![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প |
"দ্যা ম্যানিটু"
লেখক - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু
(পর্ব ৪)
বিদায় নিয়ে চলে গেল ক্যারেন । ও যাবার পরে আমি আমার আর্মচেয়ারে বসে
গভীর ভাবনায় ডুবে গেলাম। আমার কাছে যেসব মধ্যবয়স্ক নারী আসে তারাও
তাদের স্বপ্নের কথা অকপটে খুলে বলে আমাকে। কিন্তু তাদের স্বপ্নগুলাে নীরস,সেরা রোমান্টিক গল্প
সাদামাটা এবং মামুলী। তার অ্যাক্সিডেন্টের স্বপ্ন দেখে ভীত হয়ে ওঠে। কিন্তু
ক্যারেনের মতাে এমন পরিষ্কার, গা ছমছমে দৃশ্য তারা দেখে না । আর ক্যারেনের
স্বপ্নের মধ্যে যৌক্তিক কিছু ব্যাপার আছে যা অন্যদের স্বপ্নে নেই।
ফোনটা তুলে নিয়ে ডায়াল করলাম। কয়েকবার রিং হবার পরে ও প্রান্তে
তােলা হলাে রিসিভার।
‘হ্যালাে?' ভেসে এলাে বয়সী একটি কণ্ঠ। কে বলছেন?'
‘মিসেস বারম্যান, হ্যারি আর্সকিন বলছি । এত রাতে আপনাকে বিরক্ত করার
জন্য দুঃখিত।
“আরে কী যে বলেন, মি. আর্সকিন! আপনি ফোন করেছেন বলে খুব খুশি
হয়েছি। জানতে পারি কেন ফোন করেছেন?
‘অবশ্যই । আপনাকে দু'একটা প্রশ্ন করতে চাই।'
খিলখিল হাসলেন বৃদ্ধা। খুব বেশি ব্যক্তিগত না হলে জবাব দিতে আপত্তি
নেই, মি আসকিন।
'না, না, ব্যক্তিগত কোনাে প্রশ্ন নয়। আচ্ছা মিসেস বারম্যান মাস দুই-তিন আগে
আপনি আমাকে একটা স্বপ্নের কথা বলেছিলেন। ওটার কথা মনে আছে?'
‘কোনটা বলুন তাে, মি. আর্সকিন? আমার স্বামীর ব্যাপারে?'
‘জি। যে স্বপ্নের মধ্যে আপনার স্বামী আপনার কাছে সাহায্য চাইছিলেন,
‘দাঁড়ান, মনে করি,' বললেন মিসেস বারম্যান। যদূর মনে পড়ে ,
দেখেছিলাম আমি সাগর তীরে দাঁড়িয়ে আছি। মাঝ রাত । ভীষণ ঠাণ্ডা।
সেরা রোমান্টিক গল্প
"
আছে আফসােস করছিলাম বেরােবার আগে কেন শালটা গায়ে জড়িয়ে এলাম না,
এমন সময় শুনতে পাই আমার স্বামীর ফিসফিসে কণ্ঠ। সে সব সময়
ফিসফিস করে কথা বলে, আপনাকে বলেছি আমি। কখনােই কানের কাছে মুখ
এনে চিৎকার করে না। সে ফিসফিস করে কী যেন বলছিল আমাকে ঠিক
বুঝতে পারিনি। তবে মনে হচ্ছিল আমার সাহায্য চাইছিল সে।'
মিসেস কারম্যানের কথা শুনে আমার কেমন দুশ্চিন্তা হচ্ছিল। অদ্ভুত একটা
অনুভূতি জাগছিল মনে। আমি কোনাে কিছুর সঙ্গে অতিপ্রাকৃতিক কোনাে বিষয়
জড়াতে যাই না। কিন্তু এ ধরনের কোনাে কিছুর সূচনা ঘটার আভাস পেলে
ছমছম করে ওঠে গা।
‘মিসেস বারম্যান,' বললাম আমি । আপনি স্বপ্নে সাগর সৈকত ছাড়া অন্য কিছু
কি দেখতে পান? কোনাে জাহাজ বা নৌকা? কিংবা কুটির অথবা গ্রাম?'
এরকম কিছু দেখেছি বলে তাে মনে পড়ছে না,' জবাব দিলেন মিসেস
বারম্যান। কেন, জানাটা কি খুব জরুরি?
