![]() |
| সেরা রোমান্টিক উপন্যাস |
"দ্যা ম্যানিটু"
লেখক - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু
(পর্ব ৩)
ক্যারেন ট্যান্ডি যখন আমার ঘরের দরজায় নক করল, আমি দোর খুলে সেই
মৃত্যু-ভীতিটিই দেখলাম ওর চোখে। এমন প্রকট ভাবে ভয়টা ফুটে আছে।
চেহারায় যে সবুজ আলখেল্লা আর হাস্যকর সবুজ টুপি মাথায় চাপিয়ে মেয়েটির
সামনে দাঁড়াতে আমার রীতিমতাে লজ্জাই লাগছিল। চমৎকার একহারাসেরা রোমান্টিক উপন্যাস
অ্যাথলেট মেয়ে সবসময় প্রথম হয় তাদের মতাে । এমন বিনয়ের সাথে আমার
সঙ্গে কথা বলল ক্যারেন যে আমার অস্বস্তি আরাে বেড়ে গেল।
‘আপনিই মি. হ্যারি আর্সকিন?' জিজ্ঞেস করল ও।
‘জি, ইনক্রেডিবল হ্যারি আর্সকিন। বাকিটা আপনি জানেন।'
নিঃশব্দে ঘরে ঢুকল ক্যারেন, চোখ বুলাল ধূপ কাঠির বার্নার, হলদেটে খুলি
আর জানালার পর্দায় । আমার হঠাৎ মনে হলাে আমার ঘরটা বডড কৃত্রিম ভাবে
সাজানাে। তবে মেয়েটি তেমন কিছু লক্ষ করল না। আমি তাকে বসার জন্য
একটি চেয়ার টেনে দিলাম । অফার করলাম সিগারেট । সিগারেট ধরানাের
সময় লক্ষ করলাম ওর হাত কাঁপছে।
‘তাে, মিস ট্যান্ডি,' বললাম আমি তাকে। আপনার সমস্যাটা কী?
কীভাবে যে ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করব বুঝতে পারছি না। আমি হাসপাতালে
গিয়েছিলাম। ওরা কাল সকালে আমার অপারেশন করবে। কিন্তু ওদেরকে সব
কথা আমি বলতে পারিনি।'
আমি চেয়ারে হেলান দিলাম। মুখে সাহস যােগানাের হাসি ফোটালাম।
‘তাহলে আমাকে বলুন।
“বিষয়টি খুব জটিল,' নরম, হালকা গলায় বলল ক্যারেন। আমার মনে হচ্ছে
কিছু একটা-' থেমে গেল সে।
পায়ের ওপর পা তুলে দিলাম আমি । “হ্যা, বলুন। কিছু একটা কী?
ভীরু ভঙ্গিতে একটা হাত ঘাড়ের পেছনে নিয়ে গেল ক্যারেন । দিন তিনেক
আগে-মঙ্গলবার সকালে আমি ভেবেছিলাম এটা- এখানে মানে পুরাে ঘাড়
কেমন অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি হচ্ছিল। পিণ্ডের মতাে ফুলে ওঠে জিনিসটা।
সাংঘাতিক খারাপ কিছু হলাে কিনা ভেবে আমি খুব ঘাবড়ে যাই। তারপর
হাসপাতালে গেলাম পরীক্ষা করাতে।
'ও, আচ্ছা,' সহানুভূতির সুরে বললাম আমি। জ্যোতিষী হিসেবে সাফল্য পেতে
হলে আপনার মক্কেলের প্রতি অকৃত্রিম সহানুভূতি প্রকাশ করতেই হবে। হস্ত
রেখাবিদের সাফল্যের ৯৮ ভাগ নির্ভর করে এর ওপর। ডাক্তার কী বললেন
আপনাকে?সেরা রোমান্টিক উপন্যাস
দুশ্চিন্তাগ্রস্ত লাগল আমার।'
হাসলাম আমি, তাহলে এর মধ্যে আমার ভূমিকাটি কী?'
