আমি তোমায় আলো দিব - রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

আমি তোমায় আলো দিব - রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

 কিশোর জীবন থেকে যৌবনে পা দেবার পর থেকেই মেয়েদের প্রতি আমার ইন্টারেস্টটা কেন জানি কমে গেল। এর মানে এটা নয় যে কেউ আমাকে ঠকিয়েছে,আসলে আমি কাউকে সেই সুযোগটাই দেই নি কাউকে।  মেডিকেল এর ছাত্র হবার দরুন আমি খুব একটা সময় পাই না বাইরের দুনিয়াটাকে উপভোগ করার। আমি মেডিকেল এর স্টুডেন্ট বলে আমার যে দেমাগ বেশি তা নয়।  আমিও আর আট দশটা মানুষের মত ,তবে পার্থক্য হলো এই বয়সটায় নাকি মেয়েদের প্রতি আকর্ষণটা বেশি থাকে। আমার তা নেই।আমার ফেসবুক আইডিতে রোজ অনেক মেয়ের টেক্সট এই আসে ,কেউ কেউ আমি রিপ্লে দেই না বলে অনেক কথাও শুনায় ,আমি ওসবের তোয়াক্কা করি না।  কেউ কেউ বলে আমি সুদর্শন বলে আমার নাকি ভাব বেশি ,আমি ওদের কথা শুনে মুচকি হাসি আর ভাবি আমি কি আদৌ সুদর্শন ? পড়াশোনার বাইরে আমি ফেসবুকে মাঝেসাজে আসি ,এতে কবিতা পড়ি,গল্প পড়ি। একদিন একটা কবিতায় আমার চোখটা আটকে গেলো।  এতো সুন্দর করে কেউ লিখতে পারে জানতাম এই না।  বেশ আগ্রহ নিয়ে তাকে রিকোয়েস্ট পাঠালাম আর ভাবলাম এতো ভাল লেখিকা আদৌ এ্যাসেপ্ট করবে তো ? রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

যাই হোক রাতে রিকোয়েস্টটা এ্যাসেপ্ট হলো।  ভদ্রতার খাতিরে আমি আর সেদিন টেক্সট করি নি। 

পরের দিন লেখিকাকে অনলাইনে দেখে নক করলাম ,

- হাই

প্রায় ৩ মিনিট পর ওপাশ থেকে রিপ্লে এলো ,

- আসসালামু আলাইকুম 

তাহার এমন রিপ্লে পেয়ে আমি বেশ খানিকটা লজ্জা পেলাম। সালামের জবাব দিয়ে তাকে লিখলাম 

- আপনি খুব ভাল লেখেন।  আপনার আগের দিনের কবিতাটি বেশ ভালো লেগেছে। 

- শুকরিয়া 

তার এমন জবাব পেয়ে আমি একটু আশ্চর্য হলাম ! লেখিকা মনে হয় একটু গম্ভীর প্রকৃতির। আমিও তাই আর কোন কথা বললাম না। 

এরপর ২ দিন পর তার থেকে টেক্সট এলো 

- লিখন,আছেন ?

আমি বেশ অবাক হলাম তার টেক্সট পেয়ে। আমি জলদি রিপ্লে দিলাম 

- হ্যাঁ,বলুন।  কেমন আছেন?

- আলহামদুলিল্লাহ ,আপনি ?

- আলহামদুলিল্লাহ 

- কি করেন?

- এইতো বসে আছি,আপনি??

- আমি গান শুনি ,শুনবেন?

- হুম 

তার আইডি থেকে একটা গান এলো ,আমি সেটা শুনছি ," ভালবাসা তোমার ঘরে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক"। 

গানটার জন্য আমি তাকে একটা ধন্যবাদ দিলাম।  পাল্টা জবাবে তিনি বললেন," শুকরিয়া"।

সেদিন আর আমাদের তেমন কথা হয়নি। 

এরপর রোজ আমাদের কথা হতো। দিন দিন তাকে আমি জানতে শুরু করি,বুঝতে শুরু করি। তাকে যতো জানি ততই মুগ্ধ হই। রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

আমাদের কথা হলো প্রায় ১ মাস। একদিন আগ্রহ নিয়ে তাকে বলেই দিলাম আপনাকে দেখতে চাই।  কোন রকম ভণিতা না করেই তিনি তার ২ টা ছবি পাঠিয়ে দিল। খুবই সাধারণ মেয়ে সে।  বর্তমানের আধুনিকতার ছোঁয়া তার লাগে নি,তবুও তার চেহারায় একটা মায়ার ছাপ।  আমাদের রোজ কমবেশি কথা হয়। এর মাঝে আমি বুঝে ফেলি আসলে বিলাসীকে যেমনটা ভেবেছি তিনি তা নন। খুব ভাল মনের আর মজার একজন লেখিকা তিনি।  আমরা আপনি থেকে তুমিতে চলে গিয়েছি সেই কবেই। আমি তার খুব ভাল বন্ধু হয়ে গিয়েছি।  একদিন সে আবদার করল আমার সাথে কলে কথা বলবে। আমি আর না করিনি। আমাদের খুব কম সময় কথা হয়েছিল। মাত্র ৫ মিনিট।  এরপর আর কলে কথা হয়নি কখনো। আমার সময় হলে আমি তাকে লিখতাম ,সে আমায় লিখত।  এমনি চলতে থাকল। 

পড়াশোনার চাপে তার সাথে ইদানিং খুব কম কথা হয়।  একদিন তাকে মজার ছলে বললাম ," বিলাসী তুমি খুব অহংকারী"। জবাবে সে হাসির ইমুজি দিয়েছিল।  তার সাথে ৪ মাস কথা বলার পর আমি বুঝতে পারি তার জন্য আমার মনে একটা জায়গা তৈরি হয়েছে। ধীরে ধীরে সে আমার মনের পুরে বসতিটা দখল করে নিয়েছে। আমার মনে তখন প্রশ্ন উঠলো তার মনে কি আমার জন্য জায়গা আছে? সে কি কল্যানীর মতো বলবে ," জায়গা আছে!" নাকি  না বলবে ? এসব ভাবনার জবাব খুঁজতে এক রাতে সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম তাকে আমার মনের কথাটা বলে দেব ,যা হয় হবে। রাতে তাকে নক করতে গিয়ে দেখি আজ সারাদিন সে অনলাইনেই আসে নি।  আমি ভাবলাম  এখনি লিখে রাখি পরে উত্তরটা দিয়ে দেবে। কিন্তু তার উত্তরটা আর আসে নি। প্রায় ৭ দিন হয়ে গেলো সে আর অনলাইনে আসে না।  আমার একটু টেনশন হচ্ছিল কিন্তু তার সাথে ফেসবুক ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না যোগাযোগ এর।  দিন পনের পরও তার কোন সাড়া না পেয়ে ভাবলাম হয়তো বিয়ে হয়ে গেছে।  মনে মনে রাগও হলো একটু বললেও পারত। আমি তাই আর তাকে আর কোন টেক্সট করিনি ,নিজের মত করে পড়াশেনায় সময় কাটাতে লাগলাম। 

তার সাথে আমার যোগাযোগ হয়না প্রায় ছ'মাস !আমি বিলাসীকে ভুলেই গেছি একপ্রকারে। সেদিন মেডিকেল থেকে ফেরার পথে বাসস্টান্ডে দাঁড়িয়ে আছি এমন সময় কানের কারো কবিতা বলার আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি কান খাঁড়া করে তা শুনতে লাগলাম ,

        যদি কখনো হুট করে বলি ,

    " আমায় রাখো তোমার বিসর্জনের কবিতায়" !

           তুুমি রাখবে কি ?

         যদি কখনো বলি ,

    " নিয়োনের আলোয় খুঁজে নিও আমার             একাকিত্বের ছায়াটা"  রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প উপন্যাস

         তুমি খুঁজবে কি ?

    যদি কখনো মন খারাপের সুরে বলে উঠি,

         " আমায় একটু একা থাকতে দেও!" 

      তুমি তার আসল মানে বুঝবে কি? 

   যদি কখনো অনুরোধের সুরে বলি 

  " আমায় একটু আলো দেবে তুমি ?" 

     তুমি দেবে কি?

     যদি অনুপমের মতো জিঙ্গেস করি

    " আমার জন্য তোমার মনে জায়গা আছে কি?"

     তুমি কি কল্যানীর সুরে বলবে " জায়গা আছে!"

" জায়গা আছে" শব্দটা শুনে আবার বিলাসীর কথা মনে পড়ে গেলো। আমি একটু এগিয়ে দেখতে চাইলাম কবিতাটা কে আবৃতি করছে ? দেখলাম একটা মেয়ে বসে বসে কবিতা বলছে আর তার পাশে কয়েকটা বাচ্চা মেয়ে।  আমি দূর থেকে একবার তাকিয়ে আবার চোখ নামিয়ে নিলাম। 

আড়ও পড়ুনঃ-  কেঁদে না বাবা মাতো আর চিরদিন বেচে থাকে না

বাসে উঠতে যাব তখন মনে হলো মেয়েটি আমার চেনা ! তাই আবার পিছু ফিরে এগোলাম। এগিয়ে দেখে মেয়েটি আসলে বিলাসী। আমার খুব ভাল লাগছিল তাকে দেখে আবার রাগ ও হচ্ছিল।  তবুও এগিয়ে গিয়ে কথা বললাম,

- বিলাসী না? কেমন আছো?

- কে আপনি ? কন্ঠটা পরিচিত। আসলে আমি চোখে দেখতে পাই না তো তাই চিনতে পারছি না। 

তার এমন জবাবে আমি হা করে রইলাম।  বললাম," আমি লিখন,চিনতে পেরেছো?"

- আরে লিখন ,কেমন আছো। এখানে কেন? 

- ভাল আছি। তোমার এমন অবস্থা কি করে হলো? আমায় একবার জানালেও না। 

- এ্যাক্সিডেন্ট করে দুটো চোখের আলোই হারিয়েছি। তোমায় জানাবো কি করে ,তোমার তো ফোন নম্বরাই নেই। আর আমি তো আর ফেসবুকে চালাই না ,কি করে চালাই বলো তো।  চলি এই তো কারো উপর ভর করে। 

- তোমার লেখালেখিটা? বই বের করার স্বপ্নটা? 

- ওসব আর হলো না। সব শেষ হয়ে গেলো।  কয়টা বাজে একটু দেখবে?

- সন্ধ্যে ৭ টা বাজে ,চাঁদ উঠেছে আজ কি সুন্দর। 

- ওহ,আমি তো আর দেখতে পাই না। তুমি আমায় একটা রিক্সা ডেকে দেবে ? আমি বাসায় যাব। 

- আমি দিয়ে আসি ?

- সারাজীবন তো একাই চলতে হবে এই অন্ধকারকে নিয়ে ,আমায় কে আলো দেবে বলো ? আমি একাই পারবো।  

অগ্যতা আমি তাকে একটা রিক্সায় তুলে দিতে দিতে বললাম বাসার ঠিকানাটা দেবে ? 

যাবার আগে সে বাসার ঠিকানাটা দিয়ে গেলো।

আমি বাসায় এসে ৩ দিন ভাবলাম বিলাসীকে নিয়ে। বিলাসীর জন্য এখনো মনের ভিতরে সেই জায়গাটা আছে।  বিলাসী গল্পে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে হারিয়েছিল আমি বিলাসীকে হারাতে চাই না।  বিলাসীর দেওয়া ঠিকানায় পৌছে গেলাম পরের দিন। বিলাসীর বাসার সবার সামনে দাঁড়িয়ে বিলাসীকে বললাম ," আমি তোমায় আলো দেব" আমায় সেই অধিকারটা দেবে?" 

আজ আমাদের বিবাহবার্ষিকি সেই সাথে বিলাসীর প্রথম বইয়ের সাফলতার জন্য অনুষ্ঠান করছি ছোট একটা। সেদিন অনেকটা জোর করেই বিলাসীকে বিয়ে করেছিলাম। আমার পরিবার যদিও প্রথমে মানতে চায় নি পরে ওরাও বিলাসীকে মেনে নিলো।  আমার ভালবাসা দিয়ে আমি বিলাসীকে ভাল রেখেছি। বিদেশ থেকে ভাল ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করিয়েছি।  আজ বিলাসী সব দেখতে পায়। আমি বিলাসীকে বলি ," তোমার মনে আমার জন্য জায়গা আছে?" বিলাসী মুচকি হেসে বলে " জায়গা আছে!" বিলাসী এখনো আমার আলোয় আলোকিত।  তাই তো বিলাসী তার প্রথম বইটে আমায় উৎসর্গ করেছে। নাম দিয়েছে," আমি তোমায় আলো দেব।" 

- পলি তালুকদার 

Post a Comment

أحدث أقدم