করোনার সময়ে একদিন ভাষা আন্দোলনভিত্তিক একটা বই পড়তে পড়তে মনে হয়েছিল, হয়ত একদিন এই দুঃসময় এর কাহিনী কোন লেখকের বইতে পড়ব। কিন্ত সেটা যে এত তাড়াতাড়ি আর সেই লেখক যে আপনিই হবেন এটা কি জানতাম!!! এ যে আমাদেরই কাহিনী!!! এই দুঃসময়ের একদম বাস্তব চিত্র আপনি কি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন!!!
বইটা খুলে কিছু সময় শুধু অটোগ্রাফ টা দেখি। সোজা করে, উল্টা করে, ডানে থেকে, বামে থেকে। এই পাতার পর পাতার সৃষ্টিকারী যিনি, তার অটোগ্রাফ সহ একটা বই। এটার অনুভূতি অন্য সবার মাঝে কেমন কাজ করে জানিনা কিন্ত আমার কাছে প্রচন্ড ভালোলাগার।। প্রায় একই রকম অনুভূতি হয়েছিল যখন Adiba Tasnim আপু, আপনি দীপু মাহমুদ ফুফার অটোগ্রাফসহ বইটা আমাকে দিয়েছিলেন।
এবার আসি এই চমৎকার বইটির কথা নিয়ে। ১৭ টি গল্পে সাজানো এই বইটা আমি মন্ত্র মুগ্ধের মতো পড়েছি। বইয়ের বেশিরভাগ গল্প গুলোকে আমার গল্প লাগেনি।। একদম যেন বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি । এই বইয়ের "কিছু বলতে চাই" গল্পটি আমার মনে হয়েছে অন্য সব গল্পকে ছাপিয়ে গেছে।
প্রিয় Sushmita Zafar আপু সত্যি বলছি গল্পটার ৩য় প্যারা পড়ে আমি কিছুক্ষন সব ঝাপসা দেখেছি চোখে। খুব পরিচিত একটা মুখ মনে পড়ে গেছে।।
এই গল্পটা প্রত্যেকের পড়া উচিত।।
স্বপ্ন ভয়ংকর পড়ে মনে হয়েছে আরেহ এতো আমারই গল্প।
রতন স্যারের রাউন্ড আছে --- এই লাইন টুকু পড়ে আমি কিছুক্ষন হারিয়ে গিয়েছিলাম সার্জারির দিন গুলোতে।
কোকো আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে আমার মিনির কথা।।
অপারেশ স্যারকে আমি ভুলতেই পারছি না। সাথে ফেরা গল্পটিও.. কঠিনভাবে নাড়া দিয়েছে আমাকে।
মেহমান গল্পটি.. আপু আসলেই.. বেশির ভাগ মানুষ এমনই করে।।আর সবচেয়ে জোশ হচ্ছে টি ট্রলি।। আমাদের মতো চা- খোর মানুষদের আর কি চাইইই??আমার তো মনে হয়... আমি না অমন দাদু হয়ে যায়!!!
আর "টেবিল নম্বর -১৭" প্রচ্ছদ আর গল্পটা...
এই বইটি আমার অসম্ভব ভালো লেগেছে।। এবং আমার কাছে আপনার প্রথম বই "সোয়েটার" থেকে এই বইটা আরো বেশি গোছানো লেগেছে আপু।
বইঃ টেবিল নম্বর ১৭
লেখকঃ সুস্মিতা জাফর

إرسال تعليق