একটা দুপুর মরে গেল - বই রিভিউ

একটা দুপুর মরে গেল - বই রিভিউ

মায়ের অসুখ নিয়ে আবু চিন্তিত। কিন্তু নিজের কিছু করার নেই। আবুর শান্তি ফুরিয়ে আসে। মায়ের অসুখ বাড়ে। মা ছাড়া সে একা। বড্ড নিঃসঙ্গ। সে ভেঙে পড়তে চাইলেও পারে না। এখন নিয়মিত মায়ের মাথার চুল তেল দিয়ে আভচড়িয়ে দেয়, ভাত নরম করে মাখিয়ে দেয়...! 

দিন যায়। আবুর পৃথিবী ছোট হয়ে আসে। মায়ের অসুখ বাড়ে। কষ্ট বাড়ে। মন খারাপ হয় তার। সে কত অসহায়। সে ডাক্তার হলে কত্ত ভালো হতো। আবু মায়ের সামনে স্কাভাবিক থাকতে চেষ্টা করে। চামুচে করে মায়ের মুখে খাবার তুলে দিতে দিতে বলে, ও মা, ছোটবেলায় তুমিও আমারে চামুচে কইরে খাওয়াইতে কও? 


আবুর মতো যদি সব সন্তান ভাবত? তাহলে আর কোনো মাকে শেষ বয়ষে কষ্ট করে পৃথিবী ছাড়তে হতো না। হতো না শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। 

আমাদের সমাজে অনেক শিক্ষিত ও টাকাওয়ালা সন্তান আছে, কিন্তু কয়জন তার বৃদ্ধ মাকে ভালো বাসে? পাশে থাকে? 

বরং আবুর মতো সম্ভলহীন পুত্র অনেক ভালো।


পুত্র যখন বাবা হবে তখন নিশ্চয়ই বাবাকে বুঝবে। এর আগে কোনও ছেলেই তার বাবাকে বুঝতে পারে না। ভুল বোঝে। ভিলেন মনে করে। 

যখন বাবা হবেন তখন বাবাকে বুঝবেন, চিনবেন, কিন্তু ততোদিনে দেরি হয়ে যায়। বাবা হয়ে বাবার অনুভূতিটটা এখন বুঝতে পারা, যা আগে সন্তান হয়ে বুঝতে পারতাম না। বাবাকে এখন ভিলেন মনে হচ্ছে না। বাবা এখন অসুস্থ। বাবা এখন শিশু হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন। যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। আমার পুত্র আর বাবার মধ্যে এখন আর কোনো তফাত নেই। 

রাতের শেষ প্রহরে আকাশ পানে আমার প্রার্থনা, মাবুদ, আমার বাবাকে তুমি যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দাও। আমার বাবার হাত ধরে আমি হাঁটতে চাই...


মা ও বাবাকে নিয়ে লেখাটা একটা দুপুর মরে গেল বইয়ের অংশ। সহজ গল্প। কিন্তু আমার সবচেয়ে এই দুটি লেখায় ভালো লেগেছে। অন্যগুলোকে যে লাগেনি তা বলবো না। বরং সেগুলো আরো বেশি ভালো। 


বইটি বইমেলা উপলক্ষে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে বাজারে আসে। প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে বইটা সংগ্রহ করি। পড়িও প্রথম রাতে। শুধু পোস্ট দিতেই দেরি করলাম। কারণ, ব্যস্ততা। আরেকটা কারণ, ফেসবুকে কম আসি। বড় কারণ, পোস্ট লেখার মতো লেখার হাত নেই বলে। 


বইটিতে জীবন ঘনিষ্ঠ অনেকগুলো গল্প আছে। প্রতিটি গল্প হৃদয় ছোঁয়া। প্রতিটির স্বাদ ভিন্ন ভিন্ন। মানুষকে, জীবনকে, বাস্তবতাকে যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি এই বইয়ের গল্পগুলোও বাতিল করতে পারবেন না। 


লেখকরা এখানেই আমাদের চেয়ে আলাদা। তাদের দেখার চোখ, চিন্তার ধরণ আলাদা।


লেখকরা এখনও লিখছেন বলে আমরা জীবনের গোপন দিক, বাহিরের দিক, ভিন্ন দিক, চমক ও অবাক হওয়ার মতো দিকগুলো জানতে পারছি, পড়তে পারছি। 


লেখক ধন্যবাদ পেতে পারেন এজন্য। 


নয়ত আমাদের জীবন পানসে হয়ে যেত। তারা প্রতিদিন আমাদের আনন্দ দেন। আমার বিবেক নাড়িয়ে দেন। আমাদের ভাবতে শেখান। শেখান ভালোবাসতে। 


এই লেখকের লেখার স্টাইট ভিন্ন। অন্যদের মতো না। স্বতন্ত্র। একজন লেখক তখনই সফল হন যখন তার লেখা অন্যদের চেয়ে আলাদা হয়ে ওঠে। 


মাসুম বিল্লাহ'র লেখা ভালোলাগার প্রধান কারণ, তার লেখায় এক ধরণের মায়া ছুঁয়ে থাকে। পড়তে বিরক্ত লাগে না। যারা এখনও মাসুম বিল্লাহ'র লেখা পড়েননি তারা এই বইটা দিয়ে শুরু করতে পারেন।


বইটির আরেকটি ভালো দিক হচ্ছে, ফণ্ট সাইজ বড় করে পৃষ্টার সংখ্যা বাড়ানো হয়নি। বরং আটো আটো করে কম পাতায় অনেকগুলো লেখা রাখা হয়েছে। এর জন্য দিব্যপ্রকাশকে ধন্যবাদ জানাতে হয়। বইটির দামও অনেক কম। 


হ্যাপি রিডিং। 


বইঃ একটা দুপুর মরে গেল

লেখকঃ মাসুম বিল্লাহ

Post a Comment

أحدث أقدم