্বপ্নের গল্প শুনে আমার মনে হয়েছে ম্যানহাটানে ওলন্দাজরা উপনিবেশ বসিয়ে
মেডিসিনম্যানের অস্তিত্ব বিপন্ন করে তুলেছিল। হয়তাে ওই মেডিসিনম্যান এত
সস্তায় দ্বীপটি ডাচদের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়নি। তার লােকজনদের মানা করেছিল।
 হয়তাে জাদুশক্তির কারণে সে এর ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিল।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
একদিন ম্যানহাটান উন্নত শহর হিসেবে গড়ে উঠবে, ওখানে শ্বেতাঙ্গ
আমেরিকানদেরই শুধু কর্তৃত্ব থাকবে, অন্য কারাে নয় । ওলন্দাজরা ছিল গোড়া ক্যালভানিস্ট। তারা মেডিসিনম্যানকে পিশাচ জাতীয় কিছু ঠাউরেছিল । তাই লোকটাকে তারা মেরে ফেলার মতলব করে। ঘটনা যাই হােক, মেডিসিনম্যান
ভেবেছে সপ্তদশ শতকের পৃথিবী থেকে পালিয়ে যেতে পারলেই সে প্রাণে বেঁচে
যাবে। ভবিষ্যতের কোনাে সময় আবার আবির্ভূত হবে সে। আমার মনে হয় না
কারেনকে সে ইচ্ছে করে পুনর্জন্মের উপযুক্ত হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে।
মেয়েটা কাকতালীয় ভাবে মেডিসিনম্যানের পুনর্জন্মের উপযুক্ত স্থান এবং
উপযুক্ত সময় হিসেবে হাজির হয়েছে।'

ড, স্নো,' বললাম আমি । আমরা নিজেরাই যদি এই মেডিসিনম্যানের সঙ্গে
লড়াই করতে না পারি তাহলে কে ওর সঙ্গে ফাইট করার ঝুঁকি নেবে? এমন
কেউ কি নেই যে মেডিসিনম্যানকে চিরতরে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে?
চিন্তিত দেখাল ড. স্নােকে। এটা অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা। একবার চিন্তা করে
দেখুন, মি. হ্যারি, আর দুই তিনদিনের মধ্যে আমেরিকার অতীত থেকে ফিরে
আসা এক জ্যান্ত মেডিসিনম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চলেছি। একে হত্যা
করা আমার কাছে রীতিমতাে একটা অপরাধ বলে মনে হচ্ছে।'
জানালার পাশে বসা ম্যাক ঘুরে তাকাল ড. স্লোয়ের দিকে। নৃতত্ত্বের চমক
সম্পর্কে আমরা সবাই অবগত, ড, স্নাে। আর আমরা এখানে হাজির হয়েছি
একটি মানুষের জীবন বাঁচাতে । ক্যারেন ট্যান্ডি কিন্তু এই উইচ ডাক্তারকে
বলেনি তার শরীরের মধ্যে জন্ম নিতে। ওকে বাঁচানাের সব রকমের চেষ্টা
আমাদের করা উচিত।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
হু,' বললেন ড. স্নাে। তবে এ কাজটা করার একটাই মাত্র উপায় আছে।
‘কী উপায়? জানতে চাইল এমেলিয়া। কঠিন কিছু?
"হতে পারে। এবং বিপজ্জনক তাে বটেই। একজন মেডিসিনম্যানের বিরুদ্ধে
লড়াই করার ক্ষমতা রাখে শুধু আরেকজন মেডিসিনম্যান। এরকম
দু'একজনের কথা আমি জানি। তারা নিভৃতচারী। তবে এই মেডিসিনম্যানের
মতাে শক্তিশালী তারা নয়। তারা পুরানাে পূজা-আর্চা জানে বটে তবে
মেডিসিনম্যানের মতাে সামর্থ্য এবং শক্তি তাদের আছে কিনা সন্দেহ। আর
তারা যদি ওই লােকটাকে নিকেশ করতে না পারে, ধ্বংস করতে ব্যর্থ হয়
তাহলে মেডিসিনম্যানের হাতে তাদের মৃত্যু অনিবার্য।

