![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
"দ্যা ম্যানিটু"
মূল - গ্রাহাম মাস্টারটন
রূপান্তর - অনীশ দাস অপু
(পর্ব ৭)
ক্যারেন ট্যান্ডির কামরাটি আয়তনে বিশাল। দু'পাশের জানালা দিয়েই তুষার
পরা রাত চোখে পড়ে। দেয়ালের রঙ স্লান সবুজ। যেমনটি হাসপাতালে হয়ে
থাকে। ফুলটুল নেই, ডেকোরেশনের বালাইও অনুপস্থিত। শুধু নিউ
হ্যাম্পশায়ারের শরকালের ছােট একটি ছবি টাঙানাে দেয়ালে। ক্যারেনের
বিছানা ভর্তি হয়ে আছে সার্জিকাল ইকুইপমেন্টে, ওর ডান হাতে স্যালাইন
দেওয়া হচ্ছে । চোখ বােজা, মাথার নিচের বালিশের মতােই ফ্যাকাসে, সাদা
মুখ । গতরাতে এ মেয়েটিই আমার বাসায় এসেছিল, মিষ্টি চেহারা দেখে মুগ্ধ
হয়েছি । না দেখলে বিশ্বাসই হতাে না।
তবে ভয়ানক চমকে গেলাম টিউমারটি দেখে। ওর ঘাড় জুড়ে ফুলে রয়েছে
মাংস পিণ্ডটা, বিবর্ণ, মােটা, গায়ের শিরাগুলাে চেনা যাচ্ছে। গত রাতের চেয়ে
আকারে নিশ্চয়ই দ্বিগুণ হয়েছে ওটা, প্রায় কাঁধ ছুঁই ছুঁই করছে। আমি ড.
হিউজেসের দিকে তাকালাম। উনি ডানে বামে মাথা নাড়লেন।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
একটা চেয়ার টেনে নিয়ে বসলাম ক্যারেনের বিছানার ধারে, ওর হাতে হাত
রাখলাম । ভীষণ ঠাণ্ডা শরীর । মৃদু কেঁপে উঠল ক্যারেন, আধখানা চোখ মেলল।
ক্যারেন? নরম গলায় ডাকলাম আমি, এই যে আমি, হ্যারি।'
“হ্যালাে, ফিসফিস করল ও। হ্যালাে, হ্যারি।'
সামনে ঝুঁকে এলাম । 'ক্যারেন জাহাজটার খোজ পেয়েছি। লাইব্রেরিতে
গিয়েছিলাম। বই খুঁজে ওই জাহাজের ছবি বের করেছি।'
আমার দিকে তাকিয়ে চোখ পিটপিট করল ক্যারেন। আপনি ওটার খোজ
পেয়েছেন?'
“ওটা একটা ওলন্দাজ জাহাজ, ক্যারেন । ১৬৫০ সালে তৈরি করা হয় ওই
জাহাজ।'
‘ওলন্দাজ?' দুর্বল গলা ক্যারেনের। আমি জানতাম না ওটা কোথাকার
জাহাজ।'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘তুমি শিওর, ক্যারেন? তুমি শিওর যে ওই জাহাজে কোনােদিন চড়ােনি?'
মাথা নাড়ার চেষ্টা করল ক্যারেন কিন্তু বিকট ফোলা টিউমারের কারণে পারল না।
ওর ঘাড়ের পেছনে ফ্যাকাসে, বিশ্রী একটা ফলের মতাে লাগছে দেখতে।
ড. হিউজেস আমার কাঁধে হাত রাখলেন। মনে হয় না ওর সঙ্গে কথা বলে খুব
একটা লাভ হবে, মি, আর্সকিন। চলুন যাই।'
আমি ক্যারেনের কবজি আরাে জোরে চেপে ধরলাম । ক্যারেন ডি বুট সম্পর্কে
তুমি কিছু জানাে? মিজহির?'
‘কী?' অনুচ্চ গলায় জানতে চাইল ও।
‘ডি বুট, ক্যারেন, ডি বুট?
