![]() |
| ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
-এখানে দোকানদার মজিদ বলে কেউ থাকে?
দোকানদার মজিদ ছোট্ট প্লাস্টিকের টুলে বসে আছে।আজ দোকানে ক্রেতার সংখ্যা খুবই অল্প।সকালে দু'একজন এসেছিল।তাই দিয়ে দিনটা শুরু।মজিদ নামে খুঁজতে আসা নারী কন্ঠ শুনে দোকানদার মজিদ বেশ ঘাবড়ে গেছে মনে হয়।এই এলাকায় মাঝেমাঝে গোয়েন্দা লোকের আবির্ভাব হয়।বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে বসে।বুঝেশুনে কথা বলতে হয়।দোকানদার মজিদ টুল ছেড়ে দাঁড়িয়ে দেখতে পেল,শাড়ি পরিহিতা একটি মেয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।শাড়ির রং নীল।কপালের মাঝ অংশে কালো টিপ পড়ে আছে।দোকান থেকে বেরিয়ে গলায় গামছা পেঁছিয়ে বলল,আমি দোকানদার মজিদ।এটা আমারই দোকান।বিশাল বড় গাছের নিঁচে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান।আপনি কি চা খাবেন?চা দিবো আপনাকে?
ভালোবাসার গল্প
-আপনি তো বড্ড বেশি কথা বলেন।আমার নাম পুষ্প।আপনার দোকান সিলগালা করতে এসেছি।শুনেছি,আপনি চায়ের কাপ না ধুয়ে লোকজনদের চা দেন,বলল পুষ্প।
পুষ্পের কথা শুনে দোকানদার মজিদের মুখের হাসি মুহূর্তে যেন উবে গেল।কাঁচুমাচু হয়ে বলল,কার এত্ত বড় সাহস মজিদের দোকানের চায়ের দুর্নাম করে?বিশ্বাস করেন আপা,আমি গরম পানি দিয়ে ধুয়ে তারপর চা দিই।
-এই কালাপাহাড়,কি খবর তোমার?আজকে সকালে নাস্তা হয়েছে?কালাপাহাড়ের দিকে হাত নেড়ে বলল পুষ্প।কালাপাহাড় বোধহয় দোকানদার মজিদের মতো কুঁকড়ে গেছে।মাথা নিঁচু করে বসে আছে।অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দোকানদার মজিদের দিকে।
-ও আল্লাহ,আপনে দেখি,আমার কুকুরের নামও জানেন,বেশ অবাক হয়ে বলল দোকানাদার মজিদ।
-আমি আরও অনেক কিছু জানি,পুষ্প বেঞ্চে গিয়ে বসলো।আপনি আমাকে এক কাপ চা দিন।চিনি বেশি দিবেন।সঙ্গে দুটো টোস্ট বিস্কুট,বলল পুষ্প।
দোকানদার মজিদ তাড়াহুড়া করে দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ল।পরিষ্কার দেখে চায়ের কাপ হাত নিয়ে বেশ কিছুক্ষন পরখ করল।কাপে কোনো ময়লা না পেয়ে কেটলি থেকে গরম পানি দিয়ে কয়েকবার চায়ের কাপ ধুয়ে নিল।ধোঁয়া উঠা কেটলি থেকে চা ঢেলে দুধ বেশ খানিক দিল চায়ের কাপে।৫ টাকার চা বানাতে মনে হচ্ছে দুধের পরিমান একটু বেশি দিয়েছে সে।পুরানো সাদা কৌটা থেকে দেড় চামচ চিনি দিয়ে নাড়া দিল চামচ দিয়ে।পরিষ্কার দেখে পিরিচে করে চায়ের কাপ বাড়িয়ে দিল পুষ্পের দিকে।পুষ্প চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বলল,টোস্ট বিস্কুট দিন।
দোকানদার মজিদ নতুন প্যাকেট ছিঁড়ে সেখান থেকে তিনটি টোস্ট পিরিচে করে পুষ্পের দিকে বাড়িয়ে বললো,এই নিন,আপা।একদম নতুন প্যাকেট ছিঁড়ে দিছি।ভালোবাসার গল্প
পুষ্প চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বলল,চা বেশ ভালো হয়েছে।পিরিচ থেকে একটি বিস্কুট নিয়ে কালাপাহাড়ের দিকে ছুঁয়ে দিল পুষ্প।কালাপাহাড় আওয়াজ করে বিস্কুট খেতে শুরু করল।
দোকানদার মজিদ বেশ খুশি মনে হলো।পুষ্পের দিকে তাকিয়ে বলল,আপা,আমার দোকান বন্ধ হবে না তো?
