![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
"দ্যা ম্যানিটু"
মূল - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু
(পর্ব ৯)
🏵তেরাে🏵
এমেলিয়ার বাড়ি চলে এলাম আমরা। ওর বাড়ির একটা ঘর ভর্তি শুধু বই আর
পত্রিকা। সেই সঙ্গে আছে ট্যাপেস্ট্রি এবং ছবি । এমেলিয়া ইন্ডিয়ানদের ওপর
লেখা বেশ কয়েকটি বই নামাল তাক থেকে। বাফেলাে ম্যাজিক, রেইন ডান্স।
যুদ্ধের সময়কার মন্ত্র ইত্যাদি ছাড়া মেডিসিনম্যানদের ওপর তেমন কিছু
পেলাম না বইগুলােতে। এগারােটা বই ঘেঁটেও মিসেস বারম্যানের টেবিলে
ভেসে ওঠা মৃত্যু-মুখােশ সম্পর্কে জানা গেল না কিছুই।
হয়তাে আমরা ভুল পথে ভাবছি,' বলল এমেলিয়া। হয়তাে আত্মাটা
এখনকার সময়ের, যে এখনাে বেঁচে আছে। ইন্ডিয়ানদের নাক বাঁকানাে থাকে
বলে শুনিনি। ওটা কোনাে ইহুদির নাকও হতে পারে।'
“আচ্ছা,' বললাম আমি এমেলিয়াকে, তােমার কাছে ইতিহাসের কোনাে বই
আছে? ওতে হয়তাে ইন্ডিয়ান আর মেডিসিনম্যানদের ক্রস-রেফারেন্স থাকতে
পারে।
এমেলিয়া আরাে কতগুলাে বই ঘেঁটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুরুর দিকের
উপনিবেশবাদের ওপর লেখা কয়েকটি বই বের করল। তিনটে ভলিউম। প্রথম
ভলমে নিউ ইয়র্কের ইতিহাস। আমি সূচিতে চোখ বুলাতে লাগলাম
ইন্ডিয়ানদের ওপর কোনাে লেখা আছে কিনা দেখতে।
ইন্ডিয়ান সভ্যতা নিয়ে কিছু কথা লেখা আছে কিনা বইটিতে। ওই সময় লােকে
স্থানীয় ইন্ডিয়ানদের দেশী সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ প্রকাশের চেয়ে ভূমি দখল
করতেই বেশি ব্যস্ত ছিল। তবে বইটিতে একটি ছবি দেখে রীতিমতাে চমকে
উঠলাম।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ছবিটি একটি দ্বীপের । তীরে সার বাধা কতগুলাে ঘর, একটি উইন্ডমিল, উচু
দেয়াল ঘেরা একটি দুর্গও আছে। উপকূলে নােঙর করে রয়েছে কতগুলাে
জাহাজ, ক্যানাে এবং জলিবােট দেখা যাচ্ছে। তীরে ভিড়ছে।
জাহাজের সারির মধ্যে সবচেয়ে বড় জাহাজটি ক্যারেনের দুঃস্বপ্নের জাহাজের সঙ্গে মিলে
যায়। ছবির নিচের বর্ণনাও দুটোর মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি
করেছে। ক্যাপশনে লেখা: নিউ আমস্টার্ডাম, ১৬৫১। ডাচ ওয়েস্ট ইন্ডিয়া
কোম্পানির ডিরেক্টর,-জেনারেল এই ক্ষুদ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ উপনিবেশে বাস
করতেন।
ছবিটি এমেলিয়াকে দিলাম । "ছবিটা দ্যাখাে । ক্যারেন অবিকল এ
জাহাজের স্বপ্নই দেখত । ওই ক্যানােতে আধডজন ইন্ডিয়ানও আছে । সাড়ে তিনশ বছর আগে নিউ ইয়র্কের চেহারা ছিল এরকম।'
মনোযোগ দিয়ে বইটি দেখল এমেলিয়া। হ্যারি, হতে পারে আমরা আসলে এটাই খুঁজছিলাম । নিউ ইয়র্কে বা আমস্টার্ডামে অতবছর আগে হয়তাে কোনাে
মেডিসিনম্যান বাস করত। ক্যারেন হয়তাে ওই লােকের ভাইব্রেশন একই
জায়গা থেকে পেয়েছে যে জায়গায় লােকটা বাস করত।'
ঠিক বলেছ,' দাড়ি চুলকাতে চুলকাতে মন্তব্য করল ম্যাক। 'ইস্ট এইটি
সেকেন্ড স্ট্রিটে নিশ্চয় কোনাে ইন্ডিয়ান গ্রাম ছিল।'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
বসে ছিলাম, উঠে দাঁড়ালাম। বসে থাকতে থাকতে ধরে গেছে পিঠ। ডি বুট
রহস্যের মানে এখন পরিষ্কার, ডাচরা যখন ম্যানহাটানে উপনিবেশ গড়ে তােলে
ওই সময় এই লােকটি, ধরে নেওয়া যাক সে ছিল মেডিসিনম্যান, সে কোনাে
ইউরােপীয় শব্দ যদি শেখেও তাে শিখেছে ওলন্দাজ শব্দ। “ডি বুট মিজনহির’
এর অর্থ জাহাজ সম্পর্কিত কিছু হওয়াই স্বাভাবিক। আর ক্যারেনের স্বপ্নের
ব্যাখ্যা অনুযায়ী লােকটা জাহাজকে ভয় পাচ্ছিল। ক্যারেন আমাকে বলেছে
তার কাছে মনে হচ্ছিল জাহাজটা যেন ভিনগ্রহের কোনাে জলযান, মঙ্গল গ্রহ
ট্রহ থেকে এসেছে। এখন বুঝতে পারছি একজন ইন্ডিয়ানের কাছে ওই
জাহাজটা কী চেহারা নিয়ে হাজির হয়েছিল।
কিন্তু লােকটা এত ভয়ংকর কেন? জিজ্ঞেস করল এমেলিয়া। আর তার সঙ্গে
ক্যারেনের টিউমারেরই বা কী সম্পর্ক?
ম্যাক বলে উঠল, “তােমার প্রশ্নের জবাব এখানে পাবে, ধুলাে ভরা প্রকাণ্ড
একটা এনসাইক্লোপিডিয়ার পৃষ্ঠা ওল্টাচ্ছিল সে এতক্ষণ। কাগজে একটা চিহ্ন
দিয়ে বইটি এগিয়ে দিল আমার দিকে।
"মেডিসিনম্যানরা,' আমি জোরে জোরে পড়ে চললাম, 'প্রায়ই হতাে শক্তিশালী
জাদুকর। বলা হয় তারা অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে সক্ষম। লােকে
বলে তারা অমর, প্রাণ-সংকট হলে তারা জ্বলন্ত তেল পান করে আত্মহত্যা
করত এবং যে কোনাে সময়, সেটা ভবিষ্যৎ হােক বা অতীত, যে কোনাে নারী,
পুরুষ কিংবা প্রাণীর শরীরে প্রবেশ করে পুনর্জন্ম নেওয়ার ক্ষমতা তাদের।
ছিল।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
এমেলিয়ার চোখ রসগােল্লার মতাে বড় হয়ে গেল। বইতে এসব লিখেছে
বুঝি?
‘হ্যা,' জবাব দিলাম আমি।
এর মানে ক্যারেন-
‘গর্ভবতী,' বইটি বন্ধ করলাম। ও এক বুনাে জংলীকে জন্ম দিতে চলেছে।
‘কিন্তু হ্যারি,' বলল এমেলিয়া, আমরা এখন কী করব?'
ম্যাক ক্রফোর্ড আইস বক্স খুলে বিয়ারের ক্যান বের করল। আমরা যা করতে
পারি তা হলাে মেডিসিনম্যানদের জন্ম হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা। তারপর
তার মুখে জ্বলন্ত তেল ঢেলে দিলেই ল্যাঠা চুকে গেল। ও-ও মরবে, ক্যারেনও
বাঁচবে।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ক্যারেন বাঁচবে না,' বললাম আমি। মেডিসিনম্যান যখন জন্ম নেবে, ক্যারেন
ততক্ষণে মারা যাবে।'
‘জানি আমি,' থমথমে চেহারা নিয়ে বিয়ারের ক্যানে চুমুক দিল ম্যাক। কিন্তু
তােমাদের আর কিছু করার আছে বলে মনে হচ্ছে না আমার।
আমি ফোনের সামনে চলে এলাম। হাসপাতালে ফোন করব । ড. হিউজেস
হয়তাে কোনাে বুদ্ধি দিতে পারবেন। ঘণ্টা কয়েক আগেও আমরা তিমিরে
ছিলাম। এখন যা হােক একটা গন্তব্য দেখতে পাচ্ছি।'
সিস্টারস অব জেরুজালেম হাসপাতালে ফোন করলাম। চাইলাম ড.
হিউজেসকে। সাড়া দিলেন তিনি। কণ্ঠ শুনে মনে হলাে ক্লান্তির চরমে পৌছে
গেছেন বেচারা। এখন রাত প্রায় একটা। উনি নিশ্চয় সারা দিন ডিউটি
করেছেন।
‘ড. হিউজেস? আমি হ্যারি আর্সকিন বলছি।
“কী খবর মি, আসকিন? আপনার ভূতের কোনাে সংবাদ পেলেন?
‘আমি একজন মিডিয়াম পেয়েছি, ড. হিউজেস । আমার বান্ধবী। ক্যারেনের
বাড়িতে আমরা প্রেত-বৈঠক বসিয়েছিলাম। সেখানে একটা চেহারা দেখেছি
সবাই। আমাদের ধারণা ওটা সপ্তদশ শতকের কোনাে মেডিসিনম্যান হবে।
বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করলাম । ওতে মেডিসিনম্যানদের সম্পর্কে লেখা, প্রাণ-সংকট
হলে তারা জুলন্ত তেল ভক্ষণ করে নিজেদের ধ্বংস করে ফেলত। তারপর
আবার, সেটা ভবিষ্যৎ হােক বা অতীত, যে কোনাে সময়ে নারী, পুরুষ কিংবা
প্রাণীর শরীরে আশ্রয় নিয়ে আবার পুনর্জন্ম ঘটতে পারত।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
টেলিফোনের অপর প্রান্তে দীর্ঘক্ষণের নীরবতা ।
তারপর ড. হিউজেস বললেন, “মি. আসকিন, বুঝতে পারছি না কী বলব ।
সবই প্রায় খাপে খাপে মিলে যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনা সত্যি হলে এরকম একটা লোককে
কীভাবে ধ্বংস করব? ড. গারফিল্ড আজ বিকেলে ক্যারেনের আরাে
কিছু টেস্ট করেছেন। তাতে পরিষ্কার বােঝা গেছে আমরা যদি ওই ভ্রূণ টাকে কেটে ফেলতে চাই কিংবা হত্যা করতে চাই, মারা যাবে ক্যারেন ।
ভ্রূণ টা মেয়েটার নিজের নার্ভাস সিস্টেমের একটা অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ
হিসেবে গড়ে উঠেছে।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
ক্যারেন কেমন আছে, ডাক্তার? জ্ঞান ফিরেছে?
"ফিরেছে। তবে অবস্থা ভালাে না । ভ্রণটা যে হারে আকারে বেড়ে চলেছে এ
গতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকলে ক্যারেন আর দুই-তিন দিনের মধ্যে মারা যাবে।
ড গারফিল্ডের ধারণা মঙ্গলবার পর্যন্ত আয়ু আছে মেয়েটার।
‘গাইনােকললাজিকাল এক্সপার্ট কী বলেন?'
“তিনি আমাদের আর সবার মতােই হতভম্ব,' বললেন ড. হিউজেস।
জানিয়েছেন ভ্রুণটা স্বাভাবিক কোনাে শিশুর ভ্রণ নয়, ওর মধ্যে প্যারাসাইটিক
অর্গানিজমের সবরকম বৈশিষ্ট্য অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়ে চলেছে।
এমেলিয়া আমার সামনে এসে দাঁড়াল। প্রশ্নবােধক দৃষ্টিতে তুলল ভুরু।
“কেমন আছে ক্যারেন?' জিজ্ঞেস করল ও।
ফোনের মুখে হাত চাপা দিলাম আমি। অবস্থা খারাপ। ডাক্তাররা বলছেন ও
মঙ্গলবার পর্যন্ত টিকে থাকবে কিনা সন্দেহ।
কিন্তু ওই মেডিসিনম্যান?' প্রশ্ন করল এমেলিয়া। ডাক্তার ওটার সম্পর্কে কী
বললেন? ওটা কি বাড়তেই থাকবে এবং সারভাইভ করে যাবে? যীশাস-
আমি ড. হিউজেসের সঙ্গে আবার কথা বললাম, ‘ড, হিউজেস, আমার বান্ধবী
জানতে চাইছে ভ্রণের কী হবে? ক্যারেন মারা গেলেও কী ওটা বেঁচে থাকবে?
আপনি এ ব্যাপারটা নিয়ে কিছু চিন্তা করেছেন?
ড, হিউজেস জবাব দিতে ইতস্তত করলেন না। মি, আর্সকিন, এরকম কিছু
হলে আমাদের যা করা উচিত তাই করব। ওটা যদি শিশু হিসেবে জন্ম নেয়,
স্বাভাবিক, সুস্থ শিশু, আমরা ওকে বাঁচিয়ে রাখার প্রাণপণ চেষ্টা করব। কিন্তু
ও যদি কোনাে দানব হয় তাহলে ইনজেকশন দিয়ে ওটাকে মেরে ফেলব।'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
কিন্তু ওটা যদি মেডিসিনম্যান হয়?’ উদ্বেগ নিয়ে জানতে চাইলাম।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে জবাব দিলেন ডাক্তার। ওটা যদি মেডিসিনম্যান
হয়, তাহলে কী করব জানি না। কিন্তু ওটা মেডিসিনম্যান কেন হবে বুঝতে
পারছি না। মি, আর্সকিন অকাল্টে আমি বিশ্বাস করতে চাই কিন্তু ক্যারেন সাড়ে
তিনশ বছর আগের এক ইন্ডিয়ানকে জন্ম দিতে চলেছে এটা তাে শুনলেই
অবিশ্বাস্য লাগে।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘ড. হিউজেস, আপনিই কিন্তু বলেছিলেন এর মধ্যে আধিভৌতিক কোনাে বিষয়
জড়িত কিনা সে ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ড. হিউজেস। মনে আছে আমার, মি. আর্সকিন। তবে
নিশ্চয় স্বীকার করবেন বিষয়টা নিতান্তই আজগুবি।
‘আজগুবি হােক বা না হােক, ক্যারেনের জন্য আমাদেরকে কিছু তাে করতেই হবে।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘আপনি কী করতে চাইছেন?' ভোতা গলায় প্রশ্ন করলেন ড. হিউজেস।
‘পরামর্শটা আপনিই আমাকে দিয়েছিলেন, ড. হিউজেস। বলেছিলেন একজন
এক্সপার্টের সাহায্য নিতে। আমি তাই করেছি। আমরা একজন এক্সপার্ট খুঁজছি,
যে ইন্ডিয়ান লােক বিদ্যা এবং মিসটিসিজম সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান রাখে।
আমাকে আরেকটু সময় দিন। আমি এরকম একজনকে খুঁজে বের করছি।
হার্ভার্ড কিংবা ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে এরকম কাউকে না কাউকে পাবই।'
‘পেতে পারেন,' বললেন ড. হিউজেস। “ঠিক আছে, মি. আর্সকিন। আপনার
আগ্রহ এবং সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ। কোনাে প্রয়ােজন হলে আমাকে ফোন
করতে দ্বিধা করবেন না।"
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
আমি ধীরে ধীরে ফোন নামিয়ে রাখলাম। এমেলিয়া এবং ম্যাক আমার পাশে
বসে আছে। ওদের চেহারাতেও উৎকণ্ঠা। তবে সেই সঙ্গে আমাকে সাহায্য
করার ব্যগ্রতাও রয়েছে। চেরিউড টেবিলের মুখটাকে দেখেছে ওরা। বিশ্বাস
করেছে ব্যাপারটা । আত্মাটা যে-ই হােক, ওটা ইন্ডিয়ান মেডিসিনম্যান কিংবা
কোনাে পিশাচ হােক, ওটার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আমাকে ওরা সাহায্য করতে
প্রস্তুত।
‘ডাচদের আসলে উচিত ছিল চব্বিশ ডলার ফেরত নিয়ে ম্যানহাটান
ইন্ডিয়ানদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া,' বলল ম্যাক। আমার ধারণা,
ম্যানহাটানের প্রকৃত মালিকরা এখন প্রতিশােধ নিচ্ছে।
আমি চেয়ারে বসে চোখ ঘষতে ঘষতে বললাম, আমারও তাই ধারণা, ম্যাক ।
চলাে, একটু ঘুমিয়ে নিই । কাল অনেক কাজ পড়ে আছে।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
🏵চোদ্দ🏵
ড, আর্নেস্ট স্নােকে খুঁজে বের করতে আমাদের পুরাে চারটা ঘণ্টা লাগল ।
এমেলিয়ার এক বান্ধবীর হার্ভার্ডের এক লােকের সঙ্গে পরিচয় ছিল । সে আবার
অ্যানথ্রোপলজির এক ছাত্রকে চিনত। আর নৃতত্ত্ব বিভাগের ওই ছাত্র
আমাদেরকে ড, আর্নেস্ট স্নেয়ের কথা বলল ।
ড, আর্নেস্ট স্লোয়ের ক্রেডেনশিয়াল চমকে দেওয়ার মতাে । তিনি ইন্ডিয়ানদের
ধর্ম এবং জাদু চর্চার ওপরে পাঁচটি বই লিখেছেন। তিনি আমাদের নাগালেই
বাস করেন, আলবানিতে।
তখনও ভাের হয়নি, আবছা আঁধারে ঢাকা প্রকৃতি। ম্যাক ক্রফোর্ড মস্ত হাই
তুলে জিজ্ঞেস করল, ‘হ্যারি, তুমি কি ওই লােকের সঙ্গে দেখা করবে?
‘ইচ্ছে তাে আছে,' জবাব দিলাম আমি। তবে আমরা ভুল পথে এগােচ্ছি কিনা
বুঝতে পারছি না।'
“মানে?’ ভুরু কুঁচকে গেল এমেলিয়ার।
‘ইন্ডিয়ানদের নিয়ে মাতামাতির কথা বলছি। বিষয়টা নিয়ে যে এত লাফালাফি
করছি, আসলে কি এর কোনাে ভিত্তি আছে? আমরা লাফঝাপ দিচ্ছি কারণ
টেবিলে রেড ইন্ডিয়ানদের মতাে একটা চেহারা দেখেছি বলে। তবে ওটা
সত্যিকারের ইন্ডিয়ান ছিল কিনা, তা ভাবার কিন্তু যুক্তিসংগত কোনাে কারণ
নেই।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
কাঁধ ঝাকাল এমেলিয়া। কিন্তু আমরা আর কীসের ভিত্তিতে এগােব? এতদূর
যখন এগিয়েছি, বাকি পথটাও পাড়ি দিতে হবে বৈকি।
“ঠিক হ্যায়। তবে পথ চলা আবার শুরু হােক,' বলে তুলে নিলাম ফোন। ড.
স্নেয়ের নাম্বারে ডায়াল করলাম, শুনলাম রিং বাজছে। সাড়া মিলল যেন এক
যুগ পরে।
‘আর্নেস্ট স্লো বলছি,' ভেসে এলাে গম্ভীর একটি কণ্ঠ।
‘ড, স্লে, ছুটির দিনে আপনাকে বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত। তবে কেন ফোন
করেছি জানার পরে আশা করি রাগ হবেন না। আমার নাম হ্যারি আর্সকিন।
আমি একজন অলােকদ্রষ্টা।'
‘আপনি কী?' ঘেউ করে উঠলেন ড. স্নাে ।
‘আমি লােকের হাত দেখি । জ্যোতিষী। থাকি আপনার শহরেই।
অসহ্য নীরবতার কয়েকটি মুহূর্ত পার করে দিয়ে ড, স্নাে বললেন, ‘মি,
আর্সকিন, আপনি অসময়ে ফোন করেছেন বলে আমি কিছু মনে করিনি। তবে সাত সকালে একজন জ্যোতিষীর আমার সঙ্গে কী দরকার ভেবে পাচ্ছি না ।
‘খুবই দরকার আছে, ড. স্নাে । আমার এক মক্কেল, সে এ মুহূর্তে হাসপাতাল
এক তরুণী, ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তার ঘাড়ে একটি টিউমার গজিয়ে
টিউমারের ধরণ দেখে থ মেরে গেছেন ডাক্তাররা।'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘শুনে দুঃখিত হলাম,' বললেন ড. স্নাে। কিন্তু এর সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক
থাকতে পারে তা বােধগম্য হচ্ছে না। আমি নৃতত্ত্বের শিক্ষক, মেডিসিনের
নই।'
এ জন্যই আপনাকে ফোন করেছি, ড. স্নাে । আমার ধারণা, আমার ক্লায়েন্ট
এক ইন্ডিয়ান মেডিসিনম্যানের পুনর্জন্ম দিতে চলেছে। তার ঘাড়ের টিউমারটি
আসলে এক আমেরিকান ইন্ডিয়ানের ভ্রুণ। আপনি এদের কথা জানেন, তাই.... এরা জ্বলন্ত তেল গিলে খেয়ে অতীত কিংবা ভবিষ্যতে পুনর্জন্ম নিতে পারে।'
এবারের বিরতি দীর্ঘতর হলাে। তারপর ড. স্নাে প্রশ্ন করলেন, আপনি কি
সিরিয়াস, মি....!'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘হ্যারি আর্সকিন।
‘মি. হ্যারি আপনি কি জানেন কী বলছেন? আপনি বলছেন এই আধুনিক
নিউইয়র্ক নগরে একজন আছে যে কিনা মেডিসিনম্যান হিসেবে পুনর্জন্ম নিতে চলেছে?
‘ঠিক তাই বলতে চাইছি, স্যার।
‘আপনি কি আমার সঙ্গে মশকরা করছেন? ছাত্রদের মতাে বােকা বানাবার
ধান্ধা করছেন?
‘আপনার সঙ্গে আমি ঠাট্টা-মশকরা কিছুই করছি না। আপনি যদি দয়া করে
আধঘণ্টা সময় দিতেন তাহলে আপনার বাসায় এসে ব্যাপারটি আরাে খােলাসা
করে বলা যেত। আমার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে চাইলে সিস্টারস অব
জেরুজালেম হাসপাতালের ড. হিউজেসের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আমরা
তার অনুমতি নিয়েই কাজটা করছি ।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘আমি এবং আমার দুই বন্ধু। এদের একজন মিডিয়াম।
আমি কল্পনায় দেখতে পাচ্ছিলাম দোটানায় ভুগছেন ড. স্নাে । এমেলিয়া এবং
ম্যাক আমার দিকে নিস্পলক তাকিয়ে রয়েছে। আমি অপেক্ষা করছি জবাবের
জন্য।
“ঠিক আছে,' অবশেষে বললেন তিনি। আপনি তাহলে আমার সঙ্গে দেখা
করতে চাইছেন?
‘যত জলদি সম্ভব স্নাে, জানি আপনাকে অসুবিধেয় ফেলছি। কিন্তু একটা মেয়ে
যে ওদিকে মারা যেতে বসেছে!
না, না অসুবিধা কোথায়? আমার শ্যালিকা আজ আমাদের বাসায় আসবে।
তার সঙ্গে যত কম দেখা হবে ততই মঙ্গল। আপনারা যখন খুশি আসতে
পারেন।'
‘ধন্যবাদ, ড, স্লো।
ফোন নামিয়ে রাখলাম। একটা কথা ভেবে আমার সব সময় অবাক লাগে যে
চোখের সামনে একবার প্রমাণ পেলে লােকে কত দ্রুত অকাল্ট এবং
সুপারন্যাচারাল ব্যাপারগুলাে মেনে নেয়। ড. স্নাে সম্ভবত দীর্ঘদিন ধরে
মেডিসিনম্যানদের পুনর্জন্ম নিয়ে পড়াশােনা করছেন। এটা যে ঘটা সম্ভব তা
হয়তাে বিশ্বাস করতেন না। কিন্তু যেই একজন তাকে বলল ঘটনা সত্যি
ঘটেছে, বিনা দ্বিধায় ব্যাপারটা বিশ্বাস করলেন তিনি।
আমি গাড়ির চাবি আমার হেরিংবােন কোটের পকেটে ফেললাম। আমার সঙ্গে
কে যাবে আলবানিতে? জিজ্ঞেস করলাম আমি।
এমেলিয়া এবং ম্যাক দুজনেই একসঙ্গে উঠে দাঁড়াল।
‘বলতে দ্বিধা নেই,' বলল ম্যাক, ‘মুদি দোকানদারি করার চেয়ে এ মুহূর্তে এ
কাজটা করতেই বেশি আগ্রহ বােধ করছি আমি।'
চলবে.....


إرسال تعليق