‘আমার আন্টি বারকয়েক আপনার কাছে এসেছেন, মি. আর্সকিন । আমি
আন্টির সঙ্গে থাকি। উনি জানেন না আমি আপনার কাছে এসেছি। তবে উনি
আপনার প্রশংসায় এমন পঞ্চমুখ, ভাবলাম একবার নিজে এসে হাতটা দেখিয়ে।
যাই।'
আমার হাত দেখার গুণাগুণ লােকে মুখে ক্রমে ছড়িয়ে পড়েছে জেনে আনন্দই
লাগল। মিসেস বারম্যান চমৎকার একজন মানুষ। এই বৃদ্ধাটির বিশ্বাস, তার
মত স্বামী প্রেতলােক থেকে তার সঙ্গে যােগাযােগের চেষ্টা করছেন। মাসে বার
দুই/তিন আমার কাছে আসেন মহিলা। জানান তাঁর প্রিয় প্রয়াত স্বামী তাঁকে
অনন্তলােক থেকে মেসেজ পাঠিয়েছেন। আর এ ঘটনা ঘটে স্বপ্নের মধ্যে।
মিসেস বারম্যান শুনতে পান তাঁর স্বামী মাঝরাতে তার সঙ্গে ফিসফিস করে
কথা বলছেন। আর তার পরপরই তিনি চলে আসেন টেনথ অভিন্যুতে, আমার
এ ফ্ল্যাটে। আমারও পকেটে কড়কড়ে কয়েকটা ডলার চলে আসে। ব্যবসা
ভালােই।
‘আমি কি আপনার জন্য কার্ড পড়ে দেবাে?' একটা ভুরু তুলে জিজ্ঞেস করলাম
আমি । ভুরু জোড়া ইচ্ছে করে একটু বাঁকিয়ে রেখেছি যাতে শয়তানের ভুরুর
মতাে লাগে দেখতে। এতে আমার মক্কেলদের মধ্যে আমার প্রতি একটা
সমীহভাব তৈরি হয়।
মাথা নাড়ল ক্যারেন ট্যান্ডি। তার মতাে এত সিরিয়াস এবং দুশ্চিন্তায় আধমরা
মক্কেল আমার কাছে আর আসেনি। মনে মনে প্রার্থনা করলাম মেয়েটা যেন
আবার আমাকে অতিপ্রাকৃতিক কিছু একটা করার জন্য অনুরােধ করে না বসে
‘আমার সমস্যা স্বপ্ন নিয়ে, মি. আর্সকিন । যেদিন থেকে ঘাড়ের মধ্যে পিন্ডটা
গজাতে লাগল, আমি ভয়ংকর সব দুঃস্বপ্ন দেখছি। প্রথম রাতে ভাবলাম
সাধারণ কোনাে দুঃস্বপ্ন। কিন্তু প্রতিরাতে স্বপ্নটা আরাে পরিষ্কার হচ্ছে। আজ
রাতে বিছানায় যাবার সাহস হবে কি না জানি না । কারণ ঘুমালেই বিকট
স্বপ্নটা দেখব। আর যত দিন যাচ্ছে, স্বপ্নের দৃশ্যগুলাে ততই পরিষ্কার দেখতে
পাচ্ছি এবং ওগুলাে আরাে ভয়ংকর চেহারা নিয়ে হাজির হচ্ছে আমার কাছে।
আমি চিন্তিত ভাবে নাকের ডগা ধরে টানতে লাগলাম। আমি কোনাে কিছু
নিয়ে ভাবার সময় এরকম করি। এটা আমার একটা বদভ্যাস।
‘মিস ট্যান্ডি, বহু লােক একই রকম স্বপ্ন একাধিকবার দেখে । এর কারণ হলাে
কোনাে একটি বিষয় নিয়ে তারা বারবার চিন্তা করে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই ।
আমার দিকে ডাগর ডাগর, গভীর, চকোলেট-বাদামী রঙের চোখ মেলে
তাকিয়ে রইল ক্যারেন । আমার স্বপ্নটা ওরকম কিছু নয়, মি. হ্যারি। স্বপ্নটা
বড় বাস্তব। সাধারণ স্বপ্নে মনে হয় ব্যাপারটা আপনার মাথার মধ্যে ঘটছে।
কিন্তু আমার এ স্বপ্নটাকে মনে হয় আমার মাথার ভেতরে এবং বাইরে
সব জায়গাতেই যেন ঘটছে।
‘স্বপ্নটার কথা বলুন, শুনি।
‘স্বপ্নটার শুরু সব সময় একই রকম ভাবে। আমি স্বপ্নে দেখি একটি অদ্ভুত দ্বীপে
দাঁড়িয়ে আছি। শীতল। প্রবল ঠাণ্ডা বাতাস বইছে। বাতাসটাকে অনুভব করতে
পারি আমি যদিও আমার বেডরুমের জানালাগুলাে সবসময় বন্ধ থাকে। দেখি