-সেটা পরে দেখা যাবে।কাব্য বলে কাউকে চিনেন আপনি?জিজ্ঞেস করল পুষ্প।
-জ্বি আপা,অতি ভদ্র ছেলে।যেমন ব্যবহার,তেমন তার বিনয়ী ভাব।প্রতিদিনই আমার দোকানে এসো চা খায়।আমার কালাপাহাড়ও কাব্য ভাইকে পছন্দ করে,বলল দোকানদার মজিদ।
-আপনি বেশি কথা বলেন,মজিদ ভাই।এত কথা তো বলতে বলিনি।যাই হোক,ওর বাসা কোথায় সেটা বলুন?বলল পুষ্প।
-এইতো একটু সামনে হাঁটলে ১১/৩,ইয়াজউদ্দিন স্যারের বাড়ি।বাড়ির নাম নীরব কুঠির।কাব্য ভাই,মনে হয় চিলেকোঠার রুম ভাড়া নিছে,বলল দোকানদার মজিদ।
-আচ্ছা আমি এখন আসি।আর চা খুবই ভালো লেগেছে।এই নিন টাকা,পুরোটা রেখে দিন,পঞ্চাশ টাকার একটি নোট বাড়িয়ে দিল পুষ্প।আর শুনুন,আমি পুলিশের কেউ নই।আপনাকে সকাল সকাল একটু ভয় দেখাতে ইচ্ছে হলো।কাউকে ভয় দেখাতে আমার খুব ভালো লাগে।এই কালাপাহাড় আসি,পরে দেখা হবে,পুষ্প বেরিয়ে গেল দোকান থেকে।
দোকানাদার মজিদ অস্ফুট স্বরে বলল,অতি অদ্ভুদ মেয়ে তো।ভয় দেখাতে ভালো লাগে এটা কেমন ইচ্ছা।এদিকে আমার যায় যায় অবস্থা হয়ে দাঁড়াইছে।দোকানদার মজিদ পুষ্পের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
ভালোবাসার গল্প
পুষ্প রাস্তা ধরে হাঁটছে।দোকানদার মজিদকে ভয় দেখাতে পেরে পুষ্প বেশ খুশি।মুচকি হেসে পা ফেলছে ধীর পায়ে।শাড়ি পড়ে হাঁটতে বেশ অশস্তি লাগছে পুষ্পের।তবে ইদানিং শাড়ি পড়ে হাঁটার অভ্যাসে নিজেকে বেশ মানিয়ে নিয়েছে।১১/৩ চোখে পড়তেই থেমে গেল পুষ্প।বেশ সাবধানে রাস্তা পেরিয়ে নীরব কুঠিরের গেইটের সামনে এসে দাঁড়িয়ে পড়ল পুষ্প।গেইটে কয়েকবার টোঁকা দিতেই ভেতর থেকে বয়স্ক কন্ঠে শোনা গেল,গেইট খোলা আছে।ভেতরে আসুন।
পুষ্প ভেতরে ঢুকে দেখতে পেল একটি বয়োজ্যেষ্ঠ লোক চেয়ারে বসে আছে।লোকটির চোখে চশমা।হাতে পত্রিকা নিয়ে বেশ মনোযোগে পড়ছেন।গেইট দিয়ে অপরিচিত কেউ এসেছে কিনা সেদিকে খেয়াল নেই তার।লোকটির পাশে একটি মেয়ে বসে আছে।হাতে পুতুল নিয়ে খেলছে।দেখতে ইংরেজ বাচ্চার মতো।পুষ্প বলল,এটা ইয়াজউদ্দিন সাহেবের বাড়ি?
