প্রবঞ্চক উপন্যাস রিভিউ - গল্পশেয়ার

প্রবঞ্চক উপন্যাস রিভিউ - গল্পশেয়ার

সিতিমার সাথে ফাহিমের অন্তরঙ্গতার কথা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লো। কলেজের সামনে প্রতিদিন দুইটা ছেলে-মেয়ে অত কীসের গল্প করে- এই নিয়ে অনেকেই কানাঘুষা করে। যদিও ফাহিমের সামনে এতদিন কেউ কিছু বলেনি, তবে আজ বাবলুর চায়ের দোকানের সামনে দিয়ে যেতেই মুকুল বিদ্রুপ করে বললো, ‘কি রে ডাক্তার সাব, তুই না-কি প্রেমে পড়েছিস?’ 

ফাহিম অবাক হয়ে বললো, ‘মানে?’

‘ক্যান, প্রতিদিন গল্প করো যার সাথে, তার সাথে তোমার কীসের সম্পর্ক?’

‘সিতিমার কথা বলছেন?’

‘হুম।’

‘আরে ভাই, ও তো আমাগের বেয়ান হয়। আমগোর ইউনুস ভাইয়ের খালাতো শালি। তাই একটু কথা-টথা বলি। তাছাড়া ও শফিক ভাইয়ের ছোটো বোন। ওরে আমিও ছোটো বোনের মতো দেখি। সত্যি ভাই, মাথা ছুঁইয়া কইতাছি- ওর সাথে আমার কিচ্ছু নাই?’ নিজের মাথায় হাত রেখে বলে ফাহিম।

‘তুই ছোটো বোনের মতো দেখলে কী হবে? ও যে তোর প্রেমে দেওয়ানা, সেটা তো আমরা ঠিক বুঝি।’ মুকুল বলে আর হাসে।

মুকুলের কথা শুনে ফাহিম চমকে ওঠে। জীবনে প্রথমবার সে শুনলো কেউ তার প্রেমে পড়েছে। একে তো উঠতি বয়স। তার ওপর চারপাশে এর ওর প্রেমের গল্প শুনে কেমন যেন নেই নেই পরিবেশ বিরাজ করে মনের ভিতর। এই নেই নেই পরিবেশ বড্ড কুড়ে কুড়ে খায়ও তাকে। এই বেরসিক সময়ে কেউ তাকে ভালোবাসে, এটা তো মন্দ কোনো কথা নয়। তাছাড়া সিতিমাকে তার খারাপও লাগে না। 

কিন্তু পরক্ষণেই তাকে সতর্ক করে সাজিদ বলে, ‘দেখ ফাহিম, ও মেয়ে দেখতে অত ভালো না। তুই সরে পড়। নইলে ফেঁসে যাবি।’ 

সাজিদের কথা শুনে হতাশ হয় ফাহিম। সত্যিই সিতিমা দেখতে ভালো নয়? নিজের মনে প্রশ্ন করে সে। 

‘ঠিক আছে, ভাই।’ বলে চলে আসে ফাহিম।

তারপর থেকে সিতিমাকে খুঁটিয়ে দেখতে শুরু করে ফাহিম। হ্যাঁ- বড্ড সাধারণ সে। গায়ের রং অতটা উজ্জ্বল নয়। কোনোদিন নিজের যত্ন করেছে বলে মনে হয় না। মলিন পোশাক মলিন মুখটাকে আরও মলিন করে তোলে। তবে তার মুখে একটা ন্যাচারাল মায়া মায়া ভাব আছে। সেটা খুব টানে ফাহিমকে। অমনটা সবার থাকে না। আর এই বয়সেই কী সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলে। কেমন নম্রতা তার ব্যবহারে। ফাহিমের মনে হলো, এই সাধারণ মেয়েটিই তার জন্য ঠিক আছে। ভিতর থেকে তাকে ভালোবাসার যতটা না তাগিদ ছিল, ফাহিম তার চেয়েও বেশি তাগিদ দিলো বাইরে থেকে। 

তারপর সময়ের চাকা ঘুরতে থাকলো, দিন বদলাতে থাকলো। বদলাতে থাকলো সিতিমাও। তাদের কৃষক 

পরিবার হয়ে গেল এসপির বাড়ি। মলিন পোশাকের পরিবর্তে গায়ে উঠল বাহারি পোশাক। চেহারায় উজ্জ্বলতা এলো। কথাবার্তায় এলো পরিপক্বতা। আর ছাত্রী হিসেবে সে ছিল চিরকালই ক্লাসের সেরা। ফলে সাধারণ সিতিমা আর মোটেই সাধারণ রইলো না। যে মেয়েটার দিকে আগে কেউ ফিরেও তাকায়নি, এখন তার ভূরিভূরি প্রেমপত্র আসতে শুরু করলো।

নিজের জন্য আসা প্রেমপত্রগুলো সযত্নে বহন করে এনে শফিকের কাছে জমা দিতো সিতিমা। শফিক সেই প্রেমপত্র নিয়ে হাজির হতো ছেলেদের বাসায়। তারপর সেই ছেলেদের কী হাল হতো, তার পিঠে কয়টা লাঠি ভাঙতো তার বাপে, কয়দিন তার খাওয়া বন্ধ হতো- সে-সব না-ই বললাম। এটুকু বলি, সেই ছেলেটা দ্বিতীয়বার আর প্রেমিকচোখে তাকাতে সাহস করেনি সিতিমার দিকে। এলাকার ছেলেরা বুঝে গিয়েছিল, প্রেম করার মতো মেয়ে সে নয়। 

তবে ফাহিমের সাথে সিতিমার সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন হলো না। আগের মতোই প্রতিদিন দেখা হতো ওদের। সেই আগ বাড়িয়েই কথা বলতো সিতিমা। দূর থেকে সালাম শুনতে না পেয়ে ফাহিম জিজ্ঞেস করতো, ‘কিছু বললে?’

মিষ্টি হেসে মায়াবিনী মেয়েটা বলতো, ‘সালাম দিয়েছিলাম, ভাইয়া।’

জিহ্বায় কামড় দিয়ে, চোখে-মুখে অপরাধীর ছাপ ফুটিয়ে ফাহিম বলতো, ‘সরি; ওয়া আলাইকুম 

আসসালাম।’ 


বইয়ের নামঃ প্রবঞ্চক

লেখকঃ মোহাম্মদ তন্ময় সাত্ত্বিক 

রিলেটেড ট্যাগ

প্রবঞ্চক উপন্যাস রিভিউ 
প্রবঞ্চক বই রিভিউ
প্রবঞ্চক বই
প্রবঞ্চক উপন্যাস

Post a Comment

أحدث أقدم