গিয়ে দেখলাম সজীব,আর হৃদয় বসে আছে!
--কিরে বেটা,এতক্ষন লাগে আসতে !(সজীব)
--তোরা ২ জন কেনো,! ইমন আসে নাই ?(নীল)
--সেটা তো জানি না!কেনো ওর সাথে তোর কথা হয়নি?(হৃদয়)
--না রাতে হয়েছিল শুধু!(নীল)
--হয়তো ইমন যাবে না তাই আসে নাই!(সজীব)
--আচ্ছা এখনো তো সময় আছে দেখা যাক!(নীল)
--হুম!(সজীব)
--কিরে ৬টা বাজতে তো আর 10 মিনিট বাকি আছে কিছুক্ষনের মধ্যেও বাস চলে আসবে!ইমন কোথায়?(হৃদয়)
--সেটাই তো?(নীল)
--ওই দেখ ইমন আসছে!কিন্তু সাথে কাকে নিয়ে আসছে!(সজীব)
--ওর বোনকে!(নীল)
--ওহ আচ্ছা!(হৃদয়)
--কিরে তোর আসতে এতো সময় লাগলো কেন?(নীল)
--সরি দোস্ত বুঝতেই তো পারছিস সাথে মেয়ে মানুষ আনলে কেমন ঝামেলা হয়!সেই 3 ঘন্টা ধরে সেজেই যাচ্ছিলো!(ইমন)
--কি বলিস?3 ঘন্টা ধরে সেজেও দেখতে একদম প্রেত্নীর মতো লাগছে!(নীল)
--এই কথা বলতেই দেখলাম বর্ষা আমার দিকে রাগি লুকে তাকিয়ে আছে!হয়তো কিছু বলতো কিন্তু তার ভাইয়ার জন্য কিছু বলতে পারছে না!
--এই এই চল বাস চলে এসেছে!(সজীব)
--তারপরে বাসে ওঠার সময় আগে বর্ষাকে ওঠিয়ে দিলাম পরে আমি ওঠলাম !
--আচ্ছা দোস্ত তোরা ভিতরে গিয়ে ছিটে বস আমরা কিছু খাবার কিনে আনি!(ইমন)
--আচ্ছা যা!তবে তাড়াতাড়ি আসিস!(নীল)
--হুম!..(ইমন)
বলেই ইমন চলে গেল!
আর আমি ভিতরে যাওয়ার জন্য বর্ষার পাশ কাটিয়ে যেতে চাইলাম তার আগেই সে পিছনে থেকে আমার শার্ট চেপে ধরলো!
--এই এই কি করছো! ''ওহ আমার ২ বছরের ছোট তাই তাকে আমি তুমি করেই বললাম,,
--কি করছি জানেন না!আমাকে সবার সামনে প্রেত্নী বললেন কেন?(বর্ষা)
--কেন বললাম জানো না!তোমার ভাইয়াই তো বললো তুমি 3ঘন্টা ধরে সেজেছো তাই ভাবলাম!(নীল)
--হুম সেজেছি তার জন্য কি প্রেত্নী হয়ে যাবো?(বর্ষা)
--সেটা আমি কি করে জানবো তোমার তো মুখ আটকানো!(নীল)
--আচ্ছা ওয়েট,,!(বর্ষা)
বলেই সে হিজাবটা খুলে ফেললো!
--এইবার দেখেন তো !(বর্ষা)
--মাশাল্লাহ!(আমি মনে মনে বললাম)
--কি হলো কিছু বলছেন না কেনো!(বর্ষা)
--হুম এখনো তো প্রেত্নীর মতোই লাগছে! আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম কারন আমার চোখ আর অন্য কোনো দিকে সরাতে পারছি না!কারন বর্ষা দেখতে খুব সুন্দর ! আবার ঠোটের নিচে কালো তিল থাকার কারনে আরো সুন্দর লাগছে!
--দেখা হয়েছে?হলে বলেন?আমি মুখ আটকাবো!(বর্ষা)
--কই না মা.মানে না তো!(নীল)
--থাক আর মিথ্যা বলা লাগবে না!(বর্ষা)
--কই মিথ্যা বললাম!(নীল)
--থাক!এইবার সাহায্য করেন তো!(বর্ষা)
--কি সাহয্য?(নীল)
--আপনার জন্যই তো হিজাব খুললাম!এখানে তো আয়না নেই তাহলে আমি একা একা কিভাবে লাগাবো?(বর্ষা)
--আচ্ছা এখন আমি কি করবো?(নীল)
--এইটা লাগিয়ে দিন!(বর্ষা)
বর্ষা একটা কি জেনো দিলো সেটা দিয়ে হিজাব আটকিয়ে রাখে নামটা ঠিক জানি না
--দেও!তারপরে সেটা লাগিয়ে দিলাম!
--বাহ আপনি তো ভালোই পারেন!(বর্ষা)
--তাই নাকি!(নীল)
--হুম!আগে কি কাউকে লাগিয়ে দিয়েছেন নাকি?(বর্ষা)
--আরে না! তবে মা পড়তো সেটা দেখেছিলাম ছোট কালে!(নীল)
--ওহ আচ্ছা!(বর্ষ)
--আচ্ছা চলো এইবার ছিটে বসি ওরা আসছে!(নীল)
--হুম চলেন!(বর্ষা)
তারপরে আমরা ছিটে গিয়ে বসলাম! কিছুক্ষন পরে সবাই চলে আসলো!
--দোস্ত ছিট তো ৪টা কিন্তু আমরা মানুষ তো ৫ জন!(সজীব)
--হুম ৪টাই ছিট পেয়েছিলাম !তাই (নীল)
--আচ্ছা একটু কষ্ট করে বসি আমরা আমরাই তো!(ইমন)
--হুম!(নীল)
3 ঘন্টার জার্নি! তাই সকলে এক সাথে বসে মজা করতে লাগলাম! কিছুক্ষন পর মা ফোন দিলো!
--কিরে কোথায় এখন?(মা)
--এইতো ওঠলাম, পাঁচ মিনিট আগে বাস ছেরে দিয়েছে!(নীল)
--ওহ !দিনে আসলে ভালো হতো না?(মা)
--হুম !তবে তুমি তো জানোই আমার রাতে জার্নি করতে ভালো লাগে!(নীল)
--হুম!আচ্ছা ভালো ভাবে আসবি!(মা)
--ওকে মা,বলে ফোন কেটে দিলাম! রাত 8টার সময় সবাই ঘুমিয়ে পড়লো! আমার ঘুম আসছে না তাই! ছিট থেকে দরজার কাছে আসলাম!
দেখলাম সেইখানে বাস থামলো!তাই আমিও নেমে একটা সিগারেট কিনে ধরালাম!বাসের দরজার কাছে দাড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিলাম ! হঠাৎ পেছন থেকে কেউ কাশি দিয়ে ওঠলো! আমি তাকিয়ে দেখলাম বর্ষা!
--তুমি এতো রাতে এইখানে?(নীল)
--ঘুম ভেঙ্গে গেল তাই আসলাম!(বর্ষা)
--ওহ! বর্ষাকে দেখে আমি সিগারেট লুকিয়ে রাখলাম কিন্তু বর্ষা বুঝতে পেরে আমাকে বললো!
--আচ্ছা আপনার কাছে সিগারেট হবে?(বর্ষা)
--কেনো?(নীল)
--খাবো বলে!(বর্ষা)
--মানে?তুমি কি সিগারেট খাবে!(আমি অবাক হয়ে বললাম)
--কেনো!আপনি খেতে পারলে আমি পারবো না কেনো?(বর্ষা)
--কই আমি তো খাচ্ছি না!(নীল)
--থাক মিথ্যা বলা লাগবে না!(বর্ষা)
--সরি!(নীল)
--আচ্ছা এইসব খাওয়া বাদ দেওয়া যায় না,ভাইয়া কেউ কতবার বললাম কোনো কাজ হয়নি,আপনারা ছেড়ে দেলে ভাইয়েও ছেড়ে দিবে?(বর্ষা)
--অভ্যাস হয়ে গেছে তাই!(নীল)
--এইসব ছাইপাশ খেলে তো শরীরের ক্ষতি হবে !(বর্ষা)
--হুম তবে!এখন তো আর ছাড়তে পারবো না!(নীল)
--চেষ্টা করেন তাহলেই পারবেন!(বর্ষা)
--হুম!(নীল)
--আপানকে না দেখার খুব ইচ্ছা ছিলো!(বর্ষা)
--কেন?(নীল)
--ভাইয়ার মুখে অনেকবার আপনার নাম শুনেছি,তাই আর কি !(বর্ষা)
--তাই!(নীল)
--হুম!সব সময় আপনার কথাই বলতো!আপানার প্রশংসাই করতো!(বর্ষা)
--ওহ একটু বেশিই বলেছে!(নীল)
--না যেটুকু বলেছে কমেই বলেছে!(বর্ষা)
--মানে?(নীল)
--কারন আপনি খুব ভালো!আর সবাইকেই সম্মান করেন!(বর্ষা)
--তুমি বুঝলে কি করে?(নীল)
--এই যে আমাদের পাশের ছিটে কতো মেয়ে বসে আছে কিন্তু তাদের দিকে একটুও তাকাচ্ছেন না!(বর্ষা)
--আমিতো জানতামই না (মনে মনে) ভালো লাগে না তাই!(মিথ্যা বল্লাম নীল)
--আচ্ছা আপনার gf আছে?(বর্ষা)
--হুম আছে তো !কেনো?(নীল)
--না এমনি!(বর্ষা)
--হুম,2 টা আছে!(নীল)
--2 টা আছে মানে?(বর্ষা)
--মানে আমার 2টা মেয়ে বান্ধবি আছে তাই 2টা gf আছে!(নীল)
--না আমি বলছি আপনি কি কাউকে ভালোবাসেন?(বর্ষা)
--হুম করি তো!(নীল)
--কাকে?(বর্ষা)
--আমার বাবা মাকে!(নীল)
--ও মা গো!আমি সেটা বলছি না!(বর্ষা)
--তাহলে?(নীল)
--আমি বলছি আপনি কি কাউকে পছন্দ করেন?(বর্ষা)
--হুম করি তো!(নীল)
--কাকে?(বর্ষা)
--আমার বন্ধুদের!(নীল)
--উফফ কোন পাগলের পাল্লাই পড়লাম!(বর্ষা)
বলেই বর্ষা চলে গেলো!
আর আমি ওইখানেই দাড়িয়ে থাকলাম!কিন্তু আমার অনেক ঘুম পাচ্ছে ! কি যে করি!
এইতো এইখানে কি একটা রাখা আছে!ভালো ভাবে দেখার জন্য পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে লাইট জ্বালিয়ে দেখলাম!একটা কাটুন রাখা আছে আর সেইটা অনেক শক্ত মনে হলো!
আর কিছু না ভেবে সেইখানেই বসে পরলাম! কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুম চলে আসলো!
হঠাৎ একটা ঝাকুনির জন্য ঘুম ভেঙ্গে গেলো! চোখ খুলে দেখলাম আমার পাশে কে যে একটা বসে আছে আর আমার মাথাটা তার ঘাড়ের সাথেই ছিল!আমি ভালো ভাবে তাকিয়ে দেখলাম!এইটা আর কেউ না বর্ষা! কিন্তু বর্ষা এইখানে কখন আসলো!?
আর আমার সাথেই ঘুমিয়ে পরেছে মনে হয়! আমি ঘার টা ওঠিয়ে নিতেই বর্ষার ঘুম ভেঙ্গে গেলো! বর্ষা তুমি এইখানে কখন আসলে?(নীল)
--এই তো একটু আগে এসে দেখলাম আপনি এইখানে ঘুমাচ্ছিলেন কিন্তু ঠিকভাবে ঘুমাতে পারছিলেন না!তাই আমি বসে আপনার মাথাটা আমার কাধে রাখলাম!(বর্ষা)
--ওহ তুমি কি সবাইকে এইভাবেই সাহয্য করো?(নীল)
--না!শুধু আপানকে(বর্ষা)
--কিন্তু কেনো?(নীল)
--আচ্ছা বাদ দিন এইখানে কি হয়েছে বাস থামলো কেনো!আর দেখে তো এইটা বাসস্টেন মনে হচ্ছে না!(বর্ষা)
--তাই তো!তারপরে আমি বাইরে এসে দেখলাম!

إرسال تعليق