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ মাথা তুলে বলল,আমি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।তুমি আমার মেয়ের বয়সী।তুমি করেই বলি।তোমাকে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।
ভালোবাসার গল্প
-আমি পুষ্প।কাব্যের সাথে দেখা করতে এসেছি।কাব্য আর আমি একসাথেই মেডিকেলে পড়ি।ওর সঙ্গে দেখা করা যাবে,বেশ ভয়ে জিজ্ঞাসা করল পুষ্প।ব্যাচেলর ছেলের সাথে দেখা করার ব্যাপারটা বাড়িওয়ালারা একটু কটু নজরে দেখেন।মন কতটুকু সেক্ষেত্রে সায় দেয় সেটাই দেখার বিষয়।
-দেখো,কাব্য ছেলেটা খুবই ভালো।কিন্তু এভাবে একটা ছেলের বাসায় যুবতী মেয়ে যাওয়াটাও ঠিক নয়।অনেকে ভিন্ন নজরে দেখবে।তবুও তুমি অনেক আশা নিয়ে এসেছো।আমি সে আশা ভেঙে দিবো না।তবে তোমাকে ঘন্টাখানেক সময় আমি দিতে পারি।এই সময়ের মধ্যে কথা বলে চলে আসতে হবে।মানুষের জরুরি প্রয়োজন হতেই পারে,হেসে বললেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
-জ্বি আংকেল,এতটুকু সময় হলেই হবে।আপনাকে ধন্যবাদ,বলল পুষ্প।
-একদম উপরে চলে যাও,ডানপাশের চিলেকোঠায় কাব্য থাকে।গতকাল বৃষ্টি হয়েছে।একটু সাবধানে যাবে ছাদে,বললেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
কাব্য চোখ বন্ধ করে বিছানায় শুয়ে আছে।শরীরে ভীষণ জ্বর।পুরো শরীর দুর্বল।শোয়া থেকে উঠতে পারছে না ঠিকমতো।নিচতলা থেকে পুষ্পের কন্ঠ কানে ভেসে আসল কাব্যের।চোখ খুলল সে।সত্যিই কি পুষ্প এসেছে?সে আসবে কেন?জ্বরের ঘোরে স্বপ্ন দেখেছি হয়তো,কাব্য আবার চোখ বন্ধ করলো।হঠাৎ দরজায় টোঁকা পড়ল মনে হলো।
-কাব্য,তুমি কি বাসার ভেতরে আছো?পুষ্পের কন্ঠ আসল বাইরে থেকে।
কাব্য কাঁতর গলায় বলল,দরজা খোলা আছে।ভেতরে চলে এসো তুমি।
ভালোবাসার গল্প
পুষ্প দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই একটা গন্ধ নাকে আসল।মেয়েদের শাড়ির গন্ধ।পুষ্প দেখতে পেল,কাব্য বিছানায় শুয়ে আছে।গায়ে কাঁথা দেয়া।ঠোঁটদুটো কাঁপছে।পুষ্প বিছানায় এসে বসল।কপালে হাত দিয়ে বলল,তোমার তো ভীষণ জ্বর।ঔষধ খাও নাই তাই না?
কাব্য বলল,কাল রাত থেকে জ্বর এসেছে।বাইরে যাওয়ার শক্তিটুকু নেই।বাড়িওয়ালা চাচাকে ডাক দিবো,সে জোর নেই।তুমি হঠাৎ আমার এখানে?
-কথা কম বলো,আমি একটু আসছি,পুষ্প বিছানা থেকে উঠে টেবিলের উপর একটা বাটি খুঁজে পেল।সেখানে কিছু মুড়ি আছে।মুড়িগুলো নিচে ফেলে বাটিতে পানি ঢেলে বিছানায় এসে বসে পড়ল।বলল,তোমার কাছে পাতলা কাপড় নেই?
কাব্য কাঁতর কন্ঠে বলল,পাতলা কাপড় নেই।তবে আশেপাশে গামছা আছে দেখো।
পুষ্প চারপাশে তাকিয়ে বিছানার কোণায় একটা গামছা দেখতে পেল।গামছা হাতে নিয়ে পানিতে ভেজালো।ভেজা গামছা কাব্যের কপালে লাগিয়ে বলল,কাব্য,একটা কথা জিজ্ঞেস করবো,উত্তর দিবে?
-আমার শরীরে ভীষণ জ্বর।কিন্তু আমি উত্তর দিতে পারবো।তুমি বলতে পারো,পুষ্প,বলল কাব্য।
ভালোবাসার গল্প
-তোমার বাসায় আসতেই একটা মেয়ে মেয়ে গন্ধ নাকে লাগছে ।তোমার বাসায় কোনো মেয়ে এসেছিল,জিজ্ঞেস করল পুষ্প।
কাব্য চোখ মেলে পুষ্পের দিকে তাকালো।বলল,আমার নাকে তো লাগছে না।
-তোমার শরীরে জ্বর।সর্দি লেগে আছে নাকে।তোমার লাগবে না সেটা স্বাভাবিক।কিন্তু একটা মেয়ে অন্য একটা মেয়ের শরীরের গন্ধ ঠিকই চিনতে পারে।যাই হোক,তোমাকে একটা কথা বলবো বলবো ভাবছি।কিন্তু বলতে পারছি না,মাথা নিচু করে বলল পুষ্প।মনে হয় সে লজ্জা পেয়েছে।
কাব্য পুষ্পের কথা শুনে কিছুটা অবাক হয়েছে মনে হলো।সে শোয়া থেকে উঠতেই পড়ে গেল পুষ্পের হাতে।একটুর জন্য কাব্যের শরীরে লেগে পানিগুলো নিচে পড়েনি।পুষ্প বলল,এত অস্থির হতে হবে না।আমি তো মেয়ে হয়ে কথাটা স্বাভাবিকভাবেই বললাম।তুমি এত অস্থির হলে হবে?
কাব্য বলল,আমি কিছু বুঝতে পারছি না।কি এমন কথা বলবে তুমি আমাকে,পুষ্প?জ্বর নিয়ে ভুল শুনেছি নাকি?
পুষ্প বলল,সবকিছু বুঝেও না বুঝার ভান করা কি প্রতিটা মানুষের স্বভাব?নাকি এটাই প্রকৃতির নিয়ম?একটা কবিতা ভীষণ মনে পড়ছে-
"তোমাকে মাঝেমাঝে ভীষণ অচেনা মনে হয়,প্রিয়
ভালোবাসি কথাটা বলার পরও
কেমন যেন এড়িয়ে যাও আমায়
এটাই কি আগ বাড়িয়ে ভালোবাসার প্রতিদান
নাকি প্রেমিকদের লক্ষন"
পুষ্প বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো।চোখের কোণে পানি।পুষ্প বলল,ঘন্টাখানেক সময় পার হয়ে গেছে কাব্য।এখন বের হতে হবে।তবে উত্তরের অপেক্ষায় থাকবো আমি।দরজা ছেড়ে বেরিয়ে গেল পুষ্প।
কাব্য যেন একটা ঘোরে ডুবে আছে।এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে দরজায়।একটা কথা কানে বাজছে বারবার,"অপেক্ষায় থাকবো।"
এগার.ভালোবাসার গল্প
সাজ্জাদ জহির অফিসে বসে আছেন।তার হাতে সিগারেট।ধোঁয়ায় চারপাশ ভরে আছে।তিনি যখন খুবই আনন্দে থাকেন তখন ধূমপান করেন।ব্যাপারটা সত্যিই উল্টো।তিনি মনে করেন,সিগারেট হাতে থাকলে নিজেকে দুনিয়ার বাদশা মনে হয়।সবাই এক কথায় উঠবে আর বসবে।চোখ বন্ধ করলে সত্যিই এসব ভেসে উঠে কল্পনায়।
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
-আসসালামুআলাইকুম স্যার,ভেতরে আসবো?আপনার শরীর স্বাস্থ্য ভালো তো?ভেতরে ঢুকলেন ম্যানেজার শফিকুর রহমান।সিগারেটের গন্ধ নাকে আসতেই তিনি একটু কেশে উঠলেন।নিজেকে সামলে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে রইলেন তিনি।সাজ্জাদ জহির চোখ খুলে দেখলেন,ম্যানেজার শফিকুর রহমান দাঁড়িয়ে আছে হাসি মুখে।সিগারেটের গন্ধে তিনি খুব বিরক্ত।কিন্তু মুখে সেটা প্রকাশ করছেন না।তবে মানুষ চোখের ভাষা কখনো লুকিয়ে রাখতে পারে না।সিগারেটের অংশ কাঠের কৌটার ভেতর রেখে তিনি হাত দিয়ে ধোঁয়া সরিয়ে বললেন,আজ মনে খুব আনন্দ।এই কারনে একটু বাদশাহি আমলে ঘুরে আসলাম সিগারেট নিয়ে,বেশ জোরে হেসে উঠলেন সাজ্জাদ জহির।হাতের ইশারায় বসতে বললেন,ম্যানেজার শফিকুর রহমানকে।
শফিকুর রহমান বসতে বসতে বললেন,মানুষ চিন্তা বেড় গেলে সিগারেট খায়।আর আপনি আনন্দে,বেশ অদ্ভুদ ব্যাপার,স্যার।
-হুম সত্যিই আমি বড় অদ্ভুদ।তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটা বিষয়ে আপনার পরামর্শ গ্রহন করতে চেয়েছিলাম।কিন্তু ছোট একটি ছেলে খুব সহজে সে সমাধানের পথ দেখিয়েছে আমাকে,বলল সাজ্জাদ জহির।
-বাহ,বেশ ভালো।সবই আল্লাহপাকের ইচ্ছা।তিনি চাইলে যেকোনো উছিলায় আপনার সমস্যার সমাধান দেখাতে পারেন,বলল ম্যানেজার শফিকুর রহমান।
-ভাবছি,ছেলেটার সাথে পুষ্পের বিবাহ দিবো।একটা পরিবার যে জোড়া লাগাতে পারে,সে ছেলেকে বিশ্বাস করা যায়।যদিও সে কিছু করে না,পুষ্পের সাথে পড়াশুনা করছে,বলল সাজ্জাদ জহির।
-অতি উত্তম প্রস্তাব,স্যার।সবই আল্লাপাকের মেহেরবানি।আপনি বিচক্ষণ মানুষ,সবকিছু ভেবে তবেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন,হেসে বলল ম্যানেজার শফিকুর রহমান।
-আপনি যখন সায় দিলেন তাহলে চিন্তা নেই,শফিক সাহেব।আপনি দাবা খেলতে পারেন?জিজ্ঞেস করলেন সাজ্জাদ জহির।
-জ্বি স্যার,পারি।আমার দাবা খেলার একটা ইতিহাস আছে।আপনি সায় দিলে ঘটনাটা বলতে পারি,বললেন শফিকুর রহমান।
সাজ্জাদ জহির হাতের ইশারায় ইঙ্গিত দিয়ে টেবিলের ড্রয়ার খুললেন।বের করলেন,দাবার ঘর।বেশ দামি দাবার ঘর।গুঁটি সাজাতে হয় না।চুম্বকের গুঁটি ঘরে লেগে থাকে।
-আমি একবার দূর সম্পর্কের মামার বাড়ি বেড়াতে গিয়েছিলাম বছর পাঁচ আগে।অজপাঁড়া গ্রাম বললে চলে।বিদ্যুৎ এখনও পৌঁছায় নি সেখানে।গিয়ে পড়লাম মহাবিপদে।টিভি নেই,মোবাইলে চার্জ দিতে দুই কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয় বাজারে।খুবই হিসেব করে মোবাইলের চার্জ খরচ করতে হয়।এইদিকে সময়ও কাটে না আমার।আমি খুবই বিরক্ত।শেষে একজনকে পেলাম,সে সারাক্ষনই দাবা খেলে।তখন বলল,আপনাকে দাবা খেলা শিখিয়ে দিবো।তখন সময় এমনিতেই কেটে যাবে।কথাটা বেশ মনে ধরলো।তারপর আর কি,শিখে ফেললাম দাবা।অতি বুদ্ধিমানের খেলা।বুদ্ধি না থাকলে দাবা খেলায় বলে বলে হারানো যাবে।
-আপনি বেশ গুছিয়ে কথা বলতে পারেন,শফিক সাহেব।সাধারন কথা অসাধারনভাবে বর্ণনা করতে আপনার জুড়ি মেলা ভার।আসেন,শুরু করি খেলা। আপনি যদি আমাকে হারাতে পারেন,তবে আপনার দুই দিনের ছুটি মন্জুর,বললেন সাজ্জাদ জহির।
ছুটির কথা শুনে শফিক সাহেব দাড়িতে হাত বুলিয়ে মুচকি হেসে উঠলেন।বললেন,সবই আপনার মেহেরবানি,স্যার।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ দরজার কোণে দাঁড়িয়ে ওনার ছোট মেয়ে তুবাকে দেখছেন।তুবা জানালার বাইরে তাকিয়ে আছে।আকাশে দিকে তাকিয়ে বোধহয় মনের অব্যক্ত কথাগুলো বলছে।আয়রা বিছানায় বসে আছে।মোবাইলে তাকিয়ে কি যেন দেখছে।মাঝেমাঝে হেসে উঠছে।কয়েকবার আম্মু বলে ডাকলেও তুবার সেদিকে খেয়াল নেই।ইয়াজউদ্দিন আহমেদ লাঠি দিয়ে মেঝেতে আওয়াজ করে বললেন,ভেতরে আসবো,তুবা?
তুবা চমকে উঠল।চোখ মুছে পেছনে ফিরে হেসে বলল,বাবা,ভেতরে এসো।হঠাৎ কি মনে করে?
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ হেঁটে তুবার সামনে দাঁড়ালো।কাঁধে হাত রেখে বলল,মিথ্যে হেসে লাভ নেই রে মা।আমি তোর বাবা।আমি সবই বুঝি।শোন,সম্পর্কটা হলো হাতের ভিতরে রাখা প্রজাপতির মতো।বেশি শক্ত করে ধরে রাখতে চাইলে মারা যাবে।আবার নরম করে ধরলে উড়ে চলে যাবে।নিজেদের মধ্যে এমন একটু ঝামেলা হবেই।কিন্তু দুজনেই যদি নিজেকে বড় মনে করে সমাধানের চেষ্টা না করো,তবে সমস্যা বেড়েই চলবে।একসময় তৈরি হবে দূরত্ব।
-বাবা,সে আমাকে বুঝতেই চেষ্টা করেভালোবাসার গল্প না।সারাক্ষন একটাই কথা,তুমি আমাকে এড়িয়ে চলো।আমি একটা জব করি,সময় তো পেতে হবে তাই না,বলল তুবা।
-শোন,আমি যখন নতুন ব্যবসা শুরু করি,তখন বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়ি।তোর মায়ের সাথে দেখা হতো দিনে মাত্র একবার।তুলির বয়স তখন মাত্র ছয় বছর।কিন্তু দিনশেষে বাসায় ফিরে এই ক্লান্ত শরীর নিয়ে ঘন্টাখানেক গল্প করতাম তোর মায়ের সঙ্গে।তখন সে কি যে খুশি হতো,সেই হাসি দেখে আমার সকল ক্লান্তি হাওয়া হয়ে যেতো।অজুহাতগুলো দূরে রেখে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা বুদ্ধিমানের কাজ,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
তুবা কিছু বলল না।চুপ করে বাইরে তাকিয়ে রইল।
-আয়রাকে নিয়ে নিচে খেতে আয়।আমরা সবাই টেবিলে তোর জন্য অপেক্ষা করছি।ইয়াজউদ্দিন আহমেদ বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে।
তুবা পেছনে তাকিয়ে আয়রাকে বলল,দেখি মামনি,ফোনটা দাও তো।তোমার বাবাকে ফোন করবো।মানুষটা না খেয়ে আছে।আমি না বললে অভিমান করে বসে থাকবে।এই তুমি এখনও দুপুরের খাবার খাওনি?এখনি খেয়ে আমাকে কল করবে।আমার মাথা ঠিকই আছে।একটু মাথা গরম ছিল,তাই ফোন কেটে বসেছিলাম,ফোনের ও'পাশ থেকে শোনা গেল হাসির শব্দ।
দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে মুচকি হাসলেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।অস্ফুট স্বরে বললেন,সত্যিই অদ্ভুদ দুনিয়া।ভালোবাসার কত রঙ!
কাব্যে ইয়াজউদ্দিন আহমেদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।শরীরে জ্বর কিছুটা কমেছে।তবে দুর্বলতা নেই।দিব্যি হাঁটতে পারছে সে।গায়ে শালের পাতলা চাদর জড়িয়ে।আজ ইয়াজউদ্দিন আহমেদ দুপুরে ডেকে পাঠিয়েছে ফুলিকে দিয়ে।কি কথা বলবেন তিনি!ভেতরে ঢুকতে বেশ অসস্তি লাগছে কাব্যের।ভেতরে ওনার দুই মেয়ে আছে।এভাবে একা ঢুকে গেলে কি মনে করে।অনেক ভেবে দরজায় নক করল কাব্য।সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দিল ফুলি।যেন দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল কাব্যের জন্য।কাব্য ভেতরে ঢুকতেই দেখতে পেল,সোফায় সবাই বসে আছে।মাঝে ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।ওনার পাশে পুতুল হাতে নিয়ে একটি ছোট মেয়ে বসে আছে।ইয়াজউদ্দিন সাহেবের সামনে বসে আছে দুটি মেয়ে।একজন চশমা পড়ে আছে,যাকে সেদিন বৃষ্টিতে জানালার বাইরে হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে আলিঙ্গন করতে দেখেছিল।চোখ চোখ পড়তেই জানালা বন্ধ করে দিয়েছিল কাব্য।ব্যাপারটা মনে পড়তেই কাব্য একটু লজ্জা পেল।সেদিনের ব্যাপারটা নিয়ে আজ যদি কিছু বলে তাহলে তো লজ্জায় পড়তে হবে সবার সামনে।কাব্য সোফায় মাথা নিঁচু করে বসলো।
-কি ব্যাপার কাব্য,এত জড়োসড়ো হয়ে বসে আছো কেন?একটু স্বাভাবিক হয়ে আমাদের মতো বসো।এটা তোমার নিজের বাড়ি মনে করতে পারো,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
-চাচা,শরীর একটু খারাপ।জ্বর ছিল প্রচন্ড এখন কিছুটা কমেছে,মাথা তুলে বলল কাব্য।
-জানালা খুলে বৃষ্টির বদলে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলে জ্বর তো হবেই,কাব্যের দিকে তাকিয়ে বলল তুবা।
কাব্য ব্যাপারটায় প্রস্তুত ছিল না।বেশ কেশে উঠল কাব্য।
ভালোবাসার গল্প
-এই কি হচ্ছে তুবা?তুমি আবার ছেলেমানুষি শুরু করে দিলে।যাই হোক,কাব্য,আজ তোমাকে আমার মেয়েদের সঙ্গে পরিচয় করার জন্য ডেকেছি।হয়তো চলে যাবে কিছুদিন পর,বলল ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
কাব্য কিছু বলল না।ইয়াজউদ্দিন আহমেদের দিকে তাকিয়ে হাসার চেষ্টা করল।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ পাশে বসা ছোট মেয়েটিকে জড়িয়ে বলল,এই হচ্ছে আমার নানুভাই,আরিশা।খুবই চঞ্চল মেয়ে।তবে বেশ বুদ্ধিমতী।আমার বড় নাতনী।আর ওইযে কোলে বসে আছে,সে হচ্ছে আমার ছোট নাতনী আয়রা।একটু কম কথা বলে।আর আয়রা আমার বড় মেয়ে তুলির কোলে বসে আছে।আর একটু আগে যে কথা বলল সে হচ্ছে ছোট মেয়ে তুবা।আয়রা হলো তুবার মেয়ে।
![]() |
| ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
কাব্য বলল,চাচা,সবার সাথে পরিচিত হয়ে ভালো লাগল।রাসেল ভাইয়াকে দেখছি না।ওনি কোথায়?
ইয়াজউদ্দিন আহমেদ রাসেলের কথায় একটু বিরক্ত হলেন।বললেন,রাসেল রুমে শুয়ে আছে।তবে এখন আর তালা মেরে রাখা হয়না।যা ইচ্ছা তাই করে।
-জ্বি চাচা,আশা করি তিনি ভালো হয়ে যাবেন,বলল কাব্য।
-কাব্য কিন্তু বেশ ভালো কবিতা আবৃত্তি করতে পারে।কি কাব্য,হয়ে যাবে নাকি আজকে?শরীর খারাপ নিয়ে পারবে আবৃত্তি করতে?জিজ্ঞেস করলেন ইয়াজউদ্দিন আহমেদ।
-জ্বি চাচা,পারবো।হয়তো এমন সময় আসবে না,কাব্য একটু স্বাভাবিক হয়ে বসল।কাব্য বলতে শুরু করল-
"আমি কোন কালেই পুরোদস্তুর
কবি ছিলাম না!
কখনো প্রেমিক, কখনো ক্রিকেটার
কিংবা কখনো বাউন্ডুলে ছাত্র।
কেবল তোমার কথা চিন্তা করলেই
আমি কাব্যের প্রলাপবাক্য বকতে পারতাম।
কেবল তোমার কথা চিন্তা করলেই
হয়ে যেতাম মহাপ্রেমিক,মহাকবি,
হয়তো মহাপুরুষ!
কেবল তোমার চিন্তা করলেই
পাড়ি দিতে পারতাম সপ্ত আকাশ,
নক্ষত্রমন্ডলী..."
সবাই মুগ্ধ হয়ে শুনছে কবিতা।ফুলি দরজার কোণায় দাঁড়িয়ে কি মনে করে চোখ বন্ধ করে মাথা নাড়াচ্ছে।বাতাস বয়ে যাচ্ছে চারপাশে।হয়তো বয়ে যাচ্ছে কারও ভেতরে।ডানা ঝাপটানো পাখির মতো আকাশে উড়ার চেষ্টায়।শোঁ শোঁ আওয়াজে জানিয়ে দিচ্ছে,বিরহ জেগেছে মনে।যে মনের কোনো দিক নেই।সে ছুটে চলেছে ঠিকানাহীন গন্তব্যে।
বার.ভালোবাসার গল্প
চারদিক নিস্তব্ধতায় ছেঁয়ে আছে।মাঝেমাঝে পেঁচা ডেকে উঠছে দূরে কোথাও।রাসেল বিছানায় শুয়ে আছে।রুমের জানালা খোলা।অপূর্ব মন মাতানো জ্যোৎস্নার রূপ।জানালা দিয়ে আকাশ দেখছে রাসেল।মানুষ অন্ধকারকে খুব কম ভয় পায়।বরং একাকী এই অন্ধকারকে বরন করে নেয় সে।অনেকদিন পর এমন রাতের আকাশ দেখে রাসেল মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।বুক ভরে শ্বাস নিচ্ছে সে।আজ ঘুমানোর সময় নেই।আজ শুধু চাঁদের আলোয় আকাশ দেখার সময়।হঠাৎ রাসেলের কানে নুপূরের শব্দ ভেসে আসল।এই মাঝরাতে নুপূর পড়ে হাঁটছে কে?রাসেল শোয়া থেকে বিছানায় উঠে বসলো।নুপূরের আওয়াজ ধীরে ধীরে কাছে আসছে।রাসেল বিছানা ছেড়ে দরজার কাছে আসল।খুব সাবধানে দরজা খুলল রাসেল।দরজা খুলে চমকে উঠল রাসেল।সিড়িতে কারো ছায়া দেখা যাচ্ছে।রাসেল বলল,কে ওখানে?এত রাতে কে হাঁটে?
ছায়াটি উপরে উঠছে ধীর পায়ে।রাসেল দরজা ঠেলে বেরিয়ে হাঁটতে শুরু করল।যেন কোনো মায়াজাদু টেনে নিয়ে যাচ্ছে ছায়াটির পিঁছু।রাসেল সিড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই ছায়াটি আর নেই।নুপূরের শব্দ কোথাও যেন মিলিয়ে গেছে।রাসেল পেছনে ফিরতেই ধাক্কা খেল।ছায়াটি দরজায় দাঁড়িয়ে আছে।রাসেল বলল,আমাকে তোমার সাথে নিয়ে যাবে,সুহাসিনী?আর ভালো লাগছে না তোমাকে ছাড়া।তোমায় নিয়ে জ্যোৎস্না মাখবো দূর গাঁয়ে।
ইয়াজউদ্দিন আহমেদের গলা শোনা গেল ভেতর থেকে,এই রাসেল,তুমি কি বাইরে?ফুলি,গিয়ে দেখ তো।
ছায়াটি মিলিয়ে গেল।রাসেল হঠাৎ কান্না করে উঠল।বলল,আমাকে নিয়ে যাও,সুহাসিনী।খুব শীঘ্রই চলে আসবো তোমার কাছে।
ভালোবাসার সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
.........চলবে........
written by Habib Khan Hridoy


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন