কবিতাঃ সিকিউরিটি গার্ড



সিকিউরিটি_গার্ড 

গাংচিল_বাবু


পার্কের সংকীর্ণ সরু

পথে প্রাতঃভ্রমণ শেষে।

দাঁড়িয়ে ছিলেম অামি 

প্যারেড-গ্রাউন্ড ঘেঁষে।


গ্রাম্যবেকারেরা দারোয়ানের

চাকরির আশায় প্রশিক্ষণরত।

বারংবার দেহমন বুঝি তাঁদের

কমান্ডে কমান্ডে বিব্রত।


ডানে ঘোর।  বায়ে ঘোর।

উল্টা ঘোর। উল্টা ঘোর।


চামড়া ফাটা জুতো ওদের

কুঁকড়ানো টোস্ট।

রঙচটা ইউনিফর্মগুলো

যেন খরতাপে রোস্ট।


কোমরকষা বেল্ট যেন নিজ

হাতে আপনকে গ্রেফতার।

কমান্ডারের হুমকী-ধামকী

থেকে নেই ওদের নিস্তার।


ডানে ঘোর। বায়ে ঘোর।

উল্টা ঘোর। উল্টা ঘোর।


মাথায় ওদের পোকায় কাটা

ঝাঁঝরা মলিন ক্যাপ।

বলিরেখার ললাটখানি 

যেন এক শত ছিন্ন ম্যাপ।


দারোয়ানের চাকরি হলে 

কোন এক রঙমহলে। 

চারপায়ার বদলে দুপায়া

নিবে তাঁরা স্বল্প খরচে।


ডানে ঘোর। বায়ে ঘোর।

উল্টা ঘোর। উল্টা ঘোর।


অতঃপর

কর্কশকণ্ঠে যখন হুকুম আসে 

"সিকিউরিটি - সোজা হ"


ভগ্নদেহে সেই হুকুম পালিত

হলেও মন হয় দ্বিধাগ্রস্ত -

ওরে বেটা!!

পুঁজিবাদের আঘাতে আঘাতে 

মেরুদণ্ড যে আমাদের বিধ্বস্ত। 


বুদ্ধু সুবেদার বুঝে না

সেই বিদ্রূপের ভাষা।

ওদের বিবেচনায় উত্তীর্ণ

করেও মিটে না তাঁর আশা।


তাই এবার অনিচ্ছায় হুকুম দেয় সে - 

"সিকিউরিটি আরামে দাঁড়া"


আবার টলোমলো পায়ে সেই হুকুম

পালিত হলেও বিগড়ে উঠে মন।

শত প্রচেষ্টায় হয় না ওদের

পুঞ্জিভূত ক্রোধ দমন -


ওরে নির্বোধ !! 

ওরে শোষকের হেফাজতকারী।

আরামে কি আমরা দাঁড়াতে পারি ?

Post a Comment

أحدث أقدم