চোখ বুজল মেয়েটি। বােধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে।
হঠাৎ বিছানায় কী যেন একটা নড়ে উঠল। ফুলে ওঠা সাদাটে টিউমার
অকস্মাৎ মােচড় খেয়েছে, যেন ওটার ভেতরে জ্যান্ত কিছু আছে ।
“ওহ, ক্রাইস্ট,' বললেন ড. হিউজেস । 'মি আর্সকিন, আপনি বরং-'
‘আ আ আ আহু,' গুঙিয়ে উঠল ক্যারেন। আ আ আ আহ ।
ওর আঙুল খামচে ধরল বিছানার চাদর, মাথাটা ওপরে তােলার চেষ্টা করল
ক্যারেন। টিউমার আবার মােচড় খেতে লাগল যেন ওটা মেয়েটির মাথার
পেছনটা খামচাচ্ছে, মােচড়াচ্ছে।
‘আ আ আ আ আ আহ!' আর্তনাদ ছাড়ল ক্যারেন। ডি বু উ উ উ উ উ ট!'
আমার দিকে চোখ পাকিয়ে তাকাল ক্যারেন । এক মুহূর্তের জন্য মনে হলাে ও
চোখ ওর নয়, অন্য কারাে-লাল টকটকে, ক্রুদ্ধ এবং ভয়ংকর। এদিকে ড.
হিউজেস নার্সদের ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়েই সিরিঞ্জে সিডেটিভ ঢােকাতে শুরু
করেছেন। ক্যারেনের ভীষণ রক্তচক্ষুর দিকে দ্বিতীয় বার তাকাতে সাহস হলাে
না আমার। আমি দ্রুত ঘর থেকে বেরিয়ে করিডােরে চলে এলাম। শুনলাম
ভেতরে অমানুষিক গলায় চিৎকার করে চলেছে ক্যারেন, ধস্তাধস্তি করছে।
নিজেকে বড় অসহায় এবং একাকী লাগল আমার ।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
🏵নয়🏵
কিছুক্ষণ পরে ড. হিউজেস গ্লাভস আর মাস্ক খুলতে খুলতে বেরিয়ে এলেন
ক্যারেনের ঘর থেকে। আমি দ্রুত পা চালিয়ে চলে এলাম তার কাছে।
“আমি দুঃখিত, বললাম ডাক্তারকে। বুঝতে পারিনি এরকম একটা কাণ্ড
ঘটবে।'
থুতনি ঘষলেন হিউজেস। "দোষ আপনার বা আমার কারােরই নয়। ওকে
হালকা সিডেটিভ দিয়ে এসেছি । ঘুমিয়ে পড়বে।
চেঞ্জিংরুমে গিয়ে সার্জিকাল রােব খুলে ফেললাম দুজনে।
‘আমাকে যে ব্যাপারটা সবচেয়ে বেশি ভাবনায় ফেলেছে, মি. আর্সকিন, তা
হলাে,' বললেন ড. হিউজেস, ‘আপনি ওই শব্দগুলাে উচ্চারণ করা মাত্র মেয়েটি
কেমন ভয়ংকর হয়ে উঠল। অথচ এর আগেও ও শান্তই ছিল । কিন্তু আপনার
কথাগুলাে যেন আগুনে ঘৃতাহুতি দিয়েছে।'
‘ওর আচরণ দেখে আমারও তাই মনে হয়েছে,' সায় দিলাম হিউজেসের
কথায় । কিন্তু এরকম কেন ঘটল? ক্যারেনের মতাে স্বাভাবিক, বুদ্ধিমতী একটি
মেয়ে প্রাচীন একটি ওলন্দাজ জাহাজের কথা শুনে এরকম খেপে উঠল কেন?'
ড. হিউজেস চেঞ্জিংরুমের দরজা খুলে দিলেন। আমাকে নিয়ে চলে এলেন
এলিভেটরের সামনে।
‘এ প্রশ্ন আমাকে করে লাভ নেই,' বললেন তিনি। কারণ আধ্যাত্মিক বিষয়ের
ওপরে এক্সপার্ট আপনি, আমি নই।'
আঠারাে তলার বােতামে চাপ দিলেন ড. হিউজেস।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘এক্স-রে কী বলছে?' জানতে চাইলাম আমি । “অপারেটিং থিয়েটারে যে
জিনিস নিয়ে গেলেন?
