ইলেভেন মিনিটস উপন্যাস রিভিউ - গল্পশেয়ার

ইলেভেন মিনিটস উপন্যাস রিভিউ - গল্পশেয়ার

 একদেশে ছিল এক পতিতা, নাম তার মারিয়া। নাক সিঁটকানোর আগে একটু দাঁড়ান। 'এক দেশে ছিল' কথাটা বাচ্চাদের রূপকথার মত শোনাচ্ছে না! আর 'পতিতা' শব্দটি তো প্রাপ্তবয়স্কদের। এরকম প্রত্যক্ষ বিভেদ নিয়ে কি করে আলোচনা শুরু করি বলুন তো? আজকের বিভেদপূর্ণ আলোচনাটা প্রাপ্তমনষ্কদের জন্য। বাকিদের বিনয়ের সাথে বিদায় জানিয়ে এবার তাহলে শুরু করা যাক।


ব্রাজিলের একটি মফস্বল শহরে মারিয়ার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। সে স্বপ্ন দেখতো, হঠাৎ একদিন তার স্বপ্নের রাজপুত্তুর হাজির হবে। যে তাকে নিয়ে দুনিয়া দখল করতে বেরিয়ে পড়বে। কিন্তু জীবনের প্রথম প্রেমের পরিণতি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এ থেকে মারিয়ার ধারণা হয়েছিল, কখনোই সে প্রকৃত ভালোবাসার সন্ধান পাবে না। 


মফস্বলের মেয়ে মারিয়া হঠাৎ করেই একটি সুযোগ পেয়ে জেনেভায় চলে আসে। সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বিখ্যাত শহর জেনেভা।দু কদম পরপর ব্যাংকে ভর্তি ভিন্ন এক জগৎ। যে জগৎ আগে কখনো তার কল্পনাই আসেনি, বাস্তবে তো পরের কথা। সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে পতিতা হিসেবে নতুন জীবন শুরু হয়। মারিয়া অর্থ ও খ্যাতি কামাবার স্বপ্ন দেখতে আরম্ভ করে।


ব্রাজিলিয়ান লেখক পাওলো কোয়েলহো এর অনবদ্য এক উপন্যাস 'ইলেভেন মিনিটস'। এখানে লেখক মানবজীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের গুরুত্ব দিয়েছেন। যা সামগ্রিক জীবনে প্রভাব বিস্তারকারী। সে দুটি বিষয় হলো কাম ও প্রেম।


প্রকৃতি প্রদত্ত বিষয় দুটি সেভাবে আয়োজন করে শিখতে হয় না। তাই কখনো ভুল শিক্ষার দরুণ ভুল পথে পরিচালিত হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে ভুল থেকেও যদি কোনো উপলব্ধি লাভ করা যায় সেই শিক্ষাটা গুরুত্বপূর্ণ। উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র মারিয়ার মাধ্যমে লেখক সেই দিকটা আলোকপাত করেছেন। ব্রাজিলের মফস্বলে বেড়ে ওঠা মারিয়া আর জেনেভার মারিয়ার মাঝে বিস্তর তফাৎ পরিলক্ষিত হয়। এই পার্থক্যটা নানাবিধ, যা পাঠকের কাছে চমকপ্রদ। আরেকটি অন্যতম চরিত্র, এক তরুণ চিত্রকর যার সাথে মারিয়ার জেনেভায় পরিচয় হয়। তাছাড়াও সমগ্র উপন্যাস জুড়ে যেসকল চরিত্রের দেখা পাই কাহিনি প্রসঙ্গে তারা যথাযথভাবে বর্ণিত হয়েছে। 


উপন্যাসের শুরুটা ছিল ব্রাজিলের এক মফস্বল অঞ্চলে। তারপর ঘটনাচক্রে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আমরা মারিয়াকে দেখতে পাই। সুইজারল্যান্ডের জীবনধারা পাশাপাশি মারিয়া পেশা সূত্রে পৃথিবীর নানা প্রান্তের মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছে। লেখক এভাবে এক জায়গায় আবদ্ধ না থেকে অনেক জায়গার মানুষ এবং বিবিধ বিষয় এনেছেন। পাওলো কোয়েলহো'র বই পড়া অনেকটা ভ্রমণের মতো। শুধুমাত্র বইয়ের পাতায় ভ্রমণ নয়, পরোক্ষভাবে সত্যিকার ভ্রমনকাহিনী বটে।


যে দুটি বিষয়ের প্রতি এত গুরুত্ব দিয়ে বলেছিলাম মনে আছে? সেটা নিয়ে তো এখনো কিছু বললাম না। কাম আর প্রেম। উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র মারিয়া একজন পতিতা। পতিতার জীবিকার প্রধান দিক কাম অর্থাৎ সেক্স তো থাকবেই। পতিতাদের কি পুরোটাই দেহসর্বস্ব? মনে প্রেম নেই? কাম ও প্রেম বিষয় দুটি নিয়ে খোলামেলা ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু আদৌ কতটা খুললো তা পাঠক ভেদে বিবেচ্য হবে। কারণ এর কোনো স্বীকৃত মানদণ্ড নেই। যদি আপনার আপত্তি থাকে তো এড়িয়ে যাবার অনুরোধ। তবে নিশ্চয়তা দিতে পারি অপ্রাসঙ্গিক কিছু নেই।


লেখক পাওলো কোয়েলহো ব্রাজিলিয়ান লেখক। তিনি পর্তুগিজ ভাষায় লেখালেখি করেন। তারপর বই গুলো ইংলিশসহ বিশ্বের নানা ভাষায় অনুদিত হয়। আমার পঠিত অনুবাদটি ইংলিশ থেকে বাংলায় করা। অনুবাদ করেছেন অনীশ দাস অপু। অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় অনুবাদ করা। অনেক অনুবাদের ক্ষেত্রে লেখার সাথে মানিয়ে নিতে সময় লাগে। কিন্তু এটাতে শুরু থেকে শেষ অবধি সাবলীলতা বজায় ছিল। অনুবাদকের ভাষ্য মতে, কোনো কাটাছেঁড়া হয়নি। লেখক যেমনটি লিখেছেন সেভাবেই বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে।


পাওলো কোয়েলহো'র লেখায় একটা আধ্যাত্মিক ভাব থাকে। তবে সেটাও সহজভাবে বর্ণিত হয়। মানবজীবনের অত্যন্ত জটিল দুটি বিষয় কাম ও প্রেমে শ্বাসরুদ্ধকর আখ্যান 'ইলেভেন মিনিটস'। 


উপন্যাস - ইলেভেন মিনিটস

লেখক - পাওলো কোয়েলহো

অনুবাদ - অনীশ দাস অপু

Post a Comment

أحدث أقدم