তখন রাত। চাদ উঠেছে মেঘের পেছনে। দূরে, জঙ্গল ছাড়িয়ে একটি নদী
দেখতে পাই, তবে ওটা সমুদ্রও হতে পারে। চাঁদের আলাে পড়ে ঝিকমিক
করছে পানি। আমি আমার চারপাশে তাকাই । সারি সারি অন্ধকার কুটির
দেখতে পাই । মনে হয় আমি একটি গ্রামে এসে পড়েছি, প্রাচীন কোনাে গ্রাম,
তবে আশপাশে কাউকে চোখে পড়ে না আমার।
তারপর আমি ঘাসের মাঠ পেরিয়ে নদী বা সাগরের দিকে হাঁটতে থাকি।
রাস্তা চিনতে পারি কারণ অনুভব করি এ অদ্ভুত দ্বীপে কেটেছে আমার
জীবন । টের পাই ভয় পেয়েছি আমি, তবে একই সঙ্গে অনুভব করি
ভেতরে গােপন কোনাে শক্তি লুকিয়ে আছে এবং ওই শক্তির কার।”
ভয়টা কাটিয়ে উঠতে পারি। আমার ভয় লাগে অজানা, অচেনা '
যেগুলােতে আমি ঠিক বুঝতে পারি না।
‘আমি নদীতে পৌছে যাই । দাঁড়িয়ে থাকি তীরে। তখনও ভীষণ ঠাণ্ডা ।
পানিতে তাকিয়ে দেখি তীর থেকে খানিক দূরে নােঙর করে আছে অন্ধকার,
পাল তােলা প্রচণ্ড একটি জাহাজ। স্বপ্নে ওটাকে সাধারণ জাহাজ মনে হলেও
আমি ওটাকে প্রচণ্ড ভয় পেতে থাকি। ওটাকে আমার অদ্ভুত এবং অচেনা মনে
হতে থাকে, যেন অন্য ভুবন থেকে আসা কোনাে ফ্লাইং সসার ।
‘আমি নদী-তীরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। তারপর দেখি জাহাজ থেকে
একটি ছােট নৌকা ভাসানাে হয়েছে পানিতে, তীরে আসছে। নৌকায় কে
আছে দেখতে পাই না আমি। আমি ঘাসের ওপর পা ফেলে দৌড়াতে শুরু
করি, ফিরে আসি গাঁয়ে। একটি কুটিরে ঢুকে পড়ি। কুটিরটি মনে হয় খুব
পরিচিত । যেন আমি আগে ওখানে থাকতাম। আমি প্রায় বিশ্বাস করে ফেলি
ওটা আমার কুটির। কুটিরে ভেষজ আর ধূপের মিশেল দেওয়া একটি গন্ধ
নাকে ধাক্কা মারে ।
‘আমার ভেতরে প্রচণ্ড একটা ব্যাকুলতা জেগে ওঠে কিছু একটা করার জন্য।
তবে কাজটা কী জানি না আমি । কিন্তু কাজটা আমাকে করতেই হবে। আর
কাজটার সঙ্গে নৌকার ভীতিকর লােকগুলােরও যেন একটা সম্পর্ক রয়েছে।
আমার ভেতরে ভয় ক্রমে বেড়েই চলে। আমার মনে হতে থাকে জাহাজ থেকে
ভয়ানক কিছু একটা বেরিয়ে আসবে যার পরিণতি হবে ভয়ংকর। ওই জাহাজে
ভিন্ন ধরনের কিছু একটা আছে, সে খুব শক্তিশালী, তার আছে জাদুর শক্তি।
আমি তার পরিচয় জানার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি। এমন সময় আমার ঘুম ভেঙে
যায়।
একটা রুমাল ধরে মােচড়াচ্ছে মিস ট্যান্ডি । তার গলার স্বর নরম, হালকা কিন্তু
বলার ভঙ্গিটা অত্যন্ত দৃঢ় যেন সে যা বলছে তা সব মন থেকে বিশ্বাস করে।
আর ব্যাপারটি আমাকে কেমন একটা অস্বস্তিতে ফেলে দিল। ও কথা বলছে,
আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি। অনুমান করি ক্যারেন ভাবছে স্বপ্নের প্রতিটি
ব্যাপার তার জীবনে ঘটেছে।
আমি মাথা থেকে সবুজ টুপিটা খুলে নিলাম। এরকম পরিস্থিতিতে এ ধরনের
একটা জিনিস মাথায় থাকলে পরিবেশটা তরল হয়ে ওঠে।সেরা রোমান্টিক উপন্যাস
দেখেছেন-এরকম বিস্তারিত দৃশ্যসহ?'
‘জি। সবসময় একই রকম স্বপ্ন দেখি। সবসময় ভয়ে থাকি জাহাজ থেকে না
জানি কেউ নেমে আসে।
"হুম । আপনি বলছেন ওটা পালতােলা একটা জাহাজ। ইয়ট জাতীয় কিছু?
![]() |
| সেরা রোমান্টিক উপন্যাস |
মাথা নাড়ল ক্যারেন। ওটা ইয়ট নয়। গ্যালিয়নের মত।
তিনটে মাস্তুল আর প্রচুর দড়িদড়াসহ জাহাজ।
আমি আবার নাকের ডগা টানতে টানতে ডুবে গেলাম চিন্তায় ।
এমন কোনাে কিছু কি আপনার চোখে পড়েছে যাতে জিনিস টা র প্রকৃতি বা
স্বরূপ বােঝা যায়? কোনাে নামটাম লেখা ছিল জাহাজের গায়ে ?"
"জাহাজটা অনেক দূরে ছিল। আর অন্ধকারে ভালাে করে দেখতেও পাচ্ছিলাম না।
কোনাে পতাকা ছিল না?'
ছিল একটা। তবে ওটার কোনাে বর্ণনা দিতে পারব না।'
আমি চেয়ার ছেড়ে এগিয়ে গেলাম বুককেসের দিকে । ওখানে অকাল্ট বিষয়ের
ওপর প্রচুর পেপারব্যাক রয়েছে। আমি টেন থাউজেন্ড ড্রিমস ইন্টার
বইখানা টেনে নিলাম তাক থেকে। সঙ্গে আরাে খানকয়েক বই। বইগুলাে
আমার সবুজ টেবিলের ওপর রাখলাম। দ্বীপ এবং জাহাজ নিয়ে লেখা কয়েকটি
রেফারেন্স বইতে চোখ বুলালাম। কিন্তু তাতে কোনাে লাভ হলাে না। অকাল্ট
টেক্সটবুক আসলে তেমন কাজে আসে না। আর এতে যেসব জগাখিচুড়ি
ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তা মাথায় ঢােকে না।
‘জাহাজ সাধারণত ব্যবহার করা হয় ভ্রমণ কিংবা সংবাদ পাঠানাের কাজে।
আপনি স্বপ্নে যে জাহাজ দেখেছেন ওটাকে আপনার কালাে এবং ভীতিকর মনে
হয়েছে। দ্বীপের জনশন্য পরিবেশ আপনার ভেতরে এনে দিয়েছে একাকীত্ব
এবং ভয়। আসলে দ্বীপটি আপনি নিজেই। আর জাহাজটা যা-ই হােক না
কেন, ওটা আপনার জন্য ছিল সরাসরি হুমকি।
মাথা দোলাল ক্যারেন ট্যান্ডি। জানি না কেন তবে ওকে এসব হাবিজাবি ব্যাখ্যা
দিয়ে ভেতরে ভেতরে অপরাধ বােধে ভুগছিলাম আমি। মেয়েটির মধ্যে
নিরাপত্তাহীনতা এবং আড়ষ্টতা এমনভাবে ফুটে আছে তার বব করা বাদাম
চুলের ফ্রেমে শুকনাে, ম্লান মুখখানা এমন অসহায় দেখাচ্ছে, আমি ভাবছিলাম
ওর স্বপ্নটা হয়তাে মিথ্যে নয়।
‘মিস ট্যান্ডি,' বললাম আমি, তুমি আমার চেয়ে বয়সে অনেক ছােট
তােমাকে “তুমি” বলতে পারি?
“অবশ্যই পারেন।
‘তুমি আমাকে হ্যারি বলে ডাকতে পারাে।
ধন্যবাদ।।
শােনাে, ক্যারেন, তােমার সঙ্গে খােলাখুলিই কিছু কথা বলি।
তবে এটাই সত্য যে আমি যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করি তার সঙ্গে
জানি না কেন, তােমার এ
ব্যাপারটি ঠিক মিলছে না। তােমার স্বপ্নের ব্যাপারটি আমার কাছে বানােয়াট
কিছু মনে হয়নি। মনে হয়েছে অকৃত্রিম।'
তবে আমার কথা শুনে ক্যারেন খুব একটা আশ্বস্ত হতে পেরেছে বলে মনে
হলাে না। মানুষ আসলে শুনতে চায় না সে যে জিনিস নিয়ে ভয় পাচ্ছে তার
অস্তিত্ব রয়েছে। এমনকী শিক্ষিত, বুদ্ধিমান মানুষও এ ভেবে সান্ত্বনা পেতে চায়
যে তারা যে স্বপ্ন দেখে তা ভিত্তিহীন। লােকে যে দুঃস্বপ্ন দেখে তার অর্ধেকও
যদি সত্যি হতাে, সবাই নির্ঘাত পাগল হয়ে যেত। আমার একটি কর্তব্য হলাে
আমার মক্কেলদের ভয় তাড়িয়ে দেবার জন্য বলা যে তারা যেসব স্বপ্ন দেখছে।
তা কোনােদিনই তাদের জীবনে ঘটবে না।
‘অকৃত্রিম মানে?
আমি ক্যারেনকে আরেকটি সিগারেট দিলাম। এবারে সিগারেটে আগুন
ধরানাের সময় হাত গতবারের মতাে কাঁপল না ।
‘ব্যাপারটা এরকম, ক্যারেন-কিছু লােকের মিডিয়াম হবার ক্ষমতা থাকে যদিও
সে সম্পর্কে তারা সচেতন নয় । মিডিয়াম হলাে রেডিও কিংবা টিভি’র মতাে।
অন্যদের পক্ষে যা সম্ভব নয়, একজন মিডিয়াম সিগন্যাল বা সংকেত বুঝতে
পারে, ওগুলােকে শব্দ কিংবা ছবির মাধ্যমে ব্যাখ্যা দিতে পারে।'
কীসের সিগন্যাল?' ভুরু কোঁচকাল ক্যারেন । ঠিক বুঝলাম না।সেরা রোমান্টিক উপন্যাস
, তাই না? কিন্তু এসব সিগন্যাল সারাক্ষণ তােমাকে ঘিরে রেখেছে।
তােমাকে যা করতে হবে তা হলাে সিগন্যালগুলাে ধরে সঠিক রিসিভারে পাঠিয়ে
দেওয়া।।
সিগারেটে জোরে একটা টান দিল ক্যারেন। আপনি বলতে চাইছেন আমার
স্বপ্নটা একটা সিগন্যাল? কিন্তু কীসের সিগন্যাল? আর এটা এলেই বা
কোত্থেকে? আর আমার কাছেই বা এলাে কেন?
মাথা নাড়লাম আমি। আমি জানি না ওটা কেন তােমার কাছে এলাে। জানি
না কোথেকে এসেছে। যেকোনাে জায়গা থেকে সংকেতটি আসতে পারে।
কাগজে পড়েছি আমেরিকার কিছু লােক একবার একটা স্বপ্ন দেখেছে। এ
স্বপ্নের মাধ্যমে তারা বহু দূর দেশের মানুষদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য
পেয়েছে। আইওয়ার এক কৃষক স্বপ্ন দেখল সে পাকিস্তানের বন্যায় ডুবে মারা
যাচ্ছে। সে রাতেই প্রবল বৃষ্টিতে পাকিস্তানে চারশ লােক মারা যায় ।
থটওয়েভটাকে এখানে সংকেত বলে ধরে নিতে হবে। আইওয়ার কৃষক তার
অবচেতন মনে এ সিগন্যাল পেয়েছিল পাকিস্তানের কোনাে লােকের কাছ থেকে
যে পানিতে ডুবে মারা যাচ্ছিল। শুনতে অবাস্তব মনে হতে পারে কিন্তু এরকম
ঘটেছে।
আমার দিকে মিনতির চোখে তাকাল ক্যারেন। তাহলে আমি কী করে জানব
আমার স্বপ্নের বাস্তব ভিত্তি কতটুকু? ধরে নিলাম এটা কোনাে সংকেত
আসছে কারাে কাছ থেকে, সে পৃথিবীর কোথাও না কোথাও আছে, তার
সাহায্য দরকার, কিন্তু আমি কি তাকে খুঁজে পাব না?'
‘সত্যি খুঁজে পেতে চাইলে একটা উপায় অবশ্য আছে।' বললাম আমি।
“প্লিজ আমাকে শুধু বলুন কী করতে হবে। আমি সত্যি ব্যাপারটা জানতে চাই।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস এর সঙ্গে আমার টিউমারের কোনাে সম্পর্ক আছে। আমি
জানতে চাই এটা আসলে কী?'
মাথা দোলালাম আমি। “ঠিক আছে, ক্যারেন। তাহলে আমি যা বলব তােমাকে
তা করতে হবে । আজ রাতে যথারীতি ঘুমাতে যাবে। আবার যদি সেই একই
স্বপ্ন দেখ, তুমি সব কিছু পরিষ্কার মনে করার চেষ্টা করবে-যতদূর পার ।
দ্বীপের চারপাশটা ভালাে করে লক্ষ করবে, কোনাে ল্যান্ড মার্ক চোখে পড়ে
কিনা দেখবে। নদীর ধারে যখন যাবে, উপকূল রেখার যতটা সম্ভব নকশা
গেঁথে নেবে মাথায়। যদি কোনাে উপকূল বা এধরনের কিছু চোখে পড়ে, ওটার
আকার-আকৃতি মনে রাখার চেষ্টা করবে। নদীর পাড়ে যদি পাহাড় কিংবা
জেটি দেখতে পাও, গেঁথে নেবে মাথায়। আরেকটি বিষয় খুব জরুরি: পাল
তােলা জাহাজটির পতাকার দিকে ভালাে করে তাকাবে। ওটাকে স্মৃতিতে
গেঁথে রাখবে। তারপর ঘুম ভাঙা মাত্র যতদূর সম্ভব স্বপ্নের বিস্তারিত বর্ণনা
লিখে রাখবে কাগজে। আর যা যা দেখেছ তার ছবিও এঁকে রাখার চেষ্টা
করবে। তারপর ওই কাগজগুলাে আমার কাছে নিয়ে এসাে।
সিগারেটটা অ্যাশট্রেতে নিভিয়ে দিল ক্যারেন। কাল সকাল আটটার মধ্যে
আমাকে হাসপাতালে যেতে হবে।
‘কোন হাসপাতাল?
‘সিস্টারস অব জেরুজালেম ।
“বেশ। বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি বলেই আমি কাল সকালে হাসপাতালে যাব।
তুমি স্বপ্নের বিস্তারিত বর্ণনা খামে ভরে ওখানে রাখতে পারবে না?
“মি. আসকিন- হ্যারি, আমি পারব। এতক্ষণে ভরসা পাচ্ছি আমি। মনে হচ্ছে
যা হােক একটা উপসংহারে পৌছাতে যাচ্ছি।'
সেরা রোমান্টিক উপন্যাস
মুঠোয়। মেয়েটির চেহারা ভারি মিষ্টি। যদি আমি পুরােপুরি পেশাদার
না হতাম
এবং ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কোনাে মানসিক সম্পর্কে কখনাে জড়াব না বলে প্রতিজ্ঞা
না করতাম, আমি নির্ঘাত ওকে আজ ডিনারের দাওয়াত দিয়ে বসতাম।
আপনাকে কত দিতে হবে?' নীরবতা ভেঙে প্রশ্ন করল ক্যারেন ।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক উপন্যাস |
যে লােক হাসপাতালে অপারেশনের জন্য ভর্তি হতে যায় তার কাছে পরের
হপ্তায় পারিশ্রমিক নেব শুনলে সে মনে মনে খুশি হয়। সে ভাবে একজন
জ্যোতিষী যখন বলছে পরের হপ্তায় আবার দেখা হবে তার মানে অপারেশনটা
যতই জটিল হােক, তার বেঁচে যাবার একটা সুযোগ আছে।
“ঠিক আছে, হ্যারি, ধন্যবাদ,' মৃদু গলায় বলল ক্যারেন, সিধে হলো।
চলবে..........



إرسال تعليق