‘তেমন পরিষ্কার কিছু বােঝা যায়নি,' জবাব দিলেন হিউজেস। মনে হচ্ছে
টিউমারের মধ্যে একটি ভ্রুণ আছে। আসলে বলা উচিত ভ্রণের মতাে একটা
জিনিস। হাড় এবং মাংসের একটা বৃদ্ধি ঘটছে ওটার ভেতরে, সিসটেমেটিক
একটা প্যাটার্ন নিয়ে গড়ে উঠছে, যেভাবে ভ্রুণের মধ্যে শারীরিক পূর্ণতা পেতে
থাকে শিশু। কিন্তু ওটা মানুষ কিনা আমি জানি না। আমি গাইনােকলজিস্ট
বিশেষজ্ঞকে খবর দিয়েছি। কিন্তু উনি আগামীকালের আগে আসতে পারবেন
কিন্তু তার আগেই যদি কোনাে অঘটন ঘটে যায়? ক্যারেনকে-ওর চেহারা
দেখে মনে হচ্ছিল ওর আয়ু বােধহয় আর বেশি নেই।'
এলিভেটরের উজ্জ্বল আলো চোখ পিট পিট করলেন ড. হিউজেস ।
"আমারও তেমনই আশংকা । কিন্তু ওর জন্য কিছু একটা তাে করতেই হবে।"
আঠারো তলায় পৌছে গেছে এলিভেটর। আমরা বেরিয়ে এলাম । ড. হিউজেস
আমাকে নিয়ে তার অফিসে ঢুকলেন। সোজা এগিয়ে গেলেন ফাইলিং
কেবিনেটে, হুইস্কির একটা বােতল বের করলেন। দুটো গ্লাসের কানায় কানায়
ভরে দিলেন মদে, আমরা বসে নীরবে মদ্যপান করতে লাগলাম ।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
কিছুক্ষণ পরে হিউজেস বলেন, 'ব্যাপারটা হাস্যকর শোনাতে পারে, তবে কি
জানেন, মি. আর্সকিন, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে দুঃস্বপ্নের সঙ্গে এই
টিউমানের একটা সম্পর্ক রয়েছে।'
“কী রকম?
“দুটোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলেই মনে হয়। আপনার, স্পিরিচুয়াল রা
হয়তাে ভাববেন টিউমারটির জন্য দুঃস্বপ্নটাই দায়ী। কিন্তু আমার বিশ্বাস-
টিউমার এই দুঃস্বপ্নের জন্য দায়ী। তবে ঘটনা যা-ই হােক না কেন, দুঃস্বপ্নের
ব্যাপারে যত জানা যাবে পরিস্থিতি ততই পরিষ্কার হয়ে আসবে আমাদের
কাছে।'সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
নির্জলা হুইস্কির তরল আগুন এক ঢােক চালান করে দিলাম পেটে।
“আমার পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব করেছি, ড, হিউজেস । জাহাজটার অবস্থান
খুঁজে বের করেছি। যদিও জাহাজটার কারণেই ক্যারেনের উন্মাদনা চাক্ষুস
করতে হলাে। কিন্তু এরপর আমাদের গন্তব্য কোথায়? আমি তাে বলেইছি
প্রকৃত অকাল্টের প্রশ্নে আমি নিতান্তই এক হাতুড়ে ছাড়া আর কিছু নই। বুঝতে
পারছি না। আর কী করার আছে আমার।'
চিন্তামগ্ন দেখাল ড. হিউজেসকে। ধরুন, আমি যা করছি তা-ই আপনি
করবেন, মি, আর্সকিন। ধরুন, আপনি এক্সপার্ট একজন সহযােগী খুঁজে বের করবেন।"
“মানে?'
‘সব জ্যোতিষই তাে আর আপনার মতাে হাতুড়ে নয়। কারাে কারাে এসব
জিনিস নিয়ে কাজ করার মতাে ট্যালেন্ট নিশ্চয় আছে।'
আমি হাতের গ্লাসটি নামিয়ে রাখলাম টেবিলে। ড. হিউজেস, আপনি খুব
সিরিয়াস, তাই না? আপনি সত্যি বিশ্বাস করছেন এখানে আধিভৌতিক কিছু
ঘটেছে!'
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
মাথা নাড়লেন ডাক্তার । আমি তা বলিনি, মি, অর্সকিন। আমি শুধু সমস্ত
সম্ভাবনা যাচাই করে দেখার চেষ্টা করছি। চিকিৎসা বিজ্ঞান বহু আগে আমাকে
শিক্ষা দিয়েছে কোনাে কিছু অনাবিষ্কৃত অবস্থায় ফেলে রাখার পরিণতি হতে
পারে মারাত্মক। একজন মানুষের জীবন যখন ঝুঁকির মুখে থাকে ওই সময়
মনটাকে সংকীর্ণ করে রাখলে চলে না।"
তাহলে আপনি কী করতে বলছেন?' জানতে চাইলাম আমি।
“আমি এটাই চাইছি, মি. হ্যারি আর্সকিন, ক্যারেন ট্যান্ডির অসুস্থতার জন্য কে
বা কারা দায়ী তা যদি সত্যি আপনি জানতে চান এবং মেয়েটাকে বাঁচাতে চান
তাহলে প্রকৃত একজন অলােকদ্রষ্টাকে খুঁজে নিয়ে আসুন যে বলতে পারবে ওই
হারামজাদা জাহাজটার আসল রহস্যটা কী।
আমি খানিকক্ষণ চিন্তা করে মাথা ঝাকালাম । আমার তাে হারাবার কিছু নেই ।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
বরং এ কাজটা করলে হয়তাে অকাল্ট নিয়ে অনেক কিছু জানা যাবে।
ঠিক আছে,' গ্লাসের হুইস্কিটুকু গলায় ঢেলে নিলাম। আমি রওনা হয়ে
গেলাম।
![]() |
| সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস |
🏵দশ🏵
ফ্ল্যাটে এসে প্রথমেই ঢুকলাম রান্নাঘরে। চার পিস টোস্ট বানালাম তাতে
মাখিয়ে নিলাম পনির। খিদেয় আঁধার দেখছিলাম চোখে। কারণ সারাদিন
কিছুই খাওয়া হয়নি। খাওয়া শেষ করে বিয়ারের ক্যান হাতে সিটিং রুমে এসে
বসলাম । খিদের চোটে এতক্ষণ ক্যারেন ট্যান্ডির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম ।
এখন বসার ঘরের অন্ধকার কোণগুলাের দিকে তাকাতে ভাবলাম
আনাচে-কানাচে মিসেস হার্জের ওপর ভর করা কোনাে ভূত-টুত লুকিয়ে নেই
তাে। যদিও ডাক্তার হিউজেসকে বলেছি ভূতে বিশ্বাস করি না। কিন্তু মাঝে
মাঝে মনে হয় অশরীরী কোনাে কিছু একটা নিশ্চয় আছে।
ঠাণ্ডা বিয়ারের ক্যানে চুমুক দিতে দিতে আমার বান্ধবী এমেলিয়া ক্রুসােকে
ফোন করলাম। এমেলিয়ার ছেলে পুলে নেই। আমেরিকান স্বামী ম্যাক
ফোর্ডকে নিয়ে সুখেই আছে। ওর একটা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে। ওখানে
আমি কিছুদিন কাজ করেছি। বলতে ভুলে গেছি এমেলিয়া ভূত-প্রেতে বিশ্বাস
করে এবং মিডিয়াম হিসেবে অসাধারণ।
ফোন ধরল ম্যাক। কে বলছেন?' গম্ভীর গলা।
“আমি হ্যারি আর্সকিন। এমেলিয়া আছে? ওকে একটু দাও তাে। সাংঘাতিক
দরকার।'
“আরে, হ্যারি।' চেঁচিয়ে উঠল ম্যাক। এতদিন পরে আমাদের কথা মনে পড়ল।
“তােমাদের কথা প্রায়ই মনে হয় কিন্তু কাজের চাপে ফোন করা হয় না। চলছে
কেমন তােমাদের?
‘খারাপ না,' জবাব দিল ম্যাক। একটু ধরাে। এমেলিয়া এসেছে।'
এমেলিয়ার খসখসে গলা শুনতে পেলাম ফোনে। অভিমান কণ্ঠে । 'তােমার তাে
কোনাে খবরই নেই, হ্যারি । সেই যে গত ক্রিসমাসে এসেছিলে, তারপর থেকে
লাপাত্তা । আমাকে তাে একদম ভুলে গেছ!'
'না, ভুলিনি। তােমাদের কি ভােলা যায়? স্রেফ সময়ের অভাবে যােগাযােগ
করা হয় না।সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
‘তাে তােমার খবর কী বলাে? কাজ ছাড়া যে ফোন করনি সে তাে জানিই।'
‘ঠিকই ধরেছ,' মােলায়েম গলায় বললাম। তারপর সিরিয়াস করে তুললাম
কণ্ঠ । তােমার সাহায্য খুব দরকার।
কী রকম সাহায্য?'
‘আমার এক ক্লায়েন্ট খুব অসুস্থ। এখন-তখন দশা। সে ভয়ংকর সব স্বপ্ন
দেখছে। আমি ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলছেন এর সঙ্গে
আধিভৌতিক কোনাে ব্যাপার জড়িত থাকতে পারে।'
শিস দিল এমেলিয়া। ডাক্তার? আমি কখনাে শুনিনি ডাক্তাররা ভূত-প্রেতে
বিশ্বাস করে।
‘আমি বলিনি তাে যে এসবে তাঁদের বিশ্বাস আছে। কিন্তু এ ব্যাপারটা
তাদেরকে একদম হতভম্ব করে তুলেছে। মেয়েটাকে বাঁচানাের জন্য তারা
এখন যে কোনাে কিছু করতে রাজি। শােনাে, এমেলিয়া, আমার একজন লােক
দরকার যে আধিভৌতিক ব্যাপারগুলাে ভালাে বােঝে। আমার এমন একজন
জ্যোতিষী দরকার যে নিজের কাজে খুবই দক্ষ, আধিভৌতিক বিষয়গুলাে
সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা রাখে। এরকম কেউ তােমার চেনা-জানা আছে?
একটু চুপ করে থেকে এমেলিয়া বলল, এ দেশে জ্যোতিষীর অভাব নেই।
কিন্তু তারা প্রায় সবাই তােমার মতাে হাতুড়ে। হাতুড়ে' শব্দটা মুখ ফস্কে
বেরিয়ে গেল। কিছু মনে কোরাে না।'
“আরে না এতে মনে করার কী আছে। আমি তাে আমার সীমাবদ্ধতা জানি।
“আচ্ছা, তুমি ফোনটা একটু ধরাে। দেখছি তােমার পছন্দের লােকের খোঁজ
দিতে পারি কিনা।
আমি ফোনে শুনতে পেলাম পৃষ্ঠা ওল্টানাের শব্দ। এমেলিয়া নিশ্চয় ওর
অ্যাড্রেস বুক উল্টে দেখছে । মিনিট পাঁচেক পরে ফিরে এলাে ফোনে।
‘দুঃখিত, হ্যারি । তেমন কাউকে পেলাম না। এদের কেউ কেউ ভালাে হস্তরেখাবিদ
আধিভৌতিক ব্যাপারে এদের কোনাে অভিজ্ঞতা নেই।
নখের ডগা কামড়াতে কামড়াতে বললাম, তাহলে তুমি?'
আমি? আমি কোনাে এক্সপার্ট নই। আমি সাইকিক পাওয়ার সম্পর্কে খুব
কমই জানি।'
এমি’ বললাম আমি। কাজটা তুমি আমাকে করে দাও। তুমি তাে জেনুইন
একজন সাইকিক । তােমাকে শুধু বের করতে হবে এই সংকেত বা দুঃস্বপ্নের
অর্থ কী, এগুলাে আসছে কোথেকে। একটা ক্লু পেলেই হলাে। বাকি কাজ
আমি গােয়েন্দাদের স্টাইলে সেরে ফেলব।'
দীর্ঘশ্বাস ফেলল এমেলিয়া। 'হ্যারি, আমি খুব ব্যস্ত। জানােই তাে তুমি চলে যাবার
পরে আমরা দোকানে আর লােকজন রাখিনি। রাখিনি সামর্থ নেই বলে । তাছাড়া
আজ আমার একটি ডিনার পার্টিতে দাওয়াত আছে। কাল দোকানের কিছু মাল
কিনতে শহরে যেতে হবে। সােমবার ম্যাকের বােন আসবে আমাদের বাড়িতে
বেড়াতে। বাচ্চাকাচ্চা সহ। সঙ্গত কারণেই ওরা আমার সার্বক্ষণিক সঙ্গ চাইবে।
কাজেই বুঝতেই পারছ, আমার হাতে একদম সময় নেই।'
‘এমি,' বললাম আমি, একটি মেয়ে মরতে বসেছে। মেয়েটি এ মুহূর্তে
সিস্টারস অব জেরুজালেম হাসপাতালের কেবিনে মৃত্যুশয্যায়। মেয়েটির
দুঃস্বপ্নের রহস্য বের করতে না পারলে ওকে বাঁচানাে যাবে না।'
‘হ্যারি, এ শহরের মেয়েদেরকে মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব তাে
আমার নয়। এটা একটা বিরাট শহর। এখানে প্রতিদিন মানুষ মরছে।
আমি রিসিভারটিকে এমন জোরে মুঠিতে চেপে ধরলাম যেন ওটার শ্বাসরােধ
করে মারতে চাইছি।
প্লিজ, এমি। শুধু আজকের রাতটা। কয়েক ঘণ্টার জন্য। আমার জন্য তাে
অনেক করেছ। আবার না হয় একটু সময় নষ্ট করলে। প্লিজ!
রিসিভারে হাত চাপা দিয়ে ম্যাকের সঙ্গে অল্পক্ষণ চাপা স্বরে কী যেন আলাপ
করল এমেলিয়া, তারপর ফিরে এলাে লাইনে।
'ঠিক আছে, হ্যারি । আমি আসছি। কোথায় আসব বলাে?
ঘড়িতে চোখ বুলালাম। প্রথমে আমার বাসায় চলে আসাে। এখান থেকে
আমরা মেয়েটার বাসায় যাব। ওই বাড়িতে বসেই মেয়েটা স্বপ্ন দেখত । তার
আন্টিও একই স্বপ্ন দেখেছে তবে অতটা ভয়ানক নয় তার স্বপ্ন। এমি, জোর
করে তােমাকে এর মধ্যে ঢােকাচ্ছি। তবু যে আসছ সে জন্য ধন্যবাদ।'
"আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আসছি । চিন্তা করো না।"
এমিলিয়ার খুব ভালো সাইকিক পাওয়ার আছে। ও তুলা রাশির জাতিকা।অার তুলা রাশির জাতিকা রা সহজেই প্রেতলোক থেকে আত্মাকে ডেকে আনতে পারে। এমেলিয়ার এ আধ্যাত্মিক ক্ষমতার কথা খুব কম মানুষই জানে। জানাতে চায়নি বলেই জানেন না।
এখন আমার কাজ হলাে ক্যারেনের আন্টি মিসেস ব্যারম্যান একটা ফোন করা।
উনি নিশ্চয় ফোনের পাশে বসে ছিলেন ভাগ্নির খবর শোনার জন্য কারণ
রিং হওয়া মাত্র সাড়া দিলেন।
"মিসেস ব্যারম্যান? হ্যারি আর্সকিন বলছি।'
“মি, আর্সকিন: সরি, আমি ভেবেছিলাম হাসপাতাল থেকে কেউ ফোন
করেছে।
শুনুন, মিসেস বারম্যান, আমি আজ আপনার বােনঝিকে দেখতে হাসপাতালে
গিয়েছিলাম। সে সাংঘাতিক দুর্বল। তবে ডাক্তাররা বলেছেন ওর সম্পর্কে কিছু
তথ্য পাওয়া গেলে ওকে প্রাণে রক্ষা করা সম্ভব।'
আপনার কথা ঠিক বুঝলাম না।'
মনে আছে নিশ্চয় গতকাল ফোন করে আপনার স্বপ্নের ধরন সম্পর্কে আমি
জানতে চেয়েছিলাম। সাগর সৈকতের স্বপ্নটা। ক্যারেন আমার কাছে
এসেছিল। বলেছে যে অবিকল আপনার মতাে একটা স্বপ্ন দেখেছে।
ভাক্তারদের ধারণা, এটা সম্ভব যে স্বপ্নের মধ্যে যদি কোনাে ক্লু পাওয়া যায়
তাহলে সে ক্লু ধরে তারা ক্যারেনকে সুস্থ করে তুলতে পারবেন।'
আপনার কথার অর্থ এখনাে আমার কাছে পরিষ্কার হয়নি, মি. আর্সকিন। ড.
হিউজেস নিজে আমাকে ফোন করলেন না কেন?
‘ফোন করেননি কারণ তাঁর পক্ষে ফোন করা সম্ভব ছিল না। ব্যাখ্যা দিলাম
আমি। উনি একজন মেডিকেল স্পেশালিস্ট। তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের যদি
কেউ জানতে পারেন ড. হিউজেস চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সঙ্গে আধিভৌতিক
বিষয়গুলােকে মিশিয়ে ফেলছেন, সঙ্গে সঙ্গে বেচারা চাকরি হারাবেন।
সেরা রোমান্টিক গল্প উপন্যাস
কিন্তু
ক্যারেনকে সুস্থ করে তুলতে চান। এবং এ ব্যাপারে তার মধ্যে আন্তরিকতার
কোনাে অভাব নেই। এ জন্যই আপনারা দুজনে যে স্বপ্নটা দেখছেন সে
ব্যাপারে আরাে বিশদ জানাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।'
মিসেস কারম্যানের কণ্ঠে একসঙ্গে উৎকণ্ঠা এবং বিস্ময় ফুটল। কিন্তু আপনি
ওটা করবেন কীভাবে? স্বপ্নের কারণে মানুষের টিউমার হয় কী করে?
"মিসেস বারম্যান, মানুষের মন এবং শারীরিক অবস্থার মধ্যে যে সম্পর্ক রয়েছে
বহু প্রমাণ আছে। আমি বলছি না যে ক্যারেনের টিউমার হয়েছে মানসিক
চাপে। তবে এরকম হওয়া বিচিত্র নয় যে টিউমারের প্রতি ওর মানসিক চাপটা ওকে সুস্থ হতে দিচ্ছে
না। এটা ক্যারেনকে কেন এমন দুর্দশায় ফেলে দিল, এবং এটা কী
না জানা পর্যন্ত তারা টিউমার অপারেশনের সাহস পাচ্ছেন না।
“ঠিক আছে, মি. আর্সকিন।' শান্ত গলায় বললেন বৃদ্ধা, আপনি আমাকে কী করতে বলেন?'
আমার এক বান্ধবীর সঙ্গে যােগাযােগ করেছি। সে একজন মিডিয়াম।
আপনার বাড়িতে আমরা একটি প্রেত-বৈঠক করব। আমার বান্ধবী
তাহলে বুঝতে পারবে ওখানে কোনাে ভাইব্রেশন আছে কিনা।'
ভাইব্রেশন? কী ধরনের ভাইব্রেশন?
যে কোনাে ভাইব্রেশন, মিসেস বারম্যান । না দেখা পর্যন্ত বােঝার জো নেই।
এ প্রান্তে কী যেন ভাবছেন ভদ্রমহিলা। তারপর বললেন, ‘ক্যারেন এমন অসুস্থ,
এদিকে ওর বাবা-মাও কাছে নেই। এখন আমার বাড়িতে প্রেত-বৈঠক-ফৈঠক
করা ঠিক হবে কিনা বুঝতে পারছি না। ওঁরা শুনলেই বা কী বলবেন?'
“মিসেস বারম্যান,' বললাম আমি । ক্যারেনের বাবা-মা যদি শােনেন আপনি
তাদের মেয়ের মঙ্গলের জন্য এসব করছেন, তারা কোনাে আপত্তি করবেন বলে
মনে হয় না । প্লিজ, মিসেস বারম্যান। ব্যাপারটা সাংঘাতিক গুরুত্বপূর্ণ।
“ঠিক আছে, মি, আর্সকিন। কখন আসতে চাইছেন?'
‘এক ঘণ্টার মধ্যে। ধন্যবাদ, মিসেস বারম্যান। আপনি খুব ভালাে।
নাক দিয়ে ঘোঁত ঘোঁত শব্দ করলেন বৃদ্ধা। আমি যে ভালাে তা আমি জানি,
মি. আর্সকিন। তবে আপনি যে কাজটা করতে যাচ্ছেন সেটার ফলাফল ভালাে
হলেই হলাে।'
চলবে.....



إرسال تعليق