‘আমি আসলে স্বপ্ন নিয়ে একটি পত্রিকায় প্রবন্ধ লিখছি, মিসেস বারম্যান।
তেমন জরুরি কিছু না। আপনাদের মতাে কারাে কারাে স্বপ্নের অভিজ্ঞতার
একটা বর্ণনা দিতাম আর কী। কারণ আপনার স্বপ্নটি বেশ ইন্টারেস্টিং কিনা!'
আমি মানসচক্ষে দিব্যি দেখতে পেলাম মহিলা ঘন ঘন চোখের পাপড়ি বন্ধ
করছেন এবং খুলছেন।
‘আপনার কাছ থেকে প্রশংসা শুনলে বেশ ভাল্লাগে, মি, আর্সকিন।'
‘আরেকটা কথা, মিসেস বারম্যান। এটা কিন্তু জরুরি।
‘বলুন, মি. আর্সকিন?'
‘আমাদের এ আলাপচারিতার বিষয়টি গােপন রাখবেন। এ ব্যাপারে কাউকে
কিছু দয়া করে বলবেন না। আমি কি আপনাকে বােঝাতে পেরেছি?
ফোস করে একটা শ্বাস ছাড়লেন মিসেস বারম্যান। একটা শব্দও বলব না;
মি, আর্সকিন। গড প্রমিজ।
‘ধন্যবাদ, মিসেস বারম্যান। আপনার সঙ্গে কথা বলে অনেক উপকার হল
আমার।' বলে ফোন রেখে দিলাম।
এটা কী সম্ভব যে দুজন মানুষ একই রকম স্বপ্ন দেখল? যদি এমনটি হয়ে থাকে
তাহলে উর্ধ্বলােক থেকে আসা সংকেতের ব্যাপারটিও ঘটতে পারে।
ক্যারেন আর তার আন্টি মিসেস বারম্যান সেই জায়গাটি থেকে একটি মেসেজ
পেয়েছে, ওটি এখন তাদের মস্তিষ্কে খেলা করছে ।
মিসেস বারম্যান বলেছেন তার স্বামী তার সঙ্গে যােগাযােগের চেষ্টা করছেন।
এ ব্যাপারটি আমি পাত্তা দিইনি। কারণ সকল বয়সী বিধবারই বিশ্বাস, তাদের
স্বামীদের আত্মা ভেসে বেড়ায় বাতাসে এবং তাদেরকে খুব জরুরি কোনাে কথা
বলার চেষ্টা করে।
আমি আসলে ভাবছিলাম একই লােক সম্ভবত ক্যারেন এবং তার আন্টির সঙ্গে
যােগাযােগের চেষ্টা করছে।
আমার ফ্ল্যাটে বসে এসব এলােমেলাে চিন্তা করছি হঠাৎ অস্বস্তি লাগল আমার। মনে
হলাে কেউ আমার পেছনে দাঁড়িয়ে আছে। আমি পেছন ফিরে তাকাতে চাইছি না
কারণ জানি ভয় পেয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকানােটা বােকামাে হবে । কিন্তু কেউ আমাকে
পেছন থেকে লক্ষ করছে এ ভাবনাটা মনের মধ্যে প্রবল হয়ে ওঠার পাশাপাশি
শিরদাঁড়ার মাঝখানটা হঠাৎ ভয়ানক চুলকাতে শুরু করল। আমি আড়চোখে ডানে-
বামে তাকালাম কারাে অপ্রত্যাশিত ছায়া দেয়ালে পড়েছে কিনা দেখতে।
শেষে ঝট করে দাঁড়িয়ে গিয়েই পেছন ফিরলাম। না, কেউ নেই। কিন্তু কেউ
বা কিছু একটা, ভীতিকর, নীরব এবং ভয়ানক কিছু একটা এক সেকেন্ড
আগেও এখানে ছিল, এই বিশ্রী ভাবনাটা চেষ্টা করেও মন থেকে দূর করতে
পারলাম না। আমি এবারে জোরে জোরে শিস দিতে লাগলাম। গ্লাসে খানিক
স্কচ ঢেলে নিলাম। তরল আগুনটা গলা ও বুক জ্বালিয়ে নেমে গেল
পাকস্থলীতে । আমার ভয় অনেকটাই দূর হয়ে গেল।
আমি কেন বা কীসের ভয় পাচ্ছি ব্যাপারটা জানার জন্য ট্যারট কার্ডের আশ্রয়
নিলাম। হাত দেখার ব্যাপারটা অনেকটাই বুজরুকি হলেও ট্যারট কার্ডের প্রতি
আমার বিশেষ শ্রদ্ধাবােধ রয়েছে। ট্যারট কার্ডের ভবিষ্যদ্বাণীতেও আমি বিশ্বাস
করতে চাই না কিন্তু এ জিনিসের একটা দারুণ ক্ষমতা আছে। আপনি নিজের
সমস্যা যতই লুকাতে চান না কেন, ট্যারট কার্ড ঠিকই আপনার মানসিক
অবস্থার কথা বলে দেবে।
কার্ডগুলাে বেঁটে নিলাম। তারপর ছড়িয়ে দিলাম আমার সবুজ টেবিলের
ওপর কিলটিক ক্রস দিয়ে আলাদা করলাম দশটি কার্ড।
ট্যারট কার্ডকে আমি সাধারণ একটি প্রশ্ন করলাম: ‘দূর থেকে ক্যারেন ট্যান্ডির
সঙ্গে কে কথা বলে?সেরা রোমান্টিক গল্প
কুঁচকে গেল ভুরু। এরকম অদ্ভুত রিডিং জীবনে পাইনি।
বেশিরভাগ লােকের ট্যারট কার্ডে মামুলি ধরনের কথা লেখা থাকে। অর্থকড়ি নিয়ে তাদের উদ্বেগ, বাড়িতে অশান্তি ইত্যাদি।
বিষয়গুলাে ইংগিত করে ট্যারট কার্ড। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনােদিন আমার
হাতে মৃত্যুর ট্যারট কার্ড ওঠেনি। এবারে তাই ঘটেছে।
আমার হাতে যে ট্যারট কার্ডটি আছে তাতে মৃত্যুর ছবি। পরনে কালাে বর্ম
পড়ে আছে লাল টকটকে চোখের কালাে ঘােড়ার ওপর, তার সামনে বিশপ
এবং শিশুরা কুর্নিশ করছে। আমার হাতের অন্যান্য কার্ডের মধ্যেও ভয়াবহ
কিছু ঘটার সংকেত। কারণ শয়তানের কার্ডও উঠে এসেছে হাতে । মাথায়
শিং, উৎকট উল্লাসে নাচছে শয়তানের চোখ, তার সিংহাসনের সঙ্গে বেঁধে
রাখা হয়েছে নগ্ন দেহ কতগুলাে মানুষ। আমার হাতে আছে ম্যাজিশিয়ানের
কার্ডও। ম্যাজিশিয়ানের কার্ড মানসিক রােগ, ডাক্তার, অসুস্থতা ইত্যাদির
ইঙ্গিত করে।সেরা রোমান্টিক গল্প
আমি প্রায় আধঘণ্টা কার্ডগুলাের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ম্যাজিশিয়ান? এ
কার্ডের মানে কী? এর মানে কী এই যে ক্যারেন ট্যান্ডি মানসিক রােগী?
হয়তাে বা। ঘাড়ের টিউমার হয়তাে তার মস্তিষ্কে ভজকট ঘটিয়েছে। এসব
কার্ড নিয়ে সমস্যা হলে নির্দিষ্ট করে এরা কিছু বলে না। তিন-চার রকম
ব্যাখ্যা দেয়। আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে কোন ব্যাখ্যাটি আপনি মেনে
নেবেন।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প |
ম্যাজিশিয়ান? আবার কার্ড শাফল করলাম। ম্যাজিশিয়ান কার্ডটি ব্যবহার
করলাম আমার প্রশ্ন হিসেবে। সে জন্য এটিকে রাখলাম টেবিলের মাঝখানে।
ওটার ওপর আরেকটা কার্ড রাখলাম। তারপর কেলটিক ক্রসের সাহায্যে
ছড়িয়ে দিলাম কার্ডগুলাে। ম্যাজিশিয়ান কী বলতে চাইছে এবারে অন্যান্য
কার্ডগুলাে আমাকে আরাে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারবে।
এক এক করে নয়টি কার্ড ফেললাম। দশ নাম্বার কার্ডটি মেলে ধরলাম।
তলপেটে অদ্ভুত একটা সুড়সুড়ি লাগল, আবার মনে হলাে কেউ আমার পেছনে
এসে দাঁড়িয়েছে, লক্ষ করছে আমাকে। না, এ হতে পারে না। দশ নাম্বার
কার্ডটি আবার ম্যাজিশিয়ান!
কার্ডের নিচে আমার প্রশ্নের জবাব-মৃত্যু। হয়তাে কোনাে ভুল করে
ম্যাজিশিয়ানের কার্ডটি হয়তাে সবার আগে টেবিলে ফেলেছি। আবার সবগুলো
কার্ড তুলে নিলাম। ম্যাজিশিয়ানকে আগে রাখলাম টেবিলে। তারপর ওটাকে
ঢেকে দিলাম দুটো কার্ড দিয়ে। তারপর একের পর এক কার্ড ফেলতে
লাগলাম। এখন আমার হাতে কেবল একটি কার্ড আছে।
কিন্তু এ কার্ডে কিছু লেখা নেই। ফাঁকা।সেরা রোমান্টিক গল্প
মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ বলে দিয়ে আমার পেট চলে যদিও নিজেই
ভবিষ্যদ্বাণী-টানিতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছিল কে যেন
আমাকে বলছে, বাছা, নিজের চরকায় তেল দাও ।
ঘড়ি দেখলাম। মধ্যরাত। ভূত-প্রেতদের বিচরণের যথার্থ সময় আর ঘুমাতে
আবারও উপযুক্ত সময়। কাল হাসপাতালে গিয়ে একবার দেখে আসব ক্যারেন
ট্যান্ডি আমার জন্য ছাই-ভস্ম কী লিখে এনেছে।
পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ কমলা রঙের সূর্যের দেখা দিল
আকাশে। বরফে ঢাকা রাস্তার তুষার গলে থিকথিকে বাদামী কাদায় পরিণত
হয়েছে। এখনাে হাড় জমাট বাঁধা ঠাণ্ডা । আমি আমার কুগার নিয়ে চলেছি
সিস্টারস অব জেরুজালেম হাসপাতালে। নােংরা ফুটপাতে হেঁটে যাচ্ছে
পথচারীরা, কোট আর মাফলারে ঢাকা শরীর, মুখ দেখা যায় না । বিকট কালাে
মূর্তির মতাে লাগছে।
হাসপাতালের বাইরে পার্ক করলাম গাড়ি, ঢুকলাম রিসেপশন হল-এ ।
ভেতরটা উষ্ণ, রুচিশীল ভাবে সাজানাে । মেঝেয় মােটা কার্পেট, মাটির পটে
পাম গাছ। মানুষজনের গুঞ্জন। সব মিলে এটিকে হাসপাতাল নয়, ছুটি
কাটাতে আসার রিসাের্টের মতাে লাগল । সাদা ইউনিফর্ম পরা, স্মার্ট এক
তরুণী কাউন্টারে আমাকে স্বাগত জানাল। তার দাঁতগুলাে পরনের
পােশাকটার মতােই সাদা।
‘আপনাকে কোনাে সাহায্য করতে পারি?'
নিশ্চই পারেন। আমার জন্য আজ সকালে একজনের একটি খাম রেখে
যাওয়ার কথা। আমার নাম হ্যারি, হ্যারি আর্সকিন।'
‘এক মিনিট, প্লিজ।
পকেট হাতড়ালাম । ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ক্রেডিট কার্ড ভুলে বাড়ি ফেলে
এসেছি । অগত্যা কলিংকার্ড দেখাতে হলো মেয়েটিকে । ওতে লেখা
‘ইনক্রেডিবল হ্যারি আর্সকিন, জ্যোতিষী এবং স্বপ্নের ব্যাখ্যাদাতা।'
সন্দেহ নেই আপনিই সেই ব্যক্তি,' হেসে চিঠিটি আমাকে দিল সপ্রভিত
তরুণী।সেরা রোমান্টিক গল্প
ফ্ল্যাটে না পৌছানো পর্যন্ত খামটি খুললাম না। বাড়িতে ঢুকে খামটি তার
চোখে উল্টে-পাল্টে দেখলাম । ক্যারেন যে সুশিক্ষিত তা তার হাতের লেখা
দেখেই বােঝা যায়। গােটা গােটা, পরিষ্কার হস্তাক্ষরে ‘ইনক্রেডিবল' কথাটা
বেশ স্টাইল করে লিখেছে। দেখে আমার ভালােই লাগল। আমি টেবিলের
ড্রয়ার খুলে একটি কাঁচি বের করলাম। তারপর খামের মাথা কেটে
ফেললাম। ভেতরে তিন-চার টুকরাে কাগজ, সেক্রেটারির নােটপ্যাড থেকে
ছেড়া কাগজ। কাগজের সঙ্গে ক্ষুদ্র একটি চিরকুটও আছে । ক্যারেন
লিখেছে:
প্রিয় হ্যারি,
গতরাতে আবারও স্বপ্নটি দেখেছি। আগের বারের চেয়ে অনেক বেশি
পরিষ্কার ছিল এবারের স্বপ্ন। আমি প্রতিটি দৃশ্য মনে করার চেষ্টা
করেছি। দুটো ব্যাপার আমার মনে খুব দাগ কেটেছে। উপকূল
রেখার নির্দিষ্ট একটি আকার রয়েছে যার ছবি আমি এখানে একে
দিলাম। পালতােলা জাহাজের ছবিও এঁকেছি, সেই সঙ্গে পতাকার
চিত্র, অন্তত যেটুকু আমার মনে ছিল।
ভয়ের অনুভূতিটা আগের বারের চেয়েও প্রবল ছিল। আর ওখান
থেকে পালিয়ে যাবার তাড়াটা ছিল সাংঘাতিক।
আমি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া মাত্র আপনার সঙ্গে যােগাযােগ
করব জানতে যে আপনি এ ব্যাপারে কী ভাবছেন।
আপনার বান্ধবী ক্যারেন ট্যান্ডি।
সেরা রোমান্টিক গল্প
কাগজের টুকরােগুলাে বের করে চোখ বুলালাম। কাঁচা হাতের উপকূল
মানচিত্রটি কিছুই ফোটেনি। স্রেফ হিজিবিজি একটি রেখা । তবে জাহাজের
ছবিটি মন্দ আঁকেনি ক্যারেন । পতাকাও মােটামুটি পরিষ্কার বােঝা যাচ্ছে।
লাইব্রেরিতে পালতােলা জাহাজ এবং পতাকার ওপর বইপত্রের নিশ্চয় অত বই
হবে না। সেক্ষেত্রে এ জাহাজ এবং পতাকা কোন দেশের তা বের করতে বেগ পেতে হবে না।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প |
তবে কিনা এটা সত্যি জাহাজ হয়ে থাকে, ক্যারেনের স্রেফ কল্পনা না হলেই হলাে।
কিছুক্ষণ বসে রইলাম। ভাবছি আমার বান্ধবী ক্যারেন ট্যান্ডি'-এর কথা ।
এক্ষুনি মন চাইছে লাইব্রেরিতে গিয়ে জাহাজের ওপর বই ঘাটা ঘাটি করতে।
কিন্তু সাড়ে এগারোটা বাজে। একটু পরেই মিসেস হার্জ অাসবেন । আমার
আরেক পয়সাওলা বৃদ্ধা মক্কেল। মিসেস হার্জএর আগ্রহের বিষয় তার শতাধিক ,
আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে। এরা কখন কোন বিপদে তাকে ফেলে দেয়, তাই
নিয়ে শংকিত থাকেন বৃদ্ধা । কারণ এদের সবার নামই তিনি নিজের
- লিপিবদ্ধ করেছেন। আমার সঙ্গে প্রতিবার সেশন শেষে আইনজীবীর কাছে গিয়ে
তার উত্তরাধিকারিদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটান। আর উইল বদলানোর
কারণে হার্জের আইনজীবীকে প্রচুর টাকা নিতে হয় মিসেস হার্জকে।
মিসেস হার্জের আইনজীবী এ কারণে আমার ওপর এতই সন্তুষ্ট যে গত
খ্রীষ্টমাসে তিনি আমাকে ব্ল্যাক লেবেল জনি ওয়াকারের পুরো একটা
বাক্স পাঠিয়ে দিয়েছেন।
চলবে...



إرسال تعليق