"দাঁড়ান, দাঁড়ান,' বললাম আমি। মেডিসিনম্যান কিন্তু এখনাে জন্ম নেয়নি,
তার পুনর্জন্মের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে মাত্র। পুরােপুরি আকার এখনাে পায়নি
সে, সম্পূর্ণ কাঠামাে গড়ে না ওঠা পর্যন্ত সে প্রচণ্ড শক্তির অধিকারীও হতে
পারছে না। আমরা যদি আরেকজন মেডিসিনম্যান জোগাড় করতে পারি
তাহলে এ লােকটা জন্ম নেওয়ার আগেই তাকে মেরে ফেলতে পারব।'
কাজটাতে প্রচণ্ড ঝুঁকি আছে,' বললেন ড. স্নাে । শুধু আমাদের মেডিসিনম্যানই নয়,
ভয়ানক বিপদে পড়বে মেয়েটাও । দুজনেই মারা যেতে পারে।"
‘ডক্টর,' বললাম আমি, মেয়েটা তাে এমনিতেই মারা যাচ্ছে।
‘কিন্তু আমরা কী করে নিভৃতচারী শান্তিকামী একজন ইন্ডিয়ানকে এক শ্বেতাঙ্গ
তরুণীর জন্য জীবনের ঝুঁকি নিতে বলব যার সঙ্গে তার পরিচয়ও নেই?
‘আমরা ওকে টাকার লােভ দেখাব,' বলল ম্যাক।
'কিন্তু টাকাটা কে জোগাবে?' জানতে চাইল এমেলিয়া।
‘আমরা ক্যারেনের বাবা-মা'র সঙ্গে কথা বলব।' বললাম আমি। ওদের
এতক্ষণে শহরে পৌছে যাবার কথা । ওঁরা বিরাট বড়লােক । মেয়ের মঙ্গলের
জন্য কয়েক হাজার ডলার ব্যয় করতে কার্পণ্য করবেন না নিশ্চয়। ড. স্নাে,
আপনি কি কোনাে মেডিসিনম্যান জোগাড় করতে পারবেন?সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
হাত দিয়ে থুতনি ঘষলেন ড. স্নাে । তা পারা যাবে। দক্ষিণ ডাকোটায় আমার
এক বন্ধু আছে । সে এ ব্যাপারে আমাকে সাহায্য করতে পারবে। আমরা
মেডিসিনম্যানকে প্লেন ভাড়া করে নিউ ইয়র্কে নিয়ে আসব। অবশ্য সে যদি
আসতে রাজি হয়।"
‘ক্যারেনের বাবা-মা'র সঙ্গে এখন কথা বলা দরকার,' বললাম আমি । কী
ঘটছে তা জানার অধিকার তাদের রয়েছে। আমাদেরও কিছু নগদ টাকা
জোগাড় করতে হবে । ড. স্নাে, আমার একটা কাজ করে দেবেন?
‘নিশ্চয়,' বললেন ড. স্নাে। এ কেসটা আমার কাছে দারুণ ইন্টারেস্টিং মনে
হচ্ছে। আপনাদের কোনাে সাহায্যে আসতে পারলে খুশি হব।'
‘দক্ষিণ ডাকোটায় আপনার বন্ধুকে একটু বলে দেবেন উনি যেন সবচেয়ে
যােগ্য মেডিসিনম্যানকে এ কাজের জন্য পাঠান।"

বলব।'
আমরা স্নেয়ের বাসা থেকে যখন বেরুলাম তখন পাঁচটা বাজে। প্রায় সন্ধ্যা
ঘনিয়ে এসেছে, আমাদের মুখে খুরের মতাে ধারাল বাতাস হামলা চালাল। কি
ঠাণ্ডারে বাবা! চরাচর বরফে ঢাকা। রীতিমতাে ভুতুড়ে লাগছে দেখতে। ঠান্ডাতে
কাপছি আমরা, ক্লান্ত, তবু সবার মনে দৃঢ় সংকল্প ক্যারেন ট্যান্ডিকে অদৃশ্য
হামলাকারীর কবল থেকে মুক্ত করবই । গাড়ি চালাতে চালাতে সিদ্ধান্ত নিলাম
নিউ ইয়র্কে ফিরে প্রথমেই যাব হাসপাতালে ক্যারেনকে দেখতে ।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ড, হিউজেসের কাছে জানতে চাইব আমাদের হাতে আর কত সময় আছে।
অার যদি ক্যারেন ইতিমধ্যে মারা যায় কিংবা বাচার কোনাে আশাই না থাকে তাহলে একগাদা টাকা খরচ করে দক্ষিণ ডাকোটা থেকে একজন মেডিসিনম্যানকে
প্লেন ভাড়া করে নিয়ে আসার কোনাে মানে হয় না।
এমিলিয়া আর ওর স্বামীকে আগে ওদের বাড়ি পৌছে দিলাম । তারপর সােজা
নামলাম সিস্টার অব জেরুজালেমে । গাড়ি চালাতে চালাতে বেজায় ক্লান্ত
আমি। হাসপাতালে পৌছে পুরুষদের ওয়াশ রুমে ঢুকলাম। মুখটুখ ধুয়ে
আঁচড়ে নিলাম চুল। তাকালাম আয়নায়। নিজেকে বিবর্ণ শান্ত এবং ভঙ্গুর
লাগল। ইন্ডিয়ান ম্যাজিকের স্বর্ণ সময়ের এক মহা শক্তিশালী মেডিসিনম্যানের
সঙ্গে লড়াই করার শক্তি আমার আছে কিনা ভেবে শংকা জাগল।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

🏵ষােলাে🏵

ড, হিউজেসকে তার অফিসে পাওয়া গেল। ডেস্ক ল্যাম্পের আলােয় একগাদা
রিপাের্টে চোখ বুলাচ্ছেন।
‘মি, হ্যারি, আমাকে দেখে মুখ তুলে তাকালেন। এসেও পড়েছেন! তারপর
কী খবর বলেন?
আমি ডাক্তারের বিপরীতের চেয়ারে এলিয়ে দিলাম গা। কী ঘটছে এখন অন্তত
তা জানি তবে আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারব কিনা তা জানি না।'
ড. স্নেয়ের কথা বললাম ড. হিউজেসকে। মনােযােগ দিয়ে সব কথা শুনলেন
তিনি। জানালাম একজন মেডিসিনম্যানকে নিউইয়র্কে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি ।
চেয়ার ছেড়ে সিধে হলেন ড. হিউজেস। জানালার ধারে গিয়ে দাঁড়ালেন।
ট্রাফিকের আলােয় চোখ । আবার তুষার ঝরতে শুরু করেছে।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

‘ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি খবরের কাগজঅলারা যেন এ ব্যাপারটা টের না
পায়।' বললেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্পেশালিস্ট এবং সার্জনদের
সবার মুখে তাে আর তালা মেরে রাখা যাবে না । কিন্তু বিষয়টি একবার চিন্তা
করে দেখুন বিশ্বের অন্যতম একজন টিউমার বিশেষজ্ঞকে দক্ষিণ ডাকোটা
থেকে একজন লাল চামড়ার মানুষকে ডেকে নিয়ে আসতে হচ্ছে যার শরীর
ভর্তি উল্কি আঁকা এবং যে তুকতাকে বিশ্বাস করে। কারণ? কারণ বিশেষজ্ঞটির
নিজের পক্ষে ওই টিউমার সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
“আমরা দুজনেই ভালাে করে জানি এটি কোনাে সাধারণ টিউমার নয়,' বললাম আমি। "আর সাধারণ তত্ত্ব দিয়ে ম্যাজিক টিউমারের বিরুদ্ধে লড়াই করার
সম্ভব নয়। আপনি যে ঠিক কাজটিই করেছেন তার প্রমাণ পাওয়া যাবে মেয়েটি
সুস্থ হয়ে উঠলে।'
জানালা দিয়ে অন্য দিকে তাকালেন ড. হিউজেস। আর যদি সে সুস্থ না হয়,
তখন আমি কী বলব? বলব কী যে আমি একজন রেড ইন্ডিয়ান মেডিসিনম্যান
নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু তাকে দিয়ে কাজ হয়নি।"
‘ড. হিউজেস-'
‘ইট’স ওকে, মি, আর্সকিন । আমি এ বিষয়টি নিয়ে কোনাে তর্কে যেতে চাইছি
না। আমি জীবনে বহু টিউমার দেখেছি এবং জানি এটি কোনাে সাধারণ
টিউমার নয়। আর ইন্ডিয়ানদের সম্পর্কে যেসব তথ্য উপাত্ত আপনি দিয়েছেন
ওগুলাে আমি বিশ্বাসও করি। তবে কেন করি তার কোনাে যৌক্তিক ব্যাখ্যা
আমি দিতে পারব না।"
মেয়েটা কেমন আছে, ডক্টর?' জানতে চাইলাম। টিউমার কি এখনাে বেড়ে
চলেছে?সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস

‘নিজেই গিয়ে দেখে আসুন না?' বললেন ড. হিউজেস। গতকাল যে অবস্থা
দেখে গিয়েছিলেন বর্তমান দশা তার চেয়েও খারাপ।
‘চলুন একবার দেখে আসি। তবে গতবারের মতাে ওকে উত্তেজিত করে তুলব না।"
আমরা নীরবে এলিভেটরে চেপে নেমে এলাম দশ তলায় । চুপচাপ পরে নিলাম
রােব এবং মাস্ক। তারপর নিঃশব্দে করিডাের ধরে এগােলাম ক্যারেন ট্যান্ডির
কামরায়। খুললাম দরজা।
ভয়ংকর একটা দৃশ্য! কাত হয়ে শুয়ে আছে ক্যারেন । মুখখানা গায়ের চাদরের
মতাে সাদা। ঘাড়ের টিউমারটা বেড়ে সাদা ব্লাডারের আকার ধারণ করেছে।
চামড়ার ফোলা ব্লাডার ঝুলে আছে পিঠের ওপর। বালিশের মতােই বড়। একটু
পরপর ওটা আপনা আপনি নড়ে উঠছে, ফুলছে। বােঝা যায় চামড়ার থলের
ভেতরে জ্যান্ত কিছু একটা আছে। জ্যান্ত এবং অশুভ।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
যীশাস!' আঁতকে উঠলাম আমি। এটা তাে বিশাল আকার ধারণ করেছে।
সতর্ক পায়ে বিছানার ধারে এগুলাম। টিউমারটা আকারে এতই বড় যে বিশ্বাস
করতে কষ্ট হয় এটা মেয়েটার শরীরের একটা অংশ, কুৎসিত কুজের
জিনিসটা পিঠে বহন করে চলেছে সে। আমি হাত বাড়িয়ে আঙুলের ডগা
এটা স্পর্শ করলাম। শক্ত এবং ফোলা। তবে ভেতরে পিচ্ছিল কিছু
আছে। যেন গর্ভবতী কোনাে মহিলার পেটে হাত দিয়েছি।
"ওটাকে স্রেফ মেরে ফেলা যায় না?' জিজ্ঞেস করলাম ড, হিউজেসকে। এখন ওটার আকার শিশুর মতাে । স্ক্যালপেল ঢুকিয়ে ওটাকে খুন করুন।"
মাথা নাড়লেন ডাক্তার। "সম্ভব হলে করতাম । মাংস কাটার চাপাতি দিয়ে এক কোপে ওটাকে কেটে ফেলতে চাই আমি। তবে মুশকিল হলাে তা সম্ভব নয়।
কারণ প্রতিটি এক্স-রে রিপাের্ট দেখাচ্ছে এই সৃষ্টি ছাড়া হতচ্ছাড়াটার নার্ভাস
সিস্টেম ক্যারেন ট্যান্ডির নার্ভাস সিস্টেমের সঙ্গে ভয়ানক রকম জট পাকিয়ে
রয়েছে। ওদের সম্পর্কটা মা এবং শিশুর মতাে নয়। বরং সিয়ামিজ টুইনের
মতাে।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ক্যারেন কি কথা বলা একদমই বন্ধ করে দিয়েছে?
‘অনেকক্ষণ ধরে মেয়েটার জবান বন্ধ । আজ সকালে ওর ওজন মেপেছি। তখন
অল্প দু'একটা কথা বলেছে। তবে ওর কথা আমরা কেউ বুঝতে পারিনি।'
‘ওজন নিয়েছেন? কেমন মনে হলাে অবস্থা?
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
রােবের পকেটে হাত ঢােকালেন ড. হিউজেস, করুণ চোখে তাকালেন তাঁর
মুমূর্ষ রােগীর দিকে। একটুও ওজন হারায়নি ক্যারেন- তবে বাড়েওনি এক
ফোঁটা। এ টিউমারটা যাই হােক, মেয়েটার শরীর থেকে সব রকমের পুষ্টি
টেনে নিচ্ছে। ওটার প্রতিটি আউন্স বেড়ে উঠেছে ক্যারেনের শরীরের নির্যাস থেকে।
‘ওর বাবা-মা এসেছিলেন মেয়েকে দেখতে?'
‘আজ সকালে এসেছিলেন। মা কেঁদেকেটে সারা। বললাম আমরা
অপারেশনের চেষ্টা করব। তবে মেডিসিনম্যানের বিষয়ে কিছু বলিনি। এখনাে
অপারেশন করিনি বলে তাঁরা খেপে গেছেন আমার ওপর। আর যদি তিনশ
বছর আগের রেড ইন্ডিয়ানের গল্প বলতে যেতাম, ওঁরা নির্ঘাত আমাকে পাগল
ঠাওরাতেন।"
আমি শেষবারের মতাে তাকালাম ক্যারেনের দিকে। পাণ্ডুর চেহারা, চুপচাপ
শুয়ে আছে ঘাড়ের ওপর বীভৎস বােঝাটা নিয়ে। ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম।
ফিরলাম আঠারাে তলায় ড. হিউজেসের অফিসে।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ক্যারেনের বাবা-মাকে বােঝাতে পারব তাে?' জিজ্ঞেস করলাম আমি
ডাক্তারকে। সমস্যা হলাে যে কাজটা করব বলে ঠিক করেছি তাতে বেশ কিছু
টাকা লাগবে । মেডিসিনম্যানকে টাকা দিতে হবে। তার প্লেন ভাড়া, হােটেলে
থাকার খরচ সব কিছুই বহন করতে হবে। আর লড়াই করতে গিয়ে লােকটা
আহত হলে কী হবে গডই জানেন। আমি রকফেলার নই যে নিজের পকেট
থেকে দেবাে। বড় জোর তিন চারশ ডলার দিতে পারি।"
গম্ভীর দেখাল ড. হিউজেসকে। "সাধারণ অবস্থা হলে হাসপাতাল থেকে খরচ
জোগাতে পারতাম আমি । কিন্তু মেডিসিনম্যানের কথা বলে এক পয়সাও নিতে
পারব না। নাহ, মেয়েটির বাবা-মাকে আসল ঘটনা জানানাে দরকার। তারাই
সিদ্ধান্ত নিন কী করবেন। কারণ তাঁদের মেয়েরই জীবন বিপদাপন্ন।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘আমি কি ওঁদের সঙ্গে কথা বলব?' প্রশ্ন করলাম।
‘ইচ্ছে করলে বলতে পারেন। ওরা ক্যারেনের আন্টির বাসায় উঠেছেন। কোনাে
সমস্যা হলে ক্যারেনের বাবা-মাকে বলবেন আমাকে ফোন করতে। আমি
আপনাকে সাপাের্ট দেবাে।"
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
“ঠিক আছে। বললাম আমি।
এমন সময় বেজে উঠল ফোন। ড. হিউজেস ফোন তুলে বললেন, ‘হিউজেস বলছি।
অপর প্রান্তে খুব উত্তেজিত গলায় হড়বড় করে কেউ কী যেন বলতে লাগল।
ডাক্তারের কপালে ভাঁজ পড়ল। "কখন? আপনি ঠিক জানেন? চেষ্টা করেননি।
পারছেন না মানে কী?
অবশেষে রিসিভার নামিয়ে রাখলেন তিনি।
কী হলাে? জানতে চাইলাম আমি।
‘জানি না । ক্যারেন । ড. ম্যাকেভয় বললেন "ক্যারেনের ঘরের দরজা খুলতে পারছেন
না। ক্যারেনের ঘরে কী যেন হচ্ছে। আর ওরা দরজা খুলতে পারছে না।"

চলবে....

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন