![]() |
| pic Petuk Couple |
--বাসের কোনো একটা সমস্যার জন্য ১ ঘন্টা সময় লাগবে!(নীল)
--তাহলে এখন কি করবো?(বর্ষা)
--বসে থাকা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই!(নীল)
--হুম!(বর্ষা)
তারপরে আমরা দুইজন কিছুক্ষনের জন্য চুপ থাকলাম!
হঠাৎ করে বর্ষা বলে ওঠলো.....
--ওই যে দেখেন বাইরে জোনাকি পোকা!(বর্ষা)
--বর্ষার কথা শুনে আমিও তাকিয়ে দেখলাম অনেক জোনাকি মাঠের মধ্যে উড়ে বেরাচ্ছে!
হুম অনেক সুন্দর লাগছে!(নীল)
--আচ্ছা চলেন!(বর্ষা)
--কোথায়?(নীল)
--নিচে,(বর্ষা)
--পাগল হয়েছো তুমি এতো রাতে বাস থেকে নামা ঠিক হবে না!(নীল)
--প্লিজ,প্লিজ,প্লিজ একটু বেশিক্ষন থাকবো না!প্লিজ চলেন!(বর্ষা)
--আচ্ছা চলো!তারপরে আগে আমি বাস থেকে নামলাম!কিন্তু বর্ষা নামছে না!
কি হলো তুমি নামছো না কেনো?(নীল)
--কিভাবে নামবো?অনেক নিচু তো!(বর্ষা)
--হুম!কিন্তু এইভাবেই নামতে হবে!(নীল)
--ভয় লাগছে পরে যাবো তো!(বর্ষা)
--তাহলে নামতে হবে না!(নীল)
--না,না প্লিজ আমি নামবো!(বর্ষা)
--আজব তো তুমিই তো নামতে ভয় পাচ্ছো!(নীল)
--আচ্ছা একটা কাজ করেন!(বর্ষা)
--কী সেটা?(নীল)
--আমাকে কোলে করে নামিয়ে নেন!(বর্ষা)
--What ?কি বলছো এইসব কখনোই না!(নীল)
--তাহলে আমি কিন্তু এইবার কান্না করতে লাগবো!(বর্ষা)
--আজব তো এখানে কান্না আসছে কেনো?(নীল)
--এই যে আপনি আমাকে নামাচ্ছেন না তাই(বর্ষা)
--না সেটা আমি পারবো না!(নীল)
--আমি কান্না শুরু করবো কিন্তু.!(বর্ষা কান্নাভাবে বললো)
--আচ্ছা কান্না করা লাগবে না!
--উফফ কোন মেয়ের পাল্লাই পরলাম রে বাবা!(আমি মনে মনে বললাম)
--কি বললেন ?(বর্ষা)
--বলছি এগিয়ে আসেন কাছে!(নীল)
--হুম !(বর্ষা)
--তারপরে বর্ষা কাছে এসে আমার গলা জরিয়ে ধরলো!
এই এই কি করছো?(নীল)
--আপনাকে না ধরলে পরে যাবো তো!(বর্ষা)
--আচ্ছা ধরো!(নীল)
--ধরো বলার সাথে সাথে বর্ষা আমাকে আরো শক্ত করে জরিয়ে ধরলো! আমি কিছু না বলে ! তাকে সোজা কোলে করে নামিয়ে নিলাম! বর্ষা নামার সাথে সাথে দৌড়ে ফাকা জায়গায় চলে গেলো!
বর্ষা জোনাকি পোকাগুলোর সাথে খেলতে লাগলো!
বর্ষাকে দেখে এখন ঠিক বাচ্চাদের মতোই লাগছে!
বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে!তাদের মতোই নাচানাচিও করছে! আমি তার দিকে মুগ্ধ ভাবে তাকিয়ে আছি!সত্যি বর্ষাকে আজ অনেক সুন্দর লাগছে! এই জোস্ন্যা রাতে ফাকা এক মাঠের মধ্যে জোনাকির আলোতে তাকে যেনো পরির মতো লাগছে!
যদিও আমি কখনো পরি দেখি নাই!কিন্তু আমার কাছে আজ!এই মুহুর্তটা যেনো অনেক রোমান্টিক মনে হচ্ছে!
মনে হচ্ছে এই সুন্দরি মেয়েকে নিয়ে একটা কবিতা লিখি!
মধ্যেরাতের জোসনা টুকু ,কেউ না দেখে চেয়ে,সবাই যখন গভীর ঘুমে থাকলো জেগে একটি মেয়ে!
ঘুম আসে না তার,যে চোখে ঘোর লেগেছে মনে,
জোসনা রাতে কী যে মধুর জোনাকি পোকা ঘিরে!
একটি যুবক দেখেছে তাকে,লাগলো কি যে ভালো,
মেয়ে তোমার রুপ যে মধুর চাদের যে আলো,
জোসনারাতের জোসনা তুমি ,
আলো ছড়াও কত!
কেউ কি তোমাকে ভালোবাসবে এই যুবকের মতো?!
--এই হ্যালো মিষ্টার কি ভাবছেন এতো?(বর্ষা)
--...?
--কি হলো কিছু বলছেন না কেনো?(বর্ষা)
--বর্ষার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম!
কিছু না!চলো এইবার!(নীল)
--আর একটু প্লিজ!(বর্ষা)
--আচ্ছা!(নীল)
--জানেন আমার একটা ইচ্ছা আছে!(বর্ষা)
--কী ইচ্ছা জানতে পারি ?(নীল)
--এই যে এই জোসনা রাতে তারা ভরা আকাশের নিচে!খোলা একটা মাঠের মধ্যে প্রিয় মানুষের কাধে মাথা রেখে সারারাত গল্প করে কাটিয়ে দেওয়ার!(বর্ষা)
--ওয়াও তুমি তো খুব রোমান্টিক দেখছি!(নীল)
--সেটা তো আপনার গল্প পড়েই শিখেছি!(বর্ষা)
--মানে?তুমি আমার গল্প পড়ো?(নীল)
--হুম!ভিশন ভালোবাসি!(বর্ষা)
--কাকে?(নীল)
--আপনার গল্পকে!(বর্ষা)
--ওহ!(নীল)
--সাথে আপনাকেও!(আস্তে বললো বর্ষা)
--কি বললে?(নীল)
--কই কিছু না তো!(বর্ষা)
--আচ্ছা এইবার চলো যাওয়া যাক!(নীল)
--তারপরে আমরা সেইখানে থেকে বাসে ওঠে পড়লাম!
আচ্ছা এইবার ভিতরে যাও!(নীল)
--আর আপনি?(বর্ষা)
--আমি এইখানেই থাকছি!(নীল)
--না আপনিও ভিতরে আসেন!(বর্ষা)
--তারপরে আর কি বর্ষার কথা মতো ভিতরে চলে আসলাম!
ভিতরে এসে দেখলাম!ইমন,সজীব আর হৃদয় ৩ জন এক সাথে ঘুমিয়ে আছে!আর তাদের বাম পাশে ২টা সিট খালি আছে!
--আপনি এইখানে বসেন! আপনার তো জানালার পাশে বসতে খুব ভালো লাগে!(বর্ষা)
--সেটা তুমি জানলে কী করে?(নীল)
--ভাইয়া বলেছে!(বর্ষা)
--ওহ আচ্ছা বলে ঘুমিয়ে গেলাম! রাত 5টার সময় পৌছালাম!বাসায় যেতে যেতে 6টা বেজে গেলো!
তাই বাসায় এসে কারো সাথে তেমন কোনো কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়লাম!.........
পরেরদিন সকালে ঘুমের মধ্যেই মনে হচ্ছে আমার বুকের ওপরে কেউ বসে আছে! আমি ভয়ে তাড়াতাড়ি চোখ খুললাম!কারন ভুত ও হতে পারে!
কিন্তু সেটা ভুত না প্রেত্নী!
কিরে প্রেত্নী তুই আমার উপরে বসে আছিস,কেনো?(নীল)
--তুমি আমাকে বলে আসোনি কেনো!(নিলা)
--(মানে আমার চাচাতো বোন)
ইসসস তুমি কি আমার বউ লাগো !যে তোমাকে বলে আসতে হবে?(নীল)
--সত্যি আমাকে বউ বানাবি তোর?(নিলা)
--তোর বিয়ে কবে আগে সেটা বল?(নীল)
--আগামী পরশু!(নিলা)
--তাহলে আমার কি হবে?(নীল)
--মানে?(নিলা)
--তুই বুঝিছ না!সেই ছোটকালে থেকেই আমি তোকে কত ভালোবেসে এসেছি!এই আকাশ বাতাস সাক্ষী রেখে তোকে আমি আমার মনে জায়গা দিয়েছি! তুই বুঝবি না আমার ভালোবাসার কথা!
তোর মনে নেই ছোটকালে তুই পুকুরে ডুবে যাচ্ছিলি!আমি সাতার না জানা শর্তেও জলতে ঝাপ দিয়ে ছিলাম! শুধু মাএ তোকে বাচানোর জন্য!
সেই সব কথা ভুলে গেলি?
আমার ভালোবাসার কথাও ভুলে গেলি?(আমি কান্নার অভিনয় করে)
--তুই সত্যিই আমাকে এতো ভালোবাসিস?(নিলা কান্না করে দিলো)
--এ্য!(নীল)
--আচ্ছা আব্বুকে এখনি আমি বলছি!আর তোর সাথেই বিয়ে করবো আমি!(নিলা)
--হাহাহাহাহা!(নীল)
--তুমি হাসছো কেনো?(নিলা)
--আমি তো তোর সাথে মজা করলাম!(নীল)
--মানে?(নিলা)
--মানে আমি তোর সাথে এতক্ষন নাটক করছিলাম!হাহাহাহা(নীল)
--কি বললি কুত্তা (নিলা)
বলেই নিলা আমার মিডিল স্টাম বরাবর দিলো এক লাথি!
দিয়ে দৌড়ে চলে গেলো!
আর আমি ওইখানেই বসে পড়লাম!আর চোখের সামনে অনেক পাখি দেখতে পেলাম!
কিছুক্ষন পরে ইমন আসলো!
--কিরে দোস্ত তুই ওইখানে ধরে আসিস কেন?(ইমন)
--সালা সেটা কি তোরে বলা লাগবে!(আমি রাগি লুক নিয়ে )
--আরে দুলাভাই রাগ করছিস কেনো বলবি তো!(ইমন)
--দেখতে পারছিস না!(নীল)
--ওহ মামা বুঝেছি এক বলেই আউট করে দিয়েছে!হাহাহাহাহা(ইমন)
--সালা বেশি ক্যলাস না!(নীল)
--আচ্ছা হাসছি না!এখন চল!(ইমন)
--কোথায়?(নীল)
--আন্টি ডাকছে খাওয়ার জন্য!(ইমন)
--আচ্ছা চল,ওরা কোথায়,,(নীল)
--হৃদয় তো খেলাদুলা নিয়েই ব্যস্ত,,(ইমন)
--মানে,এখানে তো খেলার মতো কোনো মাঠ নেই,,(নীল)
--আরে বেটা জান্নাতের সাথে...(ইমন)
--ও,আর সজীব(নীল)
--বেচেরা তো বসে বসে লুডু খেলছে..(ইমন)
কথা বলতে বলতে ডাইনিংরুমে গেলাম! সেখানে গিয়ে দেখলাম!বাবা,হৃদয়,সজীব,বর্ষা,সবাই টেবিলে বসে আছে!
আর মা খাবার পরিবেশন করছে!
--কিরে তোদের জার্নি কেমন হলো?(বাবা)
--জি ভালো হয়েছে বাবা!(নীল)
--হুম সেটা আমি বুঝতে পারছি!(বাবা)
--জি!(নীল)
--তো তোর লেখাপড়া কেমন চলছে?(বাবা)
--জি বাবা ভালো!সামনের মাসে পরিক্ষা!(নীল)
--পড়ে তো ছাই,সাড়াদিন মেয়েদের পেছনে ছুটেই সময় ব্যয় পড়ার সময় আছে নি..(মনে মনে (বর্ষা) বললাম)
--কেউ কি কিছু বললো নাকি মা..(নীল)
--না বাবা তুই খা,আর কি শুরু করলে তুমি খাওয়ার টেবিলে এতো কথা না বলে চুপচাপ খেয়ে নেও পরে কথা বলে নিও!(মা)
তারপরে বাবা আর কোনো কথা না বলে খাওয়া শুরু করলাম!মাকে একটু ভয়ে পায় বটে,সকালে নাস্তা শেষ করে!.রুমে গেলাম ! আর রুমে গিয়ে দেখলাম..........

إرسال تعليق